somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোন সংস্কৃতিকে বাঁচাতে চান?

২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লালনের ভাস্কর্য ভাঙ্গা নিয়ে বেশ কিছুদিন পত্র পত্রিকায় এবং ব্লগে ঝড় তোলা হলো। আমি নতুন হলেও এতদিন কিন্তু লালনের "ল" ও কারো লেখায় চোখে পড়েনি। আজ কিছু উগ্র মানুষের কারণে যখন লালনের ভাস্কর্য তুলে নেয়া হলো, তখনই শুনি হই চই, এটা সেটা ইত্যাদি ইত্যাদি। ব্লগে ব্লগে ভরে উঠলো লালনের জন্য এতদিন "গোপন" করে রাখা "প্রেম।

আমাদের চারিত্রিক বৈশিস্টই হলো, চোর পালালে এর পর চিৎকার চেচামেচি শুরু করা। শুধু তাই নয়, যে যার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সর্বচেস্টা করা হয়, ভিন্নামতালম্বি রাজনৈতিক গোষ্ঠির উপর সব দোষ চাপিয়ে দেবার। ফলে আসলে ঘটনা তো আড়ালে পড়ে যায়ই, সাথে সাথে এই উতোর চাপানোর খেলায় সমাধানের পথটিও হয়ে পড়ে রুদ্ধ।

প্রশ্ন হচ্ছে, হঠাৎ কোন মতলবে লালনের মুর্তিটি বিমানবন্দরের সামনে স্থাপনের প্রয়োজন পড়লো? যদি আমাদের জাতিয় পরিচয় ভাস্কর্য আকারে উপস্থাপনের প্রয়োজনই পড়তো, তবে আরো আগে কেন তার ব্যাবস্থা করা হলো না? তাছাড়া যদি কারো ভাস্কর্য স্থাপনের একান্তই প্রয়োজন হয়, তবে তার প্রধান দাবিদার আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা।

যারা আমাদের সংস্কৃতি নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন, তারা কি একবার ভেবে দেখেছেন, আমাদের সংস্কৃতি আজ কোন পথে? নব্য প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা কি আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসটুকুও ঠিক মত জানে? নিতান্ত অন্ধের মত শিশুকাল থেকে হয় কিন্ডারগার্ডেন এবং কিশোর বয়সে এ লেভেল ও লেভেল নামের পাশ্চাত্য শিক্ষায়, শিক্ষিত দীক্ষিত এই ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি যত আদরনীয়, বাংলা সংস্কৃতি তেমনি অবহেলিত। এরা ভাষাটাও সঠিকভাবে বলতে পারদর্শি নয়।

একইভাবে মাদ্রাসাতে পড়ুয়ারাও আলিফ বে তে থেকে শুরু করে আরবীয় সংস্কৃতি চর্চায় এতটাই মশগুল যে, বাংলা সংস্কৃতিই অনেক কিছুকেই তারা পৌত্তলিকতা বলে জ্ঞান করে। আর বাংলা মিডিয়ামে পড়া ছাত্র ছাত্রদের অবস্থা, বাংলা জানলে ইংরেজি জানে না, আর অংক জানলে বিজ্ঞান জানে না।

এক দেশে এ রকম তিন চার রকম শিক্ষা ব্যাবস্থা থাকার ফলে, ভিন্ন ধারার ভিন্ন ভিন্ন মানসিকতার মানুষ তৈরি হচ্ছে। যার কারণে তুচ্ছ বিষয় নিয়েও দেখা দিচ্ছে মানসিকতা আর ব্যাক্তিত্বের দন্দ। ফলে রুদ্ধ হচ্ছে জাতিয় প্রশ্নে ঐক্যমতের পথ। আর এই অভ্যন্তরিন বিবাদকে পুজি করেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে অবিশ্বাসি, দেশি বিদেশি মহল নানা সময়ে নানা ষড়যন্ত্র করছে। যা একদিন আমাদের অস্তিত্বকেই বিপন্ন করতে পারে।

যারা ধর্ম গেল গেল বলে রব করছেন তারা সঙ্খ্যায় নিতান্তই ক্ষুদ্র। তেমনি যারা সংস্কৃতি গেল গেল বলে সস্তা আবেগ মাখানো, বুলি কপচিয়ে চলছেন, তারাও ততধিক ক্ষুদ্র। সাধারণ মানুষের কাছে এসবের কোন মুল্য নেই। অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাদপদ কোন জাতির সংস্কৃতি তখনই মর্যাদা লাভ করে যখন তারা নিজের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালি করতে সক্ষম হয়। এজনই সামুদ্রিক শ্যাওলা দিয়ে তৈরি জাপানিদের খাবার, আজ বিশ্বে সমাদ্রিত, যেহেতু তারা এখন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালি। আর বলিউড তো সুদুর আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছে।

অথচ আমাদের নিজস্ব একটি শক্তিশালি সংস্কৃতি থাকা সত্ত্বেও, শ্রেফ "ভিখিরি" বলে আমরা নিজেরাই তাকে লালন ধারণ করি না। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিতে নিয়োজিত আমাদের বুদ্ধিজীবি মহলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে যতদিন পর্যন্ত বিবেকবান মানুষ দিয়ে প্রতিস্থাপিত করা যাবে, ততদিন এই সাংস্কৃতিক হীনমন্যতা ঘুচবে না।

সা-হো-ই-দা_ব্লগে সেই পুরানো আর বস্তাপচা জামাত বনাম কম্যুনিস্ট ব্লগারদের লেখনি যুদ্ধ দেখে, মনে হয় দেশে যেন এরাই সংখ্যাওগরিষ্ঠ। যদিও বাস্তব অন্য কথা বলে। তাই আশা বেঁচে রয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১০:৪৭
৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×