আসুন, পরিচয়টা সেরে নেই!
প্রিয় রাসুলুল্লাহ (স
সনদ ও বর্ননাকারীর নাম এই মহুর্তে জানা না থাকলেও যতটুকু মনে করতে পারি তা হলো মুসলিম শরীফে এই হাদিসটি বর্নিত হয়েছে ( আমার ভূল হলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এবং আশা করি শ্রদ্ধেয় পাঠকও দয়া করে আমাকে ক্ষমা করবেন।) হাদিসটি নিয়ে বেশীদূর যাবার চেষ্টা করবনা কারণ, সে বিষয়ে আমি কোন বিশেষজ্ঞ নই বরং কুরআন হাদিসের ব্যাপারে আমার জ্ঞান মাত্রারিক্ত কম। অতএব নিজের ওজন বুঝেই কথা বলব ইনশাআল্লাহ।
ইসলামের একজন আলেম এই হাদিসকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন সে বিষয়ে আগ্রহ থাকলেও এখানে আমি একজন সাধারন এবং অজ্ঞ মুসলমান হিসেবে হাদিসটিতে যে বানী পাচ্ছি এবং তার আলোকে আমার, আমাদের চারিপাশের যে বাস্তবতা তা একটু বিচার করে দেখার লোভ কোনমতেই সম্বরণ করতে পারছিনা। বিশ্বের ছয়শত কোটি মানুষের কাছে , বিশেষ করে অমুসলিম স¤প্রদায়ের কাছে ইসলাম কতটা পরিচিত, সে প্রশ্নটা ক্ষনিকের জন্য হলেও তুলে রাখি বরং এই প্রশ্নটিই আলোচনা করে দেখি আসুন, ইসলাম এই আমাদের মুসলিম সমাজের কাছেইবা কতটুকু পরিচিত? আমরা মুসলমানরাই বা ইসলামকে কতটুকু জানি? প্রশ্নটি আজ কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠি বিশেষের কাছে নয় বরং বিশ্বের প্রতিটি মুসলমানের কাছে বার বার আলোচিত বিশ্লেষিত হবার দাবি রাখে। দাবি রাখে চুলচেরা বিশ্লেষনের! এবং তা প্রতিটি মুসলিম জনমানসে, প্রতিটি মুসলিম পরিবারে।
আমরা যদি আমাদের কমিউনিটির দিকে তাকাই, কি দেখব? যে কোন একজন সাধারণ মুসলমান যুবককে নমুনা হিসেবে তুলে আনুন আপনার বিচারের কাঠগড়ায়, এক এক করে তার চাল চলন, আচার আচরণ, তার কথা বার্তা, তার জ্ঞান গরিমা প্রাত্যহিক লেন দেন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখুন। খুব গভীরে যাবার বড় একটা দরকার হবেনা সেটা আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি এবং এটাও বিশ্বাস করি যে, সূধী পাঠক আমার সাথে কোনরকম দ্বিমত পোষন না করেই এক বাক্যে স্বীকার করবেন যে, তার আচার আচরনে ইসলামের শিক্ষা, তার দর্শন বা চেতনার দুরতমও কোন সংশ্লিষ্ঠতা নেই। তার প্রাত্যহিক আচার আচরন, লেন দেন, উঠা বসা, চলা ফেরা দেখে আর যাই হোকনা কেন অন্তত একজন খাঁটি মুসলমানের আচার আচরণ বা চলা ফেরা মনে হবেনা। তার পোষাক আষাক দেখুন, তার উঠা বসা দেখুন, তার বাহ্যিক আবরণ দেখুন, দেখুন তার খাদ্য বা পানীয় তালিকা, দেখুন তার হাতের বই ম্যাগাজিন ( অবশ্য যদি উক্ত যুবকের হাতে আদৌ কোন বই, ম্যাগাজিন থাকে) দেখুন তার অবসর কাটানোর সময়কাল, খেয়াল করুন তার চিত্ত বিনোদনের উপায়-উপকরণ, পথ, পদ্ধতি ও সময়, বিচার করুন তার বন্ধু বান্ধব কারা, পর্যালোচনা করুন বড়দের সাথে তার ব্যবহার , ছোটদের প্রতি তার কৃত আচরণ। এর পরে মিলিয়ে দেখুনতো, তার দৈনিন্দন জীবনের কোন জায়গায় আপনি ইসলামকে খুঁজে পেলেন? কোনখানেই নয়। তার জীবনে আপনি কি খুঁজে পেয়েছেন সে উত্তর আমাদের জানার দরকার নেই, কেবল যে বিষয়টি এখানে আমাদের জানার প্রয়োজন, সেটা হলো, অতি দু:খের বিষয় যে, আপনি তার জীবনের কোন পর্যায়েই ইসলামের পূর্ন উপস্থিতি পাননি।
একইভাবে একজন কিশোর, একজন কিশোরি বা শিশুর জীবন দেখুন। তার প্রাত্যহিক বেড়ে ওঠার মধ্যে কোন ইসলাম নেই! তার প্রতিদিনের জীবন চিত্রে অনেক কিছুই আছে তবে কেবলমাত্র যে জিনিসটির অভাব তা হলো ইসলামের। হ্যাঁ সেখানে কোন ইসলাম নেই!
