somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাষার মানচিত্র নাকি মানচিত্রের ভাষা; দুনিয়াব্যাপি কথ্য ও লেখ্য ভাষার রুপ কেন ভিন্ন হয়! [সোহেল হাসান গালিব এবং এস এম রেজাউল করিম সমীপেষ]

২০ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুরত্বের সৌন্দর্য যারা বোঝেন না, তারা কখনো জানবেন না পৃথিবীর প্রতিটি ভাষাতেই কেন কথ্য আর লেখ্য ভাষার রুপ ভিন্ন ভিন্ন হয়।


ছবিঃ বৃহত্তর বাংলা ভাষাভাষী

এস এম রেজাউল করিম , আপনার তাবৎ লেখায় (http://arts.bdnews24.com/?p=2794) আমি আবেগপূর্ণ ক্ষোভ আর অহেতুক পান্ডিত্য ছাড়া কোনো যুক্তি খূজে পেলাম না।ক্ষমা করবেন।সর্ব প্রথমে- যে ভাষায় লিখেছেন, দয়া করে বলবেন কি বাংলাদেশের মানচিত্রে এ ভাষার অবস্থান কোথায়? মানে ঠিক কোন অঞ্চলের ভাষা এটা? ঢাকা? কুমিল্লা? নোয়াখালি? সিলেটী? আমি ঠিক খুজে পাচ্ছি না। যদি এটা কোনো আঞ্চলিক ভাষা না হয়ে আপনি বা কতিপয় আপনাদের সৃষ্ট ভাষা হয়, যা জোরপূর্বক আপনারা বাঙালী জাতির গলাধঃকরন করানোর চেষ্টা করছেন তাহলে জেনে রাখুন এই অপচেষ্টা কোনোদিনও সফল হবার নয়। আর যদি নেহায়তই বলে বসেন যে- না, এটা আমার কথ্য ভাষা তাহলে শুনুন।

গুড় অনেক খাবারকে মিষ্টতা প্রদান করে সাধারনের জিভের স্বাদ বাড়ায় কিন্ত শুধু গুড় খুব কম মানুষেরই পছন্দের, আর এটা ঠিক স্বাস্থকরও না! কথ্যভাষাও তেমনী এই গুড়েরই মতো যূগে যূগে তা সাহিত্যের শোভা বৃদ্ধি করেছে কিন্তু শুধু কথ্যভাষা সাহিত্যের সাথে সাধারনের দুরত্বই তৈরী করে মাত্র!

ভাষা মিশ্রন নিশ্চয়ই হবে, আমরা অন্যান্য ভাষা থেকে শব্দ নিশ্চয়ই নেব, যেমনটা নেব আঞ্চলিক ভাষা থেকেও কিন্তু এর মানে এই নয় RJ দের ভাষার ব্যবহার এর মতো অন্যান্য ভাষা আমার ভাষাকে কুমিরের মতো গিলে খেতে শুরু করবে!

নৃবৈজ্ঞানিক গবেষণা বলে, প্রতি ২২ কিলোমিটার অন্তর অন্তর মানুষের মুখের ভাষা পরিবর্তিত হয়। তাহলে কি প্রতি ২২ কিলোমিটার অন্তর অন্তর ভিন ভিন্ন সাহিত্যগোষ্ঠী গড়ে উঠবে! যদি গড়ে উঠেও ভেবে দেখেছেন তার ব্যাপ্তি বা স্থায়িত্ব কতোটা হবে?

