ঃকি ভাবছ?
ঃকিছুনা।
ঃতো পানির দিকে তাকিয়ে কবিতা লিখছ?
ঃকবিতা কি আমি লিখি? লিখিয়ে নাও তুমি!কাব্য তোমার অস্তিত্বে।তুমিহীণা এ জ়ীবণ পূরোটাই গদ্য।না. মুখে এসব কিছুই বলল না শান্তা।দৃষ্টি সরিয়ে নিল পানি থেকে।চোখ তুলে তাকালো ওপাড়ে।মানুষের ভিড়।লক্ষহীণ শূণ্য দৃষ্টি শান্তার।ওর ভিতর থেকে কে যেন বলে উঠলো,
ঃভাবছি। সেই যে কক্স’সবাজারে আমাদের আবার দেখা হ’ল সেখান থেকেই তো আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করা যেত।কি না করেছি আমি।একটা মানুষ এর থেকে আর বেশী কীইবা করতে পারে!
ঃআমারই দোষ। সব সময় নিজেকে এত ছোট ও অযোগ্য মনে হ’ত!কোনদিন যে ডাক্তারী পাশ করতে পারব, তা ই বুঝিনি।বাড়ীর পার্শ্বে মেডিকেলে এসে আরো বারোটা বাজ়লো।ক্লাশেই যেতামনা।কোনরকম টেনে টূনে পাশ করলাম,এবার।ব্যাচের সবাই ইন্টার্ণী শেষ ক’রে কাজ করছে। ওদিকে তুমি কত ব্রিলিয়েন্ট একটা মেয়ে।কত বড় হবে জীবণে তুমি।
কি বলবে বুঝতে পারেনা শান্তা।পুরুষের এ ইগো বুঝবার ক্ষমতা শান্তার নেই। এখানে কোন মেয়ে হ’লে দৃশ্যটি কি কখনোই এমন হ’ত? জীবণে অনেক বড় হবে এই অপরাধে কোন মেয়ে কি তার ভালোবাসাকে অস্বীকার করত?মাড়িয়ে যেত দু’পায়ে?নাকি সব মিথ্যে অযুহাত।শান্তার অমন বাঁধভাঙা ভালোবাসা ভীত করেছে আকাশকে।ভয় পেয়ে পালিয়ে বেঁচেছে?না কি “যা পাই তা চাই না’? হায়রে পুরুষ! ভালোবাসা তোর সয়না।
ঃ তুমি কি আমাকে কখনও ভালোবেসেছ?
ঃতুমি যতটা মনে কর,তার থেকে অনেক অনেক বেশী ভালোবাসি আমি তোমাকে শান্তা।এই যে দেখ পাশ করেই তোমার কাছে চলে এসেছি।আমার অনেক ধৈর্য শান্তা,আর দশটা ছেলের থেকে আলাদা।
ঃতুমি আমাকে রেখে দাও আকাশ, যেতে দিওনা।
ঃআবার পাগলামী করছ?
ঃপাগলামী কাকে বলছ তুমি? এটাই সুস্থ ডিসিশন। সারাটা জ়ীবণ আমাদের সামনে পড়ে আছে।আমকে এ পৃথিবীতে আবার আসতে হবে শুধু তোমাকে পাবার জন্য।নিজেকে পরিপূর্ণ করার জন্য। শুধু তুমি চাইলেই একটা আত্মা কেমন তৃপ্ত হ’তে পারে,পরিপূর্ণ হ’তে পারে শুধু একবার ভেবে দেখ!
না, আকাশ শোনেনি কোন প্রলাপ। বাস্তব সন্মত কাজ করেছে। সে যে পুরুষ মানুষ।পুরুষের কি প্রেম প্রেম খেলা সাজে। ওসব ছেলেমানুষী কি পূরুষের শোভা পায়!সমাজ় সংসারের সব দায় দায়িত্ব তার ওপড়।এমন কি শান্তার কিসে ভালো হবে তা সে ই ভালো বোঝে। সেই আকাশ তাকে কি মনে করে ফোন করল!তা ও এত বছর পর! নম্বরই বা পেল কোথায়?
হঠাৎ করেই তার চিন্তায় ছেদ পড়ল, মিষ্টি মেয়ে লাবণ্য এর ডাকে।
লাবণ্য শান্তারই ব্যাচমেট।সিলেট মেডিকেল থেকে পাশ করেছে।লাইব্রেরীতে পড়তে আসে রিনির সাথে।রিনি অবশ্য ওদের এক বছরের জুনিয়র।ওরা দুজনে সারা দিন রাত পাগলের মত পড়ে এখানকার বোর্ড পাশ করার জন্য। ইউনিভার্সিটিকে এখানে স্কুল বলে। এখানকার স্কুলের লাইব্রেরী গুলো সবার জ়ন্য খোলা। নিরিবিলিতে পড়তে পারার এক বিরাট সুযোগ।লাবণ্য কাছাকাছিই কোথাও থাকে।রিনি অনেকটা পথ ড্রাইভ করে আসে।ওরা একসাথে পড়ে মাঝে মাঝে ওরা আসে শান্তার সাথে কথা বলতে। ।বিদেশে বাঙালী দেখলেই মনে হয় আত্মার কাছাকাছি কেউ।শান্তার মন ভরে গেল লাবণ্যকে দেখে।
ঃলাঞ্চ করেছ শান্তা?
ঃনা।রিনি আসেনি আজ?
ঃ না।ওর ছেলের শরীরটা ভালো যাচ্ছেনা আজ।তোমার লাঞ্চ ব্রেক কখন? চল আজ় আমরা একসাথে লাঞ্চ করব।
ঃথ্যাঙ্কস লাবণ্য। আজ আর হবেনা।আমি লাঞ্চেও কাজ় করব ভাবছি।একটু আগে বের হব। দেশী দোকানে যেতে হবে।
ঃআলাদিনে যাবে? সে তো অনেকদুর! কেন?
ঃফোণ কার্ড কিনতে হবে।দেশে কল করব।
কার্ড কিনে নিয়ে এসে রাতে একটা ক্লাশ। বাসায় ফিরতে ফিরতে বেশ রাত হয়ে যাবে ক্লান্ত ও কি কম! তা সে যত রাতই হোক, যত ক্লান্তই হোক।ফোণ সে আজই করবে আকাশের সাথে কথা হ’বে! একি স্বপ্ন!এত মধুর স্বপ্ন সে কি কখনো দেখেছে। সাহসই হয়নি তার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

