
দিল্লির সাথে বাংলাদেশের একটা ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। একমাত্র স্বাধীন বঙ্গদেশ বা সুলতানি আমল ছাড়া, দিল্লির সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ছিল শাসক আর প্রজার। অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার ফলে বাংলাদেশের পক্ষ্যে একটা স্বাধীন সার্বভৌম সত্ত্বা লাভ করা সত্ত্বেও দিল্লির মনভাবে সেই প্রাচীন কালের কালো ছায়া স্পস্টতই বিদ্যমান।
কেন জানি না, বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় কি করে জানি দিল্লির একটা প্রভাব রয়েই গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রি এক সময় স্বপরিবারে দিল্লিতেই থাকতেন। তার স্বামী প্রয়াত ওয়াজেদ মিয়া, দিল্লি সরকারের অধীনের চাকরি করেছেন বেশ অনেক বছর। নয়া যুবরাজ জয়ের শিক্ষাকালিন বছরগুলিও ভারতে কেটেছে। ২১ শে আগস্ট বোমা হামলার পর পরই , আওয়ামী নেতা পাতিদের প্রায় সবাই বাংলাদেশ থেকে গায়েব হয়ে, ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। আওয়ামী সমর্থক লেখক, বুদ্ধিজীবি, সাংবাদিক, এবং নাটিক পাড়ার পান্ডাদের ভারত গমন তো পানি ভাত। এমন কি ১/১১ পর যে সব আওয়ামী সন্ত্রাসির উপর আইনের চোখ পড়েছিল তাদের অনেকেরই আশ্রয় মিলেছিল ভারতে ( হাজি সেলিম, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ ইত্যাদি)।
অবশ্য ভারত বিরোধীতায় সোচ্চার বি এন পি জামাত জোটের ভেতরের কথাটিও আচরনের চেয়ে ভিন্ন ছিল। মুক্ত বানিজ্যের নামে ভারতের কাছে দেশের অর্থনীতিকে নগ্ন করে দেয়া, মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির নামে ভারতীয় চ্যানেলগুলির অশ্লীল ও বিজাতীয় সংস্কৃতির আমদানি করা, এই মহাসর্বনাশ করার হোতাই বিগত জোট সরকার।
যাই হোক, সাতকাহনটা সংক্ষিপ্ত করছি। খবরে প্রকাশ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাস্ট্রবিজ্ঞানী গওহর রিজভিকে, প্রধানমন্ত্রির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেস্টা নিয়োগ করা হচ্ছে। এই ভদ্রলোকের আত্মজীবনি থেকে জানা যায় যে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জন এফ কেনেডি স্কুল অফ গভার্নমেন্টের একজন পরিচালক ছিলেন। আচ্ছা, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলআইন জানার্লেই তো, যুবরাজ জয়ের একটা বিতর্কিত "রিসার্চ পেপার" ছাপা হয়েছিল তাই নয় কি? আবার শুনি ডঃ গওহর নাকি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাথে আঃ লিগের একটা বোঝাপড়ায় গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করেছিলেন। ঘটনা সত্যি হলে, তাকে পুরস্কার হিসেবেই এই পদে নিয়োগদান করা হয়েছে বলে বলা চলে, নাকি?
আরেকটা সুত্র বলছে, তিনি নাকি বর্তমানে দিল্লিতে ফোর্ড ফাউন্ডেশনে কর্মরত আছেন। আবারো দিল্লি। মনে হচ্ছে, দিল্লি কানেকশনের ভুত আমাদের মাথা থেকে নামবে না।
এর আগে যখন দিপুমনি, বা সাহারা খাতুনের মত আনাড়িকে মন্ত্রিত্ব দেয়া হয়েছিল, তখনও আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। অনেক বছর বাংলাদেশের বাইরে থাকা ডঃ রিজভি কি পারবেন, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সঠিক ভুমিকা পালন করতে। ঘটনাপ্রবাহ বলে, বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে সরাসরি ভুমিকা পালন করে তিনটি অক্ষশক্তি। আর তাদের নেমক খাওয়া ডঃ রিজভি এই তিনটি দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করার মত মানসিক শক্তি বা ইচ্ছা রাখেন কিনা, সেটা প্রশ্ন হতে পারে।
কথা হচ্ছে, কেন বার বার ওই দিল্লির দিকেই আমাদের তাকিয়ে থাকতে হয়?
পুনশ্চঃ সকালের বিবিসির খবরে শুনলাম, শেখ হাসিনার বিশেষ বার্তা নিয়ে দিপুমনি দিল্লি গেছেন। হায়রে খোদা। এই দিল্লির ভুত ছাড়বে কবে?
তথ্য সুত্র
http://priyo.com/news/2009/jul/10/28437.html
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


