এই পাঁচ মিশেলি ইফতার আইটেমটির সম্বন্ধে পুরানো ঢাকার লোকজন অনেক অনেকদিন আগে থেকেই জ্ঞাত। কিন্ত এর বাইরের এলাকার লোকজন এ সম্বন্ধে জেনেছেন অনেক অনেক পরে। তাও এ নামে একটি ইফতার আইটেম আছে এতটুকুই। অন্যান্য ইফতারি আইটেমের তুলনায় সম্পুর্ণ আলাদা এবং বৈচিত্রপুর্ণ এবং শুধু মাত্র চকবাজারে রোজার সময় লভ্য। এখন হয়তো বিচ্ছিন্নভাবে আরো দু একটা জায়গায় এটা পাওয়া গেলেও যেতে পারে। কিন্ত আদি উদ্ভাবকের রহস্যময় মিশ্রনের ফর্মুলাটা সেই পরিবারের মধ্যেই শুধু রয়ে গেছে বিধায়, সেটা আদৌ "বড় বাপের পোলায় খায়" কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
যেহেতু এই আইটেমটার সাথে কঠিন পারিবারিক ঐতিহ্য এবং ব্যাবসায়িক স্বার্থ জড়িত, তাই এর রহস্যভেদ অনেক চেস্টা করেও পারা যায়নি। এব্যাপারে পুরো পরিবার একেবারে মুখে তালা লাগিয়ে রেখেছেন। তবে, খুব তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে, এই বস্তটির উপকরণগুলি কি কি সেটা জানা সম্ভব।
একটা জিনিস বলে রাখা ভালো, যে চকবাজার এলাকাটিই ঘনবসতি পুর্ণ এবং রাস্তা ঘাট অত্যন্ত সরু বলে সারা বছরই ট্রাফিক জ্যাম লেগে থাকে। যে সময় রিক্সায় চড়েই, পংখিরাজের মত সারা ঢাকা শহর ঘুড়ে বেড়ানো যেত, সে সময়েও এই চকবাজারের প্রবেশ এবং নির্গমন খুবই ধৈর্যসাধ্য ছিল। আর এখন তো, অবস্থা আরো বেগতিক। সেই সাথে যখন ইফতারির বাজার বসে তখন এলাকাটার অবস্থা যে কি দাড়ায়, সেটা ভাষায় প্রকাশ অসম্ভব।
এই চরম ভীড়, গাদাগাদি, চিৎকার, শোরগোলের মধ্যে, তাও আবার ব্যাবসার সময়, দাড়িয়ে থেকে এই আইটেমের পদগুলি গোনা খুব সহজ সাধ্য ছিল না।
যাই হোক, যানযট আর ভীড় ঠেলাঠেলি না করেই, ঘরের শান্ত পরিবেশে জেনে নিন এর উপকরনগুলি।
১। চিড়া
২। মুরগির রোস্টে মাংস টুকরা টুকরা করা।
৩। মগজ।
৪। কলিজা।
৫। মাংসের রেজালা।
৬। কুঁচানো সেদ্ধ ডিম ।
৭। পেয়াজের বেরেস্তা।
৮। কাবাব
আরো কিছু আইটেম থাকা খুবই সম্ভব। কেননা তারা বাড়ি থেকেই ৯০ ভাগ তৈরি করে নিয়ে আসেন। বিক্রি করার সময় শুধু সব আইটেমগুলি মিশিয়ে দেন। তবে এই মিশ্রনটির অনুপাত ঠিক না হলে, সেটা সুস্বাদু হবে না। এবং একমাত্র তারাই জানে, কোন আইটেম কতটুকু মেশাতে হবে।
আমাদের দেশের আনাচে কানাচে কত বৈচিত্রময় জিনিস ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। অথচ তার অনেক কিছুওই আমাদের অজানা। এজন্যই বোধ হয় কবি লিখেছিলেন, "দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে দুটি পা ফেলিয়া..."
সবশেষে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছিল, সহব্লগার শামসীর ভাইয়ের। ইফতারি আইটেমের কিছু মজাদার ছবি তিনি তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। সেখান থেকে "বড় বাপের পোলায় খায়" এর ছবিটা ধার করে এখানে দিয়েছি। যারা সে পোস্ট দেখেননি, নীচের লিংকে গিয়ে দেখে আসতে পারেন। তবে এর কারণে রোজা হাল্কা হলে, সে দ্বায়িত্ব আমি বা শামসীর ভাই নিচ্ছি না।
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




