somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শয়তানীর একটা লিমিট থাকা উচিত। X( কিন্তু আমার কোন লিমিট ছিলনা। :P

৩১ শে মে, ২০১১ রাত ৯:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার জন্ম হয়েছিল অনেক আশা আকাংখার মধ্যে দিয়ে। আমার বড়বোনের জন্মের প্রায় দশ বছর পর আমার জন্ম। বাবা মার অনেক আশা ছেলে হোক, কিন্তু যদি এইটাও মেয়ে হয়? চিন্তার ব্যাপার। যাই হোক বহু অপেক্ষা প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবশেষে প্রচন্ড এক বৃষ্টির রাতে ঘর আলোকিত করে (!!!???) আমি জন্ম নিলাম। ডাক্তার আমার ২পা ধরে তুলে প্রথমে একটু নাড়াচাড়া করলো, তারপর আস্তে আস্তে ২/১ টা চড়ও দিল আমাকে কাঁদানোর জন্য। কিন্তু ফলাফল শূন্য। কাঁদলাম না আমি। শেষে জোরে একটা থাপ্পর কষালো আমার পাছায়। জন্মের পরপরই একজন মানুষের এরকম নির্দয় আচরনে চিৎকার করে কেঁদে উঠলাম আমি।

সাড়ে পাঁচ বছর বয়সে আমাকে "শিশু মনোজাগতিক বিদ্যালয়" এ (স্কুল অফ মিউজিক)কেজি বি - তে ভর্তি করে দেওয়া হলো (তখনকার খুলনার একমাত্র ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল)। আব্বু প্রথম যেদিন আমাকে স্কুলে রেখে আসতে গেল, আকাশ, বাতাস, ক্লাস কাঁপিয়ে কাঁদতে লাগলাম আমি, যেন আমাকে চিরদিনের মত ছেড়ে চলে যাচ্ছে আব্বু। আমার স্নেহময় পিতা কিছুক্ষন দাড়িয়ে থাকল, তারপর টিচারদের অনুরোধে একসময় আমাকে রেখে বাসায় চলে গেল।

প্রথমদিন ক্লাসে বসেই আমার পাশে বসা মেয়েটির প্রেমে পড়ে গেলাম আমি। মেয়েটার নাম ছিল লিসা। টিচার ক্লাস নিয়েই যাচ্ছেন, আমি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি লিসার দিকে। দেখা যেন আর ফুরায়ই না। শেষে এক পর্যায়ে ক্লাসের মধ্যেই লিসার কানের কাছে যেয়ে ফিসফিস করে বললাম, "বড় হয়ে তুমি আমাকে বিয়ে করবা?"
লিসা অল্প কিছুক্ষন আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো। তারপর চোখ মুখ বিকৃত করে, প্রচন্ড এক চিৎকার করে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ল। একহাতে আমার চুল টেনে ধরে, আরেকহাত দিয়ে ইচ্ছেমত থাপড়াতে লাগল আমাকে। সাড়ে পাঁচ বছর বয়সেই একটা ছেলের প্রতি একটা মেয়ের নিষ্ঠুর আচরনের প্রমান পেলাম। মার খেতে খেতেই ঠিক করলাম, জীবনে কখনও কোন মেয়ের প্রেমে পড়বোনা।যাইহোক এই বিশ্রী অবস্থা থেকে আমাদের ক্লাস ম্যাডাম আমাকে মুক্তি দিলেন। লিসাকে অনেক কষ্টে ছাড়িয়ে ওর হাত থেকে মুক্ত করলেন আমাকে। কৃতগ্গ দৃষ্টিতে ম্যাডামের দিকে তাকালাম আমি এবং জীবনে ২য় বারের মত প্রেমে পড়লাম আমাদের ম্যাডামের।

প্রায় ৩/৪ মাস পর একদিন স্কুলে লাল হাফপ্যান্ট ভর্তি করে পায়খানা করে দিলাম আমি। হাফ প্যান্ট ভেদ কর এক টুকরা মেঝেতেও পড়লো। মেঝেতে পড়া টুকরাটা পা দিয়ে ঠেলে দিলাম সামনের বেঞ্চে বসা লিসার দিকে। তারপর চেচিয়ে উঠলাম, "লিসা স্কার্ট ভরে পায়খানা করে দিয়েছে"। সারা ক্লাস জুড়ে হৈচৈ পড়ে গেল। সবাই লিসাকে নিয়ে হাসাহাসি করত লাগল। অবশেষে ম্যাডাম এসে বের করলেন বিশেষ কাজটার জন্য আসলে দায়ী কে।

স্কুল অফ মিউজিকে ক্লাস টু পর্যন্ত পড়েছিলাম আমি। ওয়ানে ওঠার আগেই আমার আব্বু মারা গেল। স্কুলে আর বলার মত তেমন বিশেষ কিছু ঘটেনি। থ্রীতে যেয়ে ভর্তি হলাম খুলনা জিলা স্কুলে।

