somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ ( আস্পর্ধা) !

২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক যে একটা কমিটি আছে জানতাম না। কারণ এ তো ধারনার বাইরে একটা জিনিস। একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের একটি অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক কোন মাথা ব্যাথা থাকাটাই তো চুড়ান্ত অসভ্যতা। তাই এর অস্তিত্ব নিয়ে কল্পনা করাটাও কস্টকর। অথচ অকল্পনীয় সেটাই বাস্তব হয়ে দেখা দিলো।

এবং আমার গত লেখাতেই যে ঘাটের মরা লর্ড এভেনেরির কথা লিখেছিলাম, তিনিই এই কমিটির প্রধান। মনে হচ্ছে, বৃটিশরা সশরীরে ভারত ত্যাগ করলেও, আত্মিক দিক দিয়ে এখনও, বিশেষ করে বাংলাদেশকে বাপের তালুক মনে করে থাকে। অন্তত ওই ঘাটের মরার কথা বার্তা শুনে তাই মনে হলো।

তবে আমাদের শাসকদের আশকারা না পেলে, এরা এত স্পর্ধা দেখানোর সাহস করতো না। যদিও পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতির চেয়ে ভারতের উঃ পুর্বাঞ্চলের অবস্থা শতগুণে বেশি নাজুক, এর পরেও সেখানে নাক গলানোর মত দুঃসাহস বাইরের কারো হচ্ছে না। কেননা ঘাটের মরাগুলি ভালো করেই জানে যে, সেখানে নাক গলাতে গেলে ভারতীয়রা তাদের বিষ্ঠাপুর্ণ সেই নাকটি ভালো করে কেটে নেবে।

সেই কমিটি বলেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিদের উচ্ছেদ করার জন্য রেশন বন্ধ করে দিতে হবে, সরকারি পর্যায়ে সকল সুযোগ সুবিধা বন্ধ করতে হবে, ওদেরকে সরিয়ে দেশের অন্যান্য স্থানে "পুনর্বাসন" করতে হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি।

তর্কের খাতিরে ধরে নিচ্ছি যে, সেখানে না হয় বাঙালিরা জোর করে পাহাড়িদের উচ্ছেদ করে, সেখানে জমি দখল করে বসতি গড়েছে। শুভ বুদ্ধির যুক্তিতে এধরণের বসতি থাকা উচিত নয়। কিন্ত এ ধরণের ঘটনা তো চোখের সামনেই ঘটছে।

তাদের নাকের ডগায়ই তো ফিলিস্তিনের লাখ লাখ মানুষকে বাস্তচ্যুত করে, উদবাস্তু বানিয়ে বিতাড়িত করে কঠোর সাম্প্রদায়িক এক অদ্ভুত রাস্ট্র ইসরাইলের সৃস্টি করা হয়েছে। এই সাম্প্রদায়িক রাস্ট্রের খাই খাই তো দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে, ফলে বসতি গড়ার নামে আশে পাশে ছিটেফোটা সবই গিলে খাচ্ছে। আর এই গিলে খাওয়ায় যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য এই রাস্ট্রটির কোন সুনির্দিস্ট সীমারেখা নেই। জ্বি, ঠিকই শুনেছেন। যারা ইসরাইলকে রাস্ট্র বলে মনে করেন, তারা অনেকে এই কঠিন সত্যটি জানেন না, অনেকে জেনেও চুপটি করে থাকেন। পৃথিবীতে এই একটাই উদাহারন, যাদের রাস্ট্রীয় সীমানা না থাকলেও পশ্চিমারা এদেরকে রাস্ট্রির মর্যাদা দিয়ে থাকে।

আবার ধরুন কাশ্মিরের কথা। ভারত ভাগের সময় দুই পক্ষ্যে সমঝোতা হয়েছিল যে, একটি অঞ্চলের যে ধর্মের জনসংখ্যা সংখ্যাগুরু সে হিসেবে ভারত কিংবা পাকিস্তানের অন্তভুক্ত হবে। নিজামের হায়দারাবাদে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল। তাই সেখানকার শাসক মুসলমান হলেও হায়দারাবাদ চলে যায় ভারতের দখলে। পক্ষান্তরে কাশ্মিরে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও, সেখানকার হিন্দু রাজা হরিসিং, ভারতভুক্তির পক্ষ্যে সাক্ষর করলে, সেটাকেই বেদবাক্য ধরে ভারত জোর করে কাশ্মিরকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলে। এই নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠলে, কাশ্মিরিদের ভোটে ব্যাপারটা ফয়সালা করার জন্য জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পাশ হয়। ব্যাস ওই পর্যন্তই। এখনও স্বাধিকারের জন্য কাশ্মিরিরা সংগ্রাম করে যাচ্ছে।

তো লর্ড এভেনেরির মত বুড়ো খাটাশটা এইসব দেখেও দেখছে না। কারণ সে জানে ইসরাইল বা ভারতের ব্যাপারে নাক গলালে, নাক কাটা যাবে। তাই তার অন্তরের খোশ পাচড়ার চুলকালি নিবারনে বেছে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া এবং অধুনা বাংলাদেশকে।

তার যা বয়স বা শরীর স্বাস্থ্য তাতে তো মনে হয়না, ক্ষুদ্ধ দেশপ্রেমিক বাংলাদেশি কারো লাঠির একটা বাড়ি খেলে, সে আর পৃথিবির আলোর মুখ দেখবে। এর পরেও, সে বাড়ি বয়ে এসে, এধরণের বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্য দেবার সাহস পেয়েছে কি করে?

হ্যা, ঠিকই ধরেছেন। আমাদের বর্তমান সরকারে তার অগণিত ভক্ত এবং গূনগ্রাহি রয়েছে। এ ধরণে দেশদ্রোহি চাটুকারদের শরীরেই সবচেয়ে প্রথমে লাঠির বাড়ি পড়া উচিত।

১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×