কমিউনিটির একজন ব্যবসায়ির দিকে খেয়াল করুন, তার লেন দেনের দিকে তাকান, সেখানেও ইসলামকে খুঁজে পাওয়া দুস্করই বটে। একজন শিক্ষকের দিকে তাকান, একজন শিক্ষার্থির দিকে দৃষ্টি দিন, তেমনি একজন নারীর দিকে চোখ বুলান একজন মুসলিম মা’কেও বিচার করে দেখুন, দেখবেন কোথাও পূর্নাঙ্গ ইসলাম নেই। কদাচিৎ কোথাও কোথাও আল্লাহর কোন কোন বান্দাহ ইসলামকে ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বটে কিন্তু বিভিন্ন কারনে তাও অসম্পুর্ন।
প্রশ্ন হলো, এমনটা হলো কেন? অমুসলিমরা না হয় ইসলাম জানেনা চেনেনা কিন্তু এই আমরা যারা মুসলমান বলে নিজেদের দাবী করি তাদের পরিত্রে কেন ইসলামের বহি:প্রকাশ ঘটেনা? এর একটা মাত্র উত্তর, আর তা হলো এই যে, আমরা মুৃসলমানরা ইসলামকে জানিনা। দু’চার জন হতভাগা হয়ত এমনও থাকতে পারে কমিউনিটির মধ্যে, যারা বলে উঠতে পারে যে তারা ইসলামকে মানেনা! তাদের কথা আলাদা , কিন্তু অধিকাংশের বেলায় এটাই একমাত্র কারণ যে, আমরা ইসলামকে জানিনা, যদিও মানি এবং মানতে চাই।
হ্যাঁ, আমরা ইসলামকে জানিনা, ইসলাম আমাদের কাছে অপরিচিত হয়ে পড়েছে। আমরা ইসলামকে চিনিনা। ইসলামের সাথে আমাদের চিন্তা, চেতনা ,আদর্শ, বিশ্বাস, শিক্ষা, দীক্ষা’র কোন সম্পর্ক নেই, ফলে ইসলাম আমাদের কাছে ততটাই অচেনা রয়ে গেছে, যতটা অচেনা আমাদের কাছে সেই শনি বা মংগল গ্রহ!
আর কেন ইসলামকে জানলাম না বা জানিনা তার কারণ হিসেবে এক একজন এক একরকম ব্যাখ্যা দেবেন। কেউ হয়তবা মুসলিম জনমানসের উপরে আধুনিক সভ্যতার প্রভাবের কথা বলবেন। কেউবা বিগত কয়েকশত বৎসর ধরে উপনিবেশ শাসনে মুসলিম দেশসমুহের অবস্থানের কথা বলবেন, কেউবা শিক্ষা ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মুসলমানদের পশ্চাৎপরতার কথা বলবেন. এরকম অনেক কারণের কথাই অনেকে উল্লেখ করবেন এবং তার মতের স্বপক্ষে যুক্তিও তুলে ধরবেন। আমি এর কোনটিকেই অস্বীকার করিনা এবং সেসবের কোনটিরই সত্যতা নিয়ে বিতর্ক কিংবা দ্বিমত পোষন করিনা। তবে যে কারণটি মূখ্য আমার নিজের দৃষ্টি এবং বিবেচনায়, সেটির কথা অবশ্যই বলব। বরং সে কথাটি বলার জন্যইতো এই নিবন্ধের সূচনা করেছি, তবে তার আগে আরও কিছু প্রাসাঙ্গিক কথা বলে নেই ।
আমার দৃষ্টিতে, আমাদের মুসলিম উম্মাহর আজকের শোচনীয় অবস্থাটা হয়ত এড়ানো যেতনা বিগত কয়েকশত বৎসরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পটপরিবর্তনের পেক্ষাপটে। বিশেষ করে মুসলিম জনপদ সমুহের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব হারানো, বুদ্ধিবৃত্তিক পশ্চাৎপরতার সাথে সাথে অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব মুসলিম সমাজে দানা বাঁধা এবং একই সময়ে ইউরোপিয় রেনেসার উদ্ভব, সব মিলিয়েই