somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শান্তার পথ চলা-৩

১০ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৮:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঃকি ভাবছ?
ঃকিছুনা।
ঃতো পানির দিকে তাকিয়ে কবিতা লিখছ?
ঃকবিতা কি আমি লিখি? লিখিয়ে নাও তুমি!কাব্য তোমার অস্তিত্বে।তুমিহীণা এ জ়ীবণ পূরোটাই গদ্য।না. মুখে এসব কিছুই বলল না শান্তা।দৃষ্টি সরিয়ে নিল পানি থেকে।চোখ তুলে তাকালো ওপাড়ে।মানুষের ভিড়।লক্ষহীণ শূণ্য দৃষ্টি শান্তার।ওর ভিতর থেকে কে যেন বলে উঠলো,
ঃভাবছি। সেই যে কক্স’সবাজারে আমাদের আবার দেখা হ’ল সেখান থেকেই তো আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করা যেত।কি না করেছি আমি।একটা মানুষ এর থেকে আর বেশী কীইবা করতে পারে!
ঃআমারই দোষ। সব সময় নিজেকে এত ছোট ও অযোগ্য মনে হ’ত!কোনদিন যে ডাক্তারী পাশ করতে পারব, তা ই বুঝিনি।বাড়ীর পার্শ্বে মেডিকেলে এসে আরো বারোটা বাজ়লো।ক্লাশেই যেতামনা।কোনরকম টেনে টূনে পাশ করলাম,এবার।ব্যাচের সবাই ইন্টার্ণী শেষ ক’রে কাজ করছে। ওদিকে তুমি কত ব্রিলিয়েন্ট একটা মেয়ে।কত বড় হবে জীবণে তুমি।

কি বলবে বুঝতে পারেনা শান্তা।পুরুষের এ ইগো বুঝবার ক্ষমতা শান্তার নেই। এখানে কোন মেয়ে হ’লে দৃশ্যটি কি কখনোই এমন হ’ত? জীবণে অনেক বড় হবে এই অপরাধে কোন মেয়ে কি তার ভালোবাসাকে অস্বীকার করত?মাড়িয়ে যেত দু’পায়ে?নাকি সব মিথ্যে অযুহাত।শান্তার অমন বাঁধভাঙা ভালোবাসা ভীত করেছে আকাশকে।ভয় পেয়ে পালিয়ে বেঁচেছে?না কি “যা পাই তা চাই না’? হায়রে পুরুষ! ভালোবাসা তোর সয়না।

ঃ তুমি কি আমাকে কখনও ভালোবেসেছ?
ঃতুমি যতটা মনে কর,তার থেকে অনেক অনেক বেশী ভালোবাসি আমি তোমাকে শান্তা।এই যে দেখ পাশ করেই তোমার কাছে চলে এসেছি।আমার অনেক ধৈর্য শান্তা,আর দশটা ছেলের থেকে আলাদা।
ঃতুমি আমাকে রেখে দাও আকাশ, যেতে দিওনা।
ঃআবার পাগলামী করছ?
ঃপাগলামী কাকে বলছ তুমি? এটাই সুস্থ ডিসিশন। সারাটা জ়ীবণ আমাদের সামনে পড়ে আছে।আমকে এ পৃথিবীতে আবার আসতে হবে শুধু তোমাকে পাবার জন্য।নিজেকে পরিপূর্ণ করার জন্য। শুধু তুমি চাইলেই একটা আত্মা কেমন তৃপ্ত হ’তে পারে,পরিপূর্ণ হ’তে পারে শুধু একবার ভেবে দেখ!
না, আকাশ শোনেনি কোন প্রলাপ। বাস্তব সন্মত কাজ করেছে। সে যে পুরুষ মানুষ।পুরুষের কি প্রেম প্রেম খেলা সাজে। ওসব ছেলেমানুষী কি পূরুষের শোভা পায়!সমাজ় সংসারের সব দায় দায়িত্ব তার ওপড়।এমন কি শান্তার কিসে ভালো হবে তা সে ই ভালো বোঝে। সেই আকাশ তাকে কি মনে করে ফোন করল!তা ও এত বছর পর! নম্বরই বা পেল কোথায়?
হঠাৎ করেই তার চিন্তায় ছেদ পড়ল, মিষ্টি মেয়ে লাবণ্য এর ডাকে।
লাবণ্য শান্তারই ব্যাচমেট।সিলেট মেডিকেল থেকে পাশ করেছে।লাইব্রেরীতে পড়তে আসে রিনির সাথে।রিনি অবশ্য ওদের এক বছরের জুনিয়র।ওরা দুজনে সারা দিন রাত পাগলের মত পড়ে এখানকার বোর্ড পাশ করার জন্য। ইউনিভার্সিটিকে এখানে স্কুল বলে। এখানকার স্কুলের লাইব্রেরী গুলো সবার জ়ন্য খোলা। নিরিবিলিতে পড়তে পারার এক বিরাট সুযোগ।লাবণ্য কাছাকাছিই কোথাও থাকে।রিনি অনেকটা পথ ড্রাইভ করে আসে।ওরা একসাথে পড়ে মাঝে মাঝে ওরা আসে শান্তার সাথে কথা বলতে। ।বিদেশে বাঙালী দেখলেই মনে হয় আত্মার কাছাকাছি কেউ।শান্তার মন ভরে গেল লাবণ্যকে দেখে।
ঃলাঞ্চ করেছ শান্তা?
ঃনা।রিনি আসেনি আজ?
ঃ না।ওর ছেলের শরীরটা ভালো যাচ্ছেনা আজ।তোমার লাঞ্চ ব্রেক কখন? চল আজ় আমরা একসাথে লাঞ্চ করব।
ঃথ্যাঙ্কস লাবণ্য। আজ আর হবেনা।আমি লাঞ্চেও কাজ় করব ভাবছি।একটু আগে বের হব। দেশী দোকানে যেতে হবে।
ঃআলাদিনে যাবে? সে তো অনেকদুর! কেন?
ঃফোণ কার্ড কিনতে হবে।দেশে কল করব।

কার্ড কিনে নিয়ে এসে রাতে একটা ক্লাশ। বাসায় ফিরতে ফিরতে বেশ রাত হয়ে যাবে ক্লান্ত ও কি কম! তা সে যত রাতই হোক, যত ক্লান্তই হোক।ফোণ সে আজই করবে আকাশের সাথে কথা হ’বে! একি স্বপ্ন!এত মধুর স্বপ্ন সে কি কখনো দেখেছে। সাহসই হয়নি তার।






৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×