somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেবলমাত্র ইসলামের বিজয় প্রত্যাশীদের জন্য এ লেখা--

১৩ ই নভেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিশ্বটা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। সভ্যতার মৌলিক ভিত্তিমূলে পরিবর্তন ঘটছে। গত পাঁচ শতাধিক বৎসর যে সভ্যতা বিশ্বকে শাসন করেছে, সেই ‘পশ্চিমা সভ্যতা’ বা ‘ওয়েস্ট’ মোট তিনটা বিষয়, Renaissance, Reformation এবং Revolution কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেছে। মোটামুটি ১৫০০ খৃষ্টাব্দ থেকে এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ। আর কতদিন চলবে? প্রশ্ন সেটাই।
জ্ঞানের ক্ষেত্রে যে রেনেঁসার সূচনা হয়েছিল, বিজ্ঞান তাকে একটা শক্তিশালী গতিময়তা দিয়েছে। ফলে জ্ঞান আর বিজ্ঞানের যৌথ সম্মিলনে সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে ধারণাতীত পরিবর্তন হয়েছে সমাজে।
সে পরিবর্তন থেকে মানুষ কেবল কল্যাণই পায়নি, দূর্ভাগ্যজনকভাবে অকল্যাণও পেয়েছে। এজন্য দায়ীও সে নিজেই। নিজেদের দোষ ঢাঁকতে এটাকে কেউ কেউ ‘বিজ্ঞানের অভিশাপ’ বলে চালিয়ে দেবার ব্যর্থ প্রয়াস করেন!
জ্ঞান আর বিজ্ঞানের সম্মিলনে অভাবনীয় প্রগতির পাশাপাশি এক্ষেত্রে মৌলিক বিপর্যয়ও ঘটে। তার মধ্যে প্রধান দ’ুটি হলো এক: নাস্তিক্যবাদ ও দুই: বিবর্তনবাদ। এই মৌলিক বিপর্যয় থেকেই শুরু ’যুক্তিবাদ’ ‘ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ’ ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ’ ‘কমিউনিজম’ ‘জাতিয়তাবাদ’ ‘বস্তুবাদ’ তথাকথিত ‘নারীস্বাধীনতা’র চেতনা। এবং একেবারে হাল আমলের ‘সাম্যবাদ’ এসব ধারণা।
তথাকথিত ‘সাম্যবাদ’ জন্ম দিয়েছে ফরাসি বিপ্লবের। এমনকি বলশেভিক বিপ্লব’ও। এ দু’টি বিপ্লব গোটা বিশ্বকে পাল্টে দিয়েছে। এরকম আরও ‘বিপ্লব’ আছে! যুগ যুগ ধরে কেবল ‘বিপ্লব’ই ঘটেছে। এখনও ঘটছে। আজ ঘটছে ‘আরব ‘বিপ্লব’। ‘আরব রেভূলিউশন’
এইসব Revolution কে ভিত্তি করে বিশ্বে ক্রমাগত Reformation ঘটছে কয়েক শতাব্দি ধরে। তথাকথিত এই ‘Reformationই কাল হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মুসলিম বিশ্ব। আর বৃহত্তর অর্থে, শোচনীয় পরিণতির মুখোমূখি পূরো বিশ্ব।
মুসলিম বিশ্বের এ পরিণতির আগে থেকেই ধীরে ধীরে ‘ইউরোপ’র উৎপত্তি। কিছু বিচ্ছিন্ন, ক্ষুদ্র ও পরষ্পর বৈরী সামন্তরাজ্যব্যাপি ক্রমেই একটি আদর্শিক চেতনার ভিত্তিতে গণমানসে একটা ঐক্য তৈরী হতে থাকে। আদর্শটি ‘খৃশ্চিয়ানিটি’ বা ‘খৃষ্টবাদ’।
আন্দালুসীয় মুসলিম শাসনের পতনধারার পাশাপাশি উঠে আসতে থাকে একটি Renaissance, ‘ইউরোপীয় রেনেসা’। এ রেনেঁসার মৌলিক উপাদান ‘বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষতা’ সেটি ইউরোপ পেয়েছে মুসলিম বিশ্ব থেকে, মুসলিম বিশ্বের বাগদাদ, দামেস্ক আর আন্দালুস থেকে।
১০৯৫ থেকে দু’টি শতাব্দীর রক্তক্ষয়ী ক্রুসেডের ধারাবাহিকতায় ইউরোপের সামনে জ্ঞান বিজ্ঞানের দূয়ার খুলে যায়। আব্বাসীয়, উমাইয়া এবং ফাতেমী খলীফারা যখন ভোগ বিলাসে এবং ক্ষমতার দ্বন্দে, হানাহানীতে মগ্ন, ঠিক তখনই ধীরে ধীরে ইউরোপে ঘটে চলেছে ইউরোপীয় রেনেসা।
খৃষ্টধর্ম বিশ্বাসই মূলত এই ভূখন্ডে বসবাসরত পরষ্পর বিচ্ছিন্ন, বৈরী ও বিরুদ্ধভাবাপন্ন বিরাট জনগোষ্ঠিকে একটি বৃহত্তর ঐক্যের বলয়ে আনে। এই ঐক্যই কালক্রমে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটায়। এটাকেই বলেছি Reformation, সপ্তম শতাব্দী থেকে এর শুরু।
খৃষ্টবাদী সন্যাসীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে পূরো ইউরোপে সৃষ্ট সাং®কৃতিক আবহটি ছিল নিরেট খৃষ্টবাদী এর মূল চাবিকাঠি ছিল খৃষ্টিয় সন্যাসীদের হাতে। একজন ইউরোপিয়ান গবেষকের কথায়;
For a thousand years monasticism was to loom large in the cultural history of Europe; at times it dominated it. It is virtually impossible to imagine European culture without the monks. (THE TRIUMPH OF THE WEST. J Roberts. pp85)
