আমার প্রিয় পোস্ট

সবুজের বুকে লাল, সেতো উড়বেই চিরকাল

অতঃপর ক্লাব নিয়ে সাতকাহন ( একটি ছবি + লেখাব্লগ)

০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৩০

শেয়ারঃ
0 0 0

ঢাকা ক্লাবে ঘটে যাওয়া ঘটনা এখন টক অফ দা টাউন। বিশেষ করে ক্লাব প্রেসিডেন্ট পস সেলিমের বক্তব্য যেন আগুনে ঘৃতাহুতির মত। এই নিয়ে যে বাদ প্রতিবাদ তার ঢেউ ব্লগেও এসে লেগেছে।



১৮৭০ সালে এই সেই ঢাকা ক্লাব


পশ্চিমা রীতিতে সামাজিক মেলামেশার কাজটি সাধারণত ক্লাবেই সারা হয়ে থাকে। ঢেকি যেমন স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙ্গে তেমনি বৃটিশরাও তাদের ঔপনেবেশিক শাসনামলে, অবিভক্ত ভারতের প্রচুর ক্লাব তৈরি করে করেছিল। সাধারণত বৃটিশ সেনাবাহিনীতে কর্মকত অফিসারদের বিনোদনকেন্দ্র হিসেবেই এই সব ক্লাব তৈরি হয়। তবে সেখানে বৃটিশরাজের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কর্মচারি সবাই উপস্থিত হতেন। প্রথম দিকে সেখানে নেটিভ অর্থাৎ ভারতের স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি নিষিদ্ধ হলেও, পরে, তৎকালিন সমাজের উচ্চবিত্ত নেটিভরাও বিশেষ আমন্ত্রনে উপস্থিত হতে পারতেন।



চট্রগ্রামের ইউরোপিয়ান ক্লাব। যেখানে হানা দিয়েছিলেন সুর্যসেন।

এই ক্লাবগুলিতে শুধু বিশ্রাম নয় অনেক কিছুই চলতো, যা সর্বভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থি। বৃটিশদের উচ্ছিস্টভোগি কিছু কর্মচারি এবং রাজা মহারাজা উপাধিপ্রাপ্তরাও সেখানে যেতেন। উদ্দেশ্যে ধন সম্পদ বা কৃষ্ণকেশি স্থানীয় সুন্দরি ললনাদের ঘুষ দিয়ে নিজের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানকে আরো পাকা করা।



কলকাতা ক্লাব

এই ক্লাবে বসেই ভারতের জনগণকে আরো কি কি উপায়ে বাঁশ দেয়া যায়, সে সব পরিকল্পনাও করতো বৃটিশরা। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের সুতিকাগারও ছিল বৃটিশ এই ক্লাবগুলি।




বৃটিশরা যখন নেটিভদের জন্য আধুনিক শিক্ষাব্যাবস্থার প্রচলন করলো, তখন কট্টর ঔপনিবেশিক বৃটিশরা এর বিরোধিতা করেছিল। উওরে এই শিক্ষাব্যাবস্থা প্রচলনের পক্ষ্যে বলা হয়েছিল, আমরা এমন একটি শ্রেণি সৃস্টি করে যাবো, যারা চেহারায় ভারতীয় হবে বটে, কিন্ত মন মানসিকতা চলনে বলনে খাটি বৃটিশ হবে। আমাদের স্বার্থোদ্ধারে, এরাই অগ্রদুতের ভুমিকা পালন করবে।



সারা বিশ্বে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে বিভেদ হিংসা দ্বেষের বীজ বপনকারিদের একমাত্র হলো বৃটিশরা। তারই ধারাবাহিকতায় এখনও সারা বিশ্বে অনৈক্য এবং বিভেদ বজায় আছে। যেমন আমেরিকায় সাদা কালো, ভারতে হিন্দু মুসলিম কাশ্মির পাঞ্জাব, ইরাক-কুয়েত, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল, আফ্রিকায় বিভিন্ন উপজাতীয়, বাংলাদেশে পস - নন পস ইত্যাদি। ক্লাবগুলি ছিল এধরণের বিভেদ রচনার গোপন সুতিকাগার।



জৌলুস আর ভোগবিলাসের অন্যতম তীর্থ লাস ভেগাসের জনপ্রিয় শ্লোগান হচ্ছে, Whatever happens in Vegas stays in Vegas



