কে বলে বাংলা দ্বীনহীন, গরীব একটি দেশ... এখানে রয়েছে, ফায়েজের সূর্য্য, অবারিত সুখ, শান্তি অনিমেষ।

ঈদে মীলাদুন্নবী - ৪
১২ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:৩৯
আল্লা্হ্ পাক - এর হাবীব,হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক আগমন সম্পর্কে কালামুল্লাহ্ শরীফে আছে,
"আল্লাহ পাক নবীদের নিকট এই মর্মে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, আমি আপনাদেরকে কিতাব ও হিকমত দান করবো। অতঃপর যখন আপনাদের নিকট আমার (আখেরী) রসূল আগমন করবেন, আগমন করে আপনাদের প্রতি নাযিলকৃত বিষয়সমূহকে সত্য প্রতিপাদন করবেন তখন আপনাদের দায়িত্ব হলো, আপনারা (তাঁকে পেলে) অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবেন এবং তাঁর খেদমত করবেন। এরপর আল্লাহ পাক বললেন, আপনারা কি আমার এ অঙ্গীকার স্বীকার করে নিলেন? তাঁরা বললেন, আমরা স্বীকার করে নিলাম। আল্লাহ পাক বললেন, আপনারা সাক্ষী থাকুন এবং আপনাদের সাথে আমিও সাক্ষী রইলাম।" - সূরা আল ইমরান-৮১
এ আয়াত শরীফে আল্লাহ পাক তাঁর হাবীব হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম-এর যমীনে আগমনের বিষয়টি বর্ণনা করেছেন এবং সেই সাথে সমস্ত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালামগণের উপরে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনাও দান করেছেন।
১.
হাদীস শরীফের কিতাব বুখারী, তিরমিযী, ইবনে মাযাহ, মুয়াত্তা মালিক ইত্যাদি কিতাবে জুমুয়া এবং আরাফার দিনকে ঈদের দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা অপেক্ষা জুমুয়ার দিনকে শ্রেষ্ঠ ও মহান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার কারণ সরূপ হযরত আদম আলাইহিস সালাম-এর সৃষ্টি, জান্নাত থেকে যমীনে প্রেরণ এবং আল্লাহ পাক-এর সাক্ষাতে গমন করার কথা বলা হয়েছে। এ ৩টি হচ্ছে মূল কারণ। এছাড়া ৪র্থ কারণ বলা হয়েছে, জুমুয়ার দিনে একটি সময় রয়েছে যে সময় আল্লাহ পাক বান্দার দোয়া কবুল করেন আর ৫ম কারণ বলা হয়েছে, জুমুয়ার দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে।
২.
কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম দোয়া করেছিলেন,
"আয় আমাদের রব আল্লাহ পাক! আমাদের জন্য আপনি আসমান হতে (বেহেশ্তী খাদ্যের) একটি খাঞ্চা নাযিল করুন। খাঞ্চা নাযিলের উপলক্ষটি আমাদের জন্য, আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য ঈদ (খুশী) স্বরূপ হবে এবং আপনার পক্ষ হতে একটি নিদর্শন হবে। আমাদেরকে রিযিক দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি উত্তম রিযিকদাতা। আল্লাহ পাক বললেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের প্রতি খাঞ্চা নাযিল করবো। অতঃপর যে ব্যক্তি সে খাঞ্চা নাযিলের দিনকে ঈদ বা খুশীর দিন হিসেবে পালন করবেনা বরং অস্বীকার করবে আমি তাকে এমন শাস্তি দিবো, যে শাস্তি জগতের অপর কাউকে দিবনা।" - সূরা মায়িদা-১১৪,১১৫
হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম-এর উক্ত দোয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ পাক একটি খাঞ্চা নাযিল করেছিলেন। আর খাঞ্চা নাযিলের দিনটিকে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর উম্মতদেরকে নিয়ে খুশীর দিনরূপে উদযাপন করেছিলেন।
তাহলে...
হযরত আদম আলাইহিস সালাম-এর জন্য যদি শুক্রবারের মর্যাদা রোযার ঈদ ও কুরবানীর ঈদের চেয়ে বেশী হয়, তবে আল্লাহ পাক-এর যিনি হাবীব হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাঁকে সৃষ্টি না করলে হযরত আদম আলাইহিস সালামকেও সৃষ্টি করা হতো না, আসমান-যমীন, লৌহ-কলম, জিন-ইনসান, জান্নাত-জাহান্নাম, কোনো কিছুই সৃষ্টি করা হতো না, কোনো বিশেষ সময়ও হতো না এবং কিয়ামতও সংঘটিত হতো না সেক্ষেত্রে আল্লাহ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবি্য্যীন, হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিলাদত শরীফের দিন, রিহালত শরীফের দিন-সোমবার এবং ১২ই রবিউল আউয়াল শরীফের ফযীলত যে শুক্রবারের চেয়ে লক্ষ-কোটি গুণ বেশী হবে তা তো বলার অপেক্ষাই রাখেনা।
এবং...
