এই বৃদ্ধকে বরাবরই জানতাম আমার সেই মিশরীয় বন্ধুর কুয়েতি স্ত্রী’র বাবা হিসেবে। কিন্তু কোন একদিন এক সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রথম যখন জানলাম যে, আমার সেই বন্ধুর স্ত্রী এবং তাঁর বাবা এই বৃদ্ধ এঁরা কেউই কুয়েতি নন, বরং বেদুঈন আরব। না আরবও নন, অন্তত সেই বৃদ্ধ আরব নন। তিনি এক বাংলাদেশী এবং সন্দীপ থেকে এসেছেন সেই উনপঞ্চাশ কিংবা পঞ্চাশ সালে! সেই থেকে তিনি এখানেই রয়ে গেছেন এবং আজ তিনি আরব, অন্তত আমাদের কাছে। অবাক হয়ে দেখেছিলাম তাঁকে। বোঝার চেষ্টা করেছিলাম তিনি কি বাঙ্গালি না একজন আরব? তাঁর আপাদমস্তক চেয়ে চেয়ে খোঁজার চেষ্টা করেছিলাম, তাঁর এই সাড়ে তিন হাত শরীরের কোথাও কি বা্গংালিত্বটুকু খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে? সেটা দেখার জন্য। তিনি কি নিখুঁতভাবে স্থানীয় আরবী ভাঁষা শিখেছেন, তাদের কালচারে অভ্যস্ত হয়েছেন! অসনে বসনে, মন মননে, চলনে বলনে একেবারে একজন খাঁটি আরব বেদূঈন বুড়ো! আমাকে কাছে পেয়ে তাঁর ভেতরের সেই বাংগালিত্বটুকু যেন হঠাৎ করেই জেগে উঠেছিল! কত কথাই না তিনি সেদিন বলেছিলেন বাংলায়, কত স্মৃতীই না তিনি আউড়েছিলেন আমাকে কাছে পেয়ে!
আরব দেশ সমুহের আনাচে কানাচে শিক্ষিত অশিক্ষিত কিংবা অর্ধশিক্ষিত বহু বাংলাদেশী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে জীবন জীবিকার তাক্বিদে। আরবদের বাসা বাড়ি কিংবা দোকান পাট কিংবা অফিস আদালতেই কেবল নয় বরং পুরো আরব জুড়ে মরুভূমী বলুন আর পাহাড়ের গুহা বলুন, খোলা প্রান্তর বলুন আর গীজগীজে জনপদ বলুন, সবখানেই এরকম বাংলাদেশীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। যারা শিক্ষিত তারা না হয় তাদের শিক্ষা আর দক্ষতার জোরে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন নিজেদেরকে। সেটা,তেমন কোন বিষ্ময়কর ব্যপার নয়! কিন্তু আমি এমন বাংলাদেশীকেও দেখেছি যাঁর শিক্ষার কোন সুযোগ হয়নি জীবনে, যিনি নিজের মার মুখে শোনা স্থানীয় আঞ্চলিক ভাঁষা ছাড়া বাংলা ভাঁষাটাও ঠিকমত বলতে পারেন না, সেই তিনি মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই কি সুন্দর করে আরবী শিখে নিয়েছেন এবং দিব্যি আরবদের সাথে বাক বিতন্ডায় লিপ্ত হয়েছেন! ব্যাটা আরবকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থোকতে দেখেছি সেই যুবকের দিকে, যে তার সাথে প্রচন্ড তর্ক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, বেদুঈন আরবকে সদরঘাটের কুলীদের স্টাইলে গালাগাল করে যাচ্ছে! যার ভেতরে কোনরকমের হীনমন্যতা নেই, দ্বিধা নেই, জড়তা নেই কথা বলতে, তাও আবার আরবীতে! মক্কা আর মদীনার পবিত্র মসজিদ সমুহের আশে পাশ্বেতো বটেই এমনকি সউদি আরবের বিভিন্ন আনাচে কানাচে বাংলাদেশীরা যে দাপটের সাথে ব্যবসা জাঁকিয়ে বসেছেন তা দেখলে চোখটা জুড়িয়ে যায়!
