বর্তমান সিরিয়া কিংবা ফিলিস্তিনের কোন এক জনপদে প্রেরিত হয়েছিলেন তিনজন নবী। জনপদের অধিবাসীদের কাছে প্রথমে দু’জন নবী প্রেরিত হয়ে ইসলামের দাওয়াত তুলে ধরলে জনপদের অধিবাসীরা তাঁদের সেই দাওয়াতকে অস্বীকার করে বসে। কেবল তাই নয়, তারা উক্ত দুই নবীকেই তাদের জনপদের সকল সমস্যার কারণ বলে চিহ্নিত করতে থাকে। তারা এই দুজন নবীর বিরুদ্ধে যত প্রকার অপপ্রচার সম্ভব ছিল, সে সবের মাধ্যমে স্থানীয় জনগনকে তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে থাকে।
এমতাবস্থায় আল্লাহ পাক উক্ত দু’জন সম্মানিত নবীর সাথে আরও একজন নবীকে ঐ জনপদে ইসলামের দাওয়াত তুলে ধরার জন্য পাঠান। এভাবেই তিন জন নবী একত্রে ঐ জনপদে সত্য আর সুন্দরের দাওয়াত তুলে ধরা সত্তেও জনপদের লোকজন তাদের হঠকারীতায় অটল থাকে। হাতে গোনা গুটি কতক বিবেকবান ব্যক্তি ছাড়া পুরো জনপদই নবীদের দাওয়াতকেই কেবল অস্বীকার করে বসে, কেবল তাই নয়, বরং এইসব সত্যপন্থীদের বিরুদ্ধে যতপ্রকার প্রচার-প্রোপাগান্ডা সম্ভব ছিল, তা বজায় রাখে। যত প্রকার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল, তা-ও তারা করে যেতে থাকে।
এরকমই এক প্রেক্ষাপটে উক্ত তিন নবী একদল লোকের সামনে তাঁদের দাওয়াত উপস্থাপন করলে লোকজন তাদের স্বভাবজাত পদ্বতিতে সে দাওয়াতকে অস্বীকার করে বসে। আর এরই পাশাপাশি তারা সেই সম্মানিত নবীরাই তাদের দেশে, তাদের সমাজে সকল বিভক্তি আর অশান্তি, অনগ্রসরতা, পশ্চাৎপরতার জন্য দায়ী, বলে অভিযুক্ত করতে থাকে। তাঁদেরকেই তাদের সকল জাতিয় সমস্যার একমাত্র কারণ, উন্নতী আর প্রগতীর পথে একমাত্র বাধা, বলে ঘোষনা করতে থাকে।
এমনই একটা পর্যায়ে উক্ত জনপদের একজন, পেশায় ছুতার, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব, প্রতিপত্তি বিবেচনায় অতি নগন্য ব্যক্তি, হাবিব নাজ্জার, সমাজপতিদের সামনে এগিয়ে আসে, তাদের হঠকারিতার জবাবে যুক্তি উপস্থাপন করতে থাকে এই বলে যে, এঁরাতো আমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাইছেন না, চাইছেন না কোন বিনিময়, বরং একান্তই নি:স্বার্থভাবে এঁরা আমাদেরকে সত্য আর সুন্দরের দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন। আপনারা এঁদের কথা শুনুন।
আল কুরআনের ভাঁষায় কি ভাবে সে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তা জানতে সুরা ইয়াসিন এর কুড়ি নম্বর আয়াতের বঙ্গানূবাদ দেখুন, সেখানে বলা হচ্ছে ‘ অত:পর শহরের প্রান্তভাগ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এলো। সে বলল, হে আমার স¤প্রদায়, তোমরা রাসুল গনের অনূসরণ কর। অনুসরণ করো তাঁদের, যাঁরা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করেন না, অথচ তাঁরা সুপথপ্রাপ্ত’
নিজ স¤প্রদায়ের লোকদের প্রতি তার আবেদন ছিল, ‘আমরা কেন ভেবে দেখবনা? কেন সেই আহ্বানের প্রতি কর্ণপাতটুকু না করে উল্টো সেইসব নি:স্বার্থ লোকদেরকেই দোষারোপ করব? আর আমি-ই বা কেন সেই আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষন করবনা, যাঁর কাছেই আমাদেরকে ফিরে যেতেই হবে?
