আমি ঢাকা বিশ্ববদ্যালয়ের ফলিত পদার্থ ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ছাত্র ছিলাম ১৯৯৪-২০০০ সাল পর্যন্ত, থাকতাম শহীদুল্লাহ হলে। প্রাচ্যের অক্সর্ফোড খ্যাত এই শিক্ষাংগনের ছাত্র রাজনীতির আলো-অন্ধকার কিছুটা হলেও প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হয়েছিলো। চট্রগ্রাম কলেজ থেকে এইচ, এস, সি, পাশ করে যখন ঢাবিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাই তখন নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হচ্ছিল। সাক্ষাতকারসহ অন্যান্য আনুস্ঠানিকতা শেষে যেদিন ভর্তি হওয়ার তারিখ পড়ল, সেইদিন থেকে ছিলো টানা কয়েকদিনের হরতাল। ঢাকা শহরে তেমন কোন আপনজনও ছিলনা যে তাদের কারো বাসায় উঠব।
একটা হোটেলে উঠেছিলাম আগের দিন। পরদিন ইউনিভার্সিটিতে এসে দেখি কার্জন হলের সব গেট বন্ধ। অনেক কস্টে শহীদুল্লাহ হলের গেট দিয়ে ঢুকে হলের অফিস রুমে গিয়ে দেখি আমার মত আরো অনেক নবীন ভীড় করছে কিন্তু প্রভোস্ট স্যার নেই। কি করা যায়-হলের মামারা টাকার বিনিময়ে স্যারের বাসা থেকে যাবতীয় কাগজপত্র সই করিয়ে নিয়ে আসার প্রস্তাব দিলেন। আমরাও নিরুপায় হয়ে তাদের প্রস্তাবে রাজী হলাম। এই ভাবে দেশ উদ্ধারের রাজনীতির উপহার হরতাল, স্যারের দায়িত্বে অবহেলা আর মামাদের ঘুষ দেয়া- এইসব সুশিক্ষনীয় অভিজ্ঞতা দিয়ে শুরু হলো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে আমার পড়ালেখা।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




