মৌসুমী ভৌমিক ও মুগ্ধ আমি
০৫ ই মে, ২০০৭ রাত ১২:৫৪
আমি শুনেছি সেদিন তুমি সাগরের ঢেউয়ে চেপে
নীলজল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছো,
আমি শুনেছি সেদিন তুমি নোনাবালি তীর-ধরে
বহুদূর বহুদূর হেঁটে এসেছো
আমি কখনও যাইনি জলে,কখনো ভাসিনি নীলে
কখনো রাখিনি চোখ ডানামেলা গাঙচিলে
এই গানের মাঝে নিভে যায় বাতি থেমে যায় মাইক। অন্ধকার হলঘর থেকে মৃদু গুঞ্জন ওঠে। ভেসে আসে শিশুর কান্না। মৃদু গুঞ্জনেই গমগম করে খচাখচ ভর্তি ইউনিভার্সিটি ইন্সটিউট হল। আর সেই মৃদু কিন্তু গমগমে গুঞ্জন ছাপিয়ে ভেসে আসে মৌসুমী ভৌমিকের নরম মোলায়েম আওয়াজ। জ্বলে ওঠে শ্রোতা-দর্শকের হাতের মোবাইল ফোনের বাতি। মাথার উপর তুলে ধরা এক হল মোবাইল ফোনের আলোতে মোহময় পরিবেশে মৌসুমী গাইতে থাকেন-
আবার যেদিন তুমি সমুদ্রস্নানে যাবে
আমাকেও সাথে নিও
বলো নেবে তো আমায়
আমি শুনেছি সেদিন নাকি তুমি তুমি তুমি মিলে
তোমরা সদলবলে সভা করেছিলে
আর সেদিন তোমরা নাকি অনেক জটিল ধাঁধা
না-বলা অনেক কথা, কথা তুলেছিলে
কেন শুধু ছুটে ছুটে চলা
একই একই কথা বলা
নিজের জন্যে বাঁচা নিজেকে নিয়ে?
যদি ভালবাসা না-ই থাকে
শুধু একা একা লাগে
কোথায় শান্তি পাবো?
কোথায় গিয়ে বলো কোথায় গিয়ে?
ভীষণ কোমল গলায় কোন বাজনা ছাড়াই গাইতে থাকেন মৌসুমী। দুলে দুলে গান মৌসুমী। চোখ বন্ধ করে গান। মন দিয়ে, প্রাণ দিয়ে, সমস্ত শরীর দিয়ে গান করতে থাকেন মৌসুমী। অন্ধকার হলে, মোবাইল ফোনের আলোয়, খালি গলায় মৌসুমী গাইতেই থাকেন-
আমি শুনেছি তোমরা নাকি এখনো স্বপ্ন দ্যাখো
এখনো গল্প লেখো, গান গাও প্রাণ ভরে
মানুষের বাঁচামরা এখনো ভাবিয়ে তোলে
তোমাদের ভালবাসা এখনো গোলাপে ফোটে!
হলভর্তি মানুষ গলা মেলায় মৌসুমীর সাথে। গমগম করতে থাকে এক হাজার মানুষের একসাথে মৃদু গলায় গাইতে থাকা গান। গলা মেলাই আমিও। তখন আর এই গানটি শুধু মৌসুমীর থাকে না। মৌসুমী তখন আর শুধু একজন নন। এক হাজার মানুষ তখন হয়ে ওঠে মৌসুমী ভৌমিক। দুলে দুলে গায়। মন দিয়ে, প্রাণ দিয়ে গায়। সমস্ত শরীর দিয়ে গায়-
আস্থা হারানো এই মন নিয়ে আমি আজ
তোমাদের কাছে এসে দুহাত পেতেছি
আমি দুচোখের গহ্বরে শূণ্যতা দেখি শুধু
রাতঘুমে আমি কোন স্বপ্ন দেখি না
তাই স্বপ্ন দেখবো বলে আমি দুচোখ পেতেছি
তাই তোমার কাছে এসে আমি দুহাত পেতেছি।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গান ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার দিনকাল বিভাগে ।
সাধারন বলেছেন:
অপূব` একটি গান।মন খারাপ করে দেয়।
আলভী বলেছেন:
আমারও।
শ্যাজা বলেছেন:
আমার প্রিয় ও স্মরনীয় ঘটনা, যা একটু আগেই ঘটল।
মারুফ রাশেদ বলেছেন:
অসাধারণ একটি গান। চোখ বুঝে শুনতে হয়।
আলভী বলেছেন:
বিশুদ্ধ শিল্পের সামনে মন প্রথমে খারাপ হয়, তারপর কেন যেন সেই খারাপ লাগাটাই ভাল লাগতে শুরু করে। অন্তত, আমার ক্ষেত্রে।
সাধারন বলেছেন:
এই মন খারাপ হওয়াটা কিন্তু বেশ লাগে।
আছহাবুল ইয়ামিন বলেছেন:
অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আমার আপনাকে হিংসে হচ্ছে...এই গায়িকার গাওয়া আমার আরেকটি প্রিয় গান "যশোর রোড"
শ্যাজা বলেছেন:
আমি শুধু মুগ্ধ হয়ে শুনলাম, দেখলাম। কান দিয়ে শুনলাম। মন দিয়ে শুনলাম। চোখ বুজতেও মন চাইছিল না। যদি ফুরিয়ে যায়!