সম্ভবত কাপাসিয়া কিংবা তার আশে পাশের এক গোঁয়ার গোবিন্দ ধরনের যুবক, যিনি শ্রমিকের কাজ করতে এসেছেন কুয়েতে, দেশে নাকি তিনি পরিবহন শ্রমিক ছিলেন, লেখা পড়া করেননি বললেই চলে। কি এক বিষয় নিয়ে তাঁর মিশরীয় সুপারভাইজারের সাথে বনিবনা না হওয়ায় বাক বিতন্ডা বেধে যায়, সেই বাক বিতন্ডা এক সময়ে তার মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে উক্ত মিশরীয় সুপারভাইজারকে খাঁটি মিশরীয় আঞ্চালিক এবং বিশ্রি গালাগাল করতে করতে তেড়ে আসে বাংগালি এই যুবক। অধস্তন শ্রমিক যুবকটির মুখভঙ্গি দেখেই ব্যটা মিশরীয় বুঝতে পারে যে, এবারে বিপদ আছে এবং তাকে রোখা যাবেনা। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা মানেই বিপদ, অতএব সরে পাড়ই্ ভালো! উক্ত মিশরীয়কে আমি উর্দ্ধশ্বাসে ছুটে জান বাঁচাতে দেখেছি। মিশরের এক সুন্দরী এক বাংলদেশী যুবকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দুটি সন্তানের গর্বিতা মা। বাঙ্গালী স্বামী নিয়ে মানিয়ে চলতে কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে হেঁসে আলেক্জান্দ্রিয়ার বিশেষ আরবি টানে জবাব দিয়েছিলেন ‘ওয়াল্লাহে বাংগালি বুতুল! অর্থাৎ ‘আল্লাহর কসম বাংগালিরা হলো হিরো’ বলেই তাঁর মনোজগতের নায়ক স্বামীর দিকে চেয়ে হেঁসেছিলেন। আমি সেই বাংগালি যুবক, মহিলার স্বামী প্রবরের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম মিশরীয়দের মত রুক্ষ মহিলাকে ম্যানেজ করতে পারাটা একমাত্র বাংলাদেশী ‘নায়ক’দের পক্ষেই সম্ভব!
দুবাই শহরটি আজ কাল অনেকটই ইউরোপের মত হয়ে গেছে। খোলামেলা। আরব ঐতিহ্যের যে রক্ষনশীলতা এক সময় ছিল, মুসলিম সমাজের যে সামাজিক একটি পরিচয় রয়েছে তাদের বাহ্যিক চাল চলনে, তা আজ সেখানে নেই বললেই চলে। যারা বর্তমান দুবাই সমাজের একেবারে ভেতরের খবর রাখেন তারা অবশ্য বলেন যে, ইউরোপও নাকি এখন দুবাই এর সাথে পেরে উঠবে না বেলেল্লাপনা আর নষ্টামিতে। কি জানি হবে হয়ত। সারা দুবাই শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রাশিয়ান এবং পূর্ব ইউরোপিয় দেশ সমুহের সুন্দরী যুবতিরা। যারা কেবলমাত্র পাসপোর্টটা হাতে করে আসে এক মাসের ভিসা নিয়ে। এই একটি মাস দুবাই শহরে তারা থাকে, আর ফিরে যাবার সময় মনে হয় সাথে করে পুরো দুবাই শহরের মাল পত্র উঠিয়ে নিয়ে যায়! এখানে সবার নাকের ডগায় কিন্তু অনেকটাই অলিখিতভাবেই তারা পতিতাবৃত্তি চালিয়ে যাচ্ছে। এক শ্রেনীর ভারতীয় ব্যবসায়ী, ভদ্রলোক(!) এদের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে বেশ দু’পয়সা নয়, বরং অঢেল পেট্রোডলার কামাই করে নিচ্ছে। সেটাও আমার আ্েযলাচনার বিষয় নয়, বরং যে বিষয়টা আমার কাছে আশ্চর্যজনক ঠেকেছে তা হলো, আমি এই দুবাইতে বাংলাদেশী যুবককে রাশিয়ান যুবতির বাহুলগ্না হয়ে অনর্গল রাশিয়ান ভাঁষায় বক বক করতে দেখেছি!