পূর্ব ইউরোপে রোমকে কেন্দ্র করে খৃষ্টবাদ বিস্তৃতির প্রয়াসে যখন লিপ্ত, ঠিক তখন ইসলামের আবির্ভাব। ইসলাম আরব, আফ্রিকা ও এশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হবার কয়েকশত বৎসর পরে মুসলিম জগতের জ্ঞান-বিজ্ঞানের ঢেউ আন্দালুসিয়ায় মুসলিম সমাজের হাত ধরে আসে ইউরোপের হাতে। সেই একই মনীষির কথায়;
By the end of seventh century, Roman Christianity was the dominant form in western Europe and its great achievement in the Dark Ages would be to make a whole new world which was Christian throughout from the debris of the classical past and the cultural gifts brought by the barbarians. (THE TRIUMPH OF THE WEST. J Roberts. pp85)
সাদামাটা কথায়, ইউরোপিয়ান সভ্যতা ইসলামি জ্ঞান আর বিজ্ঞানের পরিমার্জিত রুপকে ধারন করেই গড়ে উঠেছে। সেই স্বীকৃতিই লেখক দিচ্ছেন এখানে। এভাবেই সমাজে Reformation হচ্ছে। ক’বৎসর আগে কমিউনিজিমের মৃত্যু দেখলাম। আরব জাতীয়তাবাদের মৃত্যুও দেখেছি জামাল আব্দুন নাসের, হাফেজ আল আসাদ, সাদ্দাম হোসেন গংদের শোচনীয় পরিণতিতে। আজ গ্রীস, ইটালি, আয়ারল্যন্ড, পর্তূগাল, আমেরিকা, ব্রিটেন, বলা চলে পূরো পশ্চিমা বিশ্বে দেখছি পূঁজিবাদের মৃত্যু ঘন্টাও!
বিশ্বব্যাপি ইসলাম বিদ্বেষী সংস্কৃতিক বলয় প্রস্তুতকারী সরকার ও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো (আইএম এফ, ইউনিসেফ, জাতিসংঘ ইত্যাদি) যে ব্যর্থ, তা বোঝা যায় খোদ ইউরোপসহ সারা বিশ্বজুড়ে অকল্পনীয় গতিতে ইসলামি পূনর্জাগরণ দেখে।
প্রশ্ন হলো, আজ যে বিশ্বরাজনীতিতে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, এর শেষটা কেমন হবে? কি হবে? কারা শেষপর্যন্ত এই পরিবর্তনের ফসলটাকে ঘরে তুলবে? আর একটু ভেঙ্গে বলি। যে দ্রুততার সাথে বিশ্বপরিস্থিতি পাল্টা”্ছ,ে তা উপলব্ধী করতে, নিজেদের অনূকুলে নিতে ইসলাামি আন্দোলনের নেতা কর্মীরা কি আদৌ প্রস্তুত? আদৌ সচেতন?
ইসলামের বিজয় দেখতে প্রত্যাশীদের সামনে ভাবনার কিছু মৌলিক সুত্র তুলে ধরতেই এই লেখা। কারো মনে যদি বিন্দুমাত্রও চিন্তার খোরাক জাগে, তবেই এ নিবন্ধের সার্থকতা। (সংক্ষেপিত)

পূরোটা পড়তে ক্লিক করুন,সোমবার থেকে: http://www.eurobangla.co.uk/

১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আমি ক্রিকেটার বলে বেঁচে গেলাম” — নাঈম হাসানের কান্না এবং সাধারণ মানুষের প্রশ্ন

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ১৩ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:১৯

একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার মাঝরাতে বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফিরছিলেন। জাতীয় দলের জার্সি পরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন, অসংখ্য মানুষ তাকে চেনে। অথচ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে নিজের পরিচয় প্রমাণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্রাজিলের ম্যাচগুলো কবে কখন কোথায় এবং কার সঙ্গে?

লিখেছেন শিমুল মামুন, ১৩ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:১৪


একনজরে ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের ফিক্সচার (Brazils Group Stage Fixtures at a Glance)
প্রথম ম্যাচ (প্রতিপক্ষ মরক্কো): ১৪ জুন ২০২৬। বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাগরিকের অপমান ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সংকট: ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ঘটনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০

নাগরিকের অপমান ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সংকট: ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ঘটনা

ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ছবিটি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×