এখনো নাম রাখা হয়নি। ছেলেটির বয়স আজ চার দিন। জীবনের তৃতীয় রাতটি তার কেটেছে একটা ভ্যান গাড়িতে, নাঙ্গা আকাশের নিচে। পরনে একটুকরো ধবধবে সাদা কাপড়, সেলাই ছাড়া। আমরার বুকটা ওই কাঁপড় দেখে আঁতকে উঠি। জীবনের চতুর্থ সকালে খিচুরি খাচ্ছে সে। কাঙালি ভোজের খিচুরি। একসঙ্গে হাজার খানেক মানুষের জন্য খিচুরি পাকানো হয়েছে। ওর খাওয়া দেখেই মনে হচ্ছিল অসম্ভব স্বাদের হয়েছে গো।
ওর আজ এই গন-খিচুরি খাওয়ার কথা ছিলো না। পঞ্চগড় থেকে আসা ওর কিশোরি মা আর ভ্যানচালক বাবার প্রথম সন্তান সে। বলাবাহুল্য আদুরে ওই ছেলে। নিজে খাক বা না খাক শিশু সন্তানের জন্য বিদেশি ব্র্যান্ডের দুধ নিয়ে এসেছিল বাবা। মায়ের বুকে দুধ কম আসছিল বলে, এই তোলা দুধের আল্লাদি আয়োজন। সন্তান তো। সবারই স্বপ্ন থাকে এই সময় আর মানুষগুলো নিয়ে।
শুধু ওই ভ্যান চালকের পরিবারের না, এখানকার হাজার খানেক মানুষের স্বপ্ন পুড়ে গেছে ৩০ মিনিটে। ঘুমের ঘোরে উঠে দেখতে হয়েছে স্বপ্ন পুড়ার আলোকিত কষ্ট।
সকাল বেলা দেখতে গিয়েছিলাম পুড়ে যাওয়া বাঁশবাড়ি। সব পুরে ছাই। আমি এতোদিন জানতামইনা পুরো বস্তিটি আসলে কোমর সমান পানির উপর টং এর মতো দাড়িয়ে থাকতো। গিয়ে দেখলাম সবাই তাদের স্বাদের ঘরের পুরে যাওয়া টিন বেচতেছে কেজি হিসাবে। যে ব্যাটা কিনছে সে বেশ প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। লোহালক্কর মাপার বড় যন্ত্র, ছোট ট্রাক এমনকি টাকা রাখার ক্যাশ বাক্সও নিয়ে এসেছে সে। ওর কাজের গতি আর টাকা গুনা দেখেই বুঝা যাচ্ছিল ব্যাপক ব্যবসা হচ্ছে আজ, আরও হবে। হাজারো মানুষের পুরা সুখ কিনে নিচ্ছে সস্তা দুখের দামে।
এটাই নিয়তি, জীবন এমনই।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



