somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খাঁচার পাখি

০২ রা এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


স্বাধীনতা নিয়ে কিছু একটা লিখতেই হবে ,নিজের ভিতরে এ এক অদ্ভুত তাগিদ ।কি লিখব , কিভাবে লিখব কোথা থেকে শুরু করব কিছুই ঠিক করতে পারছিনা । স্বাধীনতা যুদ্ধে আমার নিজের অভিগ্ঞতা নাকি খাঁচার পাখিটি যেদিন ছেড়ে দিলাম সেদিনের কথা দিয়েই শুরু করব আজ আমার এই স্বাধীনতার উপাখ্যান !

যুদ্ধের অভিগ্ঞতার কথা যদি বলি ,তখন খুবই ছোট ছিলাম । বৈগ্ঞানিক মতে ঐ বয়সের স্মৃতি কালের গর্ভে বিলীন হ’য়ে যাবারই কথা তবু ও ঘটনার তীব্রতা বা আকষ্মিকতার কারণে আমার স্মৃতির বইএর প্রথম পাতা জুড়েই ভুঁই ফোরের মত জেগে আছে দু একটি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ।না তেমন বিশেষ কিছুই না । সবাইকে নিয়ে দুরের কোন গ্রামে চলে যাওয়া ,হঠাত করে কোন হেলিকাপটারের শব্দ শুনে হুড়মুড় করে কোন গুহার ভিতর ঢুকে যাওয়া ।আচ্ছা তখন কি আমার গুহায় থাকতে ভালো লাগত নাকি সারা আকাশ জুড়ে আলোড়ন তোলা সেই বাহনটিকে দেখতে মন চাইতো?তবে হ্যাঁ একবার আমি বের হয়ে এসেছিলাম চুপি চুপি একা একা । কেন? মনে নেই । শুধু মনে আছে বিশাল এক জন্গল কিম্বা বাগান , ছোট বড় নানা রকম গাছগাছালি, কিছুটা অন্ধকার কোথাও কেউ নেই , ছোট্ট এই আমি দুহাতে ফ্রকের কুচি শক্ত করে ধরে কেমন অসহায় আর বিভ্রান্তের মত খুঁজে বেড়াচ্ছি কাউকে । কাকে আবার ? মামণিকে । মামণির সাহায্য ছাড়া অতটুকুন ছোট্ট মেয়ে কিছুই যে করতে পারে না । আজ ও আমি চোখ বুঁজলেই সেই অসহায় বিভ্রান্ত শিশুটিকে দেখতে পাই ।

আর খাঁচার পাখী ছেড়ে দেবার যে কথাটি বলেছিলাম , সেটাতো সেদিনের ঘটনা । পৃথিবীতে সোনার খাঁচার ও যেমন অভাব নেই ,সোনার দানার ও নেই কোন অভাব । সোনার পাখী সোনার খাঁচায় সোনার দানা খায়-- আহা, কত কাব্যিক । কিন্তু এমন একটি দৃশ্য আমার হৃদস্পন্দন বন্ধ করার উপক্রম করে ।নিজেকে পরাধীন মনে হয় অমানবিকতার কাছে । আবার সেই অসহায় আর বিভ্রান্ত শিশুটি এসে ভর করে আমার মাঝে । কিনতু বললেই কি আর হয় ! তবে সেবার হয়েছিল - সোনার পাখীর সোনার খাঁচা খুলে দেবার সেই স্বর্ণালী সুযোগ । দিলে কী হবে পাখী যে উড়তে ভুলে গিয়েছে ।বনের পাখীরা কিচির মিচির করে ওকে কি বলছে ওই জানে ।খাঁচার পাখি বলে, ‘হায় মোর শকতি নাহি উড়িবার’। শুধু ছটফট করছে আর ফিরে ফিরে আসছে খাঁচাটির কাছে । অবশেষে অরিন্দম --মিলে গেল মিশে গেল হাওয়ার সাথে সাথে । আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে । এলো স্বাধীনতা -- মানুষের পাখীর প্রকৃতির ।

একটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও ঠিক তেমনি । স্বাধীনতা ও সার্ব্ ভৌমতার সহ অবস্থান জরুরী । ভৌগলিক স্বাধীনতা অর্জ্ ন করলেই যে সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়ে যাবে তেমন কিনতু না । অশিক্ষা কুশিক্ষা অভাব থেকে মুক্তি এলেই আসে সার্বভৌমত্ব ।আসে শোষণ থেকে মুক্তি । ফিরে আসে আত্ম গরিমায় গর্বিত সেই মহান রত্ন আত্মসন্মান বোধ । সার্বভৌমত্বের জন্য আরো বেশী সাধনা প্রয়োজন । ঠিক খাঁচার পাখীটির মত পরাধীনতার বিষ বাষ্প গ্লানি রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাঁধে বাসা।

