মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী, আপনি সরকার প্রধানের দ্বায়িত্বটা কাঁধে তুলে নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পেড়েছেন যে, দেশটা সামাল দিতে নিত্যই হিম শিম খেয়ে চলেছেন, সেটা এখন দিবালোকের মতই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। এটা আপনার ব্যর্থতা কিনা সেটা এই আলোচনায় বলব না, সে প্রসঙ্গও তুলবনা। সেটা না হয় অন্য কোন দিন হবে। তবে আজকের আলোচনায় যে প্রসঙ্গটি তুলব সেটা হলো, এই অবস্থা থেকে নিস্তার পাবার রাস্তাটা কি? রাস্তা আছে বটে। কোন রাস্তাটা আপনি বেছে নেবেন? সেটাই মূখ্য।
অনেক ভেবে চিন্তে যেটা আমার উপলব্ধিতে আসে সেটা হলো আপনি সেই রাস্তাটাই নেবেন, যে রাস্তা আওয়ামি লীগ এর নীতি আদর্শ আর কর্মপদ্ধতি’র সাথে খাপ খেতে পারে। দেশ আর দেশের জনসাধারণ এর স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আর রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা মানবিক মুল্যবােধ, ন্যায় বিচার, সততা, দেশ প্রেম এইসবের উপরে ভিত্তি করে যদি পরামর্শ দিতে পারতাম তা হলে খুব ভালো হত্।ো কিন্তু সে রাস্তায় যাবনা।
যাবনা কারণ, গিয়ে লাভও হবেনা। একজন নিবন্ধকার হিসেবে আমাকে এই কথাটা মনে রাখতে হচ্ছে যে, আমি সেই ’৭১ সালে বঙ্গবন্ধু মরহুম শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামি লীগকে নয় বরং আজকের এই একবিংশ শতাব্দীর আওয়ামি লীগ, দিন বদলের আওয়ামি লীগকে, তার নেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রশ্ন করছি। ‘আপনার রাজ্যের একজন প্রজা’ হিসেবে প্রশ্নটা করার অধিকার আমার আছে বটে। আশা করি এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করবেননা।
আপনার দলের মুখপাত্র জনাব আশরাফ ক’দিন আগে সংসদে দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল কর্তৃক সা¤প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আপনার উদারতার কথা বলেছেন , বলেছেন যে, আপনি নাকি খুব উদার, জলিল সাহেবের বোমা ফাটানো বক্তব্য শুনেও তাকে বহিষ্কার করতে চান না। আপনি নাকি বিরোধি মতের লোকজনকে নিয়ে হলেও এক সাথে কাজ করতে চান। আপানর উদারতা আর মহত্বের এই বয়ান শুনে যারপরনাই আনন্দিত হয়েই প্রশ্নটা করার সাহস করে উঠেছি, সে কথাট্ওা এক্ষেত্রে জানিয়ে রাখি সবিনয়ে।
যাহোক এটা এখন পরিষ্কার যে, দেশ চালাতে আপনার এই স্বল্প মেয়াদি সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। যদিও মাত্র ছয়টি মাস আপনি দেশের দায়িত্বভার নিয়েছেন তার পরেও এই ছয় মাসে আপনি এমন সব কাজ করে ফেলেছেন, যে সব কাজ এর আগে, সেই ১৯৯৬ সালে আপনার প্রথম মেয়াদের কর্মকালের পুরো পাঁচ বৎসরেও করতে পারেননি, বা আপনাকে দিয়ে কেউ করিয়ে নিতে পারেনি। একটা উদাহরণ দেব মাত্র।
সেনাবাহিনীকে যেভাবে আপনি শেষ করে দিলেন বা দিচ্ছেন, সেটা আপনার আগে আর কেউ করতে পেরেছে কি? পারেনি। স্বাধীনতার পরে সেই ৭২ সাল থেকে ভারত বিভিন্নভাবে েেচয়েছে যে, বাংলাদেশের যেন কোন সেনাবাহিনীই না থাকে। তারাই নাকি বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেবে যে কোন বিপদ আপদে, যে কোন আগ্রাসনের মুখে! যদিও তারা এ কথা কখনই বলেনি যে, খোদ ভারতই যদি বাংলাদেশকে গিলে হজম করতে চায় ভারত মাতার উদরে, তখন সে অবস্থা থেকে তাকে কে নিরাপত্তা দেবে? যা হোক, আপনার মরহুম বাবা কোন মত্ েহলেও সেনাবাহিনীকে ধরে রেখেছিলেন যদিও তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে কখনই বিশ্বাস করনে নি।
