চলচচিত্র উৎসব ও আমার সিনেমা দেখা
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ রাত ১২:১৫
কলকাতায় চলছে দ্বাদশতম চ্লচ্চিত্র উত্সব । গতকাল ছিল পঞ্চম দিন ।
আমি কোন সিনে-ক্লাবের মেম্বার নই কিংবা টেলি-সিনেমা জগতে কাজও করি না । যেহেতু কোন রকমেই সিনেমার সাথে দূর দূরান্ত পর্যন্ত আমার কোন সম্পর্ক নেই তাই আমার কাছে সিনেমা দেখার কোন ফ্রি পাস নেই , কিন্তু সিনেমা দেখার সাধ তো ষোলআনা । আমার তাই টিকেটই ভরসা তাও আবার সব হলে তো টিকেটে সিনেমা দেখাচ্ছে না । সেজন্যে বেশ কিছু সিনেমা ইচ্ছে থাকা সত্বেও দেখতেও পেলাম না, সেগুলো কিছু বিশেষ হলে শুধু ডেলিগেটস, গেষ্ট আর ভি আইপিদের দেখানো হচ্ছে ।
কিন্তু মন তো মানে না যে আমি কোন ক্যাটাগরিতেই পড়ি না তাই পছন্দের সিনেমা আমি দেখতেই পাবো না! রবীন্দ্রসদনে গতকাল সকাল এগারটায় দেখানো হল আর্জেন্টিনার সিনেমা ' কেপ্ট এন্ড ড্রিমলেস' । দেখবেন শুধুমাত্র ডেলিগেটস, গেষ্ট আর ভি আইপিরা । দেখি চান্স নিয়ে কিছু হয় কীনা এই ভেবে সকাল সকাল পৌঁছে গেলাম নন্দন চত্বরে রবীন্দ্রসদনের সামনে । হলে ঢুকবেন বলে যারা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, ইচ্ছে, তাদেরকে জিজ্ঞেস করবো, কারো কাছে এক্সট্রা পাস আছে কীনা । একজনকে জিজ্ঞেস করতেই আশ পাশের আরও দু চার জন বলে উঠলেন, এক্সট্রা পাস তো নেই, আপনি এক কাজ করুন, লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ুন, গেটের পুলিশকে বলবেন, পাস বাড়িতে ফেলে এসেছেন!! আমি সাহস করে দাঁড়িয়ে পড়লাম, মনে ভাবনা কি হবে! ঢুকতে পারব কি? যদি ঢুকতে না পারি তো অন্য হলে পরবর্তী শো কটায় আর কোন দেশের সিনেমা দেখানো হবে সেটাও মনে মনে একটু হিসেব করে নিলাম । সকাল সকালই পৌঁছে গিয়েছিলাম বলে লাইনের প্রথম দিকেই দাঁড়িয়েছিলাম, মিনিট পাঁচেক পরে পেছনে তাকিয়ে দেখি লাইন নন্দন চত্বর ছাড়িয়ে রাস্তায় পৌঁছেছে আর সেই লাইনের পিছনে একের পর এক নতুন মুখ যোগ হয়েই যাচ্ছে । বেশ ভাবনায় পড়ে গেলাম এই এত ভীড়ের মাঝে আমাকে বিনা পাসে ঢুকতে দেবে কি? আমার আগে অল্প কয়েকজনই ছিলেন, গেট খোলা মাত্রই তাঁরা ভিতরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালেন সাথে আমিও । এরই মাঝে পার্সের ভিতর মোবাইলের ভাইব্রেশন টের পেলাম, ফোন হাতে নিয়ে কথা বলতে বলতে হঠাত দেখি আমি গেটের ভিতরে!! আমাকে কেউ কিছু জিজ্ঞাসাই করেনি!! ভেতরের গেটে দাঁড়ানো মহিলা আমার ব্যাগ পরীক্ষা করলেন জলের বোতল দেখলেন কিন্তু পাস দেখতে চাইলেন না । আমি প্রায় দৌড়ে হলের ভিতরে ঢুকে গেলাম, তাও আবার ব্যালকনিতে । কোথায় কে বসছে সেসব কোন ব্যাপার নেই যখন তখন নিচে বসে ঘাড় কেন ব্যাথা করব? পছন্দমত সীটে বসে এবার একটু ডাঁনে বাঁয়ে তকিয়ে দেখি হল ইতিমধ্যেই খচাখচ ভর্তি । বাতি নেভার আগে একজন ঘোষিকা এসে জানালেন আর্জেন্টিনা থেকে এসেছেন এই সিনেমার সহকারী পরিচালক ( নামটা খ্টোমটো তাই ভুলে গেছি ), তিনি এখন এই হলে আছেন এবং দর্শকদের সামনে দুটি কথা বলবেন । ষ্টেজে যিনি এসে দাঁড়ালেন তিনি এক অল্পবয়েসী মেয়ে । তিরিশও হবেন কিনা সন্দেহ । তিনি জানালেন এদেশে ( ভারতে) এসে তিনি খুব খুশি । ভাঙা ভাঙা ইংরেজীতে তিনি আরও কিছু কথা বললেন, আর সবশেষে সকলের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে বিদায় নিয়ে এসে বসলেন তার জন্যে নির্ধারিত দর্শকাসনে ।
আমি আবার চারপাশে একটু চোখ বোলাতে গিয়ে দেখি উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সমস্ত সিঁড়ি ভর্তি! মানুষ বসে আছেন গায়ে গা ঠেকিয়ে সিঁড়িতেও ! আর তারপেরেও হলে ঢোকার দরজায়ও দাঁড়িয়ে আছেন আরও কিছু মানুষ!
