somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আওয়ামী লিগের মুখে বাংলা বগলে ভারত মাতা। ধোঁয়া বোমায় অন্ধ আমরা

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ধোঁয়া বোমা ব্যাবহার করে, প্রতিপক্ষ্যের রক্ষণবুহ্য ভেদ করার রণ কৌশল নেয়া হতো। সেই ধোয়া বোমার ব্যাবহার আজো সেভাবে আছে কিনা জানি না। তবে সাম্প্রতিক আঃ লিগের কীর্তি কর্মে যে ধোয়া বোমায় জাতিকে অন্ধ করে, ভারতের স্বার্থ রক্ষার চেস্টা চলছে সে বিষয়ে এক মাত্র অন্ধ ভারতপ্রেমীরাই দ্বিমত পোষন করতে পারেন।

দেশের টক অফ ডা টাউন হলো, জলিলের করা কিছু উক্তি। এতদিন যা অনেকের মনে সন্দেহের কাঁটা হয়ে ছিল, তার মন্তব্যে সেটা এখন জলের মত স্বচ্ছ। হাসিনা আর আঃ লিগ এমন কিছু দেশ উদ্ধার করে ফেলেনি বা বি এন পি এমন সাড়ে সর্বনাশ করে ফেলেনি, যে দেশবাসি নানক আযমদের মত দুর্বৃত্তদের ভোট দিয়ে নিরংকুশ ক্ষমতায় বসাবে। তাছাড়া যে দুর্নীতি নিয়ে এত হাকডাক হৈ চৈ, সেই অভিযোগে স্বয়ং হাসিনার নামেই ১৯টা মামলা ছিল (তারেকের চেয়ে মাত্র ৫টা বেশি)। অথচ এত বড় বড় অভিযোগ আর মামলা সাথে ভারতপ্রীতি দেখানো হাসিনাকে জনগণ সংসদে দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়যুক্ত করে ক্ষমতায় বসাবে, এমন বিশ্বাস যারা করেন, তারা বাস্তবিকই অন্ধ।

আওয়ামী ভারতপ্রেমিক জেঃ মইনের তত্ত্বাবধানে যে নির্বাচন, তাতে কঠিন মারপ্যাচ না থাকলে, আঃ লিগের এই ধরণের নিরংকুশ বিজয়ের প্রশ্নই আসতো না। হরতালের নামে সন্ত্রাসে রাজ্য কায়েম করা, বাকশালি মনবৃত্তির আঃ লিগ কোন যোগ্যতায় বাংলাদেশ শাসন করতে পারলো, তার উত্তর ফকরু মইনের শাসনের সময়, হাসিনার কর্মকান্ডের মধ্যেই নিহিত।ক্ষমতায় আসলে তত্ত্ববধায়ক সরকারের সব কাজের বৈধতা নিশ্চয়তা কে দিয়েছিল? সংবিধান লংঘন করে দুই বছর ফকরু আর মইনের অবৈধ শাসনকে বৈধতা দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাসিনার আঃ লিগ প্রমান করলো, তারা সংবিধানকে ইচ্ছামত সাজাতে চায়।

সংবিধানের প্রসঙ্গ যখন আসলো, তখন আরেক খবর। তারা নাকি পঞ্চম সংশোধনি বাতিল করবে। অথচ পঞ্চম সংশোধনির মাধ্যমে বাকশাল কায়েম করা চতুর্থ সংশোধনিকে বাতিল করা হয়েছিল। এখন পিঞ্চম সংশোধনি বাতিল করে মুলত আবারো বাকশাল কায়েম করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আর মুক্তিযুদ্ধে মুল নীতি রচনার সময় যে, ভারতীয়রা নাক গলায়নি, তার নিশ্চয়তা কোথায়? সেই বাকশালি শাসন কায়েমের জন্য, এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধব্জা ধরা হচ্ছে। সেটা হলো ধোঁয়া বোমা নম্বর এক।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ফেরিওয়ালারা, বেশ আট ঘাট বেধেই নেমেছে। তাই গোপনে এরা ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে ( ভারতকে স্থল-সমুদ্র বন্দর প্রদান, করিডোর প্রদান, টিপাইমুখ বাধ নির্মানে সবুজ সংকেত, দ্বিপক্ষিয় গুরুত্বপুর্ণ ইস্যুগুলিতে মুখে কলা দেয়া, সীমান্তে সীমান্ত রক্ষিদের সই পাতানো) আর প্রকাশ্য যুদ্ধপরাধি ইস্যু নিয়ে উলম্ফন, স্বাধীনতার চেতনার কীর্তন পরিবেশন, শেখ গুষ্ঠির নানা রকম সত্য মিথ্যা দিয়ে ঢাকা ইতিহাস বর্ণনা, হাসিনা আর তার গুস্টির জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে ছিচকাদুনি ইত্যাদি। যাতে এই সব ডামাডোলের আড়ালে তাদের কুকীর্তিগুলি ধামাচাপা পড়ে যায়। এই গুলিও ধোঁয়া বোমা।

