দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীদের ব্যাপারে বেফাঁস মন্তব্য করার কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল যুক্তরাজ্যে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। একটি বিরূপ সাক্ষাৎকারের কারণে নেতাকর্মীরা তার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা লন্ডনে প্রকাশিত দুটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় আবদুল জলিলের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার পর যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় হাইকমান্ডকে জলিল তাচ্ছিল্য করে নানা কথা বলেছেন।
সোমবার প্রকাশিত এ দুটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় আওয়ামী লীগের সদ্য সমাপ্ত কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে সাবেক এ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ কমিটি ব্যর্থ হবে, যারা এ কমিটিতে আওয়ামী লীগের নেতা হয়েছেন তারা যোগ্যতা অর্জন করার আগে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন। আর সেটা তাদের ও দলের উভয়ের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। এসব নবরত্ন দিয়ে আওয়ামী লীগের কোন লাভ হবে না। কোন কিছু অর্জনের জন্য যে যোগ্যতা দরকার এ কমিটির অনেকেরই তা নেই। তারা দল আর দেশকে কি দেবেন? নেতৃত্ব তৈরির পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল যে ভালো হবে না সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি অচিরেই উপলব্ধি করবেন। আবদুল জলিল বলেন, দলের সঙ্গে সরকারের সুন্দর সমন্বয় আছে। এটি দিনবদলের সনদ বাস্তবায়নে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রীই দলের সভানেত্রী। দেশের প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী একই ব্যক্তি হওয়াটাই সমন্বয়।
তার মতো নেতাদের আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটিতে আসতে ২০ বছর সময় লেগেছে। কিন্তু হঠাৎ করে তিনদিনে ছোড়া যারা কথা বলতে পারে না, নাক দিয়ে এখনও সর্দি ঝরে তাদের আওয়ামী লীগের মতো দলের জেনারেল সেক্রেটারি, জয়েন্ট সেক্রেটারি, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি করে শেখ হাসিনা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেননি।
তিনি বলেন, সরকারের ভুলত্রুটির চেয়েও সিদ্ধান্তহীনতা একটা বড় সমস্যা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেসব সিদ্ধান্ত দেয়া দরকার সেটা হচ্ছে না। আবার অনেক সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন নেই কিন্তু তাড়াহুড়া করে তা নেয়া হচ্ছে। আট মাস অতিক্রান্ত হল, এ ক্ষেত্রে সরকারের কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না, অথচ তারা সব সময় বলে আসছেন চারদলীয় জোট ‘করে নাই’, ‘করে নাই’, এখন কী বলবেন? হয় বলতে হবে ‘করেছি করেছি’। নতুবা বলতে হবে ‘পারি নাই’, ‘পারি নাই’। তবে পারি নাই বলার জন্য মাসুল দিতে হবে।
তিনি মনে করেন, মন্ত্রীদের অনভিজ্ঞতার কারণে সাফল্য আসছে না। মন্ত্রীদের যোগ্যতা, দক্ষতা, ক্ষমতা ও দূরদর্শিতার অভাবের কারণে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রীদের কথাবার্তার সমন্বয় নেই। আর সে কারণে সরকারের ওপর জনগণের আস্থা নেই। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে আবদুল জলিল বলেন, মন্ত্রীদের ঘাড়ের ওপর উপদেষ্টাদের বসিয়ে দেয়ার জন্য মন্ত্রীরা বিব্রত হচ্ছেন। তারা সঠিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। একদিকে মন্ত্রীদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি, অন্যদিকে তাদের মাথার ওপর উপদেষ্টারা ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। এ অবস্থায় নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এতদিন জানতেন উপদেষ্টা হয় প্রধানমন্ত্রীর তার সঙ্গে সমন্বয় করেন তারা, কিন্তু এখন মন্ত্রীদের ওপর উপদেষ্টা বসিয়ে দিয়ে অযথা জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে আমলারা সুযোগ নিচ্ছেন। একদিকে মন্ত্রীদের অনভিজ্ঞতা অন্যদিকে উপদেষ্টাদের কারণে বিব্রত মন্ত্রীরা- এ অবস্থায় আমলারা জেঁকে বসছেন সরকারের ওপর। দুর্ভাগ্যবশত আওয়ামী লীগ সরকার এখন ব্যুরোক্রেসির মাধ্যমে চলছে। যা যে কোন সময়ে বিপর্যয় ডেকে আনবে। তখন আর কিছু করার থাকবে না।
লন্ডনের পত্রিকায় আওয়ামী লীগ ও সরকার সম্পর্কে আবদুল জলিলের এ মন্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন। এর আগে গত বছর লন্ডন সফররত শীর্ষ নেতা আমির হোসেন আমু ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে সংস্কারবাদী আখ্যায়িত করে দলীয় নেতাকর্মীরা লন্ডনে তাদের বয়কট করেন। দলীয় সভানেত্রী লন্ডনে অবস্থানকালীন শত চেষ্টা করেও নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। বিমানবন্দরে স্বাগত কিংবা বিদায় জানাতে কেউ যাননি।
অপরদিকে তিনি দেশটিভির সঙ্গে একান্ত এক সাক্ষাৎকারে বলেন, অবসর হিসেবে কি দায়িত্ব পালন করছেন জানতে চাইলে আবদুল জলিল বলেন, সাধারণ সম্পাদক হলেন দলের প্রাণ। তার দাবি, এক সময় সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গেই পালন করেছেন তিনি। জলিল বলেন, ন্যাশনাল পলিটিক্স নিয়ে চিন্তা আমি অবশ্যই করি। কিন্তু সে চিন্তার বিস্তৃতি ঘটানোর পরিবেশটা কোথায়, সুযোগটা কোথায়। তিনি বলেন, আমি আমার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকায় যাই। নির্বাচনী এলাকায় আমার কাজ আছে। এক সময় বাংলাদেশজুড়ে আমার ভূমিকা ছিল। সে ভূমিকা তো এখন আর নেই। তবে এরপরও তিনি দল ও সরকার নিয়ে ভাবেন।
এক সময়ের আলোচিত-সমালোচিত ডাকসাইটে এই নেতার রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরে গেলেও সময় তার ভালোই কাটছে। দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটিই দাবি করেছেন জলিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি খুব ভালো আছি। সকালবেলা উঠি। পার্লামেন্টে যাই। পার্লামেন্ট থেকে বাসায় আসি। বাড়িতে এলাকার লোকজন আসে। তাদের কথা শুনি। ব্যাংক আছে। এ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে একান্তভাবে জড়িয়ে আছি। প্রতিষ্ঠানটির উন্নতির চেষ্টা করি। এখানেও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা হয়। আমি খুব ভালো আছি।click plz
bdleadnews.com

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




