২০০৫ সালের ঘটনা। কোরবানির ঈদ। কমলাপু রেলস্টেশনে গেলাম খুব আশা ভরসা নিয়ে, এবারের জারনিটা ট্রেনেই করব। শীতের সকাল, খুব ভোরে গিয়ে কমলাপুরে লাইন ধরলাম। অনলাইনে টিকিট ছাড়া হবে, মনে অনেক দোলা দিচ্ছে টিকিট পাবো কী পাবো না। সুন্দরবন এক্সপ্রেসর লাইনে আমার সামনে ১৭ জন। আশাবাদি হলাম, আমি তো একটা টিকিট পাবো। যদিও অনলাইনের টিকিট বনানী ও বিমান বন্দরেও লোক দাঁড়িয়েছে সেখান থেকে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু একটা ট্রেনে অনেক সীট। একটা সীট তো আমি পাবো। সকাল আটটায় টিকিট দেওয়া শুরু হলো, রুদ্ধশ্বাস-এ কাটলো পৌনে এক ঘন্টা, আমার সামনের ১৫ তম ব্যক্তি টিকিট পেলেন, ১৬ তমও পেলেন, অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি আমার পালা কখন আসবে। কিন্তু আশা ভরসা সব ধুলিশ্যাৎ করে দিয়ে জানানো হলো টিকিট শেষ। কাউন্টারের লোকগুলো কম্পিউটারের স্ক্রীন দেখালো, টিকিট শেষ। সব লাল হয়ে আছে। টিকিটগুলো সব কমলাপুর থেকে এয়ারপোর্ট পযর্ন্ত। ১৮ টাকার টিকিট। এভাবেই সরকারি প্রতিষ্ঠানে লালবাতি জ্বালিয়ে যাচ্ছেন আমাদের প্রিয় সরকারি চাকরিজীবীরা। সাবাস! সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সাবাস! আমাদের সরকার।
টিকিট না পেয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা কর্মচারিদেরকে শাপ-শাপান্ত করতে করতে ভাবতে থাকলাম, সোহাগে গিয়ে একটু খোঁজ নিয়ে দেখতে হয়, টিকিটের কী অবস্থা!।
বিষয়টি আমার একজন চাচাকে বললাম। চাচা বললেন,
তুমি ট্রেনে করে বাড়ী আসবে, আমাকে বলোনি কেন? তোমার জন্য আস্ত একটা কামরা বুকিং করে দিতাম।
ভুলেই গিয়েছিলাম, চাচার চাচা (দাদীর মামাতো ভাই) রেলওয়ের বড় কমকর্তা।
আফসোস।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



