somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

।একটি বিশেষ বিগ্ঞপ্তি// সংসদে বেবী সিটার প্রয়োজন

১২ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার সন্তানকে হীণমণ্যতায় ভোগা থেকে আমাকেই রক্ষা করতে হবে ।তাই ওর হাত দিয়েই আমার বাসার পতাকাটি পাঠিয়ে দিলাম ওর ক্লাসের জন্য। যে কোন কারণেই হোক ক্লাসে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের পতাকা থাকলে ও বাংলাদেশেরটা ছিল না ।অভিযোগ করে এলাম তবে কতৃপক্ষ কবে যোগাড় করবে তার জন্য অপেক্ষা আর আমি করলাম না । আমার ছোট্ট তিন বছরের মেয়ে , কত সাবধানে যতনে দুহাতে শক্ত করে তার নিজের দেশের পতাকা ধরে ছোট ছোট পায়ে কত গর্বের সাথে যাচেছ তার ক্লাশে এমন দৃশ্যে আমার মন ভরে গেল ।বুকের ভেতর টিপ টিপ করে একফোঁটা দুফোটা পানি পড়লো ।

আমাদের সন্তানরা জানে তারা ভেসে আসেনি । তাদের ও আছে একটি স্খায়ী ঠিকানা , আছে গর্বিত ইতিহাস আছে একটি পতাকা । সবুজের মাঝে লাল ।বাংলাদেশ । আধো আধো বোলে যখন সে বলে ‘আমার দেশ বাংলাদেশ।’বাংলার আকাশে বাতাসে মিশে থাকা , সালাম রফিক বরকত সহ ত্রিশ লক্ষ , লক্ষ লক্ষ শহিদের আত্মা সস্ত্বির নি:শ্বাস ফেলে ,চোখে মুখে তৃপ্তির হাসি নিয়ে একে অন্যকে বলে , ‘বৃথা যায়নি কিছুই বৃথা যায়নি ।’

কিন্তু আমরা বাংলার মাটিতে সদর্পে হেঁটে বেড়াচ্ছি বড় বড় খোকা খুকুরা । তারা কি এই শিশুগুলোকে দেখতে পাচ্ছি ? শুনতে পাচ্ছি ওদের হাহাকার ?কেমন অবাক আর সন্দিহান চোখে ওরা তাকিয়ে আছে আর এসব কাঠবিড়ালীদেরকে বলছে ‘জামাটা নেবে?’ ‘জুতোটা নেবে’? .....খাও একা পাও যেথায় যেটুক । ওমা তুমি ....... । ওরা ওদের সব খেলনা দিয়ে দিতে রাজী...তবু ও যদি দেশটাকে বড় বড় খোকা খুকুরা খেলণা ভেবে এভাবে তছনছ করে ভেঙে না ফেলে ।এটাতো ওদের দেশ ।

হ্যাঁ , আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের কান্ড কারখানা দেখে প্রতিটি অবোধ শিশু ও বোধহয় ভাবছে ’বেবী সিটিং’ করা দরকার । আর আমরা ? সুস্থ স্বাভাবিক সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কি ভাবছি? ‘বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে?’ কিম্বা কে গিয়ে বলবে,,সোনামণি এভাবে নয় ,সমাজে কথা ’বলার নিয়ম কানুন আছে ।এটা সংসদ , খেলার মাঠ না ।’ লক্ষীসোনা আমার, একটু ধৈর্য্ ধর ।’কিম্বা কঠিন ভাবে-- ‘ আবার যদি তুমি এমন করেছ, বার বার পুতুল গুলোর ,খেলনা গুলোর ,পোষা পাখীগুলোর নাম বদলিয়েছ, ( মনে রাখতেই আমার জান শেষ !) ঘরের দরজা খুলে চোর ঢুকতে দিয়েছ , ঘরের জিনিস বাইরে ফেলে দিচ্ছ, বাইরের মানুষের কাছে নিজেদেরকে ছোট করেছ , সারাক্ষণ ভাইয়ে ভাইয়ে বোনে বোনে চুলোচুলি করেছ ---সন্ধ্যায় বাসায় কোন টিভি নেই ।’’