সাধক শঙ্কু বলেছেন:
দেখা হইলে কইয়েন শঙ্কু সালাম দিছে..
আলভী বলেছেন:
আমি আর কি কমু?জ্ঞান স্বল্প, বেশি কথা কইলে আপনে সেইটা ধইরা ফেলবেন। তাই, বেশ আঁতেল আঁতেল ভাব নিয়া কম কথা বলাই শ্রেয়।
শ্যাজা বলেছেন:
ইয়ামিন, যশোর রোডও শুনলাম।
একদম খালি গলায় গাওয়া
শত শত মুখ হায় একাত্তর
যশোর রোড যে কত কথা বলে
এত মরামুখ আধমরা পায়ে
পূর্ববাংলা কলকাতা চলে
শুনে গায়ের সমস্ত লোম দাঁড়িয়ে যায় আর দাঁড়িয়েই থাকে। এ শুধু মুগ্ধতাই নয়। আরও বেশি, অনেক বেশি কিছু...
সাধারন বলেছেন:
কোথায় হয়েছে প্রোগাম টা?মানে এ ইনষ্টিটিওট টা কোথায়?
শ্যাজা বলেছেন:
সাধারন,কলেজ স্কয়ারে। কলকাতা ইউনিভার্সিটির কাছে।
সাধক শঙ্কুর বন্ধু নাকি মৌসুমী ভৌমিক?
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
কারো কাছে লিংক থাকলে দিয়ে দেন।এই গায়িকার সবগুলো গানই সবার শোনা উচিত।আরেক জন হলো লোপামুদ্রা।
শ্যাজা বলেছেন:
আলভী,'জ্ঞ' অক্ষরটি কি করে লেখে? আমি আপনার কমেন্ট থেকে কপি দিলাম, লিখতে পারি না বলে। আগাম ধন্যবাদ।
সাধক শঙ্কু বলেছেন:
পুরাণা বন্ধু@শ্যাজা
আলভী বলেছেন:
জ + হস চিহ্ন + ঞ = জ্ঞ
শ্যাজা বলেছেন:
হস চিহ্নটা কোনটা আলভী?
শ্যাজা বলেছেন:
বন্ধু আবার পুরনো হয় নাকি শঙ্কু?
আলভী বলেছেন:
g
সাধারন বলেছেন:
আরিফ ভাই আমার কাছে আছে গানগুলো।আপনার এম.এস.এন আইডি দিলে এখনই পাঠাতে পারব।
আছহাবুল ইয়ামিন বলেছেন:
...এইটুকু শিশু, এতবড় চোখদিশেহারা মা কার কাছে যাবে...
