এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটা ঘৃন্য লাইনের মাত্র এইচ. এস. সি পর্যায়ের একটি সনদের মালিক আমি। একমাত্র ভাই আমি, আর ৪ বোন, মা এই নিয়ে সংসার। দরিদ্র হবার কারনে জীবনের ঘাত প্রতিঘাতে ক্লান্ত। আর জীবনের উপর আছে সংসার ভাঙ্গার মতো কলঙ্ক। ছাত্র জীবনের এস এসসি পর্যায় শেষ হবার পর থেকেই আমার জীবনে এসেছিল সম্ভ্রান্ত পরিবারের এক বন্ধু। যিনি আজও বন্ধু হয়েই আছেন। আমি তখন মধ্যপাচের একটি দেশে অবম্থান করছি। আমার বড় বোন ঢাকায় স্বামীর একটি নিম্ন মানের চাকরীর সুবাদে ভাড়ায় থাকেন।
বোনটি দেশের বাড়িতে যাওয়ার সুবাদে সেই সম্ভান্ত বন্ধুটির বাড়িতে বেড়াতে গেলে বোনের সাথে আলাপ প্রসঙ্গে- আমার সেই বন্ধুর মাষ্টার্স পাশ বোনটি আমার সম্পর্কে ....... আমার প্রতি ভালবাসার আবেগ প্রকাশ করে। যদিও সেই বন্ধুর বাড়িতে আমার যাতায়ত তেমন একটা ছিলনা। তাছাড়া আমি ছিলাম সমাজের চোখে অনেক কলন্কের অধিকারী। এমনটি হতে পারে তা আমি কল্পনাও করতে পারছিলাম না। অনেক ভেবে চিন্তে আবিস্কার করি। আমার বন্ধুটিকে লেখা চিঠিগুলি সে হয়ত পড়ে .. যার জন্য এই আবেগ। ভাবলাম জবাবটা তাকে সে ভাবেই দেই।
তারপর লিখে ছিলাম এই চিঠি- যা মনে হয় আমার অনেক লেখার মধ্যে শ্রেষ্ট একটি রচনা।
........... (নাম) ভাই
ছালাম ও ভালবাসা রইল। আশাকরি ভাল আছেন আমার দোয়াও তাই- আমি আমি আবেগাপ্লত-হযবরল। আবেগাপ্লুত এ কারনে যে ১৪ইং ফেব্রয়ারি বুধবার সকাল ১১ টায় (বাংলাদেশ সময়) ফোন করেছিলাম ঢাকায় এক হিতাকাংখীর সাথে কথা বলেছিলাম। প্রয়োজনীয় কথা শেষে তিনি বললেন এক অপ্রয়োজনীয় (?) কথা, অর্থাৎ কোন এক স্ত্রীলিংগের এক জন আমার ঐ হিতাকাঙ্খীর সাথে নাকি বলেছে - ঠাট্টাচ্ছলে কিনা বুঝিনা- বাক্যটা এ রকমঃ -
“......... (আমার নাম) ভাইকে বলবেন ওনি যেন আমার সাথে যোগাযোগ করে- আমি ওনারে বান্ধুম” (বাঁধবে) ইত্যাদি---। কর্মস্থলে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম .. ফোনে কিন্তু হাতে রাখা ছোট্ট ম্যাচের মত। মোবাইলটাও যেন হাত থেকে পড়ে যেতে চাইল মনে হলো .............. (দেশের নাম) এই মরুভূমির বুকে যেন হাজার বছর পরে বৃষ্টি এল। সন্ধায় যখন ঘরে বসে টিভি অন করলাম- বুঝলাম আজ “ভেলেনন্টাইন ডে” হৃদয়ে আর একটু ঝড় বয়ে গেল- ঝড় বলা বোধ হয় ঠিক হবেনা- ’বৃষ্টি’ বলাটাই বোধ হয় যৌক্তিক। যদিও বার্তা বাহক ও বার্তা প্রেরক কারোরই জানা ছিলনা যে, দিনটা ভেলেন্টাইন ডে কিনা। যাক, তারপর থেকেই আবেগাপ্লুত মনে ভাবছি: আমার মত একজন হতভাগাকে আবার বাঁধতে চায় ? এমন মানুষ কি পৃথিবীতে আছে ? আপনার নিশ্চয় জানা আছে- নজরুল কোন এক ব্যক্তিগত