এমিলিও পিমেন্টেল নামে আমার এক ফিলিপিনো বন্ধু ও সহকর্মী ছিলেন যিনি এখন অস্ট্রেলীয়া নিবাসী। তাঁর কথা প্রায়ই মনে পড়ে। তিনি একবার তাঁর অফিসে বসে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন এক বাংলাদেশী যুবক বয়সের ফিজিওথেরাপিস্টে’র সাথে, যিনি মাত্র দু’দিন আগে এসেছেন সেই ম্যানিলা থেকে কুয়েত এ। এই বাংলাদেশী যুবকের সাথে আমার পরিচয় ও কথা বার্তা হচ্ছিল বাংলায়। আর যখন তিনি এমিলিও’র এর সাথে কথা বলছিলেন তখন তা হচ্ছিল তাদের ফিলিপিনো ভাঁষায়। অবাক হয়ে শুনছিলাম বাংলাদেশী এক যুবকের মুখে ফিলিপিনো ভাঁষা। আমাকে অবাক হতে দেখে এমিলিও বলে উঠেছিলেন ‘ জানো জিয়া ও আমার চেয়ে ভালো জানে আমাদের ভাঁষা’।
আমার আর এক চাইনিজ বন্ধু ‘ লি শুঁয়ে হাঁঞঁ ’ যিনি চীন এর একজন সংগীত শিল্পিও বটে, তাঁর মুখে শুনেছিলাম চীনে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা দিব্যি চীনাভাঁষায় চালিয়ে যাচ্ছেন! আমার এক বাংলাদেশী পরিচিত যুবককে জানি যিনি সাংহাইতে অবস্থান ও বসবাস করছেন। বিয়েও করেছেন এক চীনা রমনীকে, একটি কন্যা সন্তানের বাবাও হয়েছেন। কেবল কি তিনি চীনা স্ত্রীর স্বামী কিংবা একজন চীনা কন্যার বাবাই হয়েছেন? না, তা নয়, তিনি চীনা কালচার আর পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্বোধ্য ভাঁষাটিও রপ্ত করেছেন অনায়াসে! দিব্যি তাতে কথা বার্তার বলে যেতে পারেন আর রেগে গেলে সেই ভাঁষাতেই ওদের চৌদ্দ গুষ্ঠিও উদ্ধার করতে পারেন!
এভাবে জাপানের কথা বলি, সেখানেও বাংলাদেশীরা এমনভাবেই তাদের ভাঁষা রপ্ত করেছেন যে, জাপানি ভাঁষায় তাদের কথা বার্তা শুনলে মনে হবে এই সব বাংগালীরা বাংলা ভাঁষার ‘এক’ ‘দুই’ এর চেয়ে জাপানি ভাঁষার ‘ইচি’ ‘নি’ খুব ভালো বোঝেন, বাংলা ভাষার ‘তিন’ ‘চার’ কিংবা ‘নয়’ ‘দশ’ এর চেয়ে জাপানি ভাঁষায় ‘সাং’ ‘সি’ কিংবা ‘কু’ ‘জু’ সহজে বোঝেন। বাংগালি, বিষ্ময়কর প্রতীভা তা স্বীকার করতেই হবে।
এই ইংল্যান্ডের আনাচে কানাচে বাংলাদেশী সহ বিশ্বের প্রায় তাবৎ দেশের ছাত্র ছাত্রীরা পড়াশোনার জন্য এসেছে। তাদের মধ্য থেকেই ক’জন মালয়েশিয়ান যুবক যুবতিকে জানি, যাঁরা ইংল্যন্ডের একটি শহরে পড়ছেন এখানকার এক বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে। একবার দুরপাল্লার বাসে চড়ে