somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিচার নিয়ে অবিচার: আর কতদিন?

০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে সরে এসেছেন। এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার কাজ শুরু করেছেন। এতে কে কি ভাবছেন জানিনা, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি খূশী। জানি আমার ব্যক্তিগত খূশী, অখূশীতে কারো কিছুই যায় আসেনা। তার পরেও আমি খূশী। খূশী এই কারণে যে, মানবতার বিরুদ্ধে যে কোন অপরাধের বিচার হওয়া উচিৎ, তা অপরাধী যেই হোকনা কেন।
স্বাধীনতার পর পরই রাজাকর, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে সরকার তোড় জোড় শুরু করে। বিচার এর জন্য উঠে পড়ে লাগে। কিন্তু দুর্ভাগ্য জনকভাবে হলেও সত্য যে, বাংলার মাটিতে পাকিস্থানী সৈন্যরা যে বর্বরতা চালিয়েছে, তার কোন বিচারই সরকার করতে পারেনি। অবশ্য, না পারার পেছনে ছিল আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির বিষয়, আর সেই সাথে তৎকালীন আওয়ামি সরকারের কুটনৈতিক ব্যর্থতা। বিষয়টি নিয়ে এর আগের লেখায় তথ্য, প্রমানসহ কিছু কথা লিখেছি।
যাহোক পাকিস্থানী সৈনদের দোসরদের বিচার সরকার সে সময়ে করেছেন। ১৯৭২ সালে সংসদে আঈন পাশ করিয়ে এই নিয়ে তদন্ত ও বিচার কার্য সমাধা করা হয়। কয়েক হাজার লোককে জেল জরিমানা করা হয়। কিন্তু সেই বিচার নিয়েও হয়েছে অবিচার। হয়েছে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
আজ যাঁরা জীবনের মধ্যভাগে এসে দাঁড়িয়েছেন, এবং ঐ সময়ে বাংলাদেশেই ছিলেন, তাঁরা খুব ভালো করেই জানেন যে, ঐ সময়ে কি ধরণের অবিচার করা হয়েছিল বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে। আওয়ামি লীগের নেতা, কর্মীরা সেই সময়ে অনেক নীরিহ লোককেও কেবলমাত্র ব্যক্তিগত, সামাজিক, জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণে শত্র“তাবশত ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী’ হিসেবে, ‘পিিকস্থানি আর্মির সহায়তাকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে পুলিশকে নির্দেশ (!) দিয়েছিল গ্রেফতার করার জন্য।
আর সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশও সেইদিন বিনা বিবেচনায় তাদের গ্রফতার করেছিল। এতে আওয়ামি এমপি, নেতা, কর্মী’সহ পুলিশের বানিজ্যও সেদিন আমরা নিজ চোখেই দেখেছি। সরকার এক লাখের বেশী লোককে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী বা পাকিস্থানী আর্মির সহায়তাকারী রাজাকার হিসেবে ধরে নিয়ে গ্রেফতার করলেও মাত্র হাজার তিনেকের কিছু বেশী লোককে আদালতে তোলা হয়, যাদের মধ্যে মাত্র ৭৫২ জনের শাস্তি হয়।
তা হলে এ কথা প্রমানিত হলো যে, লক্ষাধিক লোককে সে সময়ে বিনা কারণে, কেবলমাত্র বানিজ্য করার জন্যই ধরা হয়েছিল। এদের কাছ থেকে তখন কেবল ঘূঁষ সহ বিভিন্ন সুবিধাই আদায় করা হয়নি, বরং এদের চাকুরি, ব্যবসা বানিজ্য, সহ পারিবারিক ও সামাজিক জীবনও ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। এদের অনেকেই আর জীবনেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
নি:সন্দেহে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এটা। এরও বিচার হওয়া দরকার। কারা সে সময়ে ক্ষমতাসীন সরকার তথা বঙ্গবন্ধু’র ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন করে, লাখো লোকের জীবন পরিবার ধ্বংস করে নিজেদের বৈষয়িক সুবাধা আদায় করেছিল? দেখা দরকার বটে!
মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের কথা বললে বলতেই হয়, স্বাধীনতার পর থেকে শুরু করে ’৭৫ পর্যন্ত পুরো সময়কালই সেটা চলেছিল লাগামহীন। ধরণ ছিল এক এক সময় এক এক রকমের। দু’একটা উদাহারণ দিলে সেটা ষ্পষ্ট হয়ে যাবে।
১৯৭১ সালে আওয়ামি লীগের অনেক নেতা কর্মীই বিহারীদের ধরে ধরে হত্যা, ধর্ষন করেছে। তাদের বাড়ী-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করেছে, ষ্টেডিয়ামের উন্মুক্ত ময়দানে হাজার হাজার মানুষের সামনেই তাদের খূঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে বেয়নেটের আঘাতে। প্রখ্যাত ইতালিয়ান মহিলা ওরিয়ানা ফালাচি’র মত বিদেশি সাংবাদিকরা নিজেদের চোখে দেখেছেন। তিনি তার এই ঘটনাটিকে দি ইন্টারভিউ উইথ দ্যা হিষ্ট্রি’ নামক বিখ্যাত বইতেও অন্তর্ভূক্ত করেছেন।
বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাৎকার গ্রহনের সময় ওরিয়ানা ফালাচি তাঁর কাছে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তখনকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ পত্রে ঢাকা ষ্টেডিয়ামে হাজার হাজার লোকের সামনে বিনা বিচারে প্রকাশ্য দিবালোকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করার খবর প্রচারিত হয়েছিল। সেই হত্যাকান্ডের ছবি যেখানে সেখানে দেখতে পাওয়া যায়। (এ নিবন্ধকারের কাছেও রয়েছে, চাইলেই দিতে পারি) বঙ্গবন্ধু কাছে খবর পৌছে দেয়া হলেও তিনি কোন বিচার করেন নি। সেই অপরাধটা কি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ছিল? তাদের কোন বিচার কি সরকার করবে?
আহমেদ মুসা তাঁর ‘ইতিহাসের কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগ’ নামক বইতে বলেছেন ‘আওয়ামী শাসনামলে যেসব প্রকাশ্য ও গোপন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ সরকার ও তার নীিিতর বিরোধিতা করেছে, সেসব দলের মতে, সে আমলে ২৫ হাজার ভিন্ন মতাবলম্বীকে হত্যা করেছে আওয়ামি লীগ। এ হতভাগাদের হত্যা করা হয়েছে চরম নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতার মধ্য দিয়ে-যে নৃশংসতা অনেক ক্ষেত্রে পাকিস্থানী সৈন্যদেরও ছাড়িয়ে গেছে। খুন, সন্ত্রাস, নির্যাতন, হয়রানী নারী ধর্ষণ, লুণ্ঠন কোন কিছুই বাদ রাখা হয়নি।’
১৯৭২ সালের ২রা জুন সংখ্যায় সাপ্তাহিক হক কথা’ খবর ছাপে ‘ ঢাকা জেলার (বর্তমানে নরসিংদি) মনোহরদী থানার পাটুলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত শত্র“তা সাধনের উদ্দেশ্যে জনৈক মুক্তিযোদ্ধাকে জীবন্ত কবর দিয়েছে! এই অপরাধে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করিয়া আদালতে চালান দিলে জনৈক এমসিএ হস্তক্ষেপ করিয়া নরঘাতকটিকে মুক্ত করিয়োছেন।”
আওয়ামী লীগ দলীয় ঘাতকদের নির্মমতার বর্ণনা’র আরও একটি ঘটনা তুলে ধরেছেন জনাব আহমদ মুসা তাঁর ‘ইতিহাসের কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগ’ বইতে, নির্যাতিত ব্যক্তি বাজিতপুরের ইকুরটিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আলীর নিজের ভাঁষায়, এভাবে;
‘--- আমাকে (আব্দুল আলী) ও আমার ছেলে রশিদকে হাত-পা বেঁধে তারা খুব মারলো। রশিদকে আমার চোখেৎর সামনে গুলী করল, ঢলে পড়ল বাপ আমার। একাট কসাই আমার হাতে কুঠার দিয়ে বলল, তোর নিজের হাতে ছেলের গলা কেটে দে, ফুটবল খেলব তার মাথা দিয়ে। আমার মুখে রা নেই। না দিলে বলল, তোরও রেহাই নেই। কিন্তু আমি কি তা পারি? আমি যে বাপ! একটানা দু ঘন্টা মারার পর আমার বুকে ও পিঠে বন্দুক ধরল। শেষে নিজের হাতে কেটে দিলাম ছেলের মাথা। আল্লাহ কি সহ্য করবে?’ (সুত্র: উক্ত গ্রন্থের ভূমিকা দ্রষ্টব্য)
