somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টেনশন কমানোর উপায়

২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টেনশন কমানোর ২৩টি উপায়

উদ্বেগ সমস্যার পাশাপাশি প্যানিক শব্দটা চলে আসে। এটি উদ্বেগের একটা পুঞ্জীভূত রূপ। ব্যক্তি মনে করে বসেন পুরো শরীর দুর্বল আর ভেঙে আসছে, হৃদকম্প থেমে আসছে। মৃত্যুর সময় যেন আসন্ন। ঘাবড়ে যাবার কোনো কারণ নেই। আতঙ্ক প্রবলভাবে চেপে বসলেও তা কখনোই প্রাণে মারে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ সমস্যাগ্রস্তদের অ্যাসোসিয়েশন কতগুলো গোল্ডেন রুল শিখিয়ে থাকে। আপনিও তা চর্চা করতে পারেন। যদি এ সমস্যা থাকে তাহলে দেখবেন কতটা স্বাচ্ছন্দ্য আর সাবলীলভাবে তা অতিক্রম করে যাচ্ছেন। মাত্র দশটা নির্দেশনা আজই মনে গেঁথে নিন।

১. সব সময় আশ্বস্ত থাকবেন এজন্য যে, এ সময়কালীন অনুভূতি আর উপসর্গগুলো বেশ ভীতিপ্রদ মনে হলেও তা মারাত্মক ও ক্ষতিকর কোনোটাই নয়।

২. অনুধাবন করুন এর শ্বাসক্রিয়া বা হৃদকম্পন হার বেড়ে যাওয়া উদ্দীপকে দেহজ স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার অতিরঞ্জন। এতে বিপদ ঘটতে যাবে কেন? কিছুক্ষণ দৌড়াতে হলে বা সিঁড়ি দিয়ে দশ কদম উঠলেই তো আগের শ্বসনহার বা হৃদকম্পন বেড়ে যায়। এ জরুরি অবস্থা তো আসলে সে ধরনের ঘটনা।

৩. স্থির হোন। হৃদকম্পন বা শ্বাস-প্রশ্বাস বেড়ে যাওয়া এ জাতীয় উপসর্গগুলোর ওপর মনস্থির করুন, দেখবেন এগুলোর তীব্রতা বা হার ক্রমশ কমে আসছে।

৪. কখনোই চিন্তা করতে যাবেন না এর ক্রমপরিণতি কেমন হবে। যদি মনে প্রশ্ন আসে, কী হবে? মনকে বুঝ দিন তাতে কি এসে-যায়!

৫. পরিণতির কথা চিন্তা না করে বর্তমান সমসাময়িক চিন্তা মাথায় আনুন। উপসর্গগুলোর ওপর মন দিন। দেখবেন আশঙ্কার চিন্তার অনেকটা কমে এসেছে।

৬. প্রথম হতেই নিশ্চিত ধরে নিন উপসর্গ ক্রমশ বাড়তে থাকলেও একটা নির্দিষ্ট মুহূর্ত হতে তা কমতে থাকবে। এমনকি আপনি মনোনিবেশ করতে পারেন­উপসর্গ ক্রমশ পর্যায়ক্রমিক ধারায় বেড়ে যাচ্ছে আর এক সময় কমতে শুরু করেছে।

৭. যখনই আপনার মনে হবে ভয় ক্রমশ পুঞ্জীভূত হচ্ছে তখন মনকে অন্য কাজে নিবিষ্ট করুন। তা হতে পারে স্রেফ শার্টের বোতামগুলো পুনর্বার লাগানো, শার্ট-প্যান্ট ঠিক করে নেয়া।

৮. প্রাক নির্দেশনা হতে অনুধাবন করে নিন যে কোনোভাবে আতঙ্কের উদ্দীপনাকে সরিয়ে দিলে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসে। সুতরাং উদ্বেগ-উদ্দীপনাকে তাড়ানোর বিকল্প বের করে আনুন।

৯. মনের মাঝে চলে আসা ভয়কে যখন কোনোভাবেই তাড়ানো যাচ্ছে না তখন তাকে স্বাগত জানান, পর্যবেক্ষণকারীর ভূমিকায় তাকে দেখুন, নানা উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কিন্তু অল্প সময় ব্যবধানে তা ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে আসছে। উদ্বেগ আতঙ্কের ক্ষমতা সীমিত, আর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা অবলম্বন করে আরো দুর্বল করে দেয়। ব্যাপারটা অনেকটা পুলিশের নীরব পর্যবেক্ষণের ভূমিকা নেয়ার মতো। চোর তখন প্রাণ বাঁচাতে চুপিসারে সরে যায়।

১০ নিজেকে পুরস্কৃত করুন। গর্ববোধ করতে পারেন, উদ্বেগ আপনাকে আর কাবু করতে পারছে না। বরঞ্চ আপনিই তাকে ঘায়েল করতে বসেছেন। এ মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করুন। দেখবেন উদ্বেগ আর কাছে ভিড়ছে না।

কিছু বাড়তি উপদেশ
যখন উদ্বেগ উপসর্গগুলো যেমন হাত কাঁপা, ঘামানো, হৃদকম্পন হার বেড়ে যাওয়া ঘটতে থাকে তখন নিচের নির্দেশনাগুলো প্রয়োগ করুন। দেখবেন উপসর্গের তীব্রতা কমে আসছে ক্রমশ।

১১. নাক দিয়ে হাল্কা মাত্রায় দম নিন­ছাড়তে থাকুন।

১২. আপনার আশপাশের কোনো জিনিস যেমন­দেয়াল, হাত দিয়ে স্পর্শ আর অনুভব করতে পারেন।

১৩. নিজেকে আশ্বস্ত করতে থাকুন­এতে ভয় বা ক্ষতি বা বিপদের কোনো ঝুঁকি নেই।

১৪. নিজেকে আশ্বস্ত করুন­এগুলো ক্ষণস্থায়ী, আপনা হতে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

১৫. দূরের নীলাকাশের দিকে মনোনিবেশ করুন।

১৬. মন হতে সবকিছু বের করে দিন। একদম ফাঁকা, কিছুই নেই। কোনো অনুভূতিই নেই।

১৭. মেডিটেশন চর্চা করুন।

১৮. গুন গুন গুঞ্জন শুরু করে দিন।

১৯. হাতের বইটা পড়া শুরু করে দিতে পারেন।

২০. পাশের বন্ধুর সাথে আলাপচারিতা শুরু করে দিন।

২১. হাঁটতে শুরু করুন।

২২. গরম পানিতে গোসলে নেমে পড়তে পারেন।

২৩. বাড়ির দেয়াল বা গাড়ি পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়ুন।

মানে এমন কিছু করুন যা আপনার মনোযোগকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাবে। সমস্যা তো মনের, সুতরাং তাৎক্ষণিক উপশম!

শামীম
http://www.thebdnews.com
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:২৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×