
বগ্লীয় জীবনকে যিনি অপরবাস্তব নাম দিয়েছেন, তাকে শতমুখে সাধুবাদ। ঠিকই তো। বাস্তব না হয়েও এ যে বাস্তবেরই অন্যরুপ। বাস্তবে যা হয়, এখানেও প্রায় ঠিক তেমনটাই তো। কথা কাটাকাটি, ঝগড়া, রাগ অনুরাগ অভিমান সবই তো চলে। শুধু ভোজনের ব্যাপারটি চিত্রে উপভোগ করতে হয়। ( এখনে রাগের ইমিকটিন কল্পনা করে নিন)।
যা বলছিলাম। বাস্তবে যা হয়, তার অনেকখানিই এখানে বলতে গেলে পুনরাভিত হয়। ভালোই লাগে। তবে বিশেষ কিছু ব্যাতিক্রম বাদে।
সাধারণত ব্যাতিক্রমকে উদাহারণ ধরাটা ঠিক নয়। তবে ভালো লাগা থেকে বাদ পড়া সেই ব্যাতিক্রমগুলি যখন হয় অতি ধুরন্ধরগিরির মাধ্যমে জীবন মরণ সমস্যাগুলি থেকে চোখ ফেরানোর চেস্টা, তখন সেটাকে আর ব্যাতিক্রম বলে বাদ বা উপেক্ষা করার মত সুযোগ থাকে না।

বলুন তো বাংলাদেশের মুল সমস্যাটা কি? নানা জনে নানা কথা বলবেন, তবে সেখান থেকে একটি সত্যই বেড়িয়ে আসবে। সেটা হলো আমাদের দেশ সমস্যা সংকুল বটে।
আশা করি সবাই স্বীকার করবেন যে, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, দুর্নীতি এবং সন্ত্রাস এই কয়েকটি মুল সমস্যাই আমাদের গলার কাঁটা হয়ে রয়েছে। সন্ত্রাস বলতে আমি সন্ত্রাসের সাথে রাস্ট্রীয়ভাবে জড়িত দাদা ভাইয়ের সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত সন্ত্রাসের কথা বলছি না। আর বাকি যেগুলি আছে, সেগুলি কোন না কোনভাবে এই কয়টির সাথে জড়িত। যেমন আমি মনে করি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে আমাদের ব্যার্থতার কারণে যতটুকু উন্নতি করতে পারতাম, তার চেয়ে অনেক কম করতে পেরেছি। এটি শুধু একটি উদাহারণ মাত্র, এবং এর পক্ষ্যে বিপক্ষ্যে মতামত থাকতেই পারে।
প্রশ্ন হলো সচেতন নাগরিক হিসেবে, এই সমস্যার সমাধানের উপরই জোর দেয়া উচিত কিনা? এই প্রশ্নের উত্তরে সবাই হ্যা বাচক উত্তর দেবেন বটে, কিন্ত আবার মনে দ্বিধাদ্বন্দ্বও উপস্থিত হতে পারে।
প্রশ্ন করবেন, দেশের সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে হ্যা বাচক উত্তর দিতে আবার দ্বিধাদ্বন্দ কিসের?