মুসলমানদের সার্বিক পশ্চাৎপরতা একরকম অবধারিত ছিল। এতে আশ্চর্যান্বিত হবার কোন কারণ নেই। কিন্তু যে কারণে বিষ্ময় জাগে সেটি হলো, আমরা আমাদের এই অবস্থা সচক্ষে দেখেও কেন তা হতে পরিত্রানের পথ বের করতে পারলাম না ? বা তা হতে পরিত্রানের কোন কার্যকর উদ্যোগ নিলাম না? বিগত চারশত বৎসরের ইতিহাস ঘাঁটুন, দেখবেন আমরা আমাদের পতনকে ঠেকিয়ে দিতে পারিনি! পতিত অবস্থা হতে উঠে আসার কোন কার্যকর ব্যবস্থাও নিতে পারিনি।
ইতিহাসের দিকে একটু নজর দেয়া যাক। আমরা সকলেই জানি চেঙ্গিস খানের নেতৃত্বে বর্বর তাতাররা আব্বাসিয় খেলাফতকে তছনছ করে ছেড়েছে। তৎকালিন বিশ্বে জ্ঞান বিজ্ঞানের লীলাভূমি, সভ্যতার পাদপীঠ বাগদাদকে তারা শ্বশ্মানে পরিনত করেছে। মাত্র এগারদিনে চার লক্ষ মুসলমানকে হত্যা করেছে। তাদের হত্যা আর নির্যাতনে বাগদাদ যে একসময় মুসলমান অঞ্চল ছিল, সে রকম কোন নিশানাও সেখানে ছিলন্!া নামাজ আদায় কিংবা আযান দেয়ার মত মৌলিক ঈবাদতও তারা বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু এমনতর দূর্ঘটনারও মাত্র চল্লিশ বৎসরের মধ্যেই কেবল যে বাগদাদই আবার ইসলামের সান্নিধ্যে ফিরে এল তাই নয়! বরং যে তাতার’রা মুসলিম নিধনে, ইসলাম উচ্ছেদে বেরিয়ে এসেছিল, সেই তারাই হয়ে গেল ইসলামের রক্ষক! ইসলামের অনুসারি। তারাই ভারতবর্ষে নিয়ে গেল রাজনৈতিক ইসলাম। সম্রাট বাবরতো তাদেরই বংশধর! কিন্তু কেন এমন হলো? কেউ কি বলতে পারেন তাতার সেনাপতিরা কোন মুসলিম সেনাপতির কাছে যুদ্ধে হেরে ইসলাম কবুল করেছে? ইতিহাস স্বাক্ষী, তাতার’রা কোন মুসলিম বাহিনীর নিকটে পরাজিত হয়নি, পরাজিত হয়েছে কোমলমতি নারীর কাছে, মুসলিম মা’র কাছে। মুসলিম পরিবারই ছিল তাদের সেই যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে তারা পরাজিত হয়েছে! রুপান্তরিত হয়েছে বর্বর তাতার হতে এক একজন মুসলিম সৈনিকে!
ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন, দেখবেন বাগদাদ ধ্বংস কারী তাতার রা মুসলিম নারীদের বন্দী করে নিয়েছে তাদের অন্দরমহলে। সেই মুসলিম বন্দী নারীদের ঔরসে জন্ম নিয়েছে তাতার ভবিষ্যৎ বংশধরেরা। কিন্তু বেড়ে উঠেছে একজন মুসলিম মা’র সান্নিধ্যে। হোকনা বন্দী নারী, কিন্তু সন্তানের জন্যতো তিনি তার মা! সেই মা’র সান্নিধ্যে যে সন্তান দিনে দিনে বেড়ে উঠেছে তাদের মার আদর্শ শিক্ষা আর চেতনাকে নিজের রক্তে, মন মননে, চিন্তা আর চেতনায় ধারণ করে, তারই বহি:প্রকাশ ঘটেছে সেই সব সন্তান যখন বড় হয়েছে, তাদের কর্মকান্ডে। চল্লিশ বৎসর আগে বাগদাদে পরাজিত কোন মুসলিম সেনাপতি নয় বরং বিজয়ী সৈন্যদেরই সন্তান, যারা মুসলিম মা’র হাতে বেড়ে ওঠেছে, তাদের দ্বারাই আবার ইসলাম ফিরে এসেছে বাগদাদের বধ্যভূমীতে!
