somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সংবিধান কি জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতিফলন?

২৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ দুপুর ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ২৮, অক্টোবর ২৮, ২০১৩ তারিখের প্রথম আলোতে “কোন সংবিধান, কার সংবিধান ?” শিরোনামে বদিউল আলম মজুমদার এর একটি নিবন্ধ ছাপানো হয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকার প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন- “প্রধানমন্ত্রী ও সরকারি দলের পক্ষ থেকে কোন সংবিধানের কথা বলা হচ্ছে? নিঃসন্দেহে তাঁরা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কথা বলছেন, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান করা হয়। আমাদের সংবিধানের প্রস্তাবনায় সংবিধানকে জনগণের ‘এমবডিমেন্ট অব দ্য উইল’ বা ‘অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আসলেই কি সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতিফলন? নাকি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তেরই ফসল?”

এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য তিনি সংশোধনীটি পাসের ইতিহাস খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। অবশ্য পাঠকের সুবিধার জন্য ইতিহাসটি তিনি বিধৃত করেও দিয়েছেন। বোধগম্য কারণেই তিনি উপসংহার টানেননি, বলেছেন- “এ ইতিহাস থেকে পাঠকেরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কি বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনগণের অভিপ্রায়ের, না প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন!”

একই বিষয়ে আজ ২৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখের মানবজমিনে “শৃঙ্খলিত গণতন্ত্র ” শীর্ষক একটি লেখায় কাজী জেসিন লিখেছেন- “সরকারি দলের নেতাদের কণ্ঠে ছিল সারাদিন সংবিধান এর সুর। তাদের প্রতিটি ভাষণ, প্রতিটি বক্তৃতায় সংবিধানের নানান বিধির বর্ণনা। কিন্তু আমার প্রশ্ন কে লিখেছে এই সংবিধান যার অজুহাতে জনতাকে শাসানো হচ্ছে? সংবিধান পরিবর্তনের আগে কবে, কোন নেতা সাধারণ মানুষের দ্বারপ্রান্তে এসেছিল, কেমন সংবিধান চাই জানতে? এমনকি কমিটি যাদের বেছে বেছে মতামত দিতে ঢেকেছিল তাদের কারও পরামর্শই শোনা হয়নি। তবে কার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এই সংবিধানে? সরকারি দল যখন একটি রায়ের অজুহাতে, সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে সংবিধান নিজেদের মতো করে সংশোধন করে নিলেন তখন আমরা স্পষ্টভাবে নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্রের রূপ দেখলাম।”

এ দুটি লেখাতে বর্তমান সংকটের প্রেক্ষিতে শুধুমাত্র সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন তোলা উচিত এ পর্যন্ত যতগুলো সংশোধনী হয়েছে তার কোনটিতে জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতিফলন ঘটেছে? নির্বাচনী ইস্তেহারে উল্লেখ করলো না, কিংবা গনভোট নিলো না, তাহলে জনমত সম্পর্কে কিভাবে রাজনৈতিক দলগুলো নিশ্চিত হলো? এই সংবিধানে অনেক কাটাছেড়া করা হয়েছে অথচ ৭০ অনুচ্ছেদের মত কিছু কাঁটা রেখে দেয়া হয়েছে যা সংসদীয় গনতন্ত্রের বিকাশের পথে একটি বিরাট বাধা।

সাংসদদের টুঁটি চেপে ধরে কিভাবে গনতন্ত্রের বিকাশ সম্ভব? দলীয় প্রধান যা বলবেন সেটা বিনা বাক্য ব্যয়ে তাদের মেনে নিতে হবে। আমাদের বড় রাজনৈতিক দলগুলি এই ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের ব্যাপারে কিছু বলেনা, অথচ মুখে সর্বক্ষণ গনতন্ত্রের কথা বলছেন তারা। কিছু স্পর্শকাতর বিষয় বাদ দিয়ে বাকি বিষয়গুলোতো মুক্ত মতামতের জন্য রাখা যেতে পারে। সংবিধান সংশোধনের মতো বিষয়ে দলের নির্বাচনী ইস্তেহারে উল্লেখ না থাকলে গনভোটের ব্যবস্থা এবং ইস্তেহারে উল্লেখ করা হলে সাংসদদের মুক্তভাবে ভোটদানের অধিকার দেয়া জরুরী। আমাদের উচিত হবে রাজনৈতিক দলগুলোর উপর চাপ দেয়া যাতে তারা ক্ষমতায় গেলে এই ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে গনতন্ত্র বিকাশের পথ সুগম করে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১:১৩
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×