ক্লাস থ্রীতে ভর্তি হলাম জিলা স্কুলে। গর্বে আর মাটিতে পা পরে না। ১৭০০ স্টুডুন্টের মধ্যে সুযোগ পেলাম মাত্র ৯২ জন। আমার রোল হলো ৯২। :|

আবার প্রেম এলো। এবার স্কুলের এক টিচারের মেয়ে। মেয়ে তো নয়, এক্কেরে রাজকইন্যা। B-)সমস্যা অন্যদিকে, যে সমস্যা প্রেমের ক্ষেত্রে সবসময়ই আমি ফেস করেছি। একতরফা প্রেম। ছেলেদের দিকে কখনও মুখ তুলেও তাকাতো না, মেয়েটা। ওর বাবা আমাদের বাংলা পড়াতো। একদিন জানতে পারলাম মেয়েটা ওই বয়সেই ফুটবল খেলার খুব ভক্ত। আমাদের একটা ফুটবল টীম ছিল। আমাদের ক্যাপ্টেনের কাছে যেয়ে খুব অনুরোধ করলাম আমাকে টীমে নেওয়ার জন্য। ক্যাপ্টেন তো আমার কথায় হাইস্যা কুটিকুটি। ফুটবলে একটা লাথ্থি মারতে কইল। আমি মারলাম। বল ১গজের বেশী এগোলো না। ক্যাপ্টেন আমাকে রিজেক্ট করে দিল।

কিছুদিন পর শুনলাম সেন্ট জোসেফ স্কুলের সাথে আমাদের ফুটবল ম্যাচ হবে। আর তার চীফ গেস্ট থাকবে আমাদের বাংলা স্যার। মানে আমার হবু শ্বশুড় আব্বা। আরো জানতে পারলাম খেলা দেখতে আমার পৈরিও উপস্থিত থাকবে। একটা সুযোগ দেখলাম, ওর চোখে হিরো হওয়ার। টীমের ক্যাপ্টেনকে পুরো দশটাকার চটপটি আর মুড়িমাখা খাওয়ালাম। অনেক পটায়ে শেষে রাজি করালাম আমাকে টীমে নেওয়ার জন্য, শর্ত শুধু একটাই আমাকে প্রচুর প্রাকটিস করতে হবে যেন তার ঘুষ খাওয়ার ব্যাপারটা ধরা না পড়ে। প্র্যাকটিস শুরু করলাম। মোটামুটি আয়ত্বে আনলাম, গোল বস্তুটাকে ক্যামনে ইচ্ছামতো লাথ্থাইতে হয়।

অবশেষে সেই বিশেষ দিনটা এলো। আমরা এগারোজন যখন মাঠে নামছি, যখন আমার নাম মাইকে ঘোষনা করা হলো, তখন তাকালাম গ্যালারীতে বসা আমার এন্জেলের দিকে। দেখি, ও একমনে পটেটো ক্রাকাস চিবাচ্ছে। খেলা শুরু হলো। প্রবল উত্তেজনা। সেই প্রবল উত্তেজনার মধ্যেই আমরা ৩টা গোল খেয়ে ফেললাম। আমার ফুচুফুচু দেখি শ্যামলা মুখটা কালো করে বসে আছে। না, আর সহ্য করা যায়না। আমার ভিতরের সুপারম্যান বাইরে বেরিয়ে এলো। একবার, শুধু একবার বলটা আমার পায়ে আসুক! আসলোও। ম্যারাডোনা স্টাইলে ছুটলাম বল নিয়ে। প্রথম দিকে প্রতিপক্ষ আমার কাছ থেকে বলটা কাড়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু পরে হাল ছেড়ে দিল। ছেড়ে তো দেবেই, বল পড়েছে যে সুপার হিরোর পায়ে। অবশেষে খেলার শেষ মূহুর্তে সকল বাধা বিপত্তি পার হয়ে, শেষ পর্যন্ত গোল দিতে সক্ষম হলাম আমি। গোল দেওয়ার পরে খেয়াল করলাম, আমার দলের কেউ আমাকে আনন্দে জড়ায়ে ধরলো না। হিংসা, সবি হিংসা X((। শেষে মাইকে ঘোষনা হলো, "শাহারিয়ার তাদের নিজেদের গোলপোষ্টে আত্মঘাতি গোল করায়, জিলা স্কুল ৪-০ গোলে পরাজিত হলো।"/:)

এই প্রেমটাও গেল।

তারপর? তারপরের ঘটনাতো আগেই লিখে ফেলেছি।

তারপর আমার ছোট থেকে বড় হওয়া, প্রেমে পড়া আর প্রচুর প্রচুর গান শোনা। দেখুন তো, কেউ কি সেই ছেলেবেলায় ফিরে যাচ্ছেন?
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৫৬
৫৭টি মন্তব্য ৫৫টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×