: আর ইউ স্লিপিং? ডু ইউ নো, হাউ হার্ড ডিড আই ওয়ার্ক টু বি হিয়ার? প্রভাইডিং অল দা লাকশারী ইউ আর এনজয়িং।স্লিপিং,ওয়াচিং টিভি,..................।
লাবণ্য আর শুনছেনা। বাকিটুকু ও জানে!চুন থেকে পান খসলেই এসব শুনতে হয়।শুনতে হয় কতটা পরগাছা সে!শুনতে হয় কিভাবে শূণ্য হাতে এসে ভাগ বসিয়েছে এ বিশাল সম্রাজ্যে।শুনতে হয়, কতটা অযোগ্য ও অধম সে এ আমেরিকান জীবণের জন্য, শুনতে হয় সে কতটাই শুধু এক বাঙালী মেয়ে, আমেরিকান মেয়েদের পায়ের যোগ্য ও সে নয়।গণ্ডারের চামড়া এখন তার। দেশে যখন ছিল, মাঝে মাঝে পড়ত কাগজে দূর কোন গ্রামে কিম্বা কোন এক অর্ধ শিক্ষিত অশিক্ষিত পরিবেশে য়ৌতুকের দায়ে গৃহবধুর উপর নির্যাতন এমন কি হত্যা। মনে হত ওরা অন্য গ্রহের বাসিন্দা। নিজেকে কখনো বসাতে পারতনা, ওখানে। হায়রে বাস্তব !এখন উঠতে, বসতে, পড়তে, খেতে, খোটা।মাঝে মাঝে গলা দিয়ে কিছু নামতে চায়না।
: আর ইউ সিক অর সামথিং?
এমন ধমকের সুরে বলা যেন কোন অধিকারে সে অসুস্থ হ’ল কেউ জানতে চাইছে।তা তেই লাবণ্যর চোখে পানি এসে গেল। এই তার স্বামী। তার সংসার ,তার জীবণ।যার কাছে সে শুধু ‘ইউ’। কত স্বপ্ন ছিল! বিয়ের পর ওর ওকে ডাকবে ‘বণ্য’ বলে। অলস মুহূর্তে হাত টি টেনে নিয়ে বলবে,
ঃআমি তো আর অমিত হ’তে পারলাম না।
ঃবলেছে তোমায়!তুমি ই আমার অমিত।
ঃতাহ’লে তো তুমি কেটি।
ঃজ়্বী না। আমি লাবণ্য তুমি অমিত আর এটা হ’ল শেষের কবিতার পরের কবিতা।
না এমন কোন দৃশ্যের অবতারণা কখনোই হয়নি।ওর স্বামী ‘শেষের কবিতা’র নাম শুনেছে বলে ও মনে হয়না।
ঃনা তেমন কিছু না। চা খাবে?
বলেই বুঝতে পারল, কী ভুলই না করেছে! মাথায় যে সেই চা ঢুকেছে!
ঃহোয়াট?নো, আই হ্যাভ বেটার থিঙ্কস টু ডু বলে, ঘট ঘট ক’রে বাসা থেকে বের হ’য়ে গেল।পুরো এক ঘণ্টা জ়গিং।
কিচেনে গিয়ে চুলায় চায়ের পানি বসালো।এখানে সবাই মাইক্রো ওয়েভে চা করে খায়। ও তা ই করে।আজ দেশী ষ্টাইলে চা খাবে।বাথরুমে গেল ফ্রেশ হ’তে।এ বাসায় ৫ টি বাথরুম। দুজন মানুষ এই একটি ই ব্যাবহার করা হয়।বাংলাদেশে অনেকের বেডরুম ই এত বড় না। শুধু দেশে ই বা কেন এখানে এই আমেরিকাতে ও খুব কম বাঙালীর বাসায় এত বিলাসীতা আছে।দু দুটো ভ্যানিটি, হিজ আয়ণ্ড হার।জাকূজি, রেইন শাওয়ার, লিনেন ক্লজেট, ভ্যানিটি ভর্তি কস্মেটিকস। শান্তা বলছিল,
ঃএত জিনিসের মধ্যে তুমি খুঁজ়ে পাও কী করে?