বৃটিশরা এই নিয়ম অনেক আগে থেকেই অনুসরণ করতো। ফলে ক্লাবে বসে আনন্দ ফুর্তিই বলুন কিংবা ষড়যন্ত্রের কাহিনী, সেটা প্রকাশ পেতে অনেক অনেক দিন পার হয়ে গিয়েছে। নব্য সাহেবরাও বৃটিশ আচারের সাথে সাথে এই গোপনীয় রক্ষার কাজটি খুব যত্ন করে অনুসরণ করে থাকেন।



বৃটিশদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য অনুসরণ করে, তাদের শুন্য ক্লাবগুলি প্রতিস্থাপিত হয়েছে দেশীয় প্রভাবশালিদের। সারা ভারত বর্ষেই এধরণে অসংখ্য ক্লাব আছে। যার অনেক গুলিই অবশ্য সাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভারতে।

আমাদের ব্যাপারটা অবশ্য অন্যরকম। ঢাকা ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব তো ছিলো, সেগুলির পিছু পিছু অভিজাতদের জন্য ক্রমেই বনানি ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, বারিধারা ক্লাব, আরো কত ক্লাব গড়ে উঠেছে। এখানেও যা কিছু চর্চা হয়, সেটা আমাদের বৃত্ততর সংস্কৃতির চরম পরিপন্থি বটে।

ফিরে আসছি ঢাকা ক্লাবের কথায়। ঐ যে বল্লাম, বৃটিশরা চলে গেলেও রেখে গেছে মন মানসিকতার কিছু স্থানীয়দের। যারা ক্ষমতার নেপথ্যের কারিগর হিসেবে বিভিন্ন সময়ে ভুমিকা রেখে থাকেন। ঢাকা ক্লাবের সদস্যপদ নেবার জন্য এতো বিশাল অংকের চাঁদা দিতে হয় যে, সেটা বহন করা সাধারণ তো দুরের কথা অনে বিত্তবানেরও ইচ্ছা জাগে না। শুধু চাদা দেবার সামর্থ্য থাকলেই চলবে না, সমাজের প্রবল প্রভাবশালি কারো রেফারেন্স ছাড়া সেখানে সদস্যপদ লাভ করা অসম্ভব।

এমন ঢাকগুরগুর অবস্থা সেখানে কেন, সেটা ঢাকা ক্লাবের মহারথিরা কেউ মুখে না বললেও, ইতিহাস বিচার করে সেটা আন্দাজ করা মোটেও কস্টকর কিছু নয়।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৪৩
অন্যরকম বলেছেন: পস-ননপস! বর্ণবাদের নতুন টার্ম!

+
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৫৫

লেখক বলেছেন: সহমত অন্যরকম ভাই। অশেষ ধন্যবাদ।

০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৫৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শামিম ভাই। কেমন আছেন? অনেকদিন পর দেখলাম আপনাকে।

৩. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৫০
সবুজ অঙ্গন বলেছেন: গুড পোস্ট। প্রিয়তে।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৫৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ উজ্জ্বল ভাই।

৪. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:০০
পড়ুয়া_পড়ুয়া বলেছেন: মতামত ভালো লাগলো । প্লাস দিলাম ।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:০৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ুয়া ভাই।

০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:১০

লেখক বলেছেন: কোন তথ্যের সুত্র চাইছেন, জানালে বাধিত হতাম পথিক ভাই।

৬. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:০৭
শয়তান বলেছেন: চান্দার এ্যামাউন্ট ব্যপারর্স না । ঐ টাকার অনেকগুন ফেরত চইলা আসে টেবিল ডিল এ ।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:১২

লেখক বলেছেন: আমি তাই বলি শয়তান ভাই। চান্দা তো আছেই, সাথে খুব শক্ত খুটির রেফারেন্স ছাড়া কাজ হয় না। জি এম জি এয়ারলাইন্সের মাথা যারা, তাদের ঢাকা ক্লাবের মেম্বারশিপের জন্য আজিজ মোঃ ভাইয়ের রেফারেন্স লেগেছিল।

৭. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:১৫
পড়ুয়া_পড়ুয়া বলেছেন: ঢাকা ক্লাব বা গুলশান ক্লাব বা এ ধরনের আরো যেসব এলিট ক্লাব আছে আমাদের দেশে সেগুলোর ইতিহাস জানতে পারবো কোথ্থেকে ? কোনো অনলাইন রেফারেন্স আছে ? বা কোনো বই ? পাশাপাশি এই ক্লাবগুলোর কালচারাল প্রাকটিস সম্পর্কে যদি আরো জানা থাকে তাহলে জানালে বাধিত হবো ।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:২৭