যাচ্ছিলাম লন্ডনে। বাসে ছিলেন আরও ক’জন বাংলাদেশী ছাত্র। ঘটনাক্রমে এই বাংলাদেশী ছাত্র আর ঐ মালয়েশিয়ান ছাত্রীদের কেউ কেউ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী। একজন বাংলাদেশী ছাত্র যিনি মালয়েশিয়ায় পড়াশোনার কারনে বৎসর তিনেক ছিলেন, সেই ছাত্রটিও ছিল এই বাসে। যাত্রা পথে তারা বেশ মজা করেই তাদের সময় কাটাচ্ছিল। আমি এক নিরস ও নি:সঙ্গ বাংলাদেশী নিরবে আমার আসনে বসে বসে বই পড়ে কিংবা কখনওবা ল্যাপটপে লিখে সময় কাটাচ্ছিলাম। আমার সামনের সীটে বসা ঐ বাংলাদেশী ছাত্রটি এত সাবলীল ভাবে মালয় ভাঁষায় কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে যে, অবাক হয়ে চেয়ে চেয়ে দেখছিলাম তাকে তার পেছন থেকেই। মালয়দের মধ্যে অনেকের চেহারাই আমাদের বাংলাদেশীদের মতই। তাদের আলাদা করে বোঝার উপায় নেই। আলোচ্য এই বাংলাদেশীকে আগে ভাগে না জানলে কোনমতেই্ বোঝার উপায় নেই যে, সে মালয়েশিয়ান নয়। মালয় যুবতীর মুখ দিয়ে যেন খই ফুটছে। তিনিও অত্যন্ত সপ্রতিভতার সাথে বাংলাদেশী যুবকটির সাথে বাক্যালাপ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এক সময় দেখলাম মালয় মেয়েটার সারা মুখ ভরে উঠল একধরনের উজ্জলতায়। কারন বাংলাদেশী ছেলেটি হাঁসতে হাঁসতে তাকে বলছে ‘সায়া সিনতা কামু’! অর্থাৎ ‘আমি তোমাকে ভালবাসি’! মেয়েটাও জানে যে, এটা কেবল ‘বাত কা বাত’, কিন্তু তার নিজের ভাঁষায় এক বিদেশী তাকে ভালবাসার কথা বলছে! এতই সে আপ্লুত। বিশ্বকে আপন করে নেবার এক অসম্ভব যোগ্যতা এই বাংলাদেশীদের!
এখানে এই ইংল্যন্ডে কিছু কিছু বাংলাদেশী এমনও আছেন, যে কোনভাবেই হোক এখানে এসেছেন এবং বসবাস করছেন। দেশে তাদের শিক্ষা দীক্ষা তেমন হয়ে ওঠেনি। কিন্তু সেই তারাই এমনভাবে এই ইংলিশ কালচারের সাথে, এখানকার ভাঁষার সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন নিজেদেরকে যে, দেখে শুনে মনে হবে খাঁ্িট ইংরেজ! আর তাঁদের মুখে ইংরেজি শুনলে মনে হবে আই এল টি এস কিংবা টোয়েফল এ সব বহু আগেই সেরে এসেছেন কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, তিনি নিজের নামটিও ঠিকমত লিখতে পারেননা! আর বাংলাটিও ঠিকমত পড়তে বা বলতে পারেন না। কিন্তু সেই তারই মুখে আঞ্চলিক ইংরেজি উচ্চারন শুনলে অবাক হতেই হবে, তাতে কোনই সন্দেহ নেই!
