১৬ই ডিসেম্বরে চ্যানেল আইয়ের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিবেদন দেখছিলাম। হঠাৎ শুনি প্রতিবেদক বলছেন, ২৫শে মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু ই পি আর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষনা দেন। এধরণের বক্তব্যের উৎস কি সেটা তিনি জানালেন না। ফলে যারা মনে করেন যে, এটা স্বাধীনতার চেতনার ফেরিওয়ালা আওয়ামী লিগের একটা নির্বাচনী স্টান্ট , তাদের পাল্লা ভারি হবে। কেননা এধরণের দাবি করা হয়েছিল, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লিগ ক্ষমতায় আসিন হবার পর। এধরণের আরো কস্টকল্পিত ইতিহাস সে সময় রচিত হয়েছিল। যেমন জেলখানার বাথরুম থেকে কাগজ ছুড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষা আন্দোলনের ডাক। স্বাধীনতাপুর্ব বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর অবদান যত উজ্জ্বল, স্বাধীনতা পরবর্তি বাংলাদেশে তার অবদান ততটাই অনুজ্জ্বল। বোধ করি সেকারণেই এখন মিথ্যার বেসাতি করে, তাকে কৃত্রিম উপায়ে মহামানব হিসেবে জাহির করার অপচেস্টা চলছে। বঙ্গবন্ধু সমন্ধে যতটুকু জানি, তাতে আমি নিশ্চিত যে, এ ধরণের চাটুকারিতাকে তিনি মোটেও সমর্থন করতেন না।
আজকের বিবিসির প্রভাতিতে আওয়ামী নেতা তোফায়েল আহমেদের মন্তব্য শুনে আরো চমৎকৃত হতে হলো। তিনি অভিযোগ করেছেন যে চার দলীয় জোটের প্রার্থীরা নাকি সজিব জয়ের নামে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। মিথ্যা? জয়ের যে লেখাটি অন্তর্জাল থেকে শুরু করে পত্র পত্রিকায় ঢালাও ভাবে প্রচারিত হয়েছে, যার প্রমান এখনো বিদ্যমান, কোন বিবেকে তোফায়েলের মত অভিজ্ঞ একজন রাজনীতিবিদ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেবার চেস্টা করলেন?
যে দলের নেতা কর্মীরা দিনের আলোর মত সত্যকে মিথ্যে বানানোর প্রয়াশ করে থাকেন, তাদের নির্বাচনি ইস্তেহারটি যে প্রতারণামুলক নয়, সেটা জোর দিয়ে বলা যায় কি? সচেতন ভোটাররা এ ব্যাপারটি মাথায় রাখতে, অন্তত মিথ্যবাদিদের হাত থেকে দেশ বাচাতে পারবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

