somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বড় বাপের পোলায় খায়...

২৮ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুরানো ঢাকার আদিবাসি, যাদের আমরা ঢাকাইয়া বলে জানি, তাদের আত্মসম্মানবোধটুকু স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বেশিই। ক্রেতা আকর্ষনে সম্ভবত, এই আত্মমর্যাদাটি আঘাত দিয়ে ব্যাবসাটি চাঙ্গা করবার অভিপ্রায়েই পাঁচ মিশেলি এই ইফতারি আইটেমটির নামকরণ করা হয়েছে। ঢাকাইয়াদের অনেক কাছে থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকেই বলি, একজন আরেকজনের কাছে কোন অবস্থাতেই মাথা নোয়াবেন না। হোক সেটা বিয়ের খাওয়া, কিংবা ঈদের কেনাকাটা অথবা কোরবানির গরু। এই জন্যই চকবাজারের ইফতারির মার্কেটে যখন বিশাল হাঁকে "বড় বাপের পোলায় খায়" শব্দটি উচ্চারিত হয়, তখন পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া একজন ঢাকাইয়া, আরেকজনকে সেটা কিনতে দেখে, শ্রেফ ওই আত্মমর্যাদা রক্ষায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিনতে বাধ্য হন। মাঝখান থেকে লাভ হয় ওই ব্যাবসায়ির। (যিনি নিজেও একজন ঢাকাইয়া)।



এই পাঁচ মিশেলি ইফতার আইটেমটির সম্বন্ধে পুরানো ঢাকার লোকজন অনেক অনেকদিন আগে থেকেই জ্ঞাত। কিন্ত এর বাইরের এলাকার লোকজন এ সম্বন্ধে জেনেছেন অনেক অনেক পরে। তাও এ নামে একটি ইফতার আইটেম আছে এতটুকুই। অন্যান্য ইফতারি আইটেমের তুলনায় সম্পুর্ণ আলাদা এবং বৈচিত্রপুর্ণ এবং শুধু মাত্র চকবাজারে রোজার সময় লভ্য। এখন হয়তো বিচ্ছিন্নভাবে আরো দু একটা জায়গায় এটা পাওয়া গেলেও যেতে পারে। কিন্ত আদি উদ্ভাবকের রহস্যময় মিশ্রনের ফর্মুলাটা সেই পরিবারের মধ্যেই শুধু রয়ে গেছে বিধায়, সেটা আদৌ "বড় বাপের পোলায় খায়" কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

যেহেতু এই আইটেমটার সাথে কঠিন পারিবারিক ঐতিহ্য এবং ব্যাবসায়িক স্বার্থ জড়িত, তাই এর রহস্যভেদ অনেক চেস্টা করেও পারা যায়নি। এব্যাপারে পুরো পরিবার একেবারে মুখে তালা লাগিয়ে রেখেছেন। তবে, খুব তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে, এই বস্তটির উপকরণগুলি কি কি সেটা জানা সম্ভব।

একটা জিনিস বলে রাখা ভালো, যে চকবাজার এলাকাটিই ঘনবসতি পুর্ণ এবং রাস্তা ঘাট অত্যন্ত সরু বলে সারা বছরই ট্রাফিক জ্যাম লেগে থাকে। যে সময় রিক্সায় চড়েই, পংখিরাজের মত সারা ঢাকা শহর ঘুড়ে বেড়ানো যেত, সে সময়েও এই চকবাজারের প্রবেশ এবং নির্গমন খুবই ধৈর্যসাধ্য ছিল। আর এখন তো, অবস্থা আরো বেগতিক। সেই সাথে যখন ইফতারির বাজার বসে তখন এলাকাটার অবস্থা যে কি দাড়ায়, সেটা ভাষায় প্রকাশ অসম্ভব।

এই চরম ভীড়, গাদাগাদি, চিৎকার, শোরগোলের মধ্যে, তাও আবার ব্যাবসার সময়, দাড়িয়ে থেকে এই আইটেমের পদগুলি গোনা খুব সহজ সাধ্য ছিল না।

যাই হোক, যানযট আর ভীড় ঠেলাঠেলি না করেই, ঘরের শান্ত পরিবেশে জেনে নিন এর উপকরনগুলি।

১। চিড়া
২। মুরগির রোস্টে মাংস টুকরা টুকরা করা।
৩। মগজ।
৪। কলিজা।
৫। মাংসের রেজালা।
৬। কুঁচানো সেদ্ধ ডিম ।
৭। পেয়াজের বেরেস্তা।
৮। কাবাব

আরো কিছু আইটেম থাকা খুবই সম্ভব। কেননা তারা বাড়ি থেকেই ৯০ ভাগ তৈরি করে নিয়ে আসেন। বিক্রি করার সময় শুধু সব আইটেমগুলি মিশিয়ে দেন। তবে এই মিশ্রনটির অনুপাত ঠিক না হলে, সেটা সুস্বাদু হবে না। এবং একমাত্র তারাই জানে, কোন আইটেম কতটুকু মেশাতে হবে।

আমাদের দেশের আনাচে কানাচে কত বৈচিত্রময় জিনিস ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। অথচ তার অনেক কিছুওই আমাদের অজানা। এজন্যই বোধ হয় কবি লিখেছিলেন, "দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে দুটি পা ফেলিয়া..."

সবশেষে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছিল, সহব্লগার শামসীর ভাইয়ের। ইফতারি আইটেমের কিছু মজাদার ছবি তিনি তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। সেখান থেকে "বড় বাপের পোলায় খায়" এর ছবিটা ধার করে এখানে দিয়েছি। যারা সে পোস্ট দেখেননি, নীচের লিংকে গিয়ে দেখে আসতে পারেন। তবে এর কারণে রোজা হাল্কা হলে, সে দ্বায়িত্ব আমি বা শামসীর ভাই নিচ্ছি না।;)

Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:৫১
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×