কিছুদিন ধরে সংসদে যা হচ্ছে তা দেখে-- ভাবছেন বলব রাগে আমার গা জ্বলে যাচ্ছে, নিজেকে কেমন পাগল পাগল লাগছে? না এসব কিছুই না । লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে । সংসদ একটি দেশের সর্বোচ্চ এবং সর্ব্ বৃহত সভা ।বিশ্বায়নের এই যুগে ,সভ্যতার এই চরম শিখরে এসে এথনও আমার দেশ কোন তিমিরে ?পম্চিমা দুনিয়ার কথা না হয় বাদই দিলাম ।প্রতিবেশী দেশের দিকে তাকালে ই আমরা দেখতে পাই সংসদের দৃশ্য কেমন হওয়া উচিত ।গণতনেত্রর স্বরুপ কি । এই যে এক এক টি চেয়ার যেখানে বসে আছেন একজন সংসদ সদস্য তিঁনি কি আসলে কোন ব্যক্তি? না , তিনি কোন একজন ব্যক্তি বিশেষ নন । ।তিনি জন প্রতিনিধি । জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়েই দেশের সর্ব্ বৃহত মন্চকে খেলার মাঠ বানিয়েছেন । যেন ফুটবল খেলার মাঠ । গোল দিতে ব্যস্ত সবাই । খেলার মাঠে ও অবশ্য ‘ফাউল’ বলে একটি শব্দ আছে ।কী জানি তা হয়তো শুধুই বড়দের খেলার মাঠে । এ লজ্জা জনগনের, আপনার আমার , বাংলাদেশের ।

বিলোধী দল সংসদে গিয়েছে , দেশে গণতন্ত্র এসেছে আমরা সবাই খুশী । কিন্তু কেনইবা একদল ডেকেছে আর কেনই বা আর একদল গিয়েছে আমার মাথায় কিছুই আসছেনা । সমস্যা জর্জরিত জনতার প্রতিনিধিরা ব্যক্তিগত ক্ষোভ আক্রোশ নিয়ে মহাব্যস্ত ।দশ বছর বিষ বছর আগে কী হয়েছিল তা নিয়ে ঝড় তুলে যাচ্ছে সংসদে অথচ পাঁচ বছর পরে কি হবে ? পাঁচ দিন পরে কি হবে ?ভবিষ্যতের কোন সমস্যা বা সম্ভাবনা একটি টোকা ও মারতে পারছে না। ।

বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও জিয়াউর রহমান দুজনই জাতির নেতা । দুজন ই সংসদের কাছ থেকে সন্মান সূচক সম্বোধন ও আচরণ প্রত্যাশা করেন । অশালীণ আচরণ ,মন্তব্য শুধুমাত্র সভ্যতার পরিপন্থিই নয় গণতনেত্রর জন্য ও হুমকি স্বরুপ । এই দুই শ্রদ্ধেয় বিদেহী আত্মা হয়তো সব দেখছেন আর কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বলছেন --’ আগে যদি জানতাম....’ দুজনেই দেশকে ভালো বেসেছিলেন । কাজ করেছেন এবং জীবন দিয়েছেন । আমাদের মাননীয় স্পীকার সাহেব চেষ্টা করছেন । ওনার বেবী সিটিং এর ট্রেনিং নেওয়া নেই । এখন হয়তো অনুতাপ করছেন, ভাবছেন, ’ছেলেপুলে গুলোকে ছোটবেলায় ওদের মার হাতে ছেড়ে দিযে আইন আর প্রশাসনিক কাজে এত বেশী সময় দিয়ে কী ভুল ই না করেছি ।এখন এই বাচ্চাগুলোকে কিভাবে সামলাই !’
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×