যদি গভীরভাবে এবং একে একে বিচার করে দেখি তবে দেখব যে, আশ্চর্যজনক ভাবে আমাদের এই বাংলাদেশীদের মধ্যে এই ‘সাহস’ জিনিসটি বেশী। এরা খুবই সাহসি। তাদের মেধা বিষ্ময়করভাবে উন্নততর। এরা প্রচন্ড কষ্টসহিষ্ণু এবং প্রতিবাদি। এরা মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে পারে উদ্দেশ্য সিদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত। এরা বিশ্বের যে কোন নতুন পরিবেশেও বিগড়ে যায়না, ভয় পায়না, পালিয়ে বাঁচেনা বরং এরা আগ বাড়িয়ে গিয়ে দাঁড়ায় চ্যলেঞ্জ নেয়! আর যত কষ্টাই হোকনা কেন সেই চ্যালেঞ্জটুুকু শেষ না দেখা পর্যন্ত এদের চোখে ঘুম থাকেনা। এরা অতি সহজেই নতুন একটা কিছু শিখে নিতে পারে।্ একটা কিছু শেখার জন্য এরা ছট ফট করতে থাকে উপযুক্ত পরিবেশ পেলে। এরা পরস্পরের প্রতি বড়ই আবেগময় সম্পর্ক রাখে। এক অপরের সূখ দু:খকে ভাগ করে নিতে পারে, সেরকম একটা মানসিক ঔদার্য তাদের রয়েছে। দু একটা কদাচিৎ ব্যতিক্রম বাদে এরা উদার। তা না হলে শোষক জমিদার রবীন্দ্রনাথও কি আমাদের বাংলাদেশে ঠাঁই পান? এদের মনটা আকশের মত বড় হয়। জীবন নিয়ে এদের দৃষ্টি ভঙ্গিটা এক দারুন পজিটিভ ধরনের। এরা ভেঙ্গে পড়েনা সহজে বরং অল্পেই মোটামুটি সন্তুষ্ঠ থাকে বা থাকার চেষ্টা করে। সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি সেটা হলো এরা খুবই মানবিক প্রকৃর্তি। আজকের বিশ্বে এই বিষয়টারই তো সবচেয়ে বড় অভাব!
তা হলে সূধী পাঠক, এত সব দূর্লভ গুনাগুন যে জনগোষ্ঠির তাদের এই পশ্চাৎপরতা কেন? এই প্রশ্নটি উঠতেই পারে এবং সেটাই স্বাভাবিক। এরও উত্তর রয়েছে। আর তা হলো আমাদের এই বাংলাদেশীদের এই এতসব যোগ্যতা আর সম্ভাবনাকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য পানে এগিয়ে নিয়ে যাবে তেমন কোন নেতৃত্ব এরা পায়নি। কেবল মাত্র একজন ক্ষনজন্মা নেতা যদি একবার একটা ডাক দিতেন, তা হলো বিশ্বাস করুন মাত্র দুটি দশকের মধ্যেই এই দেশটা বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে, বুক ফুলিয়ে দাঁড়াতো। এমনটি হলে ইমার্জিং টাইগারের হুঙ্কার তখন কেবল ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেনা বরং সারা বিশ্বময়ই তারা হুঙ্কার দিয়ে বেড়াবে। আমরা সেই শুভ দিনটির অপেক্ষায় তাকিয়ে আছি একজন বাঘা বাঙ্গালীর দিকে, কবে তিনি আত্বপ্রকাশ করবেন সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনে চলেছি। সারা বাংলাদেশই আছে একজন বাঘা বাঙ্গালির অপেক্ষায়। একজন নায়কের অপেক্ষা। প্রকৃত জননায়কের অপেক্ষায়। জানিনা আমাদের দেশে কবে তিনি আত্বপ্রকাশ করবেন? বা আদৌ করবেন কিনা। তবে একথাটা বলে রাখি আমার নিজস্ব বিচারে এবং সেই মিশরীয় মহিলার কথায় বাংগালিরা আসলেই বীরের জাত। এরা কর্মবীর! এর্ াপ্রত্যেকেই আসলে এক একজন হিরো। সেই মিশরীয় বধুর কথাই সত্য, যিনি বাংলাদেশীদের হিরো হিসেবে অভিহিত করেছিলেন এই বলে যে, ‘ওয়াল্লাহে বাংগালি বুতুল’!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



