somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টার্গেট বাংলাদেশঃ সেনাবাহিনির ভেতর জঙ্গি আবিস্কার। এর পর?

১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্ব মিডিয়ায় কোন ইস্যুটি সবচেয়ে মাঠ গরম করে? নিঃসন্দেহে সেটি জঙ্গিবাদ। আর ৯১১ এর বিশেষ নাটকের পর, জঙ্গিবাদ শব্দটির সাথে ইসলাম ও ইসলাম ধর্মানুলম্বিদের জড়িয়ে, যেভাবে তাদেরকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তার তুলনা করা যায় হিটলার কর্তৃক ইহুদিদের চিহ্নিতকরনের মধ্যে। পার্থক্যটা এই যে, হিটলার কোন রাখ ঢাক করেনি, আর নব্য হিটলাররা সভ্যতা, স্বাধীনতা, মানবাধিকার এই সব বুলির আড়ালে কাজটুকু সারছে। তাদের অন্যতম সঙ্গি হচ্ছে কিছু প্রভাবশালি মিডিয়া যাদের প্রভাব ছড়িয়ে আছে সারা বিশ্বে। কম্যুনিজমের পতনের পর, ইসলাম তথা মুসলমানরা নয়া বিশ্ব ব্যাবস্থার পরিকল্পনাকারিদের পথের কাটা হয়ে দাড়িয়েছিলো। হান্টিংটন সাহেব সেটা মোটেও গোপন করেননি। তাই অনেক দিন ধরে অনেক মাথা খাটিয়ে এই জঙ্গিবাদের অপবাদ দেবার কৌশল আবিস্কৃত হয়েছে। অনেকে মনে করেন একটি বিশেষ ধর্মের চরম মৌলবাদি তত্ত্ব মোতাবেক, সারা বিশ্বের মানুষকে তাদের দাসানুদাস হিসেবে পদানতের কৌশলেরই আরেক নাম এই নয়া বিশ্ব ব্যাবস্থা। আগ্রহিরা এ ব্যাপারে অন্তর্জালে অনুসন্ধান করলেই বিস্তারিত জানতে পারেন।

বাংলাদেশ বিশ্বের বাইরে নয়। তার আন্তর্জাতিক যোগাযোগও কম নয়। সামরিক গুরুত্বের দিক দিয়ে তার অবস্থান ফেলে দেবার মত নয়। তাই নয়া বিশ্ব ব্যাবস্থার ছকে তাদের বাধা পড়তেই হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের ভেতরের অর্থনৈতিক দুর্বলতা এর অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মুল রক্ষাকারি হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সেনানি এই বাহিনীরই নেতৃত্বেই বাংলার দামাল ছেলেরা ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার রক্তিম পতাকা। কিন্তু অবাক কান্ড দেখুন। স্বাধীনতার পর পরই ভারতপন্থি কম্যুনিস্ট বলে কথিত একটি মহলের কুদৃস্টি পতিত হয় এই বাহিনীর উপর। বঙ্গবন্ধু নিজেও এই মহলের পরামর্শে বিভ্রান্ত হয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটি করে বসেন।স্বাধীনতার এত বছর পার হলেও এই মহলটি এখনো ওই একই মনভাব পোষন করে থাকেন। এদের পালের গোদারা এখন সুশিল নামের ছদ্মবেশে থাকলেও, মনভাব বদলায়নি।

যাদের পরিকল্পনার ছকে বাংলাদেশ রয়েছে, তারা কিন্ত বিলক্ষণ জানে এই বাহিনীর শক্তি সমন্ধে। নিজেদের আগুণে জ্বালানো জ্বলতে থাকা আফ্রিকার মানুষদের ভেতর "শৃঙ্খলা" ফিরিয়ে আনতে নীল হেলমেট নামের "শান্তিরক্ষী বাহিনী" গঠন করে। বসনিয়ায় ইউরোপীয় বীর পুঙ্গবদের "বীরত্ব" দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সস্তায় অসম সাহসি কিছু বীর সৈনিকের। আগেই বলেছি, আমাদের অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারণে অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশিরা প্রবাসি। এর সাথে যুক্ত হলো সেনাবাহিনীর সদস্যরা। শান্তি মিশনে কাচা টাকার গন্ধে জড়িয়ে গেল এরা। আর ঠিক এটাই চাচ্ছিল নেপথ্যের কারিগড়রা। তাই তো ১/১১ এর পর সেনাবাহিনীকে ব্লাকমেইল করে বাধ্য করা হলো একটা অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকারের প্রতি সমর্থন দিতে। আর যারা এর প্রধান প্রধান পদ অলং কৃত করেছিলেন, তাদের পেছনে সুস্পস্ট সমর্থন ছিল নেপথ্যের নায়কদের।

অবৈধ এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নানাবিধ কুকর্মের দোসর হিসেবে সেনাবাহিনীর উপরও সাধারণ মানুষের একটা বিতৃষ্ণা জন্মেছিল। ফলে পিলখানার হত্যাকাণ্ডের প্রথম কয়েক ঘন্টা বিডি আরের প্রতি সাধারণের একটা সহানুভুতি ছিল। যেটা শুধু অভাবনীয় নয়, চরম অনভিপ্রেতও বটে! মাঝখান থেকে ঝরে গেলো অনেক অফিসারদের প্রাণ, যাদের অভাব পুরণের জন্য অনেক দিন সময় লাগবে। আর এই শুন্যতাও সৃস্টি করা হয়েছে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই।