সেসময়ে বামপন্থীদের ধরে ধরে হত্যা করার কারণ বলতে গিয়ে হক কথা লিখেছিল ‘একটা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা বিশেষ পোগ্রামে এ দেশে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের হিসেব হলো, বাংলাদেশে সোয়া লক্ষ বামপন্থীকে হত্যা করতে হবে। তা না হলে শোষনের হাতিয়ার মজবুত করা যাবেনা।( সুত্র: সাপ্তাহিক হক কথা, ২৬শে মে, ১৯৭২ সংখ্যা)’
‘মুজিববাদীদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ঠ হলো সন্ত্রাসের রাজনীতি, প্রকাশ্য হত্যা, গুপ্ত হত্যা, গুন্ডামি, টগেুলো ছিল খুবই সাধারণ ব্যাপার। রক্ষঅ বাহিনীর ক্যম্পগুলো ছিল হত্যাযজ্ঞের আখড়া। যশোহরের কালীগঞ্জ থেকে রক্ষীবাহিনীর ক্যম্প উঠে গেলে গনকবর আবি®কৃত হয়- সেখানে ৬০টি কঙ্কাল পাওয়া যায়। টঙ্গি থানার সামনে মেশিনগান স্থাপন করে শ্রমিক কলোনীর ্উপরে নির্বিচারে গুলী চালানো হলো শতাধিক নিহত হলেন। হাজার হাজার শ্রমিক বিশ মাইল হেঁটে ঢাকায় চলে আসতে বাধ্য হল এবং তারা তিন দিন তিন রাত পল্টন ময়দেিনর উন্মুক্ত আকাশের নীচে অবস্থান করতে বাধ্য হল’। (বাম রাজনীতির সংকট ও সমস্যা- হায়দার আকরব খাঁন রনো)
সেসময়ে জনগনের কাছে সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল এই রক্ষীবাহিনী। হানাদার পাকিস্থানী বাহিনীর বর্বরতাকেও হার মানিয়েছিল এদের সন্ত্রাস আর অত্যাচার। রক্ষীবাহিনীর প্রতিটি কর্মকান্ডই ছিল মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। অথচ তার কোন বিচার না করে, লক্ষ লক্ষ অভিযোগের কোন তদন্ত পর্যন্ত না করেই শেখ মুজিব সরকাার আঈন করে তাদের সকল অপরাধকে রাষ্ট্রিয় ইনডেমনিটি দিয়ে দেন। বেঁচে যায় এই বাহিনীর পরিচালকরা, কর্মকর্তারা ।
আজও তাদের অনেকেই কেবল বেঁচেই আছে তাই নয়, তারা এখনও বড় গলায় জাতিয় রাজনীতির মাঠ গরম করে রেখেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় তারা! এমনকি নির্মম পরিহাসের বিষয় হলো, তারা ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে’র বিচার চেয়ে জোর গলায় বাজার মাতাচ্ছে। অথচ নিজেরাই করেছে মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধ। যার কোন বিচারই হয়নি। তদন্তটুকুও নয়!
মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দু একটা নমুনা তুলে দিলাম। ‘রক্ষীবাহিনী এসে বিপ্লবকে খূব মার ধর করলো . . . খুব মেরে বিপ্লবের মা ও বাবাকে ডাকিয়ে আনল। তারপর বিপ্লবকে বলল ‘কলেমা পড়’। বাধ্য হয়ে বিপ্লব হিন্দু হয়েও কলেমা পড়ল। এর পর বলল, ‘সেজদা দাও পশ্চিমমুখী হয়ে’ ভয়ে বিপ্লব তাই করল, সেজদা দিল। পেছন থেকে বয়নেট চার্জ করে বাবা মা ও অনেক লোকের সামনে হত্যা করল তাকে। বেয়নেট চার্জ করার সময় একজন বলল‘ মুসলমান হয়েছো, এবার বেহেশত চলে যাও’
নৃশংসতার আরও ইতিহাস শুনবেন? গা এর লোম খাড়া হয়ে যাবে! ‘পঁচাত্তরের প্রথম দিকে মোহর আলীকে ধরেছিল পুলিশ। শিবচর থেকে তােেক নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তার শরীরের চামড়া খুলে লবন মাখিয়ে তাকে হত্যা করা হয় এবং তার লাশ ডামুড্যা বাজারে টানিয়ে রাখা হয়েছিল কয়েকদিন!