লেখক বলেছেন: পড়ুয়া ভাই, এ ব্যাপারে আগেই বলেছি যে, যথেষ্ঠ গোপনিয়তা রক্ষা করা হয়। সে সব ছিটেফোটা খবর বাইরে আসে, সেটা সেখানকার সদস্যদের সাথে দহরম মহরম থাকার ফলে। তাই ইন্টারনেট বা পত্র পত্রিকায় এসব খবর আসে না। তাই রেফারেন্স দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে বৃটিশদের ক্লাব কালচার সমন্ধে জানার জন্য নিমাই ভট্টাভার্যের "সুর্যোদয়" বইটা পড়লে জানা যাবে। ইন্টারনেটে বৃটিশরাজ সার্চ করলেও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।

ক্লাব কালচার মোটামুটি সবই একই রকম। সুরা সাকি জুয়া মোদ্দা কথা উদ্দাম ভোগবাজি, এবং ক্ষেত্র বিশেষ ব্যাবসা বা রাজনীতির ডিল। এখানে এমন সব কিছু হয়, যা সমাজের চোখের সামনে করা সম্ভব হয় না।

৮. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:৩৮
ফারহান দাউদ বলেছেন: ব্যাপক লেখা, পর্যবেক্ষণের সাথে পুরোপুরি একমত।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:৪৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফারহান ভাই। কেমন আছেন?

৯. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:৪২
নাজমুল হক রাসেল বলেছেন: ভালো হইছে। ছবি গুলান ভালো লাগসে
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:০৮

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ রাসেল ভাই।

১০. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:৪৯
অন্যরকম বলেছেন: হুমম.... কমেন্টগুলো পর্যবেক্ষণে!

গোলটেবিল বা রুদ্ধদ্বার কন্সপিরেসি এইসব জায়গাতেই হয়! বিশেষ করে রাজনৈতিক বা নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এইসব "এলিট"(!) কেলাব থেকেই অনেক সিদ্ধান্ত আসে।

উড়ায় দিতে পারলে ভালই হইত! X(
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:১০

লেখক বলেছেন: আনটাচেবল ছবিটা দেখেছিলেন? আমাদের সমাজেও এ রকম আনটাচেবলরা আছেন। এদেরই মিলনক্ষেত্র এই সব ক্লাবগুলি।
(উত্তরা ক্লাবে সব রাজনীতিবিদদের পোলাপাইনদের দেখা পাবেন)

১১. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:৩২
সমর্পিত বলেছেন: ছবিগুলোর জন্য ধন্যবাদ...লেখাটাও চমৎকার। যোগান্বিত (+) করলাম।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৯

লেখক বলেছেন: মন্তব্য এবং যোগাংকের জন্য অনেক ধন্যবাদ সমর্পিত ভাই।

১২. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:৪০
অন্যরকম বলেছেন: আনটাচেবল দেখি নাই.... তয় নাম শুনছি.... ঠিকাছে... নামাই নিমু! :)
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৫:৫০

লেখক বলেছেন: পুরানো ছবি, আশা করি খুজে পাবেন।

১৩. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৪:৩৫
রিয়াজ উল বলেছেন: ধন্যবাদ এমন লেখার জন্য.....মুভিটাও দেখার ইচ্ছা আছে।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৫:৫৩

