somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শান্তার পথ চলা-৪

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শান্তার পথ চলা-৪

না আজ আর পড়ায় মন বসছেনা লাবণ্যর।মানুষের মনের এই বিচিত্র গতিবিধি।কখন ও স্থির থাকেনা । শুধু উড়ে উড়ে বেড়ায়। হাজ়ারো চিন্তা ঘুরপাক খায়। কখন ও অতীতের জ্বালাময় স্মৃতি রোমন্থনে কখনোবা ভবিষ্যতের সুখ স্বপ্নের জাল বুনতে ব্যাস্ত এ চিন্তার রশ্মিগুলো। এমন কি খুব মন দিয়ে পড়ছে তখন ও খুব খুব গভীরে কিছু না কিছু ঘুরপাক খাচ্ছে।ইস ‘এই মুহূর্তে’ নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখার কৌশলটা যদি জানা যেত!এমন প্রতিটি মুহূর্তই যায় ভবিষ্যতের দিকে ,হ’য়ে যায় অতীত।এখানে অনেককেই কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে পড়তে দেখা যায়। এটা নাকি মনযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। হবে হয়তো। লাবণ্য কখনো চেষ্টা করে দেখেনি।তবে হ্যাঁ ছোটবেলায় ওর পড়ার টেবিলে সারাক্ষণ একটি ক্যাসেট প্লেয়ার থাকত।টু ইন ওয়ান। ন্যাশনাল প্যানাসনিক।মোটামোটি সারাক্ষণই বাজত।বিশেষ করে যখন অংক করত।মেডিকেলে ভর্তি হবার পর অবশ্য গ্রুপ স্টাডিই বেশী করেছে।অন্যমনষ্ক হবার সুযোগটা কমে ঠিকই কিন্তু গল্প করার সুযোগটা আবার সেভাবেই বেড়ে যায়।এখন যেমন রিনির সাথে পড়তে গেলে হয়। আজ রিনি আসেনি।ভালো লাগছেনা।শান্তা ও চলে গেল। বড় একা একা। বড় ফাঁকা ফাঁকা।

বাসায় চলে গেলে হয়। গান শুনে কিংবা নাটক দেখে নিজেকে একটা ব্রেক দিলে মন্দ হয়না।কিংবা ঘুমিয়ে।একটা অলস দুপুর,কোথাও কেউ নেই, ঝিম ঝিম ঝিম ঝিম নির্জনতার শব্দ।হাত পা ছড়িয়ে ঘুম। তার’পর গাঢ় ঘন লিকার ও দুধ দিয়ে বানানো এক কাপ চা।চুমুকেই জীবন, চুমুকেই সজীবতা।এ পর্যন্তই । সুখ চিন্তার ছেদ ঘটালো লাবণ্য। এখন কি আর আগের মত আছে? দিনে দিনে যেন ছোট হ’য়ে আসছে ও। ঠিক পৃথিবীর মত। পৃথিবীটা এভাবে ছোট না হয়ে এলে কি এমন ক্ষতি ছিল! ডিসিশন নেবার ক্ষমতা টা হয়তো এভাবে হারাতে হ’তোনা।না , চলেই গেল অসম্ভব ঘুম পেয়েছে। চা ফা সব বাদ। দিল একটা লম্বা ঘুম।ক্লান্ত লাবণ্য সবসময় বিছানায় আড়াআড়ি ভাবে উপুড় হ’য়ে শোয়।রুটিন ভাঙার আনন্দ উপভোগ করে এভাবে। ।একটি মাত্র বালিশ তা ও মাথায় না বুকের কাছে জড়িয়ে ধরে।আলতো ক’রে একটি হাত লাবণ্যের পিঠে।আড়াআড়ি ভাবে হাতটি এখন পিঠের ওপরে।আস্তে আস্তে টের পাচ্ছে আর একটি মানুষের স্পর্শ তার শরীর ছুঁয়ে।চুলের ভিতরে হাত ঘণ ঘণ নিঃশ্বাস।কোথায় যেন খট খট ঘোড়ার খুঁরের মত শব্দ হচ্ছে। কিচেনে এসে বোধহয় থামল।না , আবার শব্দ। গূলির মত।ঢপ ঢপ ঢপ অনেকগুলো একসাথে।আবার ঘোড়ার পায়ের শব্দ। খট, খট , খট। লাবণ্যের ঘুম ভেঙে গেল। বরফ ভর্তি একগ্লাস পানি হাতে সুটেট বূটেট মানুষটি রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে।