চিঠিতে- মোতাহার হোসেনকে লিখেছিল “ছেলেবেলা থেকে পথে পথে মানুষ আমি- যে স্নেহে, যে প্রেমে, বুক ভরে উঠে কানায় কানায়- তা কখনও কোথাও পাইনি। এখন আমি সর্বদাই এই অংশ টুকুই শুনি আর মাঝে মাঝে আবেগের লোনাজলে হৃদয়কে ধুয়ে দেই। কারন - নৈরাশ্যবাদিতা বা দুঃখবোধ হৃদয়ে পুষে রাখায় এক ধরনের প্রশান্তি আসে- সেটা মনে হয় একান্তই আমার। সেখানে অন্য কারো প্রবেশাধিকার নেই। আসলে জীবনের সুখ, দুঃখকে ভাগাভাগি করার মত কাউকে পেলাম না তো? তাই হয়তো আমার মধ্যে এ ”বোধের” সৃষ্টি। স্নেহ মমতাহীন, বাধা বন্ধনহীন এই আমি- শুন্য হৃদয়ে কত যে, ভিক্ষুকের মত ভিক্ষাঝুলি নিয়ে ঘুরেছি পথে পথে, দেশে দেশে, শুধু সে রকম, একটু প্রেম ভালবাসার জন্য। কই? কোথাও তো এমন কোন বন্ধন পেলাম না ? যে বন্ধন আমাকে দিতে পারে ঘরে ফেরার তাগাদা, অথবা বলতে পারে আমি তোমার ।
যাক, ও সবতো বলবেন আমার পাগলামী আবেগ। কিন্তু যা জীবনের ধ্রুব সত্য- সেটাকে অস্বীকার করবেন কিভাবে ? যেমন আমার স্বরনে আসেনা আমার জন্মদাতা পিতা কেমন ছিলেন? একজন অভিবাবক বা বড় ভাই থাকলে কেমন লাগে ? পিতার শাষন কেমন? বুঝতে পারলাম না সন্তানের প্রতি পিতার স্নেহ কেমন? কতটুকু প্রেম ভালবাসা থাকে সন্তানকে শাষন করার মধ্যে পিতার? ভাই- উপরোক্ত ক’লাইন লিখতে গিয়ে কতটুকু চোখের পানি যে, বিছানার ফোমটা ভিজিয়ে দিল তা বুঝাবার ভাষা নেই। কলমটা থামিয়ে কিছুক্ষন কেঁদে আবার লিখছি। একেই বোধ হয় শিশুর মত কান্না বলে।
এ হতভাগার তো সবই অন্ধকার ... একটু আলোর ঝালকানি আসে- তো দ্বিগুন অন্ধকার ধাওয়া করে। বিয়ে করা স্ত্রীকে বলে ছিলাম- দেখ আমি ছোটবেলা থেকেই স্নেহ মমতাহীন ভাবে বড় হয়েছি অন্তরের এ শুন্যতাটাকে পূরন করাবার জন্যে সংসার করলাম, কিন্তু তোমার সে যোগ্যতার পরিচয় আমি আজও পেলাম না যে তুমি আমার এ শুন্য হৃদয়টাকে ভালবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিতে পার। এখন আমাদের মাঝে যখন নতুন একজন যখন আসতে চায়- অন্ততঃ তার ভালবাসাটা যদি আমার এ পুড়া বুকে একটু শান্তি দিতে পারে- মন্দ কি ? সেই নিস্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে হয়ত আমাদের এ সম্পর্কটাও মজবুত হয়ে যেতে পারে। কিন্তু কই! সবই ছিল “অরন্যে রোদন”। সে আমার কথা রাখল না। পরীক্ষার মত একট অজুহাত দেখিয়ে ..........।
যে “জাতির” প্রতি তীব্র ঘৃনা নিযে বাংলাদেশ ছেড়েছিলাম- আজকের এ সময় আমার সে ঘৃণাটাকে ভালবাসায় বদলে দিয়েছে। আজ কেবলি এ পাগল মন বলে পৃথিবীতে প্রেম আছে- ভালবাসা আছে। জাগতিক নিয়মেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটা সত্যিকারের বন্ধনে বাধা পরতে মনটা ’ব্যকুল’। কিন্তু আমি সময় এবং পরিবেশের হাতে বন্ধী।