লেখক বলেছেন: অশেষ ধন্যবাদ রিয়াজউল ভাই। হু দেখে ফেলেন। ভালো থাকবেন।

০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৫:৫৪

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ সৌম্য ভাই।

১৫. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৫:৪২
রামন বলেছেন: অনেক ভাল লেগেছে আপনার লেখাটি। সে সাথে হারানো দিনের ছবিগুলো । ঢাকা ক্লাবে কিশোর বয়সে একবার যাওয়া হয়েছিল একটি বিয়ের দাওয়াত উপলক্ষে। দাঁড়িয়ে দাড়িঁয়ে খেতে হয়েছিল বলে এখনও সেই স্মৃতিটি মনে আছে।
তখনকার ঢাকা ক্লাবটি ছিল ভাবগাম্ভীর্য ঐতিহ্যবাহী একটি স্হান যেখানে সমাজের উচ্চস্তরের ধর্নাঢ্য এবং বিলাসি ব্যাক্তিরা আড্ডা জমাতেন। ক্লাবটির এখনকার মত এত বদমামও ছিল না । জুয়াখেলা, ব্যাভিচার ইত্যাদি ন্যাক্কারজনক ঘটনা সেখানে ঘটেছে এমনটি শোনাও যেত না ।তবে যে ইতিহাস নিয়ে বলছি সেটি ৩০ বছর আগের কথা । এখনকার প্রক্ষাপট সম্পূর্ন ভিন্ন । আনেক হীন চরিত্রের লোক প্রচুর বিত্তের মালিক হয়ে এলিট সমাজে ঠাই নিয়েছে। সদস্য বনে গেছে। সেটি অন্য আরেকটি ইতিহাস।

আমার ধরনা মতে, সেখানে এখন যা যা ঘটছে সেজন্য বৃটিশদের দায়ী না করে আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের অধঃপতন এবং নৈতিক অবক্ষয়কে দায়ী করতে পারি।

ধন্যবাদ ধীরব ভাই আপনাকে সময়পোযোগী পোষ্টটির জন্য। ঢাকা ক্লাবের দোর প্রাঙ্গনে তবন কেলেঙ্কারীর ঘটনা না ঘটলে হয়ত ক্লাবের ইতিহাস এবং দূর্লোভ ছবিগুলো চোখের আড়ালে রয়ে যেত।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৬:০০

লেখক বলেছেন: প্রতিবারের মত এবারেও আপনার সুচিন্তিত মতামত পেয়ে অনেক বাধিত হলাম রামন ভাই।

আমার চেনা পরিচয়ের মধ্যে কারো বিয়ে ঢাকা ক্লাবে হয়নি, তাই যাওয়া হয়নি। তবে আপনার ইতিহাস বর্ননা শুনে ভালো লাগলো যে, নৈতিক অবক্ষয়ের শুরুটা অনেকদিন পর। তবে বৃটিশ আমলে, ক্লাবগুলির অবস্থা যেমন ছিল, সেটাই লেখায় বর্ণনা করেছি। তথ্যসুত্র হিসেবে এসেছে নিমাই ভট্টাচার্যের নাম। এছাড়াও মনে করতে পারছি না বলে, ভারতের আরো অনেক লেখককের লেখা থেকে উদ্ধৃতিও দিতে পারছি না।

কোন ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত সেই স্থান কাল পাত্র নিয়ে আমাদের লেখা হয়ে উঠে না। লেখক হিসেবে আমার এই দুর্বলতাকে স্বীকার করে নিতেই হচ্ছে।

পুরানো দিনের ছবি কালেকশন আমার একটা হবির মত। আলসেমি লাগে, নয় সময় পাই না। নইলে শুধু ছবি দিয়েই কয়েকটা পোস্ট দিতে পারতাম। মাঝে মাঝে অতীতচারণ করলে কিন্ত বেশ ভালোই লাগে। কি বলেন?

১৬. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:৫৪
মইন বলেছেন: আইজকা পত্রিকায় পড়লাম, হুমায়ুন আহমেদ নাকি ঢাকা ক্লাবের সদস্য। তিনি নাকি একবার স্যান্ডেল পড়ে যাওয়ায় ক্লাবে ঢুকতে দেয়নি। অতপর কথায় কথায় লুংগি, ধুতির কথা জানতে পারেন তখন নাকি জিজ্ঞেস করেন, কবিগুরু এবং আরও প্রমুখরা আসলে তাদের ঢুকতে দেওয়া হবে কিনা। ঢাকা ক্লাব গর্বের সাথে বলেছিল, নো এন্ট্রি। অতপর হুমা.আহ গর্বের সাথে ঢাক্লা-এর সদস্যপদ নিয়েছিলেন।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৮

লেখক বলেছেন: মুখে সবাই রাজা উজির মাইরা ফেলে ভাই। লোকের সামনে দেখায় এক, পিছে আরেক। চিনে রাখেন এদেরকে।

১৭. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:৫৮
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: বা;লাদেশের প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী,সবগুলা সচিব, সবগুলা জেনারেল, সবগুলো প্রফেসর, সবগুলো ডক্টরেটকে ইন্টারভিউ নিন|

৯৯% এর বাবা লু;গি পরিধান করেছে|
৯৯% এর দাদা লে;টি পড়ে মাঠে হাল চাষ বা ক্ষেত নিরানি দিয়েছে|


১% এলিট আমলার ও চোর ব্যাবসায়ীর কালো টাকা হয়েছে, আজ ঢাকা ক্লাব, গলফ ক্লাব, ড্রেস কোড ভ; চ; শুরু করেছে|

এলিট গুলারে জুতা দিয়া পিটাইয়া পাছার ছাল তুলে ফেলতে পারলে শান্তি পেতাম........!!!!!!!!!!

