somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই লোকটি এজন্যেই কি বাংলাদেশে এসেছিল?

২২ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবি দেখে চিনতে অসুবিধার কথা নয়, আমি কার কথা বলছি। অনেকে ভ্রু কুচকে ভাবতে পারেন, প্রতিবেশি দেশের ভুতপুর্ব রাস্ট্রপতিকে এভাবে অসম্মান করে কেন কথা বলছি। বিশেষ করে, আমাদের রাস্ট্রিয় অতিথি হয়ে যিনি কয়েকদিন বাংলাদেশে বেড়িয়ে গেলেন, কেবল ভারত বিরোধী মানসিকতার জন্যই কি তাকে অসম্মানজনক সম্বোধন করা হলো?

সোজা উত্তরটা হলো, না। তার আগে সংক্ষেপে তার সমন্ধে কিছু জেনে নেয়া যাক। ১৯৩১ সালে ভারতের চেন্নাইইয়ে জন্ম নেয়া এ পি জে আবুল কালাম, মুলত পরিচিত একজন ইঞ্জিনিয়ার ও বিজ্ঞানি হিসেবে। একটি নিম্ন মধ্যবিত্ত সংসার থেকে আসা, জনাব কালাম, তার অসাধারণ মেধা ও প্রতিভার পুর্ণ প্রয়োগ ঘটিয়ে ভারতের শীর্ষ বিজ্ঞানি থেকে রাস্ট্রপতিও হয়েছেন। ভারতের পারমানিবিক ও সামরিক শক্তিকে দানবীয় পর্যায়ে উন্নিত করার কৃতিত্বের জন্য তাকে ভারতের মিসাইল মানব হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। অনেক গুণে গুণান্বিত জনাব কালাম, সর্বভারত শ্রদ্ধেয় একজন ব্যাক্তিত্ব।

Click This Link

(তিনি যে চরম উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি বি জে পির শাসনামলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন, এই কথাটি অবশ্য উইকিপিডিয়া সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়েছে। তাছাড়া গুজরাটে সংঘটিত ২০০২ সালে ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত দফায় দফায়, চলা মুসলমান নিধন যজ্ঞের বিরুদ্ধে রাস্ট্রপতি হবার আগেও নিশ্চুপ ছিলেন। রাস্ট্রপতি হবার পরেওকোন ব্যাবস্থাও নেননি। যদিও ভারতীয় সংবিধানে, কোন রাজ্য সরকার, সে রাজ্য শাসনে ব্যার্থ হলে, রাস্ট্রপতির প্রত্যক্ষ শাসন জারি করার অনুমতি দেয়।)

কথা হচ্ছে, এমন আপাত দৃস্টিতে নীরিহ, শান্তশিস্ট প্রকৃতির উচ্চশিক্ষিত একজন লোক যখন বাংলাদেশের অতিথি হয়েই, বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধেই মন্তব্য করেন, তখন তাকে যথাযথ সম্মান দেবার কোন কারণ আছে কি?

" আমি বিশ্বাস করি, একশো কিলোমিটারের উপরে টিপাইমুখ ড্যাম নির্মিত হলে বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবে না।" ( বাংলাদেশ সফর শেষে আবুল কালামের উক্তি)

Click This Link

তথ্যসুত্রঃ দৈনিক আমাদের সময়, জুলাই ২২, ২০০৯.

কালাম সাহেব বি জে পির নিয়োগ দেয়া একজন রাস্ট্রপতি ছিলেন। তার শিক্ষাগত উৎকর্ষতা যাই হোক, অন্তত বি জেপির সাথে আদর্শিক মিল না থাকলে, রাস্ট্রপতি পদটিতে পৌছানো তার জন্য সম্ভব নাও হতে পারতো। তাছাড়া এক আঘাতেই লক্ষ লক্ষ প্রাণ সংহারের কৌশলজ্ঞান লব্ধ, কালাম সাহেব যে মানসিকভাবে মানব সভ্যতা লাওল বা রক্ষাকারিদের পক্ষ্যের লোক নন, সেটি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

তিনি এরোনটিকাল ইঞ্জিনিয়ার এবং পরমানু বিজ্ঞানি। এর বাইরে অন্তত পানি বা বাঁধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার কোন পরিচিতিই নেই। এর পরেও তার বিশ্বাসের ভিত্তি, ঠিক কিসের উপরে গড়ে উঠেছে, সেব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করা উচিত। কেননা গত ৩৮ বছরে, ছদ্মবেশি মিত্রতার মুখোশ পড়ে ভারত সরকার বরাবরই আমাদের ধবংস করার পায়তারা করেছে। তাই কালামের মত শিক্ষিত হোক, কিংবা কোন ফেরেসতা, তাদের বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করার মত হঠকারিতা আর হতে পারে না।

আমার বিশ্বাস, টিপাইমুখ বাধের ব্যাপারে, বাংলাদেশের মানুষকে কনফিউজ করার জন্যই, আগ্রাসি ভারতীয় প্রশাসন, কালামের মত নিরীহ প্রকৃতির (কিন্তু ছদ্মবেশি দানব) একজনকে পাঠিয়েছে। তবে কালাম তার নিরীহ দর্শন মন্তব্য দিয়ে যে, সেটা করতে পারেননি, সেটাও আমি দৃঢ়ভাবেই বলতে পারি।

ফারাক্কার তিক্ত অভিজ্ঞতাই বলে দেয়, টিপাইমুখ বাঁধ আমাদের জন্য কি ভয়ানক পরিণতি ডেকে আনবে। তাই এই নিয়ে ভারত সরকারের প্রতারণামুলক অপপ্রচার কিংবা সরকারের জ্বি হুজুর মার্কা পদক্ষেপ আমাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে না। তাই সে যেইই হোক, টিপাইয়ের পক্ষ্যে অযাচিত তফরদারিতে নিযুক্ত হলে, তাকে শ্রদ্ধাভক্তির কোন যুক্তিই থাকতে পারে না।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ২:২৫
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×