শিরোনাম পড়ে একটা রোমান্টিক টেক্সট এর জন্য প্রস্তুত হয়েছেন। আমার ভেতরে রোমান্টিসিজম কম। যদিও নিশ্চিত না আসলেও কম কিনা। রোমান্টিসিজম চর্চা করার সুযোগ হয়নি, তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছেনা। তবে যা লিখতে যাচ্ছি তাতে রোমান্টিকতা না থাকারই কথা। কারণ পাঠককে একটা ধাক্কা দিতে হবে এমন নিয়ত করে লিখেত বসেছি। পাঠককে একটা মোক্ষম ধাক্কা দিতে হবে। বসন্তের প্রথম দিবসে গুটি বসন্তের মত ধাক্কা।
যেহেতু গল্পের কোন প্লট মাথায় নেই, যেহেতু গল্প পয়দা করার অতিমানবীয় ক্ষমতা আমার নেই এবং সর্বোপরি একটা গল্পই লিখতে হবে এমন কোন সুদৃঢ় সংকল্পও আমার নেই, তাই সিদ্ধান্ত নিলাম হাত পাতব। হাত পেতে জীবনে অনেক কিছুই পাইনি। আর যেখানে কিছু পাবার সম্ভবনা ছিল সেখানে সঙ্কোচে হাতই পাততে পারিনি। তাই হাত খালিই থেকে গিয়েছে। তবে এবার হল।
ঠিক করলাম, ফেইসবুকে প্রথম যে নক করবে তার কাছেই হাত পাতব। একটা গল্প ধার চাইব। একটা নীল শাড়ির গল্প। যেহেতু পাঠককে ধাক্কা দিতে হবে, সেহেতু প্রেমের গল্প হলে চলবেনা। কঠিন শর্ত। ইংরেজিতে কথা আছে- Beggars should not be choosers. বেগারের মত হাত পাতলেও চয়েজ টা কায়দা করে দিয়ে দিতে হেব। I am a beggar with the liberty of choice. বেশ।
ফেইসবুকে যে বান্ধবীটি নক করেছে সে আমাকে আগামি কালের ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। আমি ভিক্ষাবৃত্তি ভুলে গিয়ে চ্যাটাস করে কড়া উত্তর দিয়ে বসলাম। এ যেন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা। নির্বাপিতপ্রায় ভস্মকুন্ডে মারুত সঞ্চালণ। অগ্নিতে ঘৃতাহুতি প্রদান। হিতাহিতজ্ঞানশূণ্য হয়ে বলে বসলাম, 'শোনো, প্রেমবঞ্চিত একজন মানুষকে ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা জানানো আর কানা ছেলেকে পদ্মলোচন নামে ডাকা সমান অপরাধ। তুমি গুরুতর অপরাধ করেছো। তোমার শাস্তি হল, তোমার আমাকে একটা গল্প বলতে হবে। নীল শাড়ির গল্প। আর সেই গল্পে প্রেম থাকতে পারবেনা।'

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