প্রতিযোগীতার ক্ষেত্র যতটা বড় হয়, এর ফলাফলও ততটা মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য হয়।আমার কানাডিয়ান বন্ধু 'ইয়েন'(native English speaker) ইংলেন্ডে যাওয়ার পর এক ইংরেজ তাকে বলছে- "what are you speaking! try to speak some English"(কি বলছো তুমি! ইংরেজী বলার চেষ্টা করো!)।
কিন্তু এর আগে ওরা যখন ই-মেইলে কথা বলছিল লেখ্যভাষায় তখন কিন্তু কেউ কাউকে বুঝতে কোনো সমস্যা ছিল না! একই ভাবে স্কটিশরা পাশাপাশি দেশ হলেও ওদের কথ্য ইংরেজী ইংরেজদের বোধগম্য নয়! সিঙ্গাপুরের কথ্য ইংরেজীর আলাদা নামই হয়ে গেছে 'সিংলিশ'।
কিন্তু কথ্যভাষার স্বাধীনতার পাশাপাশি লেখ্যভাষার ঐক্যর কারনে ইংরেজীর বিস্তার বাড়ছে, কমছে না! পৃথিবীর তাবৎ সেরা সাহিত্যের ৮০ ভাগই রচিত হচ্ছে হয় ইংরেজীতে অথবা ইংরেজীতে অনুবাদের পরই মিলছে সেরার স্বীকৃতি। একবার কি ভেবে দেখেছেন সয়ং রবীন্দ্রনাথকেও কেন নোবেল পুরষ্কার এর জন্য গীতাঞ্জলী ইংরেজীতে অনুবাদ করতে হয়!


ছবিঃ এর ভিতরেও আছে অনেক বিভাজন

মানুষ এখন বিশ্বগ্রাম এর বাসিন্দা, এখানে গর্তবদ্ধ হয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
কুমিল্লা শহর থেকে আমার গ্রামের বাড়ি মাত্র ১২ মাইল পশ্চিমে। অথচ এই ১২ মাইল দুরত্বেই 'যাব-খাব' পরিবর্তিত হয়ে 'যাইতাম-খাইতাম' এবং 'যায়াম-খায়াম' দুটি ভিন্নরুপে আবির্ভুত হয়! এখন আমার গ্রামের ৫ বর্গমাইলের জনগনের দায়িত্ব কে নেবে? সমগ্র বাংলা ভাষাকে অনুবাদ করে 'যাব-খাব' কে 'যায়াম-খায়াম' কে করে দেবে! অথবা এই ৫ বর্গমাইলের ২/৪ জন সাহিত্যিকের 'যায়াম-খায়াম' কে অনুবাদ করে কে সমগ্র বাংলায় পৌছাবে!

আমার কখনোই সিলেট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া হত না, যদি ইংরেজীর IELTS এর মতো কোনো ISLTS দিয়ে আমাকে পড়তে যেতে হতো! আপনি যে কোলকাতার কথা বলছেন, কোলকাতায়ও কিন্তু কথ্য ও লেখ্য রুপ ভিন্ন!


ছবিঃ সিলেটী ভাষা শিখুন।

কথ্যভাষার এক্সপেরিমেন্ট করছেন, করতেই পারেন! তবে, অভাজনের অভিজ্ঞতার কথা শুনুন আমার নোয়াখালির বন্ধু সালাহ উদ্দিন শুভ্র'র নোয়াখালির ভাষায় লেখা গল্প আরেক নোয়াখালির বন্ধু পড়ে আমাকে বললো- ভালো। আমি আগ্রহ নিয়ে পড়তে গিয়েও পড়তে পারিনি, কারন নোয়াখালির ভাষা আমি বুঝি না। অপেক্ষা করছি যদি কোনোদিন ঐ গল্পের বঙ্গানুবাদ হয়!
আপনাদের কথ্যভাষার লেখা আমাকে এড়িয়ে যেতে হয় কারন আপনার আমার কথ্যভাষা ভিন্ন, পড়ে ঠিক বুঝি না বা আরাম পাই না। আর পড়ার আরাম ছাড়া সাহিত্যের রস-আস্বাদন কি করে সম্ভব!