সিনেমা কি দেখলাম সেটা হয়ত পরে কোন একদিন লিখব, আপাতত শুধু জানালাম বিনা টিকিটে বিনা পাসে আমার সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা ।
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার দিনকাল বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:০৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অতিথি বলেছেন:
বেশ কিছু বানান ভেেেঙছে দেখছি, এখন ঠিক করতে পারছি না, সিনেমা দেখতে যাচ্ছি । পরে ঠিক করব।
মাশা বলেছেন:
অহ শ্যজা দারুণ। আপনার লেখাটা থ্রিলার হয়ে গেছে মাইরি। ওহ আমি একবার পেয়েছিলাম চলচ্চিত্র উৎসব। বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের কাছাকাছি থাকাতে পাশ পেতে সমস্যা হয় নাই। প্লিজ শ্যাজা কি কি মুভি দেখেছেন একটু রিভিউ কইরেন। কতদিন আনকোরা নতুন ছবির খবর পাইনা। স্পেনীষ, ইতালি, পোলিশ, ইরানের কি ছবি দেখলেন অবশ্য রিভিউ দেবেন। ধন্যবাদ।
অতিথি বলেছেন:
ছবিটা ভালো।
অতিথি বলেছেন:
ধন্যবাদ মাশা।বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের কাছাকাছি থাকলে পাস তো পাবেনই। আমি যে কাওকেই চিনি না আর আগে থাকতে চেষ্টা করলে হয়ত ব্যবস্থা করতে পারতাম।
রিভিউ তো ঠিকঠাক করতে পারবো না তবে কি দেখলাম না দেখলাম খানিকটা অবশ্যই লিখতে পারবো আর লিখবও। এখন সকাল থেকে সন্ধ্যে মোটামুটি সিনেমা দেখে বেড়াচ্ছি কলকাতার এমাথা ওমাথা। রাতে ক্লান্ত থাকছি এত যে কিছু লেখার মত অবস্থায় থাকি না। আজ একটু দেরীতে বেরোলাম বলে এই পোষ্টটা দিয়ে গেছিলাম।
কাল উৎসব শেষ হচ্ছে, এরপরে লিখব।
কাল দেখেছিলাম তাজাকিস্থান/ইরানের সেক্স এন্ড ফিলোসফি, ভারতের কালপুরুষ আর ঐ কেপ্ট এন্ড ড্রিমলেস, আর্জেন্টিনার। সেক্স এন্ড ফিলোসফি মহসেন মাখমালবাফ'এর।
অনিক বলেছেন:
সকালে এত্তো বড় একটা মন্তব্য লিখলাম সার্ভার ডাউন থাকায় পোষ্ট হয়নি। সেভ করেও রাখিনি। যাই হোক, কেমন আছো? বেশ মজা করে সিনেমা দেখে বেড়াচ্ছো। ভালই।
অতিথি বলেছেন:
একটু কষ্ট করে আবার লেইখা ফ্যালাও। কলকাটার এমাথা ওমাথা দৌড়ে সিনেমা েেদখে দেখে ক্লান্ত।
অনিক বলেছেন:
ভারতের কালপুরুষ ছবিটা কী সমরেশ মজুমদারের সেই বিখ্যাত উপন্যাসের কাহিনী নিয়ে? নাকি আলাদা কোন গল্প নিয়ে?
অতিথি বলেছেন:
একদমই আলাদা গল্প। বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত'র সিনেমা।
অনিক বলেছেন:
কেমন লাগলো? ওনার মেকিংতো বেশ ভাল হয়। ইদানিং ঋতুপর্ণ ঘোষ (চোখের বালি'র পরিচালক) আমার খুব প্রিয়দের একজন।
অতিথি বলেছেন:
কালপুরুষ খুব ভাল সিনেমা। রিলিজ হয়ে হলে এলে আবার দেখার ইচ্ছা আছে। ঋতুপর্ণ বাবুর সিনেমা দেখি কিন্তু খুব একটা ভাল লাগে না। বিশেষ একটা বিষয় নিয়ে কাজ করছেন, সব সিনেমাতেই ঘুরে ফিরে আসে একই টপিক।ধন্যবাদ রুবেল। তোমার পোষ্টে কিছু লেখা হচ্ছে না। আজ সিনেমা দেখা শেষ হলে সময় নিয়ে বসে লিখব।
অতিথি বলেছেন:
পুলিশ এলো বলে !!!
অতিথি বলেছেন:
নাহয় বিনা পাসে বিনা টিকিটে একটা সিনেমা দেখেছি, তাই বলে তুমি পুলিশের ভয় দেখাবে?! হ্যাঁগা, তুমি কেমনতারা বন্ধুগা? :-((
অনিক বলেছেন:
মোটেও সুবিধের নয়।তবে ছবি দেখার পর পুলিশ যদি তোমাকে বাড়ী পেঁৗছে দিতে আসে তবে খারাপ কিছু না।
অতিথি বলেছেন:
কিন্তু পুলিশ বাড়িতে কেন পৌঁছে দিতে আসবে?
অতিথি বলেছেন:
পুলিশ এল, না এল না?
অনিক বলেছেন:
টিকিট তো দিলা না তাই অন্নজল যদি কিছু দাও সেই আশায়।
অতিথি বলেছেন:
কলা।
মাশা বলেছেন:
কই মিয়া কইলাম রিভিয়্যু করতে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