(+++++)
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:৫১

লেখক বলেছেন: দারুন কথা বলেছেন, বিদ্রোহি ভাই। বাংলাদেশে লুঙ্গি গেঞ্জি পড়ে নাই, এমন কেউ নাই। এর পরেও এই লুঙ্গির প্রতি এত নাক উঁচা কথা থেকে এলো, সেটা গবেষনার বিষয়।

আমার তো মনে হয়, জাতিয় পোষাক লুঙ্গি করা হোক। বার্মিজ, থাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এরা সবাই লুঙ্গি পড়তে পারলে, আমাদের লুঙ্গি নিয়ে এত লজ্জা কিসের? অশেষ ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:২১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ স্পেলবাইন্ডার ভাই।

১৯. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৪
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন: +। ধীবর ভাই লুঙ্গিকে অপমান মানে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ কে অপমান করা। সেলিম ব্যাটা ছাগুর মত কথা বলল যে সে নিজেও লুঙ্গি পরে কিন্তু ঢাকা ক্লাবে এলাউড নয়। মনে হয় ঢাকা ক্লাব বাংলাদেশের বাইরের ক্লাব। সুন্দর লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:২৩

লেখক বলেছেন: আরে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ ভাই। অনেক অনেক সুস্বাগতম। আপনাকে দেখে অনেক ভালো লাগলো। হু... পস সেলিম কোন খুটির জোরে এসব করেছে, সেটা জানতে মন চায়।

২০. ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:০৪
লুকার বলেছেন:

এক কন্ট্রাক্টার সাহেব সেদিন বলতেছিলেন, রোডস এন্ড হাইওয়েজ এর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ঐ ক্লাবে জুয়া খেলতে যায়। হাইরা গেলে কন্ট্রাক্টারকে ফোন দিয়া কয় হাজার পঞ্চাশ টাকা নিয়া আসতে। পরে কয়েকদিনের মধ্যে কাজ দিয়া কন্ট্রাক্টররে পুষায়া দেয়।
০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:২৬

লেখক বলেছেন: মদ জুয়া মেয়েমানুষ নিয়ে ফুর্তি এই সব "আধুনিকতাকে" বাংলাদেশ থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে। কারণ এইসব বদ অভ্যাসের কারণেই চুরি বাটবারি দুর্নীতির মত বহু অপরাধে দেশ সয়লাভ হয়ে গেছে।

২১. ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:১৮
চিরসবুজ-মানব বলেছেন: ধীবর ভাই এই লুঙ্গি কে অপমান করে ঢাকা ক্লাব মুক্তিযোদ্ধাদেরও অপমনা করল। কারণ বহু মূক্তিযোদ্ধার আজীবন পোশাক হল এই লুঙ্গি। লেখা ভাল লাগল, ধন্যবাদ এবং + দিলাম।
০৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:২৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ চিরসবুজ ভাই। চমৎকার বলেছেন। যে পোষাক বাংলাদেশের সিং হভাগ মানুষের, তাকে বিদ্রুপ করার অর্থ, জাতিকে অপমান করা।

২২. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:০৯
রিয়াজুল ইস্‌লাম বলেছেন: তবে অনেকই যেমন মনে করছে যে লুঙ্গি কে অপমান করা হয়েছে বা লুঙ্গি কে অপমান করে বাংলাদেশের সব জনগনকে অপমান করা হয়েছে সেটার সাথে একমত নই।

সত্যি কথা বলতে আমি বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে, মাদ্রাসাতে, অফিসে, আদালতে বা এসমস্ত জায়গাতে কোন মানুষকে লুঙ্গি পরে যেতে দেখেনি এবং লুঙ্গি পরে গেলে তাকে নিয়ে কি অবস্থা সৃষ্টি হবে সেটা যদি কল্পনাও করি তবে সেখানেও ঐ লুঙ্গি বর্জনের ডাক-ই শুনতে পাই।


