somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তিযুদ্ধে পতৌদির অবদানের অজানা কথা {আসুন ভারতীয়দের ভালো কাজ কে সাধুবাদ জানাই, মন্দ কাজে(সীমান্ত হত্যা) করি তীব্র প্রতিবাদ}

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকেই হয়তো জানেন না সদ্য প্রয়াত ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মনসুর আলী খান পতৌদি ফুটবলও খেলতেন। শুধু তাই নয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের বিপক্ষে এক প্রদশর্নী ম্যাচে অংশও নিয়েছিলেন তিনি।

শুধু ফুটবলই খেলেননি ক্রিকেট-বিশ্বে 'টাইগার' নামে পরিচিত পতৌদি, ব্যক্তিগতভাবে ২০ হাজার ভারতীয় রুপিও মুক্তিযুদ্ধের তহবিলে অনুদান হিসেবে দিয়েছিলেন। ভারতের মুম্বাইয়ে (তখনকার বোম্বে) স্বাধীন বাংলা দলের বিপক্ষে প্রদর্শনী ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ দলের ড্রেসিং রুমে এসে এই অর্থ দিয়ে যান পতৌদির শেষ নবাব। সেসময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী চলচ্চিত্র তারকা শর্মিলা ঠাকুরও।

শুধু ফুটবল খেলে এবং নিজে টাকা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেননি পতৌদি। সেই ম্যাচ থেকে প্রায় ৬৫ হাজার রুপিও তুলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য। সেই সঙ্গে দিয়েছিলেন অনুপ্রেরণাও। বলেছিলেন, "তোমরা এগিয়ে যাও। জয় এসে তোমাদের পায়ে লুটিয়ে পড়বেই। তোমাদের মনোবলের কাছে পাকিস্তানীরা পর্যদুস্ত হবেই।"

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু সেদিনের স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, " অধিনায়ক হিসেবে সেই ম্যাচে খেলেছিলেন পতৌদি। তবে পুরো ম্যাচ খেলতে পারেননি। প্রথমার্ধের পুরোটা খেলে চলে যান তিনি। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল ম্যাচটি জিতেছিলো ৩-১ গোলে। মহারাষ্ট্র্র একাদশের পক্ষে করা একমাত্র গোলটি করেছিলেন পতৌদিই।"

সেই দুর্দান্ত গোলটি আজো জাকারিয়া পিন্টুর স্মৃতিতে উজ্জ্বল। তিনি জানান, "প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে নেয়া অসাধারণ এক শটে গোলটি করেন তিনি। একেবারে চোখ জুড়িয়ে দেয়ার মতো গোল। একজন ক্রিকেটার যে এত ভালো ফুটবল খেলতে পারেন তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। আমাদের মনে হয়েছিল তিনি ফুটবল খেললেও ভালো করতে পারতেন।"

স্বাধীন বাংলা দলের অধিনায়ক ঐ ম্যাচ নিয়ে একটি মজার স্মৃতিরও উল্লেখ করেন, " বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় কায়কোবাদ পতৌদিকে ফাউল করেন। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আমরা ভেবেছিলাম তিনি হয়তো উঠে এসে কোনো কটু কথা বলবেন। কিন্তু উঠে এসে বলেন, 'আরে বন্ধু, আমি তো তোমাদের মতো ফুটবলার-মুক্তিযোদ্ধা নই। আমি একজন ক্রিকেটার। আমাকে এভাবে মেরো না।' তার বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ আমাদের দারুণ মুগ্ধ করেছিলো। তার প্রতি অনেক শ্রদ্ধাও বেড়ে গিয়েছিলো।"

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অন্যতম খেলোয়াড় ছিলেন আবাহনীর বর্তমান কোচ অমলেশ সেন। দীর্ঘ ৪০ বছর কেটে গেলেও তার মনেও সেই স্মৃতি জ্বলজ্বলে। আবাহনী ক্লাবের বারান্দায় বসে পতৌদির কথা বলতে গিয়ে তার চোখ ছলছল করে ওঠে । তিনি জানান, "সেই সফরে আমরা ১৭টি ম্যাচ খেলেছিলাম। কিন্তু মুম্বাইয়ের ম্যাচটি কথাই বিশেষভাবে মনে পড়ে আমার। কারণ পতৌদি সেই ম্যাচে খেলেছিলেন। সেদিন আমরা তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব দেখেছিলাম। তার আচরণ ছিল একেবারেই সহজ-সরল ।"

"খেলার পাশাপাশি প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে তিনি কথা বলেন, মজা করে বলেন, 'দেখে-শুনে খেলো ভাই। আমি কিন্তু চোট পেলে সমস্যা হবে'," জানান অমলেশ।

স্বাধীন বাংলা দলের ম্যানেজার তানভীর মাজহারুল ইসলাম তান্নাও ভুলতে পারেননি সেদিনের স্মৃতি। তিনি বলেন, "এখনও চোখে ভাসে একজন ক্রিকেটারের নিপুণ ফুটবল-শৈলী। তিনি যে ফুটবলও ভালো খেলতে পারেন সেদিন আমরাও তা বুঝতে পেরেছিলাম। আমরা মুগ্ধ হয়েই তার খেলা দেখেছি।"

"আমি তখন বয়সে তরুণ ছিলাম। অনেক কিছু ভুলে গিয়েছি ঠিকই, কিন্তু স্বাধীন বাংলা দলের বিপক্ষে পতৌদির খেলার কথা আমি আজো ভুলিনি, " বলেন তান্না।

ফুটবল খেলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশাল অবদান রাখা বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু পতৌদির মৃত্যুতে স্বাধীন বাংলা দল শোকাহত। খুব শিগগিরিই তার পরিবারকে শোক-বার্তা পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে তারা। এ সম্পর্কে জাকারিয়া পিন্টু বলেন, "মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবদান রাখায় আমরা মনে করি তিনিও একজন মুক্তিযোদ্ধা।"

সেদিন পতৌদি খেলার মাঠে আলো ছড়ানোর সময় গ্যালারি উজ্জ্বল করে রেখেছিলেন দিলীপ কুমার, শায়রা বানু, রাজেশ খান্না, শর্মিলা ঠাকুরের মতো ভারতীয় চলচ্চিত্রের রথী-মহারথীরা। মহারাষ্ট্রের গভর্নর ছিলেন ম্যাচটির প্রধান অতিথি।
সুত্র- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৩৩
১০টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×