চলবে
: আর ইউ স্লিপিং? ডু ইউ নো, হাউ হার্ড ডিড আই ওয়ার্ক টু বি হিয়ার? প্রভাইডিং অল দা লাকশারী ইউ আর এনজয়িং।স্লিপিং,ওয়াচিং টিভি,..................।
লাবণ্য আর শুনছেনা। বাকিটুকু ও জানে!চুন থেকে পান খসলেই এসব শুনতে হয়।শুনতে হয় কতটা পরগাছা সে!শুনতে হয় কিভাবে শূণ্য হাতে এসে ভাগ বসিয়েছে এ বিশাল সম্রাজ্যে।শুনতে হয়, কতটা অযোগ্য ও অধম সে এ আমেরিকান জীবণের জন্য, শুনতে হয় সে কতটাই শুধু এক বাঙালী মেয়ে, আমেরিকান মেয়েদের পায়ের যোগ্য ও সে নয়।গণ্ডারের চামড়া এখন তার। দেশে যখন ছিল, মাঝে মাঝে পড়ত কাগজে দূর কোন গ্রামে কিম্বা কোন এক অর্ধ শিক্ষিত অশিক্ষিত পরিবেশে য়ৌতুকের দায়ে গৃহবধুর উপর নির্যাতন এমন কি হত্যা। মনে হত ওরা অন্য গ্রহের বাসিন্দা। নিজেকে কখনো বসাতে পারতনা, ওখানে। হায়রে বাস্তব !এখন উঠতে, বসতে, পড়তে, খেতে, খোটা।মাঝে মাঝে গলা দিয়ে কিছু নামতে চায়না।
: আর ইউ সিক অর সামথিং?
এমন ধমকের সুরে বলা যেন কোন অধিকারে সে অসুস্থ হ’ল কেউ জানতে চাইছে।তা তেই লাবণ্যর চোখে পানি এসে গেল। এই তার স্বামী। তার সংসার ,তার জীবণ।যার কাছে সে শুধু ‘ইউ’। কত স্বপ্ন ছিল! বিয়ের পর ওর ওকে ডাকবে ‘বণ্য’ বলে। অলস মুহূর্তে হাত টি টেনে নিয়ে বলবে,
ঃআমি তো আর অমিত হ’তে পারলাম না।
ঃবলেছে তোমায়!তুমি ই আমার অমিত।
ঃতাহ’লে তো তুমি কেটি।
ঃজ়্বী না। আমি লাবণ্য তুমি অমিত আর এটা হ’ল শেষের কবিতার পরের কবিতা।

না এমন কোন দৃশ্যের অবতারণা কখনোই হয়নি।ওর স্বামী ‘শেষের কবিতা’র নাম শুনেছে বলে ও মনে হয়না।
ঃনা তেমন কিছু না। চা খাবে?
বলেই বুঝতে পারল, কী ভুলই না করেছে! মাথায় যে সেই চা ঢুকেছে!
ঃহোয়াট?নো, আই হ্যাভ বেটার থিঙ্কস টু ডু বলে, ঘট ঘট ক’রে বাসা থেকে বের হ’য়ে গেল।পুরো এক ঘণ্টা জ়গিং।