সামান্য এক খাঞ্চা নাযিলের দিনটি যদি হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এবং তাঁর উম্মতের জন্য খুশীর দিন হয়ে যায় এবং সে দিনটিকে খুশীর দিন হিসেবে পালন না করলে কঠিন শাস্তির যোগ্য হয় তাহলে যিনি সৃষ্টির মূল, যিনি সারা আলমের জন্য রহমত, যাঁকে সৃষ্টি না করলে কোনো কিছুই সৃষ্টি করা হতো না, তাঁর বিলাদত শরীফের দিনটিকে কিরূপ খুশীর দিন হিসেবে উদযাপন করা উচিৎ এবং সূরা ইউনুস-এর ৫৮ নং আয়াত শরীফে, "হে হাবীব সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি আপনার উম্মতদেরকে জানিয়ে দিন,আমি যে তাদেরকে ফজল ও করম করে কিতাব দিয়েছি এবং রহমত হিসেবে আপনাকে পাঠিয়েছি সে কারণে তারা যেন খুশি প্রকাশ করে।"
এ আয়াত শরীফ থাকার পরেও সেদিন যদি কেউ খুশী প্রকাশ না করে তাহলে সে কি শাস্তির উপযুক্ত হবে কিনা তা অবশ্যই চিন্তা-ফিকিরের বিষয়।
সহীহ বুখারী শরীফের হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ পাক-এর সেই প্রিয় হাবীব ও মাহবুব হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিলাদত লাভের সুসংবাদে কট্টর কাফির আবূ লাহাব খুশী হয়ে তার বাদী হযরত সুয়াইবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহাকে দুই আঙ্গুলের ইশারায় মুক্ত করে দিয়েছিলো। যার কারণে আল্লাহ পাক প্রতি সোমবার দিন তার কবরের আযাব হালকা করে দেন এবং তার ডান হাতের দুই আঙ্গুল দিয়ে সুমিষ্ট ঠান্ডা পানি প্রবাহিত করেন। যা পানে তার বিগত সপ্তাহের আযাব-গযবের কষ্ট দূর হয়ে যায়।
সুতরাং, আবূ লাহাব কাফির হওয়া সত্তেও আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশী প্রকাশ করে স্বীয় বাদীকে মুক্ত করার কারণে যদি আল্লাহ পাক-এর বিশেষ অনুগ্রহের অধিকারী হতে পারে, তাহলে যারা উম্মতে মুহাম্মদী তারা যদি আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিলাদত শরীফ উপলক্ষে নিজেদের সাধ্য-সামর্থ অনুযায়ী খুশী প্রকাশ করেন তাহলে তারা যে আল্লাহ পাক-এর অফুরন্ত নিয়ামতের অধিকারী হবেন তাতে আর বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।
হাদীস শরীফে আছে, হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহূ থেকে বর্ণিত একবার তিনি হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে হযরত আবূ আমের আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহূ-এর গৃহে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন তিনি তাঁর সন্তানাদি,আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদেরকে নিয়ে হুজুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিলাদত শরীফের ঘটনা সমূহ শুনাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, এই দিবস এই দিবস অর্থাৎ এই দিবসে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যমীনে তাশরীফ এনেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তাঁর রহমতের দরজা তোমার জন্য উন্মুক্ত করেছেন এবং সমস্ত ফেরেশতাগণ তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছেন এবং যে কেউ তোমার মত এরূপ কাজ করবে, তোমার মত সেও নাযাত লাভ করবে। - কিতাবুত তানবীর ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান নাযীর, সুবুলুল হুদা ফী মাওলিদে মুস্তফা সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হাকীকতে মুহম্মদী ও মীলাদে আহমদী।
অতএব, কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ দ্বারাই প্রমাণিত যে ঈদে মীলাদুন্ নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা জায়েয। আর কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত কোন বিষয় বিদ্য়াত হতে পারে না। তা অবশ্যই ফরয কিংবা ওয়াজিব কিংবা সুন্নত হবে।
লেখক বলেছেন: এত্ত বড় পোস্ট পড়ে ফেলসেন!!
আমি তো ভেবেছিলাম এটা কেউ পড়বে না।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
ভালো থাকুন।


















++++++++++++++++++++++++