একসময় আয়াজই আমাকে কবিতা লিখতে প্ররোচিত করেছিলো। তার এই লেখাগুলো ২০০১ সালের আগে লেখা এবং সেসময়ের পর থেকে এই কবি তার পরবর্তী লেখাগুলো যেমন প্রকাশ করেন নি তেমনি অত্যন্ত নিরাসক্তভাবে ও গোপনে কবিতা লিখে যাচ্ছেন। আমিই কোন রকম অনুমতি ছাড়া তার কবিতাগুলো সোহেল হাসান গালিব সম্পাদিত শুন্য দশক কবিতা সংকলনে ছাপানোর জন্য দেই। সেই কবিতাগুলোই এবার ব্লগের পাঠকের সাথে শেয়ার করার জন্য এখানে দেওয়া। আশাকরি আপনাদেরও কবিতাগুলো ভালো লাগবে -তারিক টুকু
আয়াজ আনছারী
ভবঘুরের সর্বশেষ যাত্রার প্রাক্কালে
দোচালা ঘর মুরগী খড় জানাই আড়ি
কার মন্ত্রবশে কবে কে ফিরেছে বাড়ি?
নিরুদ্দেশ থেকে পৌত্র আদলে ডাকে সবুজ কবি...
ঘড়িহানার সাঁকোটায় শেষ নাড়ীর দৌরাত্ম্যে তারপর যদি নরক, তাও সই,
স্নান সারবো বিস্মৃতির জলে...। ডাংগুলি-বন্ধু তুই ক্রিকেট খেল,
আমি ঝিঁ ঝিঁর ছেলে, দেখি আপন মেঠোপথ অবজ্ঞায় শুকায়।
নিম্মমান কেরানীর থাক ঝরাপাতার মনোবল আর অবশিষ্ট
লাল মাফলার, বিপ্রতীপে চলুক নীল হৈ-চৈ আখ্যান।
চুল সমান আয়ু কোন্ জন্মে!
নেই এমন কোনও স্তুতি যে ঠেকায় অন্যস্বরের এ নিকেষ
লুপ্ত শ্লোকের অন্তর্বাসে আমার গহনতর প্রবেশ।
নিরুদ্দেশ থেকে পৌত্র আদলে ডাকে সবুজ কবি...
বহুভূজ আলাপ
চড়ুই জংশনে হাসি আর স্থপতির অভিযোগ মুখোমুখি
অসম্ভব প্রস্থান; নিরাপত্তক পাথরে দুটি পাখনা দাও
আমরা ভাড়া খাটি। আর জানিনা সাকুল্যে কতখানি
অহিংসা ব্যয়ে ভোর হয়।
অধিবিদ্যার পাঠশালায় চকের অভাব-
বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখে।
নদীরপাশাপাশিঘুম যদি চরিত্রে থাকে কিছু
ঘুমেবহুতলদিন
সুস্বাস্থ্য আলোর ভাঙতি দোকানে দোকানে
অহরহ বাজে না-
শোকসভা বিরচিত বড়শিতে উঠে আসে তর্কফড়িং
না চল্লিশ চোর?
আঙ্গুল থেকে নামাও দৌড়
নামো শূন্যে
উল্লেখহীন ঘর, সভ্য মহিষ
তোমার চুল ছোটো করে ছাঁটা, এমন দরজা
আমি ঘাসগ্রামে পোকাদের মতো; জলের সাহস
গুছিয়ে তৈরী একেকটি কৌতুক। প্রশস্ত পাখা
আমরা ভর্তি হই চলো হ্যা বিদ্যালয়ে।
আমাদের জন্য বৃষ্টির হাড় গুনতে সড়ক ভর্তি মুঠো
খুলতে সরলরেখায় এপাশে ওপাশে অনেকেই
বসে আছেন। আরো সহজ করে রাখি, আগুন
চুরির ষড়যন্ত্রে আমার আর ব্যবহার কৌশলে
তোমার গরীব ও মেধাবী পূর্বপুরুষেরা ছিলেন।
সুলভ চীবরে শৃংখলা, অতটা গণিত নয়
যতটা সমতলের সঞ্চয়
দাহ্য জীবিকার শ্রমিক ছায়া ভেঙ্গে ছায়া
ক্রমশ
বলুক কে সৌখিন ডাকঘর
গর্ত-ছাতি মহোদয়,
কতটুকু বাতাস নিয়ে সে আঞ্চলিক?
মৃতের রাগ অচিহ্নিত ধাতুর মতো,প্রকাশ্যে
এদিকে মশারী শোক, কোথাও ঠাণ্ডা
গড়াচ্ছে গড়াচ্ছে গড়াচ্ছে
০২
যতদূর চোখে আসে বৃষ্টিও অনুগামী- কালিদাস
অস্থির!
জুতোও অনিচ্ছুক বেড়াতে; রয়ে সয়ে ভালোমানুষ
কদম যৌতুকে অন্তত একটা বিয়ে হোক
শজারুরা ব্যস্ত রয় হেচকি সংকলনে
বল্লম- পায়ে ধরি মনোযোগী হও
বন্ধু, মার্বেল বেশ প্রাকৃতিক ভঙ্গী
ওয়েটিং রুমের ঘড়িতে পচন ধরে:
ভরসা... সকল ছিদ্রে বৃষ্টির প্রবেশ ক্ষমতা
বশীকরণঘাট...মগ্ন সিড়িতে তাঁবু খাটায়
নির্বাচিত মায়েরা
এখন ছায়াসংযত যদিও ধারাবাহিকতার অভাব
এই বর্ষা প্রবঞ্চক!
শুধরে দিতে চায় কিশোর ধারাপাত, মেরূদণ্ড?
জনশূন্য সুন্দরীর বৈমানিক স্বামী
চোখ কান খোলা রাখুন
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


