somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি তোমার বাংলাদেশের মেয়ে

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি তোমার বাংলাদেশের মেয়ে
সেলিমা তাসনীম ছন্দা

প্রতিদিনের কর্মব্যস্ত জীবনে,ডিনারের পর বাসার সবাই মিলে একসাথে বসে টিভি দেখা,একমাত্র এবং অন্যতম প্রধান বিলাসিতা। আর তা যদি হয় বাংলাদেশের কোন চ্যানেল!দেশ। দেশের নদী নালা পথ ঘাট,রিক্সা, বাস‌ যানজট ।এবং মানুষ। কথা বলছে বাংলায়।এ যে কী অনুভূতি!জীবিকার তাড়নায়, জীবনের তাগিদে নিজের নাড়ীর বন্ধন ছিঁড়ে পাড়ি জমিয়েছে সাত সমুদ্র তের নদীর পাড়ে, হ’য়েছে প্রবাসী, সে ই শুধু জানে। আজ ও বসেছি টিভির সামনে। খবর শুরু হলেই আমার আড়াই বছরের মেয়ে বিরক্ত করতে শুরু করে প্রায়ই কোথা ও গান হচ্ছে কিনা খুঁজে দেখতে হয়। কিন্তু আজ আমার চোখ আটকে গেল একটি সংবাদে, খগড়াছরি গ্রামে কহিনূর নামের এক গৃহ বধুকে তার স্বামী য়ৌতুকের জন্য তালাক দিতে চায় এবং শারিরীক নির্যাতনের এক পর্যায়ে গায়ে কেরোসিন জ্বালিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।পাড়াপড়শি মহিলার আর্তনাদ শুনে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।ডাক্তার তাকে গুরুতর ভাবে আহত বলে ঘোষণা দিয়েছেন।অত্যাচারী স্বামী দ্বারা গৃহবধু নির্যাতন এমনকি খুন নতুন কোন ঘটণা নয়। পৃথিবীর সব দেশেই কম বেশী এমন ঘটনা শোনা যায়।তবু ও আমি নির্বাক মূর্তির মত বসে আছি।বিদগ্ধ মেয়েটিকে দেখাচ্ছে।এখন পর্দায় সংবাদ পাঠক .পড়ছেন , ‘লোকাল থানার কর্মকর্তারা বলেছেন,এব্যাপারে কোণ উদ্যোগই নেয়া হয়নি কেননা কোন মামলা করা হয়নি’।আমার হাজব্যান্ড আমার পাশেই ছিল, কি ভাবছিল তখন জানিনা। তবে আমি ভাবছিলাম, ‘ও মাই গড!,আমার যদি এমন হয় কি হবে? এই প্রবাসে?’ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আমার জানে পানি এল। আমার এমন হ’লে এখানকার ডাক্তারই পুলিশে খবর দিবে। এবং সাথে সাথে পুলিশ এসে কেস হাতে নিবে।না কোন মানবিক কারণে নয়।একজ়ন চিকিৎসক আইনগত ভাবেই বাধ্য যে কোন ধরণের নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘট্না পুলিশকে জানাতে।না হ’লে তার লাইসেন্স চলে যাবে।অপরাধীকে উপযুক্ত শাস্তির পাশাপাশি কাউন্সেলিং দিয়ে মানসিক ভাবে ও সাহায্য করা হয় যাতে ভবিষ্যতে এ ধরণের কোন অঘট্ন সে না ঘটায়।সরকারই সব করে। বেচারী কোহিনূর। ও ই ওর এ পরিণতির জন্য দায়ী। কে বলেছে ওকে দেশে থাকতে! লেখা পড়া শিখে কিম্বা ডিভি নিয়ে বিদেশে চলে আসবে। ওকে কেউ না করেছে? আমরা তো বলতে গেলে বিনা পয়সায় লেখা পড়া করেছি আরও উপরি হিসাবে বৃত্তি ও পেয়েছি এবং বিদেশে সব বিদ্যা কাজে লাগাচ্ছি। জীবণের নিরাপত্তা পেয়েছি।গণ্য মান্য, দেশের সব মাথাদের ছেলেমেয়ে কেউ কি দেশে আছে? সরকারের আর খেয়ে দেয়ে কোন কাজ় নেই এসব কোহিনূরদের জীবণের নিরাপত্তা নিয়ে ভাববে!ঘূমাতে গেলাম।মাথার কাছেই ফোন কোন অসুবিধা হ’লেই 911 কল করব।সাথে সাথে পুলিশ,এম্বুলেন্স এসে হাজির হ’বে। আমি নিশ্চিন্ত আমার নিরাপত্তার জন্য কোন বিশেষ ব্যবস্থা নেবার দরকার নেই।তবু ও ঘুম আসছেনা। বার বার ভেসে আসছে সে ই মুখ,আরো হজার হাজার মুখ। আমারই মত দেখতে।আমারই মত ভাত মাছ খায়।কিম্বা তেঁতুলের আঁচার, কাশূন্দি।কথা বল্‌ গান গায় ,স্বপ্ন দেখে আমারি মত বাংলায়।আমি এমন বিদেশ বিঁভূই এ এসে ও এত নিশ্চিন্ত , নিরাপদ । ওরা মায়ের কোলে থেকে ও কত অসহায়। যে দেশের মন্ত্রি মিনিষ্টার জজ় ব্যারিষ্টার সর্বত্রই মেয়েদের পদচারণা। সে দেশের মেয়েদেরই কেন আজ়ো বলতে শুনি,
‘ আমি তোমার বাংলাদেশের মেয়ে
সৃষ্টি কর্তা পুরো সময় দেন নি
আমাকে মানুষ করে গড়তে
রেখেছেন আধাআধি করে’
(বাঁশিওয়ালা,রবীন্দ্রনাথ ঠাকূর)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩০
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×