তার মানে হলো, মাঠে ময়দানে সমাজের সর্বস্তরে ইসলাম পরাজিত হয়ে গেলেও কেবলমাত্র ঘরের কোনে, অন্দরমহলে মা’র আঁচলের সেই ছোট্ট স্থানটিতে ইসলামের চর্চা থাকার কারণেই, সেখানে ইসলামের সাথে এই নব প্রজন্মের পরিচয় ঘটার কারনেই অর্ধশতাব্দী না যেতেই আবার সে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল! উদ্ধার করেছিল তার হারানো মর্যাদা আর অবস্থান!
এই আলোকে আজকে আমাদের অবস্থাটা একটু বিচার করে দেখুন দয়া করে। চল্লিশ বৎসর নয়, বিগত চারশত বৎসর পার হয়ে গেলেও আমরা আমাদের হারানো অবস্থান উদ্ধার করতে পারলাম না! এর একমাত্র কারন হলো, আমাদের সমাজ, আমাদের দেশ, সেতো অনেক বৃহৎ অঙ্গন এমনকি আমাদের ঘরের এই সীমিত পরিসরেও ইসলাম বেঁচে নেই। আমাদের সন্তানেরা তাদের জন্ম লগ্নের সেই ক্ষুদ্র পরিসর, মা’র আঁচল, সেই জায়গাটুকুতেও ইসলামের সাথে পরিচিত হতে পারছেনা। কারণ, আমাদের পারিবারিক পরিবেশে ইসলাম নেই, আমাদের স্ত্রী বা কন্যারা ইসলাম জানেনা, তাদের কাছে ইসলাম সেই রকম অপরিচিতে অবস্থায়, যেরকম অপরিচিতাবস্থায় একদিন তার যাত্রা শুরু হয়েছিল মক্কার রুক্ষ মরুভূমীতে, যেরকম অপরিচিত অবস্থার কথা প্রিয় রাসুলুল্লাহ (স
এই নিবন্ধে কেবলমাত্র সংক্ষেপে একটা চিত্র তুলে ধরা হলো। এই আশায় যে, এই আলোচনা হতে একটা সম্ভাব্য উত্তর বের হয়ে আসবে। যে প্রশ্নটির উত্তর বের করাটা উদ্দেশ্য সেটা হলো, বিশ্ব জুড়ে ইসলাম আর মুসলমানদের যে অবমাননাকর জিল্লতী, তা হতে পরিত্রানের উপায় কি? মুসলিম সমাজ আর দেশসমুহের অনেকেই এর উত্তর হিসেবে অনেকরকম সমাধান বের করেছেন, আর তা অনুসরনের প্রচেষ্টাও চলছে। তবে বিশ্বাস করুন, সবার আগে যা করতে হবে আমাদের প্রত্যেককে, তা হলো, আমাদের পরিবারে ইসলামের চর্চা শুরু করতে হবে। একটি দেশ বা সমাজকে ইসলামি দেশ বা সমাজ বানানোর স্বপ্ন অনেক পরের কথা, সবার আগে নিজ পরিবারটিকে ‘ইসলামি পরিবার’ বানাতে হবে। নিজেদের পাশপাশি পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য সদস্যার সাথে ইসলামের পরিচয় করিয়ে দিতে হবে গভীরভাবে, আন্তরিক ভাবে। ইসলাম বিশ্বের যেখানেই অপরিচিত হয়ে থাকুক না কেন, অন্তত আমাদের পরিবারের কারো কাছেই অপরিচিত থাকবেনা , ইসলামের কোন জ্ঞান, কোন বিধান আর কোন নির্দেশের সাথেই আমাদের পরিবারের পরিচয় বাকি থাকবে না, বরং সে পরিচয় হবে নিবিড়, গভীর! এর মধ্যেই রয়েছে আমাদের মুক্তির পথ। তাই এখন সময়টা হলো জানাজানির! নিখাঁদ ইসলামের সাথে সত্যিকার পরিচিতির সময় এটা। আসুন রমজানের এই উপযুক্ত সময়ে পরিচয়টাই আগে সেরে নেই!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

