ব্লগে আজকাল শেয়ালদের ডাক বড় বেশি শোনা যাচ্ছে। একটা শেয়াল হুয়াক্কা-হুয়া ডাক দিলে তার অন্য সহযোগীরাও সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠে। এসব শেয়ালদের মুল এলার্জি হলো ধর্ম। তাও অন্যকোন ধর্ম নয়, ইসলাম। ইসলামকে একটা সাম্প্রদায়িক, চরমপন্থী ও অচল ধর্ম হিসাবে প্রমাণ করার জন্য তারা সংঘবদ্ধ ভাবে বিরামহীন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই শেয়ালগুলো এত বোকা। এরা ঐশী বাণীকে নিজেরা হাঁক-ডাক করে, কতগুলো আয়াতের আংশিক তুলে দিয়ে অপব্যাখ্যা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। ওরা ভাবে, ওদের মত শেয়ালরা ফুঁ দিলেই আল্লাহ্র নুর নিভে যাবে। এরা কি জানেনা, এ নুর নাজিল হয়েছে সর্বশক্তিমান আল্লাহর পক্ষ থেকে যা সংরক্ষিত রয়েছে 'লাওহে মাহ্ফুজ'-এ। এ বানীকে ধ্বংস করে দেয়ার ক্ষমতা কোন মানুষের নেই। সমগ্র সৃষ্টি জগতের মালিক মহান রব্ আল্লাহ ক্কোরআন্কে পাঠিয়েছেন সমগ্র মানব জাতিকে তাঁর রাসুল (সঃ) এর মাধ্যমে সঠিক পথ পদর্শনের জন্য। যারা এ বানীকে মেনে চলবে, তাদের জন্য কোন ভয় নেই। আর, যারা এ বানীর বিরোধীতা করবে, এদের জন্য রয়েছে ধ্বংস ও ভয়ংকর শাস্তি। এই সব পথভষ্ট্ররা বলে, ইসলাম নাকি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তরবারীর জোরে। ওরা কি জানেনা, মানব সভ্যতার যুদ্ধবিগ্রহের ইতিহাস। আধুনিক ইউরোপের অতীত ইতিহাসের দেখি তাকাই, আমরা কি দেখতে পাই? রাজ্যে রাজ্যে মারামারি, খুনাখুনি, পররাজ্য লুন্ঠন, বিনাকারণে মানুষ হত্যা- এসব কি মুসলমানরা করেছিলো? ক্রুসেডের ইতিহাসের দিকেও যদি তাকাই, তাহলেও আমাদের চোখে ভেসে উঠে বিধর্মীদের ভয়াবহ নিশংসতা। বাগদাদ, সিরিয়া, লেবানন ও জেরুযালেমে খৃষ্টানরা রক্তের নদী বইয়ে দিয়েছিলো, যখন তারা বিজয়ী হয়েছে। প্রকারান্তরে, মুসলমানরা যখন বিজয়ী হয়েছে, বিধর্মী ভাই-বোনদের প্রতি কোমল আচরনের মাধ্যমে মানবতার সর্বোচ্চ নজীর তারা প্রতিষ্ঠিত করেছিলো। আবার, মধ্যযুগে বিধর্মী চেংগিস খাঁর পুত্র হালাক্কু খান যখন তার তাতার বাহিনী নিয়ে বাগদাদের হামলা করে, তারা হত্যা করেছিলো প্রায় দুইলক্ষ মানুষকে। এসব ঘটনা কি মুসলমানরা ঘটিয়েছিলো? পরবর্তীতে মুসলমানরা যখন তাতারদের বিরুদ্ধে বিজয়ী, বেসামরিক নাগরিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা তারা দিয়েছিলো। স্পেনে যখন মহাবীর তারেকের নেতৃত্বে মুসলমানরা বিজয়ী হয় সেখানেও কোন গনহত্যা সংঘঠিত হয়নি। পরবর্তিতে, মুসলমানরা ষ্পেন শাসন করেছে প্রায় আটশত বছর। সেখানে যদি তারা তরবারী দিয়ে ইসলাম কায়েম করত, তাহলো কোন খ্বস্টানের চিহ্ন থাকতনা। যখন ফার্ডিনান্ডের হাতে মুসলমানরা পরাজিত হয়, খ্বস্টানরা মসজিদের ভেতর পুড়িয়ে মেরেছিলো লক্ষ লক্ষ মুসলমানদের। সেই বর্বরতার ইতিহাসকে আজো তারা স্মরণ করে 'এপ্রিল ফুল' হিসাবে। এইসব ইতিহাস কি পথভ্রষ্টরা জানেনা? নাকি জেনেও জ্ঞানপাপী?
এই ভারতীয় উপমহাদেশের দিকে যদি তাকাই, এখানে মুসলমানরা শাষন করেছে প্রায় হাজার বছরের কাছাকাছি। যদি ইসলাম শান্তি নয়, তরবারীর নীতিতে বিশ্বাসী হত, তাহলে তো ভারতে কোন হিন্দু খুঁজে পাওয়া যেতনা। যে সব মুসলিম শাসক ক্কোরআনের সঠিক অনুসারী ছিলেন তারা কখনও ধর্মের ব্যাপারে জোর জবরদস্তির আশ্রয় নেননি। ইসলাম সকল ধর্মের মানুষদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার দিয়েছে। রাসুলের মদিনা সনদ এব্যাপারে সবচেয়ে বড় দলীল। ক্কোরআনের এব্যাপারে অসংখ্য সুষ্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। সুতরাং এখন যেসব নাস্তিক ও বিধর্মী ইসলাম ধর্মকে একটি সাম্প্রদায়িক ও তরবারী নীতিতে বিশ্বাসী ধর্ম হিসাবে প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন, তাদেরকে বলি, মানুষ হোন আপনারা। অন্ধকার ছেড়ে আলোতে আসুন, যদি মানুষ হয়ে থাকেন। আর, যদি পেঁচাদের বংশদবদ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনাদের জন্য অন্ধকারই ভালো।
হে প্রভু, তুমি আমাদের সঠিক পথ দেখাও- আমিন।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


