দুদিন আগে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রি শাহ এম কিবরিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হলো। দেশের পত্র পত্রিকায় এ নিয়ে কিছু খবরও ছাপা হয়েছিল। সামুতে দেখলাম নিউ ইয়র্ক প্রবাসি একজন লেখক তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি লেখা লিখেছিলেন।
বাংলাদেশে শিক্ষার হার আশানুরুপ না হলেও, যে কয়জন উচ্চশিক্ষায় সারা বিশ্বে বাংলাদেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছিলেন, শাহ এম কিবরিয়া ছিলেন তাদেরই একজন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লিগ ক্ষমতায় আসলে, যোগ্য ব্যাক্তি হিসেবেই তাকে অর্থমন্ত্রি নিয়োগ করা হয়। আমার স্মৃতিশক্তি যদি প্রতারণা না করে থাকে, তবে ওই একই সালের আগস্ট বা সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে, স্মরণকালের ভয়াবহ শেয়ার মার্কেটের পতন ঘটে। ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ, যাদের প্রায় সবাই নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবারের, তাদের পুঁজি হারিয়ে পথে বসেন। যদিও হুজুগে বাঙ্গালিদের লোভ , তাদের অর্থনৈতিক পতনের কারণ, তবুও তৎকালিন অর্থমন্ত্রি হিসেবে জনাব কিবরিয়ার ভুমিকা ছিল দুর্বল, এবং অনেকটা দলীয়পক্ষ সমর্থনকারির মত। সে সময় পত্র পত্রিকায় যে সব দোষি পক্ষের নাম উঠেছিল, তার মধ্যে আওয়ামী নেতা বিশিস্ট ঋণখেলাপি সম্রাট সালমান রহমান, এবং ভারতীয় মাড়োয়াড়ি একটি গোষ্ঠির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ তদন্ত তো দুরে থাক, অর্থমন্ত্রি উল্টো বলে বসেছিলেন যে, শেয়ার মার্কেট সম্বন্ধে তার তেমন কোন ধারণা নেই !
প্রাক্তন অর্থমন্ত্রির আত্মার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে, ইতিহাসের সেকথাগুলি তুলে ধরাতে, নিউইয়র্ক প্রবাসি ওই লেখক আমাকে হীনমন্যতায় ভোগার অপবাদ দিয়েছিলেন।
অন্তর্জালে বাংলাদেশের খবর দৈনিক পড়বার প্রথম সুযোগ করে দেয়, সম্ভবত দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ( ১৯৯৭ বা ১৯৯৮ সাল থেকে)। তাই এব্যাপারে সে সময় প্রকাশিত খবরগুলি রেফারেন্স হিসেবে অন্তর্জালে পাওয়া অসম্ভব ব্যাপার। তবে সে সময়েরকার সংবাদ পড়বার সুযোগ ছিল নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত " সাপ্তাহিক প্রবাসি" কিংবা "সাপ্তাহিক ঠিকানা"। যেহেতু প্রবাসি ওই লেখক একই শহরে বাস করেন (এবং সেই পত্রিকাগুলির সুবাদেই তার পরিচিত হয়ে ওঠা), সেহেতু এই খবরগুলি তিনি পড়েননি সেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
আওয়ামী সমর্থক লেখকরা এমন হীনমন্যতায় ভোগেন যে, তারা প্রকাশ্যে কোন সময় সেটা স্বীকার করতে চাননা। অথচ তাদের লেখায় সত্যটি স্পস্ট হয়ে উঠে। কেননা দলীয় আবেগের বাইরে গিয়ে কোন কিছু লেখা তাদের পক্ষ্যে সম্ভব হয় না। অথচ দলীয় প্রচারনামুলক লেখা লিখতে গিয়ে, তারা স্বাধীনতার চেতনা, প্রগতিশিলতা ইত্যাদিকে আশ্রয় করেন। যা শ্রেফ প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়। এবং বিরোধী মতকে মুল্যায়ন বা শ্রদ্ধা করা তো অনেক দুরের কথা, প্রায় সময়ই তারা দলীয় নেতৃবৃন্দের কুকীর্তিকে ধামাচাপা দিতে কথার ফুলঝুড়ি উড়িয়ে বেড়ান। কিংবা খোদ ইতিহাসকেই অস্বীকার করে বসেন। কানাডা প্রবাসি সামুর একজন বিশিস্ট বগ্লার একারণেই "বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি" উক্তিটি এবং বাকশাল সমন্ধে সন্দেহ পোষন করেছিলেন।
দলীয় আবেগের কারণে ইতিহাসকে অস্বীকার কিংবা অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করে কোন নেতাকে মহানায়কের আসনে বসালেও, ইতিহাস যার যা প্রাপ্য তাই দেবে। তাই অতিরঞ্জন বা ইতিহাসকে অস্বীকার করে নিজের গ্রহনযোগ্যতা কমানো, কোন সুস্থবুদ্ধির লেখকের কাম্য হতে পারে না।
সে ক্ষেত্রে এ ধরণের লেখকেরা সামুর ব্লগার রাফার ব্লগ পড়ে অনেক কিছুই শিখতে পারেন বলে আমার বিশ্বাস। ধন্যবাদ সবাইকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