অ্যালেন গিনসবার্গের মূল !@@!568813 পড়েছেন? আমি কখনও শেষ করতে পারিনি... চোখ ঝাপসা হয়ে আসে
শ্যাজা বলেছেন:
না ইয়ামিন। পড়িনি।এই গানগুলোই বহুবার ক্যাসেটে, সিডিতে শুনেছি,শুনি। কিন্তু আজকের মত এত ভাল কখনোই লাগেনি। আজকের এই অভিজ্ঞতা কখনোই না ভোলার মত।
জেবতিক আরিফ,
ধন্যবাদ আপনাকেও। সাহায্য করেছেন বলে। লোপামুদ্রার গান যেদিন প্রথম অ্যাকাডেমীতে বসে শুনি, সেদিনও অসম্ভব ভাল লেগেছিল কিন্তু মৌসুমির গানের সাথে তার তুলনা চলে না। মৌসুমি একদমই আলাদা। আজকাল বেশির ভাগ গানই খালি গলায় করেন। কোন বাজনা নেন না। শুধু মাইক। খুব সাধারন দেখতে, যেন পাশের বাড়ির মেয়েটি। কাঠের টুলে বসে দুলে দুলে গান করেন। রুক্ষ এলোচুলে আলগা বিনুনী পিঠের পরে অভেলায় পরে থাকে। বাতাসে উড়তে থাকা চুলে মাঝে মাঝেই হাত দিয়ে পিছনের দিকে ঠেলে দেওয়া। খুব সাধারন তাঁতের শাড়িতে ততধিক সাধারন দেখতে অসাধারন মৌসুমী অসম্ভব কোমল গলায় গান করেন। গান তো নয় যেন গল্প বলেন। সুরে সুরে।
আছহাবুল ইয়ামিন বলেছেন:
আরিফ ভাই,একটা [link|http://www.banglamp3s.com/index.php?option=com_wrapper&Itemid=27][wjsK=http://www.banglamp3s.com/index.php?option=com_wrapper&Itemid=27|!@@!568941 ] দিলাম। এইখানে প্রায় সব আধুনিক গান পাবেন।
কিন্তু কখনও মূল অ্যালবাম পাইলে কিনতে ভুইলেন না যেন
ত্রিভুজ বলেছেন:
অসাধারন একটা গান.. প্রথম যখন বের হয়েছিলো... প্রায় সারাদিনই শুনতাম....
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
সাধারন,গানগুলো আমার কাছেও আছে।আমি সহব্লগারদের কথা ভাবছিলাম।আপনাকে ধন্যবাদ।
রাগ ইমন বলেছেন:
শ্যাজা, যা লিখলে , এই অভিজ্ঞতা ! অতুলনীয় ! তোমার বর্ননায় আমিও কল্পনায় চলে গেলাম স্বপ্নের দেশে ।
আলভীর একটা কথার প্রতিধ্বনি করি , যা আমার নাটকের ক্লাসে শুনলাম যুবদার কাছে ।
"বিশুদ্ধ শিল্পের সামনে মানুষ দৃঢ় থাকতে পারে না , কেঁদে ফেলে ।"
পিওরিটি মানুষ খুব বেশি দেখে না । তুমি পেলে , বড়ই "নসিবান " রে বুন্ডি ।
আরশাদ রহমান বলেছেন:
এক বন্ধু শুনতে বলেছিলো। একটা সিডি কিনেছিলাম। খুব ভালো লেগেছে গান গুলো। জানিনা কত গুলো এ্যালবাম আছে।
শ্যাজা বলেছেন:
ঠিক বলেছ ইমন।আজ নিজেকে নসিবান বলেই মনে হয়েছে।
সযত্নে লালন করার মত অভিজ্ঞতা খুব কমই হয়।
পুরো অনুষ্ঠানের কথা পরে লিখব। এইটুকু না লিখে থাকতে পারা গেল না তাই...
শুভরাত্রি।
আরশাদ রহমান বলেছেন:
ধন্যবাদ শ্যাজা।
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
বাহ দারুন অভিজ্ঞতা!
