আলম
ছুটির দিন বলেই ঘুম থেকে একটু দেরী করে উঠেছি। ডাইনিং টেবিলে বসে নাস্তা খাচ্ছিলাম আর ”প্রথম আলো”তে ডঃ জাফর ইকবালের লেখাটা মনযোগ দিয়ে পড়ছিলাম। হঠাৎ বাইরে থেকে উচ্চ ভলিউমে গান ভেসে এলো ”আশিক বানায়া, আশিক বানায়া, আশিক বানায়া আপনে...”। প্রথমে ততোটা মনযোগ দেইনি, পরে মনে হলো ২১শে ফেব্র“য়ারীতে হিন্দী গান কেন বাজাচ্ছে? অন্তত একদিন বাংলা গান বাজাতে পারতো। কারণ আমরা একদিনের জন্য বাঙালী সাজি ১লা বৈশাখে, একদিনের জন্য ভালবাসি ১৪ই ফেব্রুয়ারী আর একদিনের জন্য মাকে ভালবাসি ”মাদার্স ডে”তে। আমাদের সবই একদিনের অভিনয় তাই আজকের দিন অন্তত উচ্চ ভলিউমে বাংলা গান আশা করেছিলাম।
ঘটনা যদি এখানেই শেষ হতো তাহলে আফসোস ছিলনা। ছোট ভাই রায়াত যখন বললো যে হিন্দী গান বাজানো হচ্ছে শহীদ মিনারে, তখন চমকে গেলাম। ছাদে গিয়ে বাইরে মাঠে তাকিয়ে দেখি সত্যি। ২১শে ফেব্র“য়ারী উপল্েয মাঠে একটি শহীদ মিনার বানানো হয়েছে তাতে যথারীতি অনেক ফুলের স্তুপ। পাশে সিডি প্লেয়ার থেকে উচ্চ ভলিউমে ভেসে আসছে ”আশিক বানায়া, আশিক বানায়া, আশিক বানায়া আপনে...”।
স্টার প্লাসের হিন্দি সিরিয়ালের প্রতি মেয়েদের দুর্নিবার আকর্ষন সবারই জানা। সংসারের নোংরা ঝগড়া ঝাটি, অবৈধ সম্পর্ক, পরকিয়া এগুলোই মুখ্য বিষয়। একাধিক বিবাহ, অবৈধ সন্তানকে পরিবারের আদর্শ সন্তান হিসেবে গড়ে তোলা প্রভৃতি সেসব সিরিয়ালের মুখ্য বিষয়।
মায়েরা এইসব নোংরা সিরিয়াল দেখেন, পাশে বসে দেখে তাদের সন্তানরা। এসব সন্তানদের মনের উপর এই অশ্লীল সিরিয়াল গুলো কতখানি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে তা বোঝার জন্য মনোবিজ্ঞানী হবার প্রয়োজন পড়েনা।
দোষ তাদের নয় দোষ আমাদের। আমরা হিন্দী গান, সিনেমা বা সিরিয়ালের বিরোধিতা করি কিন্তু এর পরিবর্তে তারা কি দেখবে তা বলতে পারিনা। আমাদের সিনেমা অশ্লীলতায় ভরপুর, নাটক আকর্ষন করেনা, গানের সুদিন অনেক আগেই শেষ। দুই-একটা মান সম্মত কাজ হয়না বা হচ্ছেনা তা বলবোনা। প্রচন্ড পিপাসায় এক ফোটা ঠান্ডা পানি পিপাসা কমায়না বরং হাজারগুনে বৃদ্ধি করে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