করেন নি তার সবচেয়ে বড় প্রমান, তিনি রক্ষীবাহিনী গঠন করেছিলেন সেনাবাহিনীকে পাশ কাটিয়ে। এর বাজেট কমিয়েছিলেন রক্ষীবাহিনীর বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি। তখনকার পত্র পত্রিকায় সেনাবাহিনী সম্পর্কে এতবেশী নেতীবাচক খবর দেয়া হতো যে, তা একটি প্রফেশনাল সেনাবাহিনীকে রীতমত হত্যা করার নামান্তর! দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আর এর প্রতিরক্ষা বিষয়ে যে কোন সরকারি স্বিদ্ধান্তে কি ভাবে সেনাবাহিনীকে পাশ কাটিয়ে, তাকে সম্পৃক্ত না করে তদস্থলে রক্ষীবাহিনী ও ভারতীয় দুতাবাসের সামরিক এ্যটাচেকে সম্পৃক্ত করা হতো, তার জীবন্ত সাক্ষী আপনার খুব কাছের লোক, অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল সফিউল্লাহ, তিনি এখনও আপনাকে সে কথা স্মরন করিয়ে দিতে পারবেন।
কিভাবে এই সেনাবহিনীকে পদে পদে অবজ্ঞা করা হয়েছে তৎকালীন আওয়ামি লীগ সরকার কর্তৃক, কিভাবে তাদের মৌলিক প্রয়োজনকে অপূর্ণ রাখা হয়েছে, তাদের দাবী দাওয়াকে উপেক্ষা করা হয়েছে বিমাতাসূলভ আচরণের মাধ্যমে, সে প্রসঙ্গে লিখতে গেলে একটা আলাদা মহাভারতই লিখে ফেলতে হবে। এই বাস্তবতার সপক্ষে এত বেশী সরকারি দলীল দস্তাবেজ রয়েছে যে, একে অস্বীকার করা যাবেনা।
কিন্তু তারপরেও এই সেনাবাহিনীই বার বার দেশের স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্বকে রক্ষায় এগিয়ে এসেছে। নিজেদের জীবনবাজি রেখেই এই দেশটাকে, এর ভূ-আকাশ আর জলসীমাকে রক্ষা করে চলেছে। আজও যে দেশটার আলাদা অস্তিত্ব আর স্বকীয়তা টিকে আছে এর পেছনে এই সেনাবাহিনীর ভূমিকাই সবচেয়ে বেশী। এটুকু না থাকলে আজ থেকে অনেক আগেই আপনি ভারত মাতার একটি প্রদেশের ‘মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত হতেন!
আরও একটা অবাক করা বিষয় আমাদের সামনে রয়েছে তাহলো, এই সেনাবাহিনীর সেই সব জেনারেল, যাঁরা আওয়াম লীগ সরকার ও দল কর্তৃক বার বার বিভিন্নভাবে নিগৃহিত হয়েছেন, অপমানিত হয়েছেন, অবসরের পর কোন এক অজানা টানে তাদের অধিকাংশই আবার আওয়ামি রাজনীতির সাথেই নিজেদেরকে জড়িত করেছেন। আওয়ামি লীগের জন্য নিজেদের সমস্ত সময় আর শ্রম উজাড় করে দিয়েছেন, এখনও দিচ্ছেন। আজ যদি আপনি হিসাব করে দেখেন তবে দেখবেন, যে বি এন পি’কে ‘ক্যন্টনমেন্ট এ জন্ম নেয়া দল’ হিসেবে বিদ্রুপ করা হয়ে থাকে, সেই দলের চেয়ে আপনার আওয়ামি লীগেই বেশী সংখক রিটায়ার্ড আর্মি জেনারেল পদ অলংকৃত করে বসে আছেন। এর পেছনে নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে।
আছে বটে, তবে আমরা সেদিকে যাবওনা। যে কথা বলতে চেয়েছি তা হলো, সকল প্রকার বাধা বিপত্তিকে মোকাবেলা করে এই সেনাবাহিনীকে গড়ে তোলা হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে তারা দিন রাত সুরক্ষা দিয়ে এসেছে, দেশে-বিদেশে এই দেশটার জন্য বয়ে এনেছে সম্মান, আর শ্রদ্ধা, সেই সেনাবাহিনীর মধ্যে জেনারেল মঈন এর মত দূর্ণীতিবাজ, কাপুরুষ জেনারেলকে দিয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা আদায় করিয়ে নিয়েছে কে? কে তাঁর মত একজন অযোগ্য সেনানায়ককে দূর্ণীতি আর প্রাসাদ ষড়যন্ত্রেব মধ্যে টেনে এনে প্রকারান্তরে পুরো সেনাবাহিনীকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে?
