বাংলাদেশে পরিবারতন্ত্রের কুফল দেখেও শ্রেফ অন্ধ দলীয় আবেগে দলীয় নেতা নেত্রিদের পুত্র কন্যাদের নিয়ে লাফালাফির কারণে আমাদের গণতন্ত্র নিঃসন্দেহে সংকটে পড়বে।
এর আগে শহীদ জিয়ার পুত্রদ্বয়ের নানা কীর্তির কাহিনী শুনেছিলাম। তারেকের নামে ১৩ খানা মামলা রুজু হয়েছিল ( যার বিপরীতে শেখ হাসিনার নামে দায়ের করা মামলার সংখ্যা ছিল ১৯টি)। অভিযোগ আছে যে মায়ের প্রভাবকে পুজি করে তারেক নিজেও অন্যায়ভাবে অনেক প্রভাব খাটিয়েছিলেন। যেটা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই একটা অংশ। এমন কোন রাজনীতিবিদ (ছোট বড়) পাওয়া দুস্কর, যাদের স্ত্রী পুত্র কন্যা শালা শালি ভাগ্নে ভাতিজা, আত্মিয় তস্য আত্মিয়, এই সুযোগ কাজে লাগায় না?
বিচারের নামে ঠন ঠন হলেও, তারেককে ঠিকই পিটিয়ে আধামরা করে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে, তাও মায়ের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই। সন্ত্রাসিদের ভবলীলা সাঙ্গ হলে যে সব তথাকথিত মানবাধিকার সংস্থা বা কর্মী আঁতকে ঊঠেন, তাদেরও দেখলাম না এ ব্যাপারে মুখ খুলতে।
ইদানিং আমরা আরেক যুবরাজকে পাদপ্রদিপের নিচে দেখতে পাচ্ছি। নাগরিকত্বের বিচারে যিনি কিনা বাংলাদেশের নাগরিকই নন। জন্মের মাত্র কয়েকটি বছরই তিনি বাংলাদেশে ছিলেন। এর পর ভারতে শৈশব কৈশোর যৌবনের খানিকটা সময় কাটিয়ে সিধা মার্কিন মুল্লুকে। তার বাংলাদেশ বিমুখতা এতই প্রবল যে, সহধর্মিনী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন প্রথমে একজন ভারতীয় এর পর একজন মার্কিনীকে। এখন নির্বাচনের দিন ক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই দেখা যাচ্ছে যে তিনি এত্ত গুলো বছর পর বাংলাদেশের ভাল মন্দ নিয়ে চমক লাগানো বক্তব্য দিয়ে দেশ ও জাতিকে বাধিত করছেন। যেমন বাংলাদেশে তথাকথিত " সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের ভুত আবিস্কার" (আচ্ছা মৌলবাদের সংজ্ঞা কি?), হিন্দুরা যেন আরো বেশি সংখ্যায় সংসদের প্রার্থী হতে পারেন, হিন্দুরা যেন আরো বেশি মন্ত্রিত্ব পান ইত্যাদি ইত্যাদি।
অর্থাৎ কোন অদৃশ্য সুতার টানে তিনি বাংলাদেশে একটি বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়কে উস্কে দিতে চান, যাতে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি ঝুকির মধ্যে পড়ে। তাছাড়া তিনি এমন ভাবে কথা গুলি বলেছেন, যাতে মনে হয় স্বাধীনতার চেতনার সাথে সাথে "সংখ্যালঘু নিরাপত্তার" সোল এজেন্সিও আওয়ামী লিগের হাতে ন্যাস্ত। নিউয়র্কের লেখক মহাদেব সরকার এই কথাগুলো বলে ফেলার "অপরাধে" স্থানীয় আওয়ামী বাকশালিরা তাকেও রাজাকার, দালাল ইত্যাদি বলে অনেক হেনস্থা করেছিল।
এর কিছুদিন আগে, হাভার্ডের একটি প্রকাশনায় প্রকাশিত নিবন্ধে জয় বাবু অনেক কথাই লিখেছিলেন, সেটা আর যাই হোক বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকুলে ছিল না।
বিস্তারিত পড়ুন
Click This Link
http://www.harvardir.org/articles/1784/
চাটুকারিতার অনন্য উদাহারণ সৃস্টি করে, আওয়ামী নেতা তোফায়েল সাহেব সেটাকে নাকচ করে দেওয়ার চেস্টা করেছিলেন। (তথ্যসুত্র বিবিসি বাংলা)।
নির্বাচনে শেখ হাসিনার সঙ্গি হতে তার বোন শেখ রেহানা এবং তার কন্যাও বাংলাদেশে হাজির। হাসিনার গ্রহনযোগ্যতা কিংবা আত্মবিশ্বাস কি এতই কমে গিয়েছে যে, বিদেশ থেকে আত্মিয় স্বজন এনে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে হবে? শেয়ার কেলেংকারির মাধ্যমে হাজার হাজার স্বল্প আয়ের মানুষকে পথে বসানোর দায়ে অভিযুক্ত এক কুখ্যাত মানুষের স্ত্রী শেখ রেহানা, হাসিনার জন্য কি ধরণের ভাবমুর্তি তৈরি করেন, সেটা দেখার বিষয় বটে !
ফিরে আসছি জয় প্রসঙ্গে। জয়ের জন্ম ১৯৭১ সালে। প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেছেন ভারতে, যেখানে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের দিনটি পালন করা হয় পাকিস্থানের বিরুদ্ধে ভারতের যুদ্ধ জয় হিসেবে। এর পর তিনি উচ্চশিক্ষা লাভ করেছেন, মার্কিন মুল্লুকে যেখানে উচ্চ শিক্ষায় বাংলাদেশের কথা পড়াশুনা করার সুযোগ নেই। তো বাংলাদেশ সমন্ধে জয়ের "জ্ঞানের" উৎসটা কি? নিঃসন্দেহে মা-খালাদের মুখে শোনা, যা পক্ষপাতদুস্ট হতে বাধ্য।
আপন "যোগ্যতার" বলে মার্কিন মুল্লুকে প্রতিষ্ঠিত সজিব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশের মানুষের জন্য কি করেছেন? অন্যান্য প্রবাসিদের মত দেশে রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন কি? কিংবা কোন ব্যাবসায় বিনিয়োগ? তাহলে শ্রেফ নানা দাদার দেশ কিংবা আওয়ামী নেত্রির পুত্র হবার সুবাদে বাংলাদেশ নিয়ে তার এত মাথা ব্যাথা কেন? তিনি কি জানেন না যে, বিনি পয়সার উপদেশ দিতে সক্ষম লোকের অভাব বাংলাদেশে নেই? তবে কি তিনি হবু যুবরাজের পদ গ্রহন করবার জন্য এই অযথা শোরগোল তুলছেন?
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