নেতাদের মুখের উপরে সামান্য এক ছুতারের এইসব কর্থা বার্তা, এইসব যুক্তি ভালো লাগল না। তারা গেল ক্ষেপে। এরপরে নীচ ও বর্বর সেইসব লোকগুলো ঝাঁপিয়ে পড়ল সকলে মিলে, নিজেদেরই গোত্রের লোকটির উপরে। যার যা ছিল, লগী, বৈঠা, বাঁশ কিংবা খেজুর ডাল, পাদুকা, যাদের তাও ছিলনা, তারা চালাল কিল, ঘুঁষি, লাথি। অবশেষে তারা উক্ত ব্যক্তিকে মারতে মারতে মেরেই ফেলল! এ যেন প্রাচীন যুগের এক আঠাশে অক্টোবর!!
কিন্তু এর পরেই ঘটল আসল ঘটনাটা। হাবিব নাজ্জার মারা যাবার সাথে সাথে তাঁর সামনে খুলে গেল জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতার স্বর্ণদূয়ার। যে লোকটা ইসলামের জন্য তেমন কোন কিছুই করতে পারেননি ঈমান আনার পরে, পারেননি কোন মসজিদ বা খানক্বাহ বা ইসলামিক ফাউন্ডেশন বানাতে, পারেননি হজ্জ করতে, যাকাত দিতে, কিংবা জ্বেহাদ করতে। তিনিই সফলতা পেলেন!
তিনি পারেন নি গরীব দু:খীদের পূনর্বাসন করতে, পারেননি ত্যাগের কোন নজরাণা দেখাতে। কেবলমাত্র ইসলামের আহ্বান মেনে নিয়ে, এর দাওয়াত উপস্থাপনকারীদের প্রতি একটু মৌখিক সমর্থন দেখানো ছাড়া আর কিছুই তিনি পারেন নি। সেই লোকটিকেই বলা হলো, ‘তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো।’ মৃত্যুর সাথে সাথে তাকে নেয়া হলো জান্নাত এ!
আর এই সামান্য কাজটুকু(!)র বিনিময়ে জান্নাত পেয়ে হাবিব নাজ্জার খূশীতে গদ গদ হয়ে স্বগোতোক্তি করে উঠলেন। আল কুরআনই আমাদের বলে দেয় সে উক্তিটি কি ছিল? কুরআনের ভাঁষায়; ‘সে বলল, হায় আমার জাতি যদি কোন ক্রমে জানতে পারত যে, আমার প্রভূ আমাকে ক্ষমা করেছেন, আর আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভূক্ত করেছেন (সুরা ইয়াসিন, ২৬-২৭)
এই যে চেতনা, সত্য আর মিথ্যার সাথে চিরন্তন দ্বন্দে কোন না কোন পক্ষে নিজের আন্তরিক সমর্থনটুকু ঢেলে দেয়া সেটা সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন সত্যকে মেনে নেবার মত সাহস। প্রয়োজন নিজের দল বা নেতা-নেত্রীর আনুগত্য ছেড়ে দিয়ে সত্যের আনুগত্য করার মত মানসিক চেতনা। এই চেতনাই হলো ঈমানের পূর্ব শর্ত। ঈমানদার হবার পূর্ব শর্ত। অন্যতম অনুষঙ্গ।
হক্ব এর সাথে বাতিলের, সত্যের সাথে মিথ্যার এই দ্বন্দে যাঁরা নিরপেক্ষতার ভান করে বসে থাকেন, তাদের ঈমান কোন পর্যায়ে, তারা ইসলামের দৃষ্টিতে কোন স্তরের সেটা আমার লেখনীতে নয়, বরং স্বয়ং হজরত আলীর শাসনামলের একটা ঘটনা থেকেই বোঝা যেতে পারে।
এক ব্যক্তি কোন এক আক্রোশে হাতে উদ্যত তরবারী নিয়ে অপর এক ব্যক্তিকে হত্যা করতে তেড়ে যাচ্ছে, তা দেখতে পেয়ে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের প্রান বাঁচাতে দৌড় দিল। কিন্তু যাবে কোথায়? অনতিদুরেই দাঁড়িয়ে আলাপরত দুই ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে সে সেদিকেই দৌড়ে গিয়ে তাদেরই পিছে নিজেকে লুকোনোর চেষ্টা করল। কিন্তু তার পরেও ঘাতক তেড়ে গিয়ে অনায়াসেই উক্ত হতভাগাকে তরবারীর আঘাতে হত্যা করে ফেলল। তবে দাঁড়িয়ে আলাপরত দুই ব্যক্তির একজন ঘাতককে জাপটে ধরে কাবু করে ফেলেছে ততক্ষনে।
