অবশেষে মারা গেলেন ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান। অন্যায় আর ইতরপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাঁর এই করুণ পরিণতি। আমাদের দেশে এখনও প্রয়াত মিজানুর রহমানের মতো সাহসী আর ন্যায়-পরায়ণ মানুষ আছেন যাঁরা ইভটিজিংয়ের মতো ঘৃন্য নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবন দেন বা দিতে পারেন। আর অন্যদিকে বখাটে নামক এক ভয়াবহ ব্যাধিতেও আমাদের সমাজ আজ আক্রান্ত। যার করুণ শিকার এদেশের নারী সমাজ কিংবা শিক্ষক মিজানুর রহমানের মতো মানুষরা।একজন মানুষের আত্ন-মর্যাদাবোধ সর্ব-নিম্ন পর্যায়ে গেলেই কেবল তার পক্ষে ইভটিজিং-জাতীয় ক্রিয়া-কলাপ সম্ভব। মর্যাদা সম্পন্ন কোন মানুষের পক্ষে এজাতীয় বখাটেপনা সম্ভবপর নয়।
ইভটিজিং সম্পর্কিত একটি ঘটনা আজ মনে পড়ে গেল আবার।যা আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতাজাত। আমি তখন একটি বেসরকারী কলেজে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছি মাত্র। মনে হয় দু'তিন হবে আমি ঐ কলেজে ক্লাস নিতে আরম্ভ করেছি। ঘটনার দিন আমি ক্লাস শেষ করে আরো দুই একজন শিক্ষকসহ কলেজ থেকে বের হচ্ছি। পেছনে বা রাস্তার আরেক পাশে কয়েকজন ছাত্রীও ছিল। মূল রাস্তায় উঠার একটু পরেই দেখি রাস্তার উপর কয়েকজন বখাটে ছেলে ছাত্রীদের প্রতি বাজে মন্তব্য করছে এবং গানও গাচ্ছে। এটা দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না । তখন সবে মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরিয়েছি। রক্তও গরম। তাই প্রতিবাদ করলাম ঐ বখাটেদের ক্রিয়াকলাপের। ফলশ্রুতিতে বখাটেরা বিন্দুমাত্র না দমে গিয়ে আমাকেও কিছু বাজে মন্তব্য করল পেছন থেকে। তাদের সেই বদমায়েশিতে আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম বলতে গেলে সেই সময়। তবে আজ মনে হয় ভাগ্য ভালো ছিল আমার, বখাটেদের হামলারও শিকার হতে পারতাম আমি। ভাগ্য ভালো ছিল তা হয়নি।
পরিশেষে বলব, বখাটেপনা বা ইভটিজিং-এর শিকড় খুঁজে বের করে সমাজ থেকে একে সমুলে উৎপাটন করা দরকার। এই কাজে দরকার সবার সম্মিলিত প্রয়াস। অধপতিত তরুণ সমাজকে এর থেকে উদ্ধার করতে হবে। তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে এর বিস্তার বাড়বেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৪:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