আমাদের দেশের দিকে যদি আমরা তাকাই দেখতে পাব পরাধীনতার স্বাধীনতা পরাধীনতার রাহু গ্রাস । আমরা আজ ও সেই দুশো বছরের বৃটিশ শাষণ তার’পর পাকিস্তানীদের শোষণের প্রভাব থেকে বের হয়ে আসতে পারিনি ।এখন ও আমরা নিজেরা নিজেদেরকে প্রতিভাবান বা সৃষ্টিশীল ভাবতে ভয় পাই । যতক্ষণ পর্যন্ত না একজন বিদেশী এসে স্বীকৃতি দেন । আমরা ভাষার জন্য যুদ্ধ করেছি কিন্তু(নাকি সে জন্যেই , বিদেশীদের দ্বারা অবদমিত হয়েছিল বলে) অনেকেই ‘বাংলা জানি না’ বলতে গর্ব্ বোধ করি । কে কত ইংরেজী জানি বা অন্য দেশীয় ভাষা জানি তা নিয়ে গর্বিত হই । আমি বলছি না । বিদেশী ভাষা আমরা শিখবনা । বিশেষ করে এই বিশ্বায়নের যুগে ইংরেজী তো শিখতে ই হবে নিজেকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নিত করার জন্য । বিকিয়ে দেবার জন্য নয় ।হাতে হাত ধরে বন্ধুর মত চলা আর কারো আধিপত্য মেনে নেওয়া কখনোই এক কথা নয় । ফ্রান্সের কেউ সহজে মুখ থেকে ইংরেজী শব্দ বের করে না । ইংরেজী উচ্চারণে ফ্রেন্চ, প্রশ্নই আসে না । আমরা বিকৃত উচ্চারণে বাংলা বলি। একজন বিদেশী যেভাবে বলে সেভাবে বলতে চেষ্টা করি। এটা হীণমন্যতারই পরিচয় ।পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এর উল্টোটা ঘটে । ওরা পারলে ও অন্যের ভাষা নিজের মত করে বলে । ।বৃটিশরা যশোর কে jessore বলতো ।ঢাকা কে Decca. আমি অনেক বাঙালীকে , এখন ও যশোর কে য়েশোর বলতে শুনেছি । অবচেতন মনে সে এখন ও পরাধীন ।
আমরা সুযোগ পেলেই অন্যকে দোষারোপ করি আমাদের ব্যর্থতার জন্য । এ অপসংস্কৃতি নিয়ে এলো ও আমাদের রসাতলে ডুবিয়ে দিল এমন কত কী ! নিজের ভূমিকা ও দায়িত্ব হীনতার কথা এড়িয়ে যাই । কেন আমাদের নতুন প্রজন্ম নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে ? হাজারো কারণ আছে তবে যদি আমরা মূল কারণটি কি গভীর ভাবে ভেবে দেখি উত্তরে সে একই--পরাধীনতার রাহু গ্রাস । আমরা অবচেতন মনে চাই আমাদের সন্তান বাঙালি না হোক--সে জাতে উঠুক যা খুশী তাই হোক বাঙালী না হোক । কচি শিশুর মুখ থেকে বাংলা শব্দ বের হলে উচ্ছাসিত হয়ে তাকে উতসাহিত করার পরিবর্তে হা করে তার মুখের দিকে তাকিযে থাকি । কান পেতে রই কখন একটি ইংরেজি শব্দ সে বলবে ।ওই যে শুরু হ’লো বাবা মাকে খুশী করতে বাংলাকে অবগ্ঞা করা সেটা সে ধারণ করে চলে নিজের অজান্তেই ।

আমরা বাইরে লোকদেখানো হা হুতাশ করি । মনে মনে খুশী ই হই কিম্বা প্রকাশ্যে গর্ব্ করে বলি দেশ এখন অনেক উন্নত হয়ে গিয়েছে সবাই ইংরেজী বলে ইটালিয়ান খাবার খায় মেয়েরা জিন্স পড়ে, কিছু কিছু পার্টিতে গেলে তো বোঝার ই উপায় নেই ওটা বাংলাদেশ না আমেরিকা । এই হচ্ছে আমাদের উন্নতির মাপকাঠি ।।একটি মেয়ের পশ্চিমের পোষাক পড়লো নাকি দক্ষিণের পোষাক পড়লো সেটা জরুরী নাকি তার সামাজিক অর্থনৈতিক অবস্থান নিজস্ব ও সামাজিক মূল্যবোধ বেশী জরুরী ?পশ্চিমা দুনিয়ার খোলস পড়ে আমরা কোথায় , কতদূর যেতে চাই? কোথায় তাদের মূল্যবোধ আর কোথায় আমাদর মূল্যবোধ ।কেন এ বৈষম্য ? হীণমন্যতা । কেন এ হীণমন্যতা? পরাধীনতা । শিকলের দাগ আমাদের অস্থিমজ্জায় মিশে আছে । হৃদয়ের গহিনে তার বসবাস । স্বাধীনতা শুধুই একটি শব্দ নয় শুধু ই একটি মানচিত্র নয় । একটি অনুভূতি যাকে অনুভব করতে হয় সমস্ত হৃদয় দিয়ে । ধারণ করতে হয় চেতনায় তবেই তাকে ভোগ করা যায় ধরে রাখা যায় । হতাশ হবার কিছু নেই । ঠিক খাঁচার পাখীটির মত , একদিন আমরা ও ।

২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×