শুরুটা হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। স্বাধীন বাংলাদেশে হিন্দুদের জন্য আলাদা একটি "হিন্দু রাস্ট্র' গঠনের বিশেষ আব্দার নিয়ে গঠিত হয় "স্বাধীন বঙ্গভুমি আন্দোলন"। লাখো শহিদের রক্তে স্নাত নব্য স্বাধীনতায় উদ্ভাসিত বাংলাদেশে স্বাভাবিক কারণেই সে আব্দার প্রত্যাখাত হয়, হিন্দু মুসলিম ভেদে সবার কাছেই। তাই এ আন্দোলনের হোতা এক সময়ের আওয়ামী এম পি চিত্তরঞ্জন সুতার, চুপ মেরে যান। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও তিনি কলকাতায় মৌরসিপাট্টা গেড়ে বসেন। আর তখন থেকেই বাংলাদেশ বিরোধী সাম্প্রদায়িক বিচ্ছিন্নবাদি আন্দোলনের সুত্রপাত।
যতদিন বঙ্গবন্ধু ক্ষমতায় ছিলেন, ততদিন এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মাথা চাড়া দেবার সাহস করেনি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু নিহত হলে, এই অপশক্তি, ভারতীয় সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু করে।
এই স্বাধীন বঙ্গভুমিওয়ালাদের আব্দার হলো, বাংলাদেশের ১৯টি জেলা নিয়ে ( বৃহত্তরও বরিশাল, ফরিদপুর, কুস্টিয়া, যশোর, পটুয়াখালি, খুলনা ) একটি স্বাধীন "হিন্দু রাস্ট্র " গঠন করা। তবে এই আন্দোলনকে বহুমুখি করতে এরা বেশ কয়েকটি সামরিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সৃস্টি করেছে। যেমন লিবারেশন টাইগার অফ বাংলাদেশ, বঙ্গসেনা, নিখিল বঙ্গ নাগরিক সংঘ, অল ইন্ডিয়া রিফিউজি ফ্রন্ট, বাংলাদেশ উদবাস্তু কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ উদবাস্তু উন্নয়ন সঙ্ঘ, হিন্দু বাংগালি গণ পরিষদ ইত্যাদি। এরা মুলত কোলকাতা এবং ত্রিপুরায় ঘাটি গেড়েছে এবং তাদের নেতৃবৃন্দের দাবি অনুযায়ি, পঃ বঙ্গ রাজ্য সরকার এবং ভারতের কেন্দ্রিয় সরকারের অনুমতি নিয়েই সংগঠনগুলি পরিচালনা করছে।
শুধু তাই নয়, অন্তর্জালেরও এদের সাম্প্রদায়িক বিচ্ছিন্নবাদি অপপ্রচারের আধিক্য চোখে পড়ার মত। যেমন মায়ের ডাক, HRCBM (Human Rights Congress for Bangladeshi Minorities)। অন্তর্জালে পেছন থেকে এদের সমর্থন দেয় "প্রগতিশীল, আধুনিক" মুক্তমনা বলে দাবিদার একটি ওয়েবসাইট। আর মুক্তমনার সাথে আবার আমাদের দৈনিক প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ইত্যাদির সাথে বেশ দহরম মহরম। তবে কি এরা খোদ বাংলাদেশের ভেতরেই বাংলাদেশ বিরোধী একটি চক্র গড়ে তুলে সমর্থ হয়ে গেছে?
ভারতে বসে সাম্প্রদায়িক নর্তন কুদনকারি এই বঙ্গবাদররা আবারো শিরোনামে এসেছেন। এবার তারা প্রবাসি সরকারও গঠন করে ফেলেছেন। সেই সাথে সংবিধান। সেনাবাহিনী গড়ার জন্য যোদ্ধা সংগ্রহও শুরু হয়ে গেছে। আগামী ২৫ শে মার্চ তারা নাকি বনগাঁ সীমান্তে ৫০ হাজার লোকের সমাবেশ ঘটাবে ( তারা কি এমন হাতি ঘোড়া মারবে, সেটি এখনও বলেনি)। বঙ্গভুমি প্রতিষ্ঠার ঘোষনা দিয়ে তারা নাকি, জাতিসংঘ, আমেরিকা, বৃটেন, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, জাপান, পাকিস্থান, রাশিয়া, ব্রাজিল, ফ্রান্স এবং ইস্রাইল (???) এর কাছে বার্তা পাঠিয়েছে।
ভারতের উস্কানিতে এক সময় আমাদের পাহাড়ি জনগোষ্ঠি সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে গিয়েছিল। পরে তাদের ভুল বুঝতে পেরে আবারো একক জনগোষ্ঠির মত এখন শান্তিতে বসবাস করছে। অজ্ঞাত কারণে পরাজিত পাকিস্থানি কিংবা পাহাড়ি সন্ত্রাসিদের কাছ থেকে এই বঙ্গ বাদর গুলি শিক্ষা নেয়নি। তাই আজ ওপার থেকে বসে বসে উদ্ধত আস্ফালন করছে।
বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করার যে কোন সাম্প্রদায়িক অপচেস্টা দেশের মানুষ রুখে দেবেই। কিন্তু বর্তমান সরকারের অতি ভারত ভক্তি দেখে, বিপদের সময় সরকার কিংবা সেনাবাহিনীর সাহায্য পাওয়া নিয়ে সন্দেহ হয়।
তথ্যসুত্রঃ কোলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজ বিকেল ( ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০০৯)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