আপ্িন নিজেই বিগত সেনা সমর্থিত ত্বত্তাবধায়ক সরকারের সকল কর্মকান্ডকে বৈধতা দেবেন, হালাল করে নেবেন, এমন একটা ঘোষনা দেননি? আর এর ফল হিসেবে আপনি যে, একটা ডিজিটাল নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা পেয়েছেন তা কি অস্বীকার করতে পারেন? অতি সা¤প্রতিক কালে স্বৈরাচার এরশাদ সে কথা প্রকাশ্যেই ফাঁস করে দিয়েছেন পুরো জাতির সামনে। তিনি কি অস্বীকার করার সকল রাস্তাই বন্ধ করে দেননি?
যা হোক, যে সেনাবাহিনী এরশাদের মত লম্পট, প্রতারক, দুর্ণীতিবাজ, খল, খুনী, বিদেশী ভাড়াটে দালাল তৈরী করে, যে সেনাবাহিনী মইন ইউ আহমেদ, জেনারেল বারির মত দূর্ণীতিবাজ, ফ্রাংকেস্টাইন তৈরী করে, প্রশ্রয় দেয়, আবার পুর®কৃতও করে! যে সেনাবাহিনীর মধ্যে এই রকম দু একজন কুলাঙ্গার পুরো দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকেই কলংকিত করে যাচ্ছে, সেই সেনাবাহিনিকে শৃংখলা আর পেশাদারিত্বের মধ্যে না এনে, সেরকম কোন উদ্যোগ না নিয়ে আপনি পুরা সেনাবাহিনেকই শেষ করে দেবার পথ ধরলেন!
আপনার শাসনামলেই পুরো জাতির চোখের সামনে দেশের সম্পদ, সেনাবাহিনীর ক্রীম, সুযোগ্য ও চৌকষ জোনারেল’দের হত্যা করা হলো, আপনি নিশ্চুপ, যেমন নিশ্চুপ জেনারেল মঈন! এটা এখন পরিস্কার যে, আপনার দলের তরুণ নেতা মির্যা আজম, আর নানক (আপনার সরকারের দুই মন্ত্রী) তারা নিজেদের ব্যক্তিগত আক্রোশের পাশাপাশি বাইরের ইন্ধনে সেনাহত্যার ঘটনায় জড়িত হয়েছিলেন।
যে কর্নেল গুলজার মির্যা আজম এর ভগ্নীপতি শায়খ আব্দুর রহমান বাংলাভাইকে ধরে বিচারের মুখোমুখি করেছেন, আর বিচারে তার ফাঁসিও হয়েছে! মির্যা আজম এর বোন বিধবা হয়েছে এই সেনাবাহিনী কর্তৃক সন্ত্রাস দমনে সাফল্যের কারণে, বোন বিধবা হবার জ্বালা প্রশমিত করতে সেই কর্ণেল গুলজারকে, তার সহকর্মী সেনাবাহিনীকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে মনের জ্বালা মেটানোর শখ হয়ত ছিল আর মির্যা আজমের মনে, কিন্তু আপনার মনে কোন জ্বালা ছিল? ’৭৫ এ সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য কর্তৃক আপনার বাবা মা হারানোর ঘটনা? এই আপনিই কি বার বার জাতিকে আশ্বস্থ করেননি এই বলে যে, আপনি প্রতিহিংসার রাজনীতি করবেন না? দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে প্রতিহিংসার রাজনীতি করাটা কি কোন জাতিয় নেতা নেত্রীর জন্য আদৌও শোভনীয়?