এদের সাথে হাত মিলিয়েছে আবার ভারতপন্থি কম্যুনিস্টের দল, যারা উচ্ছিস্টের লোভে কুকুরের মত নিজ দলীয় আদর্শকেই বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছে। এদের মিডিয়া উইং অবিরত ভারত বন্দনায় লিপ্ত।

বাংলার কাকস্যকন্ঠি এক গায়িকার এ টি এনের মালিক স্বামী, আঃ লিগ ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধের উপর একটা সিডি বাজারজাত করেছিল। উদ্দেশ্যে পাব্লিককে বুঝিয়ে দেয়া যে, মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র সোল এজেন্ট হলো আঃ লিগ। ভালো কথা। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তার আসল চেহারাটা বের হয়ে গিয়েছে, যখন ঈদ অনুষ্ঠানে তিনি ভারত থেকে কিছু সস্তা মাউড়া গায়ক দিয়ে হিন্দিতে অনুষ্ঠান করে সেটা সম্প্রচার করেছেন। বলি, ব্যাক্তিগত পর্যায়ে ভারত আর ওর রাস্ট্রভাষাকে যে যেমন খুশি পুজা করুক, তাই বলে জাতীয়ভাবে হিন্দি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা কোন চেতনার মধ্যে পড়ে? একই কথা বলা যায়, খদ্দর পড়া একদা সোভিয়েত এম্বেসিতে ভবঘুরের মত ঘোরা, সদ্য পুজিবাদি আঃ লিগ এম পি আসাদ নুরের দেশ টিভির বেলাতেও। এদের সাথে যোগ দিয়েছে, মিচকা শয়তান সাগর আর সাইখের চ্যানেল আই। প্রিন্ট মিডিয়া তো আগে থেকেই ছিল, এখন চ্যানেলগুলিতেও কল্কে পেয়ে, আওয়ামী বাকশালিরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এই সবই ধোঁয়া বোমা বৈত নয়।

আঃ লিগ বেকায়দায় পড়লেই, তাকে উদ্ধার করতে, দেশের আনাচে কানাচে থেকে অসহায় মুক্তিযোদ্ধা খুজে পেতে বের করে, তার নামে বিরহমুলক আলেখ্য লেখা হয়। লোকজন সঙ্গতকারণেই সেগুলি শোনে, আবেগাপ্লুত হয়। আর আঃ লিগের কুকীর্তিকে ভুলে যায়। নইলে, দলীয় ক্যাডারদের বাইরে তো আঃ লিগ অন্য কেউকে মুক্তিযোদ্ধা বলে স্বীকারই করে না। মেজর জলিল বীরত্বের খেতাব পান না। আর পচা নর্দমার মত মুখের অধিকারি সাজেদা, কিংবা রাজাকারের সাথে বৈবাহিক সমন্ধপাতা, আঃ লিগের সব সন্ত্রাস আর দুর্নীতির সেকেন্ড ইন কমান্ড শেখ সেলিম, জিয়ার মত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করে কথা বলার সাহস করে।

স্বাধীনতার পর তো তোরাই ক্ষমতায় ছিলি। তো তখন কেন তোদের মনে হলো না, দেশের জন্য যারা যুদ্ধ করেছে, তাদের মুল্যায়ণ করতে?৬ সালেও ক্ষমতায় ছিলি, এখনও ক্ষমতায়। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মায়াকান্না ছাড়া কিছুওই করিসনি তোরা। এখন কুকীর্তি আর দেশ বেচার ষড়যন্ত্র চোখের আড়াল করতে, তোরা মহান মুক্তিযুদ্ধকে ব্যাবহার করিস। তোদের লজ্জা শরম কোনদিন ছিল না, হবেও না।

পাঠক, অনুগ্রহ করে, এই সব ধোয়া বোমায় অন্ধ হয়ে যাবেন না। আঃ লিগ যা শুরু করেছে, স্বাধীনতার সুর্য অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত তারা ক্ষান্ত দেবে না। পঃ বঙ্গের বাঙ্গালিরা যেমন খোট্টা মাউড়াদের চটির তলায় মাথা পেতে বসে আছে, আমরাও ঠিক সেই পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছি। তাই শত চেতনার ফেরি করলেও, আঃ লিগের কুকীর্তি থেকে একবিন্দু দৃস্টি ফেরাবেন না। স্বাধীনতার ৩৮ বছর সাক্ষি, আঃ লিগ হলো নব্য মীর জাফর, ঘসেটি বেগম আর জগৎ শেঠদের দল।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৬
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×