ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত, ব্যক্তিজীবনে ইসলামি আদর্শকে নিষ্ঠার সাথে ধারন করতে সচেষ্ট কোন ব্যক্তি যদি রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হন, তিনি যদি কোন রাজনৈতিক দল গঠন করেন, বা কোন প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের কর্মী হন, তা হলে যে কথাটা তাঁকে শুনতে হবে তা হলো, তিনি ‘ধর্ম নিয়ে রাজনীতি’ করতে এসেছেন। তিনি ‘মৌলবাদী’। এরকম শত বিশেষণ। ভাবখানা, তিনি রাজনীতিতে এসে বিরাট অন্যায় করে ফেলেছেন।
ডাকাতের ছুরি নিয়ে যদি কোন ডাক্তার অপারেশন টেবিলে আসেন, তখন কিন্তু কেউ বলেন না, ডাক্তার মশাই ‘ডাকাতি’ করতে এসেছেন। বা একজন ডাকাত যদি ডাক্তারের সার্জিক্যাল বে¬ড কারো গলায় ধরে ডাকাতি করে, তখনও কিন্তু কেউ বলবে না যে, ডাকাত ব্যাটা ‘অপারেশন’ করছে!
আসল কথা, ধর্মীয় শিক্ষা ও অনুশাসন মেনে যদি কেউ রাজনীতি করেন, তা হলে তাঁর পক্ষে রাজনীতির প্রতিপক্ষ হিসেবে লোকমান হত্যা, বা ভোট ডাকাতি করতে শামিম ওসমান হওয়া, কিংবা আন্দোলনকে বেগবাণ করতে যাত্রীভর্তি বাসে গান পাওডার দিয়ে মানুষকে জলন্ত পুড়িয়ে মারা সম্ভব নয়। কারণ, ইসলাম এসবের জন্য কঠোর শাস্তি ও পরিণতির কথা তাকে জানিয়ে রেখেছে।
আর একটা কথা, যারা ইসলামি অনুশাসন মেনে চলার চেষ্টা করেন, তারা সাধারণত মানুষ হিসেবে ভাল হন। মেধা আর মননেও তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চৌকষ। (একেবারে হাল আমলে নিশ্চয়ই জাফর গংরা শাবিতে এর প্রমাণ পেয়েছেন) তারা যদি রাজনীতিতে না আসেন, তা হলে এ মাঠটিতে অযোগ্য, মূর্খ, সন্ত্রাসীরা জেঁকে বসবে, এটাই স্বাভাবিক।
অধিকতর যোগ্যতাসম্পন্ন ইসলামপন্থীরা কেন তাদের চেয়ে মূর্খ ও অযোগ্যদের দ্বারা শাসিত হবেন? যোগ্যরা যদি রাজনীতির মাঠে না নামেন, তা হলে দেশের কি পরিস্থিতি হয়, তা প্রায় আড়াই হাজার বৎসর আগে প্লে¬টো বলে গেছেন এভাবে "One of the penalties of not participating in politics is that you will be governed by your inferiors."
তবে সর্বাবস্থায়ই ভোটের সময়, বা রাজনীতির মাঠে ইসলামী আবেগ ও জজবাকে ভোটারদের মন জয়ে ব্যবহার, যেমন মোনাজাতরত ছবি টানিয়ে ভোট প্রার্থনা, হাতে তসবিহ, মাথায় হিজাবওয়ালা ছবি ছড়িয়ে দেয়া, এগুলো অন্যায়, নিন্দনীয়, তা যিনিই করুন না কেন, এটাই হলো ধর্ম নিয়ে রাজনীতির নমূনা। আশা করি ইসলামপন্থীদের রাজনীতিতে আগমণ নিয়ে যাদের এলার্জি আছে, তারা বিষয়টি বুঝতে পারবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