আজ আপনি এমন একটা আসনে বসে আছেন যেখানে আপনি এই দেশটার ষোল েেকাটি জনগেষ্ঠির প্রধানমন্ত্রী। যে ব্যক্তি আপনাকে ভোট দেয়নি তারও আপনি প্রধানমন্ত্রী। এই দেশের গনতান্ত্রিক আবহে যদি শেষ পেরেকটা ঠুকে দিতে না চান, তবে সেটাই বাস্তবতা। অথচ আপনি আমাদের চোখের সামনে, পুরো দেশের চোখের সামনে এই সেনাবাহিনীকেই এক এক করে ধংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। এর অস্তিত্বের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেবার আয়োজন করে চলেছেন।
মনে রাখতে হবে, এই দেশটার কোটি কোটি মানুষ যখন চল্লিশ টাকা কেজি চাল খেয়েছে তখন এই সেনাবাহিনীকে চাল খাইয়েছে মাত্র ২’২৫ টাকা কেজি দরে। একজন বেকার, কিংবা ভিক্ষুকও এক কেজি গম কিনেছে ৩০ টাকা দরে কিন্তু সেনাবহিনীকে সেই একই গম খাইয়েছে মাত্র ২’০৫ টাকা কেজি দরে। নিজেরা সয়াবিন এর তেল কিনেছে সোয়াশত টাকা লিটার দর এ কিন্তু সেনাবাহিনীর প্রতি সদস্য সদস্যাকে সেই একই তেল খাইয়েছে মাত্র ৮’৩৮ টাকা লিটারে, এতটা বিশাল ত্যাগ স্বীকার করে, নিজেরা অভূক্ত থেকে, জনগন তীল তীল করে এই সেনাবাহিনীকে গড়ে তুলেছে, সেই সেনাবাহিনীকে নিয়ে কাপুুরূষ জেনারেল মঈন সাম্রাজ্যবাদীদের ক্রীড়ণক সেজে যে নোংরা খেলা খেলে গেল, তার মেয়াদকালের শেষ দিকে এসে অবসরে যাবার আগে যে ভাবে বিদেশী ষড়যন্ত্রের ক্রীড়ণক সেজে এক এক কর্ণেল গুলজারদের মত দেশপ্রেমিক সৈনিকদের হত্যা করে গেল, যেভাবে এক এক করে বেছে বেছে চৌকষ জেনারেলদের চাকুরি থেকে বিদেয় করে গেল, যে ভাবে পুরো সেনাবাহিনীকেই পঙ্গু করে দিয়ে গেল, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য, অভাবনীয়!
এই নপূংশক জেনারেল দেশটার স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্বকে এভাবে এক ভয়ংকর ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়ে গেল, অথচ তার কোন বিচার হবেনা, নিদেন পক্ষে তার অপরাধের কোন তদন্তও হবেনা, এটা কি আর যাই হোক আপনার কাছেও আশা করা যায়? আপনার চোখের সামনে দিয়েই তিনি বিদেশে চলে গেলেন, অথচ আপনি নির্বিকার!
আপনাকে কি এখানে আওয়ামি লীগ এর সভানেত্রী হিসেবে উক্ত জেনারেল এর প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ এর প্রমান দিতে হবে? নাকি, আপনি এই দেশটার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশাত্ববোধ এর পরিচয় দেবেন? একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কোনটা আপনার জন্য শোভনীয়? কোনটা আপনার কাছে প্রত্যাশিত?
যেখানে প্রত্যাশিত ছিল যে, সেনাবাহিনীকে সংহত করতে পদক্ষেপ নেবেন, তার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সচেষ্ট হবেন, আপনি তা না করে উল্টো ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজমীকে কোন অপরাধ ছাড়াই, নির্মমভাবে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা ছাড়াই চাকুরিচ্যুত করলেন, তা কি আপনার ‘কোন প্রতিহিংষার রাজনীতি করবেন না’ মর্মে ঘোষনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ? একজন প্রধানমন্ত্রীতো বটেই, একজন সাধরণ মানুষও কি এরকম বিবেকহীন আচরণ আর অবিচার করতে পারে? তেমনটা কি কল্পনাও করতে পারে? আপনিও কি তাহলে পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে সেনাবহিনী ধংসে নেমেছেন? জাতি এর উত্তরটা জানতে চায়, উত্তর দেবেন কি?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

