somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ কি করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ?!?!?!?!?!

৩১ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কালকে তামিম ইকবাল ১০৩ রান করে একাই বাংলাদেশ কে টেনে টেস্ট এর ৫ম দিনে নিয়ে এসেছে, আজ কি তার মত কেউ কি হাল ধরবে ? কাজ কিন্তু তোতো টা কথিন কিছু না আজ ২য় সেশন পর্যন্ত বাংলাদেশ যদি বাটিং করতে পারে , তাহলে এই টেস্ট ড্র হতে বাধ্য, আশরাফুল রে নিয়ে কিছু বলি, না থাক, কেউ যদি মাইন্দ করে, এর চে তামিম এর একটু গুনগান করি-আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছিল, কাল রোদ থাকবে। কিন্তু সেই রোদে যে লর্ডসের সঙ্গে বাংলাদেশও হাসবে, সে পূর্বাভাস কি ছিল? প্রথম ইনিংসের এলোমেলো ব্যাটিং তো বরং আশঙ্কা জাগাচ্ছিল, ফলোঅনে পড়ে টেস্টটা না চতুর্থ দিনেই শেষ হয়ে যায়!
প্রথম ইনিংসে ২৮২ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশ ফলোঅনে পড়েছে, তবে দ্বিতীয় ইনিংসে স্বপ্নের মতো ব্যাটিং বাকি শঙ্কাকে প্রমাণিত করেছে ভুল। লর্ডস টেস্টের চতুর্থ দিনে সব আলোই বাংলাদেশের ওপর। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, লর্ডসে এদিনের নায়ক তামিম ইকবাল। ব্রিটিশ মিডিয়ার ব্যঙ্গের হাসি অনূদিত হয়েছে হাততালিতে। লর্ডসের গ্যালারিতে আলোর নাচন নেচেছে লাল-সবুজ পতাকা। সকালে মাত্র ১১ ওভার ৫ বলেই প্রথম ইনিংসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও ফলোঅন করতে নেমে বাংলাদেশ দেখা দিল নতুন রূপে। চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোর ৫ উইকেটে ৩২৮ রান। টেস্টটা শুধু শেষ দিনে যাচ্ছেই না, পঞ্চম দিনটা হতে পারে আরও স্বপ্নময়। ইনিংস পরাজয় এড়িয়ে ততক্ষণে ১০৫ রানের লিডও যে হয়ে গেছে!
এমনিতে তামিম-ইমরুল কায়েসের ওপেনিং জুটি মানে তামিমের খরগোশের মতো দৌড়ানো আর ইমরুলের কচ্ছপের গতিতে আগানো হলেও কাল শুরুতে তামিমই পিছিয়ে থাকলেন। ইমরুলের রান যখন ৪৮, তাঁর ৩৭! ব্যাপারটা যেন তামিমেরও পছন্দ হচ্ছিল না। এর পরই স্টিভেন ফিনের বলে পর পর তিন বাউন্ডারি মেরে ইমরুলকে ছাড়িয়ে যাওয়া তামিম পেছনে পড়েননি আর একবারও। ওই ওভারেই ৪৯ বলে ফিফটি করার পর গ্রায়েম সোয়ানের পরের ওভারে মিড উইকেট আর ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে দুই ছক্কাসহ তুলে নিলেন ১৭ রান। টেস্ট নয়, যেন টি-টোয়েন্টি দেখছিল লর্ডস! গ্যালারিতে লাল-সবুজ আভরণে নেচে উঠলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা, এমসিসির ক্রিকেট-বোদ্ধা দু-একজন প্রবীণ সদস্যকেও দেখা গেল মাথার হ্যাট খুলে শূন্যে নাড়াচ্ছেন।
ফিনের বলে ডিপ ফাইন লেগে ট্রটের ক্যাচ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই খেলাটাই খেলে গেলেন তামিম, ইনিংস শেষে যেটাকে তিনি বললেন নিজের খেলা, ‘আমি যে রকম ও রকমই খেলব। পরের টেস্টে হয়তো এভাবে খেলতে গিয়ে প্রথম বলেই আউট হয়ে যাব। তাতে আমার কোনো দুঃখ থাকবে না। কারণ আমি জানি, রান করলে এভাবে ব্যাটিং করেই করব। আমি জাতীয় দলে এসেছিও তো এই ব্যাটিংয়ের জন্যই!’ তামিমের কথাই হয়তো ঠিক। ১৫টি চার আর ওই দুটি ছক্কায় ৯৪ বলে ১০০ রান করে বাংলাদেশের পক্ষে দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরিটা তো নিজের খেলা খেলেই করলেন এই ওপেনার!
দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং-গ্লানি ভুলিয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব দিতে হবে ইমরুল কায়েসকে। সেঞ্চুরি না পেলেও তামিমের সঙ্গে ১৮৫ রানের ওপেনিং জুটিতে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ফিফটিটা তিনি করলেন লর্ডসে। যেকোনো দলের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে এটাই সর্বোচ্চ জুটি বাংলাদেশের। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে ডানেডিনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগের সর্বোচ্চ ১৬১ রানের জুটিতেও ছিলেন তামিম, সেবার সঙ্গী ছিলেন জুনায়েদ সিদ্দিক।
তামিমের সঙ্গী হতে না পারলেও সেই জুনায়েদ এবার লর্ডসেও দুর্বার। ১৮৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট হিসেবে ইমরুল কায়েসের বিদায়ের পর জহুরুল ইসলামে সঙ্গে নিয়ে গড়েছেন ঠিক ১০০ রানের জুটি। ট্রটের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে জহুরুল ৪ রানের জন্য ফিফটির দেখা না পেলেও ব্যাক টু ব্যাক ফিফটি করে জুনায়েদ দিনশেষে ৬৬ রানে অপরাজিত আছেন সাকিব আল হাসানের সঙ্গী হয়ে। প্রথম ইনিংস অশোকা ডি সিলভার ভুল সিদ্ধান্তে এলবিডব্লু আশরাফুলকে দ্বিতীয় ইনিংসে বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছিল। কিন্তু অ্যান্ডারসনের লাফিয়ে ওঠা বলে কট বিহাইন্ড হয়ে যাওয়ায় লর্ডসে আর বড় ইনিংস খেলা হলো না তাঁর। এরপর নাইটওয়াচম্যান শাহাদাত হোসেনও ফিরে গেলে পঞ্চম দিনে ব্যাটিংয়ের জন্য হাতে থাকে ৫ উইকেট।
এর আগে সকালে মাত্র ৪৫ রান যোগ করেই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের আনুষ্ঠানিকতা। ইংল্যান্ডের প্রথম ইসিংসে করা ৫০৫ রান থেকে ২২৩ রান পিছিয়ে থেকে ২০০৮ সালের নভেম্বরের পর প্রথমবারের মতো ফলোঅনও করতে হলো। ব্লুমফন্টেইনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওই টেস্টের পর মাঝের সময়টাতে আর পরপর দুই ইনিংস ব্যাট করতে হয়নি বাংলাদেশকে।
৯টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×