একইরকম নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল হতভাগা সিরাজ সরদারকেও। প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন সিরাজকে যে নৌকায় করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেই মাঝি নিজেই। তাঁর বর্ণনা মতে ‘ প্রথমে তারা সিরাজ সর্দারের হাতের কব্জি কাটল, তার পর পা ও অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কেটে এবং সারা শরীরের মাংশ কেটে টুকরো টুকরো করে নদীতে ফেলে দিল’ (বাম আন্দোলনের নেতা শান্তি সেন এর বর্ণনা)
এই শান্তি সেনে স্ত্রীকেও ধরে নিয়ে গিয়ে অকথ্য নির্যাতন করা হয়। সে বর্ণনা আরও বিস্তারিত, আরও বিভৎসতায় ভরপুর। সে কথা এখানে আলোচনা না করাই ভালো। তবে এ কথাটা বলে রাখি, শান্তি সেনের স্ত্রী তাঁর ও তাঁর সতীর্থদের প্রতি এই বিভৎস অত্যাচার কারা করেছে? কারা তার সামনেই গ্রামবাসীকে ধরে নির্যাতন করে করে হত্যা করেছে? তাদের পরিচয় দিয়েছেন অকপটে, তিনি তাদের চিনতেনও।
তাঁর মুখ থেকেই জানা যায়, মানবতার বিরুদ্ধে এই জঘন্য অপরাধ করেছিল ডামুড্যার তৎকালীন আওয়ামি লীগ সেক্রেটারি ফজলু মিঞা ও ভেদরগঞ্জের সেক্রেটারি হোসেন খাঁ। তাদের সাথে আরও ছিল, ডামুড্যা ক্যম্পের কমান্ডার করম আলী এবং ভেদরগঞ্জ ক্যম্পের কমান্ডার ফজলুর রহমান।
১৯৭২ সালের ১লা ফেব্র“য়ারী রক্ষীবাহিনী গঠিত হয়। গঠনের পর থেকেই এই রক্ষীবাহিনী সরকার প্রধানের সরাসরি নিয়ন্ত্রনে থেকে কাজ করেছে। রক্ষীবাহিনী গঠন করা নিয়ে বলতে গিয়ে প্রখ্যাত সাংবাদিক, জাঁদরেল কুটনীতিবিদ ও এক সময়ে চীন এ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব এনায়েতুল্লাহ খাঁন লিখেছেন;
‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত এই এলিট ফোর্স সৃষ্টির ইতিহাস আরও বিচিত্র। মুজিবাহিনীর নেতৃবৃন্দের পরিকল্পনা অনুযায়ি শেখ মুজিবর রহমারেন স্বহস্ত পত্রের উপরে ভিত্তি করে এবং তারই উত্তরাধিকারের নেতৃত্বে এই রাজনৈতিক বাহিনী গঠন করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, দেরাদূনে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত এই বিশেষ প্রতিবিপ্লবী সংগঠন জেনারেল ওসমানী পরিচালিত মুক্তিবাহিনী, এমনকি তাজউদ্দীনের নিয়ন্ত্রনেও ছিলনা। জনৈক ভারতীয় জেনারেল ওবান এর প্রত্যক্ষ পরিচালনায় এর সাংগঠনিক কাঠামো এবং এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত একথাই নি:সন্দেহে প্রমান করে যে, জাতিয় মুক্তির আন্দোলনের সাথে এই বাহিনীর মৌলিক বিরোধ ছিল।’
কারা এই রক্ষীবাহিনী? এরা পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী নয়্। এরাতো আমাদের দেশেরই লোক। আজও এদের অনেকেই বেঁচে আছে, সে কথা আগেই বলেছি। এদের অনেকেই জাতিয় রাজনীতির পুরোধাব্যক্তি, তাও জানে দেশবাসী। সরকারের নাকের ডগাতেই বসে আছে। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে এক একজন দাগী অপরাধী।
সরকার কি তাদের বিচার করবে? নাকি বিচারর নামে অবিচারের মহোৎসব। মানবতা নিয়ে উপহাস। ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার’ এর নামে মানবতার বিরুদ্ধে আরও একটা অপরাধ! বিচার নিয়ে অবিচারের এ ধারা আর কতদিন চলবে? জাতি অপেক্ষায় রইল তা দেখার।




৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×