লাবণ্য যেখান থেকে যেটা নেয় সেখানেই রাখে।মুখে দেবার ক্রিমতি না দেখেই হাতে তুলে নিল। আবার সেখানেই রাখল। মাঝে মাখে ক্লিনিং মেয়েতা এসে এদিক সেদিক করে ফেলে ও আবার ঠিক করে রাখে।নিজ়ের অজ়ান্তেই হাত চলে যায় হ্যান্ড টাওয়েলে। একটু পানি পড়েছে। মুছে ফেলল। চা নিয়ে বসল বারান্দায়।সারা বাড়ীর ভিতরে এটাই ওর প্রিয় জায়গা।যতদূর চোখ যায় সবুজ সবুজ আর সবুজ।বারান্দা ঘেসে ছোট্ট একটি লেক।সাদা ধবধবে একটি বক দাঁড়িয়ে আছে একপায়ে।গভীর মনযোগের একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে পানির দিকে।“ ও বগি তুই খাস কি?পান্তা ভাত চাস কি?’কে বলবে চারিদিকে এত কৃত্রিমতা?ঢাকায় এমন দৃশ্য কখনোই ওর চোখে পড়েনি। শুধু ইট কাঠ আর বালু ই দেখছে শুধু। তার ভিতরে ও ছিল প্রাণ। সব কিছু মনে হ’ত ‘আমার’।শান্তার বোধ হয় এখানে ওমনে হয় সব কিছুই আমার। ওর মাঝে মাঝেই হিংসা হয় শান্তাকে।ফোনের শব্দে ধ্যান ভাঙে লাবণ্যের।উঠতে ইচ্ছা করছেনা তবু ও উঠলো ।ডিনার ও তো রেডি করতে হ’বে।
ঃহ্যালো?
ঃলাবণ্য। আমি রিমি।
ঃকি খবর রিমি, কি অবস্থা তোমার? এলে না যে!শরীর ভালো?
ঃআর ব’লনা ভাই।আমি ভালই আছি। আমার শাশুড়ী হঠাৎ করে অসুস্থ হ’য়ে পড়েছেন।্সারা দিন এত ব্যস্ত ছিলাম তোমাকে ফোণ ও করতে পারিনি। কেন জানি মনে হচ্ছিল তুমি বাসায় চলে এসেছ।তা পড়েছ কিছু?
ঃনা পড়া হয়নি তেমন কিছু। তা মাঝে মাঝে ব্রেক নেয়া ভাল। তোমার শ্বাশূড়ীর কি হ’য়েছে?
ঃ আরে না তেমন কিছুই না। তবে ঝামেলা যা বাধিয়েছে না।
ঃকি ঝামেলা?
ঃএখন না। কাল লাইব্রেরীতে বলব।
ঃউনি কি হাসপাতালে?
ঃফিসফিস করে বলল। প্রেসার হাই হ’য়েছিল।কোন ফাঁকে আবার নার্সকে বলেছে সে লোনলি।কি যে দু একটা ইংলিশ শিখেছেনা!বোঝইতো এখানকার আইন কানুন।সোসাল ওয়ার্কার হেন তেন হাজারো ঝামেলা ।কেবল তো শুরু।আর ব’লনা।ঠিক আছে পরে কথা বলব। কাল আসছ তো?
ঃহ্যাঁ
ঃখোদা হাফেজ।
ঃখোদা হাফেজ়
ডঃআহসান চৈধুরী এসে গিয়েছে।ভাগ্যিস ফোনে কথা বলা শেষ হ’য়ে গিয়েছিল! লাবণ্য কেমন একটা অস্বস্তিতে ভোগে তার পতি দেবতার উপস্থিতিতে।যাহোক শাওয়ার নিয়ে বের হবার আগেই ও টেবিল গুছিয়ে ফেলল।কাজের লোক নেই কত কাজ় যে নিজের করতে হয়!
খাওয়ার পরে থালা বাসন ধুতে ওর বর ওকে সাহায্য করে।ডিস ওয়াশারে ঢুকিয়ে দেয়া আর কি!রিমির বর তো তাও করেনা।সারাক্ষ্ণণ কম্পিউটারের সামনে বসে থাকে।টুকি টাকি কাজ আর টিভি দেখার পর তাড়াতাড়ি ই বিছানায় যায় ওরা।সারাদিন যে মানুষটি ওর সাথে তেমন কোন কথা ও বলেনা।অফিসে চলে গেলে ভুল করে ও ফোণ করেনা।হাত ধরা তো দূরের কথা।হঠাৎ করে যখন ডান ঊড়ূতে হাত রাখে ভড়কে যায় লাবণ্য।
চলবে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