কিচেনে গিয়ে চুলায় চায়ের পানি বসালো।এখানে সবাই মাইক্রো ওয়েভে চা করে খায়। ও তা ই করে।আজ দেশী ষ্টাইলে চা খাবে।বাথরুমে গেল ফ্রেশ হ’তে।এ বাসায় ৫ টি বাথরুম। দুজন মানুষ এই একটি ই ব্যাবহার করা হয়।বাংলাদেশে অনেকের বেডরুম ই এত বড় না। শুধু দেশে ই বা কেন এখানে এই আমেরিকাতে ও খুব কম বাঙালীর বাসায় এত বিলাসীতা আছে।দু দুটো ভ্যানিটি, হিজ আয়ণ্ড হার।জাকূজি, রেইন শাওয়ার, লিনেন ক্লজেট, ভ্যানিটি ভর্তি কস্মেটিকস। শান্তা বলছিল,
ঃএত জিনিসের মধ্যে তুমি খুঁজ়ে পাও কী করে?
লাবণ্য যেখান থেকে যেটা নেয় সেখানেই রাখে।মুখে দেবার ক্রিমতি না দেখেই হাতে তুলে নিল। আবার সেখানেই রাখল। মাঝে মাখে ক্লিনিং মেয়েতা এসে এদিক সেদিক করে ফেলে ও আবার ঠিক করে রাখে।নিজ়ের অজ়ান্তেই হাত চলে যায় হ্যান্ড টাওয়েলে। একটু পানি পড়েছে। মুছে ফেলল। চা নিয়ে বসল বারান্দায়।সারা বাড়ীর ভিতরে এটাই ওর প্রিয় জায়গা।যতদূর চোখ যায় সবুজ সবুজ আর সবুজ।বারান্দা ঘেসে ছোট্ট একটি লেক।সাদা ধবধবে একটি বক দাঁড়িয়ে আছে একপায়ে।গভীর মনযোগের একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে পানির দিকে।“ ও বগি তুই খাস কি?পান্তা ভাত চাস কি?’কে বলবে চারিদিকে এত কৃত্রিমতা?ঢাকায় এমন দৃশ্য কখনোই ওর চোখে পড়েনি। শুধু ইট কাঠ আর বালু ই দেখছে শুধু। তার ভিতরে ও ছিল প্রাণ। সব কিছু মনে হ’ত ‘আমার’।শান্তার বোধ হয় এখানে ওমনে হয় সব কিছুই আমার। ওর মাঝে মাঝেই হিংসা হয় শান্তাকে।ফোনের শব্দে ধ্যান ভাঙে লাবণ্যের।উঠতে ইচ্ছা করছেনা তবু ও উঠলো ।ডিনার ও তো রেডি করতে হ’বে।
ঃহ্যালো?
ঃলাবণ্য। আমি রিমি।
ঃকি খবর রিমি, কি অবস্থা তোমার? এলে না যে!শরীর ভালো?
ঃআর ব’লনা ভাই।আমি ভালই আছি। আমার শাশুড়ী হঠাৎ করে অসুস্থ হ’য়ে পড়েছেন।্সারা দিন এত ব্যস্ত ছিলাম তোমাকে ফোণ ও করতে পারিনি। কেন জানি মনে হচ্ছিল তুমি বাসায় চলে এসেছ।তা পড়েছ কিছু?
ঃনা পড়া হয়নি তেমন কিছু। তা মাঝে মাঝে ব্রেক নেয়া ভাল। তোমার শ্বাশূড়ীর কি হ’য়েছে?
ঃ আরে না তেমন কিছুই না। তবে ঝামেলা যা বাধিয়েছে না।
ঃকি ঝামেলা?
ঃএখন না। কাল লাইব্রেরীতে বলব।
ঃউনি কি হাসপাতালে?
ঃফিসফিস করে বলল। প্রেসার হাই হ’য়েছিল।কোন ফাঁকে আবার নার্সকে বলেছে সে লোনলি।কি যে দু একটা ইংলিশ শিখেছেনা!বোঝইতো এখানকার আইন কানুন।সোসাল ওয়ার্কার হেন তেন হাজারো ঝামেলা ।কেবল তো শুরু।আর ব’লনা।ঠিক আছে পরে কথা বলব। কাল আসছ তো?
ঃহ্যাঁ
ঃখোদা হাফেজ।
ঃখোদা হাফেজ়

ডঃআহসান চৈধুরী এসে গিয়েছে।ভাগ্যিস ফোনে কথা বলা শেষ হ’য়ে গিয়েছিল! লাবণ্য কেমন একটা অস্বস্তিতে ভোগে তার পতি দেবতার উপস্থিতিতে।যাহোক শাওয়ার নিয়ে বের হবার আগেই ও টেবিল গুছিয়ে ফেলল।কাজের লোক নেই কত কাজ় যে নিজের করতে হয়!
খাওয়ার পরে থালা বাসন ধুতে ওর বর ওকে সাহায্য করে।ডিস ওয়াশারে ঢুকিয়ে দেয়া আর কি!রিমির বর তো তাও করেনা।সারাক্ষ্ণণ কম্পিউটারের সামনে বসে থাকে।টুকি টাকি কাজ আর টিভি দেখার পর তাড়াতাড়ি ই বিছানায় যায় ওরা।সারাদিন যে মানুষটি ওর সাথে তেমন কোন কথা ও বলেনা।অফিসে চলে গেলে ভুল করে ও ফোণ করেনা।হাত ধরা তো দূরের কথা।হঠাৎ করে যখন ডান ঊড়ূতে হাত রাখে ভড়কে যায় লাবণ্য।


চলবে




















































সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০১০ রাত ৮:৪০
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×