এর আগে সরকারের মন্ত্রিদের মুখে জঙ্গি শুনে শুনে যখন কান পচে যাবার জোগাড়, ঠিক তখনই সেনাবাহিনীতে জঙ্গি আবিস্কার করলেন একদল বিশেষজ্ঞ, যারা নিজেদের সুশিল বলে দাবি করে। দুটি সংগঠনের ব্যানারে যথাক্রমে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ল এন্ড ইন্টারন্যাশনাল এফেয়ার্স এবং বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের পক্ষ্যে গত পরশু এই "গবেষনাধর্মি" মন্তব্যটি করা হয়। এদের পালের গোদা ওয়ালিউর রহমানকে সাংবাদিকরা যখন প্রশ্ন করেন, যে কওমি মাদ্রাসার সনদবিহীন ছাত্ররা কি করে সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন, তখন তিনি অনেকক্ষন চুপ থেকে জবাব দিলেন, " আপনাদের পয়েন্টটাও ঠিক আছে। কিন্ত আমাদের প্রাথমিক গবেষনায় এটা পাওয়া গেছে।" তাহলেই বুঝুন তাদের গবেষনার দৌড় কতটুকু! অনেকটা হাসিনা তনয় জয়ের রিসার্চ পেপারের মত যেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বোরখা বিক্রির সংখ্যাধিক্যই প্রমান করে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ত্ব। ওয়ালিউর রহমানের এই "পান্ডিত্যের" প্রমান দেখুন নিচের লিংকে।

Click This Link

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ল এন্ড ইন্টারন্যাশনাল এফেয়ার্স এবং বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশন কি?

অন্তর্জালে দেয়া তথ্যমতে প্রথমটি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি "থিংক ট্যাঙ্ক" যার সদস্যদের ভেতর রয়েছেন, সুশিল ডঃ কামাল, তার কন্যা সিমিন, আঃ লিগের ব্যাঃ আমিরুল ইসলাম ও তার কন্যা তানিয়া আমির, আঃ লিগ বিরুদ্ধে থেকে পল্টি খাওয়া ব্যাঃ রোকনুদ্দিন মাহমুদ, বি এন পির পলাতক দুর্নীতিবাজ মোরশেদ খান, দল পাল্টানোর জন্য কুখ্যাত ব্যাঃ মওদুদ, দুর্নীতিবাজ সুপুত্রের পিতা সাইফুর রহমান, আঃ লিগীয় সমর্থক জাস্টিস হাবিবুর রহমান, ডঃ জহির প্রমুখ ব্যাক্তিবর্গ।

http://www.biliabd.org/

আর দ্বিতীয়টি নিয়ে তেমন কিছু জানা যায় না। তবে যুক্তরাস্ট্র ভিত্তিক হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের মুল তত্ত্ব হলো আমেরিকার জন্য সুযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলা। যার সাথে সরাসরি বাংলাদেশের সম্পর্ক নেই। এর পরেও তারা ওয়ালিউর রহমানকে হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের এম্বেসেডর হিসেবেই পরিচয় দেয়। তাহলে প্রমানিত হয় যে, ওউলাউর রহমান সাহেব একটি বিদেশি শক্তির প্রতিনিধি হিসেবেই কাজ করছেন। যাকে চলতি ভাষায় বলা হয় দালালি। এবং আমরা এই সব দালালিকেই প্রশ্রয় দিচ্ছি। আর দালাল পোষার মত হঠকারিতা আমাদের জাতীয় জীবনে কি ধরনের বিপর্যয়ের সৃস্টি করতে পারে, সেটা আমাদের নিশ্চই অজানা নয়।


Click This Link

প্রথমে টাকার লোভ দেখিয়ে সেনাবাহিনীকে বিভ্রান্ত করা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কুমর্মের সঙ্গি করে জনগনের চোখে তাদের হেয় করা, এর পর প্রধান একটি দলপ্রধানের সন্তানকে দিয়ে সেনাবাহিনীতে জঙ্গিবাদের কল্পিত অস্তিত্বের কথা প্রচার, বর্তমান সরকারকে দিয়ে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব প্রমানের চেস্টা, পিলখানায় সেনাবাহিনীর এত গুলি অফিসার হত্যা এবং তদন্ত শেষ হবার আগেই সেখানে জঙ্গিদের সংক্লিষ্টতার কথা প্রচার, এবং সব শেষে সুশিল নামের বিদেশি সমর্থনপুস্ট চিহ্নিত লোকদের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে জঙ্গি বলে অপবাদের চেস্টা, সবই একই সুত্রে গাঁথা।

এর মাধ্যমে চেস্টা করা হচ্ছে যাতে বাংলাদেশে সার্বভৌমত্ব নস্ট হবার মত বিপদজনক পরিস্থিতির সৃস্টি হয়, যাতে নীল হেলমেটের আড়ালে তারা এবং এই উপমহাদেশে তাদের লাঠিয়াল গেরুয়াধারিদের বাংলাদেশে পাকাপোক্তভাবে গেড়ে বসার সুযোগ হয়। এই ধরণের পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য ওই অক্ষ শক্তির সমর্থনপুস্ট বর্তমান সরকারের উপর আস্থা রাখা যায় না। বরং সেনাবাহিনীর সাথে সাধারণ জনগনের ব্যাপক অংশগ্রহনই আমাদের এই বিপদজনক পরিস্থিতি রোধ করার একমাত্র উপায়।

৩০ লাখ শহিদের রক্তে স্নাত বাংলাদেশের এই স্বাধীনতা, কোন স্বার্থানেষি সংখ্যালঘু মানুষদের হাতে বিপন্ন হতে দেয়া যাবে না কিছুতেই।
১৬টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×