somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সময় কাটানো চলচ্চিত্র

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি ছোট থাকতেই বাসায় টেলিভিশন পেয়েছি। ভাগ্যই বলতে হবে। তবে তা সু না কু তা নিয়ে কখনো ভাবতে বসিনি। ছোট থেকেই আমি কষ্টের কিছু দেখতে পছন্দ করি না। ঢিসুম ঢিসুম মারপিট চলে কিন্তু সেন্টিমেন্টাল কিছু দেখালে আমি সেই এইটুকু সময় থেকেই ইমোশনাল হয়ে কেঁদে কেটে একসা! তাই টিভি দেখতাম দরজার কোনায় দাঁড়িয়ে। বাসার মানুষ, বুঝেই কি না জানিনা, যে বাসাগুলোতে ছিলাম তাতে এমন জায়গায় টিভি রাখতো যে দরজার কোনায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত। দুঃখের কিছু বা ভয়ের কিছু দেখালেই আমি অন্য ঘরে সরে যেতাম!

আব্বু অনেক হিন্দি ছবি দেখত ভিসিপিতে। আম্মু ঠিক উল্টো! নেশা ধরে যাবে এটা মনে করে আমার মা টিভি দেখতো কম। মাঝে মাঝে যখন বসতো তা বিশেষ উপলক্ষ্যেই। যেমন ইত্যাদি। আর নাটকের মধ্যে হুমায়ুন আহমেদের ধারাবাহিকগুলো এক সপ্তাহ পরপর দেখত। যদিও কোথাও কেউ নেই-এর শেষের দিকের পর্বগুলো সব দেখেছিল। সেই বাকের ভাইয়ের ফাঁসি দেয়ার দিনের কথা মনে আছে- ড্রইংরুমে মেঝেতে বিছানা ছিল, তার পাসে বসে হাঁটুগুজে আমি কেঁদেছিলাম - সেদিন থেকে আর দরজা ধরে দাঁড়াইনি।

ভিসিপির হিন্দি ছায়াছবি বা শুক্রবারের বিটিভির বাংলা ছায়াছবি কোনটাই ভালো লাগতো না। নায়ক-নায়িকা, তাদের পরিচয়, বোঝাপরা, গান, দরিদ্র পরিবারের অপমান, বিরহ, পলায়ন, হাক-ডাক মেরে মারধর & অবশেষে মিলন। ফর্মূলার আগে পিছে বা মাঝে কিছু যোগ-বিয়োগ হতো। হিন্দিতে কি আনতো আব্বু আমি জানিনা। বুঝতাম না কিছু তাতে অসহ্য লাগতো সব! তবে "মিস লংকা" ছবিটা সখ করে দেখেছিলাম, হাসির বলে। কমেডী ভালো লাগতো সবসময়! হাসির কিছু হলে সখ করে দেখেছি, কম বুঝলেও!

এ জীবনের শুরুর দিকে টিভি দেখেছি মূলত কার্টুনের জন্য। পরে অবশ্য হাবি জাবি দেখা শুরু করলাম। তারপর ধীরে ধীরে সিনেমা দেখা শুরু করলাম ইংরেজী/হিন্দি/বাংলা। মুভি অফ দা উইক কখনো আগে দেখিনি, বুঝতে পারিনি তাই। তবে ওখানে তিনটা ছবি দেখেছিলাম কিছু অংশ করে, যার ঘটনা মনে আছে কিন্তু নাম এখনো মনে করতে পারিনি। হয়তো এখানে কারো সাথে আলাপ করলে জানা যাবে!

গত ৬ বছরে আমার সিনেমাপ্রীতি ধীরে ধীরে বেড়েছে। তবে আমি দর্শকমাত্র। বিনোদন-ই ধর্ম! মাঝে মাঝে একটু হাসাহাসি বা একটু কান্নাকাটি। এখন খুঁজে খুঁজে ক্লাসিক জিনিস দেখার ঝোক হয়েছে। নাম-ডাক ওয়ালা ছবি আর কি! ইন্টারনেটের মজাই এই...অনেক কিছু পাওয়া যায় না...আবার অনেক কিছুই পাওয়া যায়!

উৎপল দত্ত-কে গুগল করতে যেয়ে বেশ কিছু খবর পেয়ে গেলাম। ওনাকে ছোট বেলা থেকেই পছন্দ। কলকাতার কোন একটা ছবি দেখেছিলাম...আলাদা করে মনে আছে কারন আম্মুও দেখেছিল...তারপর থেকে আম্মু বলতো - গোল গোল চোখওয়ালা উৎপল দত্ত। আজকে হিন্দী হাসির ছবি দেখার ইচ্ছা হলো। গোলমাল দেখেছিলাম আগে... ভিন্ন ধরনের বাস্তববাদী কমেডী। তার থেকে উৎপল দত্তকে সার্চ করে পেলাম ভুবন সোম- এর কথা। এ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন উনি এর জন্য। নেটে পেয়েও গেলাম ভালো প্রিন্ট! দেখে আবার গোলমাল-এ ফিরলাম। এখনো দেখছি। যদিও মেগাভিডিও মাঝে আটকে দিয়েছে। অপেক্ষা করতে হবে কিছুটা সময়।

এভাবেই গুতিয়ে গাতিয়ে সিনেমা দেখে অনেক সময় কাটাচ্ছি (বা আমার মায়ের মতে সময় নষ্ট করছি- হয়তো আম্মুই ঠিক)। মাঝে মাঝে ইউটিউবও গুতাই! মাল্টিটাস্কিং পারি না, তাও করার চেষ্টা করে যাই। উইকিপিডিয়ার বদৌলতে অনেক কিছুর নারি-নক্ষত্র জানতে পারছি...তা আবার ভুলেও যাচ্ছি! বই পড়ে যে আনন্দটা পেতাম, তা সিনেমা দেখেও পাচ্ছি। ভালোই লাগছে একজন দর্শক হিসেবে; পাঠক হিসেবে।

এ্যামেচার দর্শকদের কোন ফোরাম কি আছে? কেউ জানেন? যেখানে সিনেমাপ্রেমী দর্শকরা তাদের দেখা সিনেমা নিয়ে কথা বলতে পারেন? জ্ঞানী ব্যাপার স্যাপার না...নেহায়েৎ সাদামাটা মানুষের জায়গা।

ট্রিভিয়া নিয়ে বন্ধুর এক পোস্ট দেখলাম। আজকে আবিস্কার করা কিছু অপ্রয়োজনীয় ট্রিভিয়া উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারছি না!

কারো কেউ নইকো আমি ড্যানি ডেনযংপা'র উপর চিত্রায়িত (উনি আমার পছন্দের অভিনেতা)।
বাম-হাতি অমিতাভ বচ্চন গোলমাল-এর এক সিনে ডান হাত দিয়ে অটোগ্রাফ দেন।
উত্তম কুমার ও শর্মিলা [ঠাকুর] অভিনিত অমানুষ ছবিতে বাংলা/হিন্দি দুরকম ভাষার সাথেই ঠোট মিলানোর মিল আছে (তাহলে কি পাশে পাশে শুটিং করেছে?)!

কতো কতো সিনেমা দেখা বাকি। অথচ দেখার সময় নেই। আফসোস লাগছে।


সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৩৭
২২টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×