ভাষা 'এমিবা' না। বিভাজনে এর বিকাশ হয় না বরং মৃত্যু হয়।

[আমার নাম কথ্য ভাষায় যেমন 'মামুন' থেকে 'মামুইন্যা', আমি নিশ্চিত আপনার নামও হয় 'রেজাউইল্লা' বা 'করিম্মা'।
আপনার লেখার মতো নামেরও কথ্যরুপ ব্যবহার করলে আপনার লেখার প্রতি আমার শ্রদ্ধা বাড়তো, কমতো না!]

ফেসবুকে এ লেখা দেয়ার পর সোহেল হাসান গালিব কথ্য ভাষার পক্ষে বলতে গিয়ে তার পাঠ্যপুস্তক সীমাবদ্ধ জ্ঞান দিয়ে আবার লিখলেন( Click This Link)। কথ্যভাষায় লেখার পক্ষে পুথিগত বিদ্যা জাহির করার পর সেকুলারিজম নিয়ে বলে বসলেন- "'সেকুলারিজম। এর প্রাণনাথ হলো ইসলাম-বিদ্বেষ মানে মুসলমানী সংস্কৃতির বিরোধিতা। কারণ ৭১-এ ইসলামের ধুয়া ও ধ্বজা তুলেই নরহত্যা সংঘটিত হয়েছে। ফলে এর মর্মমূলে রয়ে গেছে প্যারানয়াক হিন্দু-মনস্তত্ত্ব।"

আপনার উদ্দ্যেশ্যে বলি-

পাঠ্য পুস্তক কাউকে কি পরিমান পাঠা করে তুলতে পারে তা এ লেখা না পড়লে অজানাই থেকে যেত।
ফারুকী-সৃষ্ট(কেউ কেউ বলছেন তার সাথে আরও কিছু সাঙ্গ-পাঙ্গ কেও এই কৃতিত্ব দিতে) ভাষাকে কি করে বাঙালী জাতির ভাষা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে দেখলে দূঃখই হয়।
আমি শতবার প্রশ্ন করেছি কথ্যভাষার লড়াই কারীদের আপনি যে ভাষায় লেখার অপচেষ্টা করছেন তা আসলে ঠিক কোন অঞ্চলের ভাষা? ঢাকা? কুমিল্লা? ময়মনসিংহ? সিলেট? কেউ বলতে পারেন নি!
কারন এ ভাষাটার এখনো গড়েই ওঠেনি, এর শেকড় বাকর নিয়ে টানাটানি পরে গেছে।

আপনারা কথায় কথায় বিদ্যাসাগর-রবীন্দ্রনাথ বেচা কেনা করেন, আমার একটা সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন না, কেন দুনিয়া ব্যাপি কথ্যভাষা-লেখ্যভাষা ভিন্ন হয়? কেন এটা প্রয়োজনীয়? পারেন না কারন এটা আপনাদের পাঠ্য-পুস্তিকাতে ছিল না। একজন কুপমন্ডুক ফ. মা. যে কি হাইব্রীড এটা না জেনেই হাইব্রিডের বিরোধীতা করেন, বাম-মুখোশ পড়ে হাওয়া ভবন থেকে শুরু করে হিজবুত তাহরির পর্যন্ত ঘনিষ্টতা বজায় রাখেন, তিনি আপনাদেরকে একটা শব্দ শিখিয়েছেন 'ভাষা-ফ্যাসিবাদ'।আর সাথে সাথেই আপনারা লম্ফ-জম্ফ শুরু করে দিলেন, ঝাপিয়ে পড়লেন আপনাদের পাঠ্যপুস্তক নিয়ে বাস্তবতা বিচার ছাড়াই।

নাহ আপনাদের জন্য আমার করুনাই হয়। আপনারা এখনো ফ. মা. এর মতো চালাক হয়ে উঠতে পারেন নি, তা না হলে এক শিয়ালের ডাকে হুক্কা হুয়া করে ওঠার আগে একবার নিজ লাভ খতিয়ে দেখতেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ৩:২৩
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×