somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আনাড়িদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়।

১০ ই জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৩২ সদস্য বিশিস্ট মন্ত্রি সভার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। একদা কান ও চোখের মারাত্মক উপসর্গে পীড়িত হয়ে জরুরি চিকিৎসার জন্য, বিদেশ গমনকারি আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রি, তার দায়িত্ব পালনে পুরাপুরি ফিট কিনা, সেই সার্টিফিকেট এখনো পাওয়া যায়নি। (ডঃ মোদাসসেরও কিছু বলেননি)।

তাও না হয় মেনে নেওয়া গেলো, যেহেতু হাসিনার অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু যাদেরকে মন্ত্রি সভায় স্থান দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে স্বরাস্ট্র এবং পররাস্ট্র মন্ত্রনালয়ে, তাদের অভিজ্ঞতার ঝুলি তো শুন্য। তাদের বোলচালেও সেই অনভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে।

যেমন স্বরাস্ট্রমন্ত্রি এডঃ সাহারা খাতুন প্রথমেই আওয়ামী লিগ ক্যাডার কর্তৃক চারদলিয় নেতা কর্মীদের উপর চলা সন্ত্রাসকে সেই জোটের "অভ্যন্তরিন কোন্দলের" ফসল বলে উল্লেখ করে, প্রকারন্তে, আওয়ামী ক্যাডারদেরই উস্কে দিলেন। ফলে বাকশালি শাসনের পুনরাবৃত্তিকেই উৎসাহ যোগানো হলো।

আবার সাধারণের মাঝে অখ্যাত ডঃ দিপুমণি কোন যোগ্যতায় এক লাফে পররাস্ট্রমন্ত্রির দায়িত্ব পেয়ে গেলেন, সেটি একটি বড় প্রশ্ন। আর দায়িত্ব পেয়েই যে ইস্যুগুলি নিয়ে তাকে অগ্রাধিকার দিতে দেখা গেলো, সেগুলি ভারতের ফরমাইসি ইস্যু। যেমন গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মান, দঃ এশিয়া বিষয়ক সন্ত্রাস বিরোধী টাস্কফোর্স গঠন, ইত্যাদি। অথচ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান পাহাড় প্রমান সমস্যাগুলির সমধানের কথা একবারও বললেন না। ব্লগে দেখলাম, দিপুমনির কিছু ছবি। আর যাদের সাথে তোলা, তারা আর যাই হোক, বাংলাদেশের শুভাকাংখি নয়।

দুই কম্যুনিস্ট দিলিপ বড়ুয়া আর নুরুল ইসলাম নাহিদকে ( রাজনীতিতে পুরানো হলেও শাসনে নবাগত) যথাক্রমে শিল্প ও শিক্ষার মত গুরুত্বপুর্ণ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এমনিতেই তো "শ্রমিক সংগঠনগুলির আন্দোলনের" চাপে আমাদের শিল্পে এক ধরণের স্থবিরতা বিরাজ করছে। এখন যদি আবার খোদ মন্ত্রির আস্কারা যুক্ত হয়, তবে শিল্প কারখানা মুখ থুবরে পড়তে কতক্ষন? আর তাতে কার লাভ সব চেয়ে বেশি, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। আর শিক্ষামন্ত্রি কি শেখাবেন আমাদের ছাত্র সমাজকে? তথাকথিত প্রগতিশীলতাই মুখ্য, আর সিংহভাগ বাংলাদেশিদের ভাষা ও সংস্কৃতি আসলে পশ্চাস্পদতার লক্ষণ?

যুক্তরাস্ট্রে ভারতীয় চরম মৌলবাদি সংগঠন আর এস এস এর বিশেষ আশির্বাদপুস্ট এবং বাংলাদেশ ভেঙ্গে হিন্দুদের জন্য একটি পৃথক রাস্ট্রের দাবিদার শিতাংসু শুহের সাথে বিশেষ দহরম মহরমকারি এ কে খন্দকার যখন প্লানিং মিনিস্ট্রিতে, তখন বাংলাদেশ বিরোধী প্লানিং বাস্তবায়িত হতে তেমন কোন সমস্যা হবার তো কথা না।

পানিমন্ত্রি বাবু রমেশচন্দ্র কি পারবেন, ভারতের সাথে এতদিন ধরে জিইয়ে রাখা পানি সমস্যার সমাধান করতে?

আবুল মাল আব্দুল মুহিত, অর্থমন্ত্রি হিসেবে প্রথমেই যখন ১০ টাকা সের চাল খাওয়ানোর কথা অস্বীকার করে বসলেন, তখন পরবর্তি ইতিহাস যে প্রতিশ্রতি ভঙ্গের ইতিহাস হয়ে থাকবে, সেটা বলাই বাহুল্য। আচ্ছা, তিনি শেয়ার মার্কেট বোঝেন তো?

আশা করি স্থানীয় মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সৈয়দ আশরাফুলের কর্মকান্ডের তার বিদেশি গিন্নি তেমন প্রভাব রাখবেন না। কেননা গিন্নি যে দেশে জন্মগ্রহনকারি, সে দেশের নাগরিকরা উগ্র দেশপ্রেমিক এবং বাংলাদেশকে খুব একটা নেক নজরে দেখেন না।

বাকশাল দেখেনি, আওয়ামী দুঃশাসন "উপভোগ" করার মত বয়স যাদের ছিল না, নিতান্ত আবেগের বশে তাদের ভোটে যখন অতীতের দুঃশাসকরা ব্রুট মেজরিটির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসীন, সেই হঠকারিতার ফসল বাংলাদেশের আপামত জনসাধারণকে বয়ে বেড়াতে হবে। যেটি কেউ আশা করে না। আমার আশঙ্কা অমুলক হোক, কায়মন বাক্যে সেই প্রত্যাশাই করি।
৫৫টি মন্তব্য ২১টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×