ঘটনার বিচার গেল আদালতে। মদীনার কাজী পুরো ঘটনার সুক্ষ বিচার বিশ্লেষন করলেন। এর পরে সাজা ঘোষনা করলেন। ঘাতককে দিলেন মৃত্যুদন্ড। আর নিরপেক্ষ (?) দাঁড়িয়ে থাকা দুই সাক্ষীকেও তিনি ছাড়লেন না।
তাদেরও দিলেন কঠিন সাজা। যে ব্যক্তি ঘাতককে জাপটে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে নাগরিক দায়িত্ব পালন করেছে, বিচারক তাকে দিলেন যাবজ্জীবন কারাদন্ড। কারণ? কারণ হলো, উক্ত ব্যক্তি তার নাগরিক দায়িত্ব পালন করেছে বটে, তবে তা করেছে ঘাতক হত্যাকান্ডটি সংঘটিত করার পরেই কেবল মাত্র।
নিহত ব্যক্তি এদের পেছনেই আশ্রয় নিয়েছিল, ইচ্ছা করলে তারা উভয়ে মিলে ঘাতককে হত্যাকান্ডটি সমাধা হবার আগেই নিবৃত করতে পারত। দুটো জীবন অন্তত বাঁচত। নিহত এবং ঘাতক, দুজনের জীবনই। কিন্তু তারা তা করেনি। যে ব্যক্তি সমাজে বাস করেও মানুষের নিরাপত্তা বজায়ে তার নাগরিক কর্তব্যটুকু পালন করেনা, সমাজে তার মুক্তাবস্থায় থেকে লাভ কি? অতএব সমাজ থেকে তাকে সরিয়ে নিয়ে কারাগারেই আটকে রাখা অধিক সমীচিন! এই বিবেচনায়ই তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
আর অপরব্যক্তি, যে কিনা কোন ভূমিকাই পালন করেনি বরং একেবারেই নিরপেক্ষ(!) থেকেছে, বিচারক তাঁর রায়ে উক্ত ব্যক্তির প্রতিও কঠোর সাজা প্রদান করেন। রায়ে তিনি উক্ত নিরপেক্ষ(!) ব্যক্তির চোখ দুটো উপড়ে ফেলার আদেশ দেন। সমাজে বাস করেও যে ব্যক্তি আশে পাশে সংঘটিত অন্যায়, অবিচার এর দিকে চোখ তুলে দেখেনা, তা রোধে কোন ভুমিকা রাখেনা, তার সেই চোখ সমাজের কোন কাজে লাগবে? এমন অন্ধ ব্যক্তির চোখ থাকা বা না থাকায় সমাজের কি লাভ? অতএব সে অন্ধ হয়ে গেলেই বা কি?
ইউসুফ আ: কে বাজারে তোলা হয়েছে। কেনান এর বাজারে। নিলামে তাঁকে বিক্রি করা হবে। তাঁকে বাজারে নিলামে কেনার জন্য মন্ত্রী, উজির, নাযির, আর বনীকের মত ধনাঢ্য লোকজন জড়ো হয়েছেন। এদেরই পাশে ঐ কেনানের এক বুড়ী, যিনি কেনানের জনপদে ভিক্ষা করে নিজের খাবার জোগাড় করতেন, তিনিও হাজির হয়েছেন!
স্বর্ণমুদ্রা নয়, রৌপ্য মুদ্রাও নয়, হাতে তাঁর তৎকালীন মুদ্রামানের সর্বনিম্ন অংকের একটা পয়সা মাত্র। তাও আবার সেই ভিক্ষা করেই পাওয়া। তাই-ই বুড়ী তাঁর হাতে নিয়ে মন্ত্রী মিনিষ্টার, ধনীক, বনীকদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনিও নিলাম ডাকবেন!
ইউসুফ আ: কে নিলামে ক্রয়কারীদের মধ্যে উপস্থিত গন্যমান্য ধনকুবেরদের পাশে এই ভিখারীনি বুড়ীকেও হাজির থাকতে দেখে এবং নিলামে তিনিও ইউসুফ আ: কে কিনতে চান, এমন ভাব বুঝতে পেরে উপস্থিত সকলেরই কৌতুহল। সীমাহিন কৌতুহল! কেউ কেউ বুড়ীকে লক্ষ্য করে দু’একটা কৌতুক করতেও পিছপা হয়নি।
বুড়ী এসব কিছুই নীরবে লক্ষ্য করলেও কিছুই বললেন না। তবে একবার কেবল কটাক্ষমুলক একটা কৌতুকের জবাবে খুব নরম কন্ঠেই মুখ খুললেন, বললেন ‘বাবা, তোমরা জানো, আমি একজন ভিখারীনি মাত্র। আমার কোন সাধ্য নেই তোমাদের সাথে পাল্লা দিয়ে ইউসুফকে কেনার। তোমরাই কেবল নও, আমিও তা জানি। তার পরেও পয়সাটা নিয়ে তোমদের পাশে দাঁড়িয়েছি ইউসুফকে কেনার জন্য, কিনে তাঁকে মুক্ত করে দেবার জন্য!