উত্তর হলো, দলীয় আনুগত্য। জ্বি, এটাই সত্য কথা। খুব কম মানুষই আছেন, যারা দলের উর্ধে দেশকে রাখেন।
সাধারণত যে দল ক্ষমতায় থাকে, সমালোচনার স্টিম রোলারটি তাদের উপর দিয়েই যায়। এটাই স্বাভাবিক। কেননা সরকার হলো মুল চালিকা শক্তি, যা মুল যাত্রা পথে থেকে বিচ্যুত হলে, সাধারণ দেশবাসিরই ভোগান্তিটা হয়।
এই ক্ষেত্রে সাধারণত জনগণের ক্ষোভ বা দুঃখের কথাটি সরকারের কর্ণকুহরে প্রবেশের দ্বায়িত্বটা যারা নিয়ে থাকেন, তারা মিডিয়ার লোকজন। তাদের সাথে দেশের মান্য গণ্য নাগরিকবৃন্দ, যাদেরকে বুদ্ধিজীবি বলেই আমরা জানি।
বর্তমান সরকারে অধিষ্ঠিত আঃ লিগের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হলো, তারা একাধারে অস্ত্র ও কলম সন্ত্রাসিদের নিরংকুশ সমর্থন লাভ করেছে। আম জনতা হলে, অস্ত্রধারি আর যেখানে অস্ত্র প্রয়োগ করলে ধরা খাবার ভয় সেখানে কলম সন্ত্রাসিদের লেলিয়ে দেবার অভ্যাসটি কৃতিত্ব একমাত্র আঃ লিগই দাবি করতে পারে।
দেশের মত ব্লগেও যখন বেশ কিছু বিষয়ের আঃ লিগের ধোয়াটে ভুমিকায় বিরুদ্ধে জনমত সৃস্টি হচ্ছিল, তখনই সেই সব বিষয় থেকে সাধারণের চোখ ফেরানোর জন্য উচ্চস্বরে কিছু ভাঙ্গা রেকর্ড বাজিয়ে চলেছে।
কারণে অকারণে যখন খুশি তখন দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের চোয়ালবাজিতে দক্ষ বানিজ্যমন্ত্রি তখন কথায় দক্ষ যজ্ঞ বাধিয়ে অকাজের কাজটি করছেন।
ছাত্র লিগ আর যুবলিগ নামের সন্ত্রাসিদল যখন ধর্ষন, খুন, হামলা, চাদাবাজি, দখলবাজি আর টেন্ডারবাজি করে মানুষের নাভিশ্বাস উঠিয়ে দিয়েছে, তখন পর্বতের মুষিক প্রসবের মত অজানা অচেনা কোন হিজবুত তাহিরিকে নিষিদ্ধ করে, আমাদের ব্যার্থ স্বরাস্ট্রমন্ত্রি দেশে নতুন নতুন জঙ্গি সন্ত্রাসি আবিস্কারের নেশায় মত্ত।
সীমান্তের ওপারে বার্মার সামরিক বাহিনী রণসজ্জায় সজ্জিত, আমাদের বঙ্গপ্রসাগরের উপর ভারত বার্মার আগ্রাসি হাত পড়েছে, বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসি শ্রমিকরা দেশে ফিরে আসছে, মরিশাসের মত পুচকি দেশ আমাদের বুড়া আঙ্গুল দেখাচ্ছে, সীমান্তে ভারতীয় রক্ষিরা বাংলাদেশের নাগরিকদের উপর চাদমারি মকশো করছে, ভারতের সাথে যেখানে ফারাক্কা সহ বেশ কিছু সমস্যা নিয়েই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি, সেখানে আগ বাড়িয়ে প্রেম দিতে, আমাদের "লাস্যময়ি" পররাস্ট্রমন্ত্রি তার শুদ্ধ শুদ্ধ ভাষায় টিপাইমুখ বাধ এবং ভারতকে কড়িডোর দিতে এক পায়ে খাড়া হয়ে আছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনে নিজের খাস লোককে বসালেও, পাছে নিজেরাই ফেসে যান, এই ভয়ে সরকার বাহাদুর স্বাধীন দুদকের পায়ে কিছু বাধ্যবাধকতার শেকল চাপিয়ে দিতে চাইছে।