হাসান বলেছেন:
গানটি প্রথম শুনেছিলাম কোলকাতার একটা টিভি চ্যানেলে, খুবই ভাল লেগেছিল। পরদিন যখন কলিগকে গানটি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম, উনি এমন ভাব করল, আমার জীবন গানটি না শুনে ইতিমধ্যেই ৯০% বৃথা হয়ে গেছে .... হাহাহাহাহা। এরপর বহুদিনই গানটা টানা শুনেছি, শুনতে শুনতে অসাধারন একটা স্থিতি চলে আসে, আমার কেন জানি গলা ভারী হয়ে আসে!শ্যাজা আপনার লেখাটাও চমতকার হয়েছে ... ধন্যবাদ।
সাদিক মোহাম্মদ আলম বলেছেন:
খালি মৌসুমী ভৌমিকের কথাই কইয়া গ্যালা। দোহার ক্যামন গাইলো বললানাতো। তাইলে আলাদা পোস্টেই কইয়ো রান্না বান্না শেষ করে হাতে সময় বের করে। তোমাগো স্টেডিয়ামে শেষবার দোহারের কনসার্ট থেইকা প্রিয়া ফোন কইরা ওগো গান শুনাইছিলো একটার পর একটা। কাইলকা রাইতে সিংহপুরের রাস্তায় তোমার মেসেজ পাইয়া তখন তাই দোহারের গানই মনে পড়তাছিলো।
মৌসুমী ভৌমিকের গান একবার শুনতেই হ্ইবো সামনাসামনি। গান ছাড়াও এ্যামন বাউলা মানুষ দ্যাখাটাও একটা বিষয়।
সাদিক মোহাম্মদ আলম বলেছেন:
শাধক শঙ্কু কিন্তু মশকরা করে, ওর মশকরারে সিরিকাস লইও না।
আবু সালেহ বলেছেন:
অসম্ভব রকম ভালো লাগে.....আমার মতে এই গানটা অন্য কেউ তার মতো করে এত সুন্দর করে গাইতে পারবে না.....
যেমন কথা গুলো ...তেমনি তার ধীর ছন্দ...
অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন:
"মৌসুমী ভৌমিক";গানের সাথে পরিচয় বছর সাতেক আগে ।
আমি শুনেছি সেদিন তুমি .. র গান আছে যে অ্যালবাম টায়, সেইটা দিয়ে শুরু..
--
তবে মাঝে বাদ দিয়েছি ।
কেন জানো, গানগুলো নিজের জীবনের সাথে প্রায় মিলে যাওয়ায় ।
--
ঈর্ষা হচ্ছে না অবশ্য তোমাকে ।
দূরের ভালোলাগাই অনেক সময় যুগ-যুগ আঁকড়ে থাকতে চায় এরকম মানুষও থাকে, তাই ।
সুমেরু বলেছেন:
আমারও কিছু কথা আছে। আলাদা করে বলি?
অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন:
বলেন, কে নিষেধ করলো, শুনি ।
সুমেরু বলেছেন:
আমি অলস না। নিষেধ ছাড়াও...
শ্যাজা বলেছেন:
সাদিক,কাল অনেক গান শুনেছি। সুমনের গান। দোহারের গান। কোনটার সাথে কোনটার তুলনা চলে না। কিন্তু মৌসুমী যা শোনালেন আর দেখালেন। সেরকম আর কোথাও হবে কিনা জানি না। সেই মুগ্ধতারই প্রকাশের চেষ্টায় এই পোষ্ট মাঝরাতে। যদিও সে বলে বোঝানো সম্ভব নয় কোন মতেই।
সুমনের গান নিয়ে লিখতে শুরু করেছিলাম, ইনফ্যাক্ট গোটা অনুষ্ঠানটাকেই নিয়ে। রাত ভোর হবার যোগাড়। শেষ হয়নি। ড্রাফটে আছে। সময় করে পোষ্ট দেবো।
অনুভূতি,
আমি এখন কথা বলটে শুরু করলে থামা মুশকিল। তাই কিছু বলছি না।
নন্দনে অসমীয়া সিনেমায় ফেষ্টিভ্যাল চলছে। আজ একটা সিনেমা দেখতে যাব। ও হ্যাঁ। অপ্রসঙ্গিক ভাবে মনে পড়ল, মৌসুমীও অসমের মেয়ে। আর দোহারের কালিকাপ্রসাদ, ময়ূখ, মৈনাকেরও দেশ অসমের বরাক। এদের দেখলে সিলেটের মানুষ বলে ভুল হয়। খুব আপন মনে হয়। দেশের মানুষ, মনের মানুষ বলে মনে হয়।



















আমার প্রিয় গায়িকা।