জানি, তাঁকে কেনার সামর্থ আমার নাই। অর্থও নাই। কিন্তু কাল কেয়ামতের মাঠে আল্লাহর সামনে যখন দাঁড়াবো, তখন অন্তত একথাটা আল্লাহকে বলতে পারব, ‘হে আল্লাহ, হে মা’বুদ, আমার তেমন কোন সামর্থ ছিলনা তুমি জানো, তবে যেটুকু সামর্থই আমাকে দিয়েছিলে, সেটুকুকেই সম্বল করে তোমার ইউসুফকে মুক্ত করতে দাঁড়িয়েছিলাম। হে আল্লাহ, ইউসুফ’কে যাঁরা মুক্ত, স্বাধীন করতে তৎপর ছিল, আমিও তাঁদেরই একজন ছিলাম, হে আল্লাহ, আজ তুমি আমাকে সেই প্রচেষ্টার কারণেই ক্ষমা করে দাও প্রভূ’
পর পর তিনটা ঘটনা তুলে দিলাম। কুরআন থেকে, ইতিহাস থেকে। সত্য ও সুন্দরের পক্ষে একজন মানুষের ভূমিকা কি হওয়া দরকার, তা বোঝা যায় এইসব ঘটনা থেকে। পক্ষ, বিপক্ষ, আর নিরপেক্ষতা নিয়ে যারা নিত্যই সমস্যায় ভোগেন, যাঁরা সবকিছুতেই তথাকথিত ‘নিরপেক্ষতা’ নামক শয়তানের অব্যর্থ বর্মের আড়ালে লুকিয়ে নিজেদের নিষ্পৃহতার, নিস্কৃয়তার অনুকুলে যুক্তি খোঁজেন, পরিতৃপ্ত থাকেন, তাদের জন্য নিশ্চিতভাবেই একটা শিক্ষনীয় ম্যসেজ আছে ঘটনাগুলোর মধ্যে। কেউ কেউ সম্ভবত এ উদাহারণ থেকে শিক্ষা নিতেও পারেন, সেই আশায়।
ইসলামের দৃষ্টিতে একজন নাগরিকের নাগরিক দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম সমাজের নাগরিকদের উপরে বাড়তি কোন দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়না। যে সমাজে সে বাস করবে, সেই সমাজে সে নিজেতো কোন অনাচার সৃষ্টি করবেই না, বরং পাশাপাশি অন্য কেউ কোন ধরণের অনাচার সৃষ্টি করতে পারে, এমন যে কোন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সে রুখে দাঁড়াবে। ঐক্যবদ্ধ, সংঘবদ্ধ প্রয়াস অব্যাহত রাখবে। এখানে সে নিজেকের ‘নিরপেক্ষতা’ নামক নিস্কৃয়তার আড়ালে লকিয়ে রাখবেন।
এটা আসলেই একটা স্বাভাবিক, স্বতস্বিদ্ধ, মানবিক ধারণার বিষয়। যে কোন স্বাভাবিক বিচারেই একে যুক্তিযুক্ত মনে হতে বাধ্য। এই জন্যই বোধ করি মহান আল্লাহ পাক আল কুরআনে ফেতনা-ফাসাদ, সামাজিক অনাচার সৃষ্টি করাটাকে হত্যার চেয়েও গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
যাহোক, আজকের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি কেউ উক্ত তিনটা ঘটনা থেকে তাঁর ভূমিকা কি হওয়া উচিৎ? সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চান, তবে বোধ করি খুব একটা গবেষনা করতে হবেনা সেজন্য। কথায় বলে ‘আক্কেলমন্দ কি লিয়ে ইশারাই ক্বাফী! সে কথা বুঝেছিলেন প্রাচীন যুগের এক ছুতার হাবিব নাজ্জার, কপর্দকশুন্য এক বূড়ী। তা হলে আমাদের আজকের আলোকিত সমাজের রথী, মহারথীরা কেন তা বুঝবেন না?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