পুরানো প্রসঙ্গে ফিরে আসি .. ও বেচারীকে ধন্যবাদ এ কারনে যে তার কোন এক অসাবধাণী উক্তির জন্য আমার অনেক দিনের কান্নার সাধ পুরন হলো। মনে হলো কত লক্ষ টন একটা পাথর যেন আমার বুকের উপর থেকে সরে গেছে, আবার যেন চৈত্রের খাঁ খাঁ রোদ্দুরে পোড়া প্রকৃতিতে এক পশলা বৃষ্টি এলো- বৃক্ষেরা সতেজ হবে। হোকনা তার সে উক্তিটা নিছক ঠাট্টা।
তবু আমি আবেগাপ্লুত মনে ভাবছি- কিসের সে বন্ধন .. ? মনকে আবার সান্তনা দেই- এই বলে - হোকনা সে বন্ধন শাষনের- শাস্তির - অথবা সমবেদনার। যাই হোক অন্তত: এই টুকুই শান্তনা আমার যে- অনেক কু- বিশেষনে বিশেষায়িত আমার মত হতভাগ্য মানুষকে নিয়ে কেউ “ভাবে”।
যাক, আমাকে বাঁধতে চাওয়া সেই মানুষটির- সে বন্ধন শাস্তির, সমবেদনার, অথবা শাষনের যাই হোকনা কেন- আমি সে প্রতিমার কাছে হাঁটুগেড়ে বসে, শান্ত মনে, দু’হাত বাড়িয়ে দিতাম হাতকড়া পরার জন্য। কিন্তু ভাই... “স্থান-কাল-পাত্র সেখানে হাজার প্রাচীর সম”। সে প্রাচীর ডিঙ্গাবার সাধ-সাধ্য কোনটাই হয়তবা আমার নেই। কিন্তু তার অসাবধানী সেই উক্তিটা আজ আমার জীবন চলার পথের পাথেয়.. নতুন করে বাঁচার প্রেরনা। ২০০০ সালের শুরুতে কবিতার মত ডায়ালগ লিখে ছিলাম-
A Dream of Millennium
Whose light is coming?
In my sorrowful life
I wonder… And I think…
Who is the glorious -?
Who is the merciful?
I have closed my eyes.
To see His beauty,
I have opened my hand
To get His kindness, -
I want to walk
To see his “mysterious make’’
To see His unknown sky
I am looking
To get his light
I wonder…. I think…
এই ডায়াল গুলোর আবেগের রেশ বোধহয় এখনও কাটে নাই- তাই হয়ত এই লম্বা লেখা। (এরপর ছিল অন্য প্রসঙ্গ) যাক ...... ভিসাটা এখনও হচ্ছেনা। ........ ভাই টেলিফোনে কথা বললে বলা যায় কিন্তু চিঠির ভাষায় যা বলা যায় টেলিফোন কখনও তা পারে না। আমি আপনার চিঠির অপেক্ষায় রইলাম। ইতি, আপনার ...........
এই টিঠিটা আমার কাছে ভাল একটা লেখা বলে তখনই রাফ কপি থেকে কম্পিউটারে কম্পোজ করে সেভ করে রেখে ছিলাম। আজ হঠাত ঘাটতে ঘাটতে নজরে পড়ে গেল... তাই পাঠক ভাইদেরকে ...
যদিও এই নিকে আমি বেশী একটা লিখিনা। তবু এটাও একটা মিরাকল যে আজ যখন এই পোষ্টটা লিখার জন্য লগ ইন করলাম তখনই সামুর পক্ষ থেকে লেখা উঠল শুভ জন্মদিন টেকনো। লেখাটা দেখেই দু"ফোটা লোনাজল এসে গেল চোখে..
কারন -- আজ কেবলি আমার মনে হচ্ছে আমার এই জীবন অপেক্ষায় আছে কেবল কখন শুনবে শুভ মৃত্যুদিন ....
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