পিলখানা হত্যাকান্ডের কুল কিনারা না করে, ইচ্ছে মত লোকজন এবং বিডিয়ার সদস্যকে আসামি করে, পিটিয়ে খুন করে, ন্যায় বিচারের পরাকাষ্ঠা দেখানো হচ্ছে। পত্রিকায় প্রকাশ, এখন নাকি বিডি আরের তিনটা ডিভিশনই তুলে দেয়া হবে। এমনিতেই তো সীমান্ত হা হা করে খোলা, যাও আছে, তারা আবার সীমান্তের ওপারের রক্ষিদের সাথে গলাগলি করে হা হা টি টি করছে। এমন অবস্থায় কাদের সুবিধার জন্য বিডিয়ারদের সংখ্যা কমিয়ে দেয়া হবে, সেটা সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করতেই পারে।
তো এই প্রশ্নগুলি জনগনের মনে আছে বটে, কিন্ত তার যোগ্য বহিঃপ্রকাশের জন্য মুখপাত্র কই? আগেই তো বলেছি আঃ লিগের হাতে দুধরণের অস্ত্রই আছে। তো বাস্তবে মিডিয়া মেতে আছে, এমন কিছু ইস্যু নিয়ে, যার সাথে দেশ বা জনগণের প্রত্যক্ষ কোন বাস্তব কোন স্বার্থ জড়িত নেই। যেমন কোথাকার কোন তাপসকে বোমা কে মারলো, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামি রশিদের মেয়ে কার সাথে রাত কাটালো, মেজর ডালিমের ভাই এর সাথে ফ্রিডম পার্টির কিলিং পার্টি যেভাবে জড়িত, ইত্যাদি নানা রকম ইস্যু।
সেই ঢেউ ব্লগেও। আজিজ মার্কেটে বরাবরই কিছু কবি আতেল ভাব নেওয়া কিছু বখাটে ছোকরা আড্ডা মারে। এদেরই কেউ কেউ আবার কর্ণেল তাহের এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যায় মরহুম জিয়ার সংক্লিষ্টতা প্রমানে হাস্যকর প্রচেস্টা চালিয়েছে। সাজেদা মতিয়ার মত টাউট বাটপারের অপবাদের প্রতিধবনি করে তারা প্রমান করতে চায়, জিয়া কোন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। ছিলেন রাজাকার। ( এমনতর অপবাদ ৯ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলের উপরেও দেয়া হয়েছিল।) আর ওদের এই বস্তাপচা লেখাকে ব্লগে ছড়িয়ে দেয়ার "মহান" দ্বায়িত্ব নিয়েছেন জনৈকা স্বঘোষিত নারীবাদি। যিনি কিনা টিপাইমুখ বাধের বিরুদ্ধে নিয়ে আমার একটি লেখায় নারীদের অসম্মান করা হয়েছে বলে, ব্যাপাক ফোসফোস করেছিলেন বটে, কিন্ত কাজের কাজ অর্থাৎ টিপাইমুখ বাধ নিয়ে একটি কথাও বলেননি। নারীবাদি কিন্ত ছাত্র/যুবলীগের ধর্ষনোৎসব নিয়ে তার কোন প্রতিবাদও নেই। তাহলেই বুঝুন, কার গোয়ালে কে ধোয়া দিচ্ছে।
অথচ কর্ণেল তাহেরের যে মুভমেন্টের নেতা ছিলেন, সেটা ছিল আওয়ামি বাকশালিদের বিরুদ্ধে। অথচ সেই গণবাহিনীর আরেক কমান্ডার ঢাবির অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন আজ অদ্ভুত কারনে আঃ লিগ কোলে উঠে ফিডার মুখে দিয়ে আছে। আর এরাই আজ কর্নেল তাহেরের জন্য কুম্ভিরাশ্রু বর্ষন করছে।
আর এই সব নন ইস্যুকে নিয়ে লম্ফ ঝম্ফ করার একটাই উদ্দেশ্য। আঃ লিগের কুকীর্তির কারণে সৃস্ট জনরোষকে অন্যখাতে প্রবাহিত করা। কিন্তু এই সব ছেঁদো কথা, আর বাহানা দিয়ে কি বাস্তবকে ভুলিয়ে রাখা সম্ভব?
তাই যতই তারা ভাঙ্গা রেকর্ড বাজিয়ে যান না কেন, ভবি নয় ভুলিবার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

