somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাধারণ ও যুগ্ম সম্পাদকের নাক টিপলে এখনও সর্দি বের হয়

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীদের ব্যাপারে বেফাঁস মন্তব্য করার কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল যুক্তরাজ্যে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। একটি বিরূপ সাক্ষাৎকারের কারণে নেতাকর্মীরা তার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা লন্ডনে প্রকাশিত দুটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় আবদুল জলিলের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার পর যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় হাইকমান্ডকে জলিল তাচ্ছিল্য করে নানা কথা বলেছেন।
সোমবার প্রকাশিত এ দুটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় আওয়ামী লীগের সদ্য সমাপ্ত কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে সাবেক এ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ কমিটি ব্যর্থ হবে, যারা এ কমিটিতে আওয়ামী লীগের নেতা হয়েছেন তারা যোগ্যতা অর্জন করার আগে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন। আর সেটা তাদের ও দলের উভয়ের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। এসব নবরত্ন দিয়ে আওয়ামী লীগের কোন লাভ হবে না। কোন কিছু অর্জনের জন্য যে যোগ্যতা দরকার এ কমিটির অনেকেরই তা নেই। তারা দল আর দেশকে কি দেবেন? নেতৃত্ব তৈরির পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল যে ভালো হবে না সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি অচিরেই উপলব্ধি করবেন। আবদুল জলিল বলেন, দলের সঙ্গে সরকারের সুন্দর সমন্বয় আছে। এটি দিনবদলের সনদ বাস্তবায়নে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রীই দলের সভানেত্রী। দেশের প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী একই ব্যক্তি হওয়াটাই সমন্বয়।

তার মতো নেতাদের আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটিতে আসতে ২০ বছর সময় লেগেছে। কিন্তু হঠাৎ করে তিনদিনে ছোড়া যারা কথা বলতে পারে না, নাক দিয়ে এখনও সর্দি ঝরে তাদের আওয়ামী লীগের মতো দলের জেনারেল সেক্রেটারি, জয়েন্ট সেক্রেটারি, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি করে শেখ হাসিনা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেননি।

তিনি বলেন, সরকারের ভুলত্রুটির চেয়েও সিদ্ধান্তহীনতা একটা বড় সমস্যা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেসব সিদ্ধান্ত দেয়া দরকার সেটা হচ্ছে না। আবার অনেক সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন নেই কিন্তু তাড়াহুড়া করে তা নেয়া হচ্ছে। আট মাস অতিক্রান্ত হল, এ ক্ষেত্রে সরকারের কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না, অথচ তারা সব সময় বলে আসছেন চারদলীয় জোট ‘করে নাই’, ‘করে নাই’, এখন কী বলবেন? হয় বলতে হবে ‘করেছি করেছি’। নতুবা বলতে হবে ‘পারি নাই’, ‘পারি নাই’। তবে পারি নাই বলার জন্য মাসুল দিতে হবে।

তিনি মনে করেন, মন্ত্রীদের অনভিজ্ঞতার কারণে সাফল্য আসছে না। মন্ত্রীদের যোগ্যতা, দক্ষতা, ক্ষমতা ও দূরদর্শিতার অভাবের কারণে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রীদের কথাবার্তার সমন্বয় নেই। আর সে কারণে সরকারের ওপর জনগণের আস্থা নেই। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে আবদুল জলিল বলেন, মন্ত্রীদের ঘাড়ের ওপর উপদেষ্টাদের বসিয়ে দেয়ার জন্য মন্ত্রীরা বিব্রত হচ্ছেন। তারা সঠিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। একদিকে মন্ত্রীদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি, অন্যদিকে তাদের মাথার ওপর উপদেষ্টারা ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। এ অবস্থায় নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এতদিন জানতেন উপদেষ্টা হয় প্রধানমন্ত্রীর তার সঙ্গে সমন্বয় করেন তারা, কিন্তু এখন মন্ত্রীদের ওপর উপদেষ্টা বসিয়ে দিয়ে অযথা জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে আমলারা সুযোগ নিচ্ছেন। একদিকে মন্ত্রীদের অনভিজ্ঞতা অন্যদিকে উপদেষ্টাদের কারণে বিব্রত মন্ত্রীরা- এ অবস্থায় আমলারা জেঁকে বসছেন সরকারের ওপর। দুর্ভাগ্যবশত আওয়ামী লীগ সরকার এখন ব্যুরোক্রেসির মাধ্যমে চলছে। যা যে কোন সময়ে বিপর্যয় ডেকে আনবে। তখন আর কিছু করার থাকবে না।
লন্ডনের পত্রিকায় আওয়ামী লীগ ও সরকার সম্পর্কে আবদুল জলিলের এ মন্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন। এর আগে গত বছর লন্ডন সফররত শীর্ষ নেতা আমির হোসেন আমু ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে সংস্কারবাদী আখ্যায়িত করে দলীয় নেতাকর্মীরা লন্ডনে তাদের বয়কট করেন। দলীয় সভানেত্রী লন্ডনে অবস্থানকালীন শত চেষ্টা করেও নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। বিমানবন্দরে স্বাগত কিংবা বিদায় জানাতে কেউ যাননি।
অপরদিকে তিনি দেশটিভির সঙ্গে একান্ত এক সাক্ষাৎকারে বলেন, অবসর হিসেবে কি দায়িত্ব পালন করছেন জানতে চাইলে আবদুল জলিল বলেন, সাধারণ সম্পাদক হলেন দলের প্রাণ। তার দাবি, এক সময় সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গেই পালন করেছেন তিনি। জলিল বলেন, ন্যাশনাল পলিটিক্স নিয়ে চিন্তা আমি অবশ্যই করি। কিন্তু সে চিন্তার বিস্তৃতি ঘটানোর পরিবেশটা কোথায়, সুযোগটা কোথায়। তিনি বলেন, আমি আমার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকায় যাই। নির্বাচনী এলাকায় আমার কাজ আছে। এক সময় বাংলাদেশজুড়ে আমার ভূমিকা ছিল। সে ভূমিকা তো এখন আর নেই। তবে এরপরও তিনি দল ও সরকার নিয়ে ভাবেন।
এক সময়ের আলোচিত-সমালোচিত ডাকসাইটে এই নেতার রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরে গেলেও সময় তার ভালোই কাটছে। দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটিই দাবি করেছেন জলিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি খুব ভালো আছি। সকালবেলা উঠি। পার্লামেন্টে যাই। পার্লামেন্ট থেকে বাসায় আসি। বাড়িতে এলাকার লোকজন আসে। তাদের কথা শুনি। ব্যাংক আছে। এ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে একান্তভাবে জড়িয়ে আছি। প্রতিষ্ঠানটির উন্নতির চেষ্টা করি। এখানেও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা হয়। আমি খুব ভালো আছি।click plz
bdleadnews.com
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×