ঢাকা ক্লাব বা তাদের দোসরদের যে ইতিহাস বা চরিত্র তুলে ধরেছেন, সে দিকটার সাথে আমিও গলা মেলাতে চাই এবং এই জাতীয় ক্লাবগুলোর কার্যক্রম পরিবর্তন হওয়া উচিৎ।

আপনার পোষ্ট ভালো লেগেছে। পোষ্ট অবশ্যই প্লাস পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। :)

ভালো থাকবেন।
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:০১

লেখক বলেছেন: দেরিতে উত্তরের জন্য প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি রিয়াজুল ইসলাম ভাই।

আসলে, লুঙ্গিকে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের চোখে হেয় করার কাজটি করেছেন আমাদের লেখক সাহিত্যিক নাট্টকারেরা। তাদের লেখায় মানসিকভাবে উদ্বুদ্ধ হয়েই আমাদের মনে ধারণা জন্মেছে যে লুঙ্গি পরিহিতরা অশিক্ষিত এবং গেয়ো। তাই শহরভিত্তিক সভ্য হবার প্রতিযোগিতায় আমরা লুঙ্গিকেই হেয় চোখে দেখে অভ্যস্থ।

আসলে, পোষাকটি নয়, বরং কোন ধরণের মানুষেরা এই সব ক্লাবে বিচরণ করেন এবং সেখানে লোকচক্ষুর অন্তরালে কি ঘটে থাকে, তার একটা সামান্য ধারণা দেবার জন্যই এই লেখা।

আপনারা লেখাটি পড়েছেন এবং সন্তস্ট হয়েছেন এটাই আমার জন্য বড় পাওয়া। আপনার সুন্দর মন্তব্য এবং সন্তস্টির জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

২৩. ১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:২০
সুবিদ্ বলেছেন: বেশ যত্ন নিয়ে লেখা.....ভালো লেগেছে.....

এইসব ক্লাব জিনিসটাই তো পশ্চিমা সংস্কৃতি উৎসারিত.....উমমম আমরাও তো এখন এমন ক্লাব করছি, যা আপনার লেখাতেও এসেছে, তার পুরাটাই কি ক্ষতিকর বা আমাদের সংস্কৃতির পরিপন্থী??? আমার তা মনে হয়না.....

আসলে যত যাই বলি না কেন, দুনিয়ায় মানুষের শেষ বিভাজন কিন্তু ঐ ধনী-গরিবেরই......

কিন্তু ফরহাদ মজ হারের ব্যাপারটা আমার ভালো লাগেনাই.....এমনটাই হওয়ার কথা ছিল......আর এক্ষেত্রে দায়ী উনার ভাই......যিনি 'সিন'-এ আসেননি......এই কারণেই পুরা ঘটনাটা এমন হয়ে গেছে
১৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সুবিদ ভাই।

কথার পিঠে অনেক কথা চলে আসবে। যেমন প্রথমে দেখতে হবে ক্লাব সংস্কৃতির উৎস এবং কারণ। খুব সংক্ষেপে বলতে হয় যে, পশ্চিমাদের পারিবারিক বন্ধন অত্যন্ত শিথিল হওয়া থেকে যে নিঃসঙ্গতার সৃস্টি হয়েছিল, সেটা নিরসনেই ক্লাব কালচারের উৎপত্তি। তার সাথে যুক্ত হয়েছে অবাধ ভোগ বিলাসিতাকে উস্কে দিয়ে মদ বেচার ধান্ধা।

আমাদের সামাজিক জীবন কিন্ত পরিবার কেন্দ্রিক। সেক্ষেত্রে আমাদের ক্লাবে গিয়ে সামাজিকতা করার প্রয়োজন আদৌ আছে কি?

আবার মদ্যপান, যৌনাচারে লিপ্ত হবার সুযোগের জন্য ক্লাব কালচারের অভ্যস্থতা নিঃসন্দেহে আমাদের সামাজিক ধর্মীয় ও সংস্কৃতির পরিপন্থি বৈত নয়। আশা করি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন।

লুঙ্গি পড়ে ঢুকতে না দিয়ে হয়তো ঢাকা ক্লাব কর্তৃপক্ষ নিয়ম রক্ষা করেছেন। কিন্ত প্রশ্ন ছিল যে যে ক্লাব কালচার আমাদের ঐতিহ্য ও মুল্যবোধের পরিপন্থি, আমরা কেন সেটাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি?

১৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শরৎ ভাই।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৩৩৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সাংবাদিক কলামিস্ট
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই