somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজম চৌধুরীর এন্টার্কটিকা অভিযানের ডায়েরী।(২য়-পর্ব)

১২ ই জুন, ২০১১ দুপুর ২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজম চৌধুরীর এন্টার্কটিকা অভিযানের ডায়েরী।(১ম-পর্ব)



সাউথ অর্কনী দ্বীপে যাওয়ার পথে আমরা অনেক দৈত্যাকার আইসবার্গকে দেখলাম যারা আমাদের জাহাজের পাশ দিয়ে ভেসে যাচ্ছিল।এদের কোন কোনটির সাইজ ফুটবল স্টেডিয়ামের থেকেও বড়।

যখন আমি কুপার বে থেকে ফিরছিলাম আমাদের বোট জোডিয়াকে করে,তখনই দুর্ভাগ্যবশত বোটের ভিতর পিছলে পড়ে পিঠে ব্যথা পাই।আমাদের জাহাজের ডাক্তার আমাকে ২দিন সম্পুর্ন বেডরেস্টের নির্দেশ দেন।স্পস্টই আমি হতাশাই মুষড়ে পড়ি।এটা আমার জন্য মানা কস্টকর যে,অভিযানের এমন গুরুত্বপুর্ন ২টি দিন আমাকে বিছানায় থাকতে হবে।

আর বিক্ষুদ্ধ সাগরে জাহাজ রোলিং করছিলো পাগলের মতো,আমার পিঠের ব্যথাও তার সাথে পাল্লা দিয়ে মারাত্বক আকার ধারন করছিলো।সবচেয়ে খারাপ হলো যে,আমি দাড়াতে পর্যন্ত ব্যর্থ হচ্ছিলাম।তদুপরি এই এন্টার্কটিকায় গ্রীস্মে সূর্য কখনো অস্ত যায় না,ফলে এখানে এখন অন্ধকার বলে কিছু নেই।তাই ঘুমোতেও পারছিলাম না।একিই দিন আরেকটি জোডিয়াকে অন্য একজন কানাডিয়ান তার বোটে পিছলে পড়ে সোল্ডারের হাড় স্থানচ্যুত হয়।আর আরেক ইসরাইলী ফটোগ্রাফার তার পায়ের গোড়ালীতে এমনই চোট পান যে,অভিযানের বাকী সময়টুকু তাকে জাহাজেই থাকতে হয়।

ডিসেপসন আইল্যান্ড এন্টার্কটিকা পেনিনসুলার উত্তরাংশে অবস্থিত।আমাদের যাত্রাপথে ক্রমেই বিশাল বিশাল আইসবার্গ নজরে আসছিলো।কোন কোনটি আকারে বিশাল ও খুবই সুনীল।তারমধ্যে ছকবদ্ধ সাজানো আইসবার্গগুলো থেকে ২কিঃমিঃ থেকে বড় একটি আইসবার্গ হঠাত ভেঙ্গে এন্টার্কটিকার মুল ভূখন্ড পৃথক হয়ে পড়ে।এটি আমাকে আজও বিস্ময় জাগায় যে,কিছু লোক ভাবে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বলে কিছু নেই।তারা এসব দৃশ্য দেখেনি।আর তারা এও জানেনা যে,এন্টার্কটিকার এসব সুবিশাল আইসবার্গ পৃথিবীর ৭৫% স্বাদু পানির ধারক।আমরা এসব কে আজ ধীরে ধীরে হারাচ্ছি।ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে।

ডিসেপসন আইল্যান্ড এ আমাদের অভিযাত্রি প্রধান জানালেন যে আবহাওয়া ভালো নয় এবং তা ক্রমশ আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে,ফলে এ অবস্থায় আমাদের উপকুলে যাওয়া উচিত হবে না।কিন্তু আমি উপকুলে নামতে আগ্রহী হলাম,কারন ২দিন বিছানায় থাকাতে আমি সবার থেকে বেশী উদগ্রীব হলাম।কিছুক্ষন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আমাদের দলনেতা জাহাজের ক্যাপ্টেনের কাছে গেলেন,কারন যত কিছুই বলি না কেনো এসব ব্যাপারে তিনিই হলেন অভিজ্ঞ।কিছুক্ষনপর আমাদের দলনেতা যুগপত ভালো ও মন্দ দুটি খবরই আনলেন।ভালো খবর হলো,তিনি আমাদের নামার জন্য সবুজ সংকেত দিলেন।আর খারাপ খবর হলো,আমাদের এই ল্যান্ডিংটা হলো অনেকটা পাথুরে জলাভূমিতে নামার ন্যায়।কারন পাথুরে উপকুল হওয়াতে আমাদের জোডিয়াক পুরোপুরি তীরে ভীরতে পারবেনা,তাই আমাদের কোমর সমান বরফ শীতল জলে নেমে পড়তে হবে।

তথাপি আমরা যখন ডিসেপসন আইল্যান্ডে নামলাম ,আবহাওয়া ছিলো খুবই ঠান্ডা ও প্রবল ঝড়ো বাতাসের সাথে বরফ পড়ছিলো।বাতাস এতোই জোরে বইছিলো যে আমাদের কোন কিছু না ধরে দাঁড়িয়ে থাকা ভীষন কস্টকর বলে মনে হচ্ছিল।(চলবে….)








সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৩:০১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×