somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আক্রার চালের বাজারের দিনে ৬০০০ কোটি টাকার আয়ের স্বপ্ন। বেহায়া চোয়ালদের প্রত্যাবর্তন।

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গত নির্বাচনের আগে আওয়ামী লিগের জনপ্রিয় একটি শ্লোগান ছিল " ১০ টাকায় চাল খাবো, নৌকা মার্কায় ভোট দেব।" নির্বাচনি প্রচারের সময় মুখরা হাসিনার মুখ নিস্তৃত "ক্ষমতায় গেলে ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়াবো" বাক্যটিকেই নির্বাচনী প্রচারে কাজে লাগানো হয়েছিল। এর ফলে যে একটা বিশাল অংশে মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব হয়েছিল তা বলাই বাহুল্য।

এবং সংশয়বাদিদের আশংকা সত্য প্রমান করে দিয়ে, ক্ষমতায় যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সেদিনের সেই উক্তিটি করা হয়নি বলে হাসিনার লেজ ধরে থাকারা প্রতিশ্রুতি পালন না করার দায়টি সেরে নিয়েছিলেন।

অন্যান্য দ্রব্যমুল্যের সাথে সাথে চালের দামও অকারণে উর্ধমুখি। ব্যার্থতা ঢাকতে এই দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধিটি যতই মুজিব হত্যাকারিদের অথবা বিরোধি দলের বা যুদ্ধপরাধীদের ঘাড়ে চাপানোর চেস্টা করা হোক না কেন, তাতে কিন্ত সাধারণের মানুষের চাল ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে না। উল্টো প্রশ্ন উঠবো এক চেটিয়া ক্ষমতার অধিকারি হয়েও কেন বিরোধীদের এই ষড়যন্ত্র রোধে সরকার সফল হচ্ছে না?

তো চালের আক্রার বাজারে, নতুন আশার কথা শুনিয়েছেন, রিসার্চ ফর ডায়ালগ নামের একটি সংস্থা। ভারতকে চট্টগ্রাম আর মংলা বন্দর ব্যাবহার করলে দিলে নাকি বাংলাদেশ ৬০০০ কোটি টাকা আয় করতে পারবে। তাদের এই সিদ্ধান্তের উৎস হলো, সংক্ষিপ্ত আকারের একটি গবেষনা। যা নিজের মুখে মিডিয়ার সামনে বলেছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রেসিডেন্ট জনৈক সাদেক। ( তথ্যসুত্র পরশুর এ টি এন বাংলার রাতের সংবাদ)।

সংক্ষিপ্ত আকারের গবেষনার মাধ্যমেই এত বড় লাভের হিসাব বের করাতে, এই গবেষনা কাজে যুক্ত ব্যাক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে নোবেল পুরস্কার দেয়া উচিত। কেননা আমার জানা মতে, এত দ্রুত এত বিশাল লাভের হিসাব এত সংক্ষিপ্ত গবেষনায় এত নিখুত ফলাফল, এভাবে প্রচার করার নজির বিশ্বে আর কোথাও নেই।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে তাদের সুশিল স্বদেশিয়রাই বোকা পাঠা মনে করে। আর করবে নাই বা কেন বলুন? বৈশ্বিক অবস্থা এবং বাস্তবতার বিচারে অসম্ভব , ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতিকে যারা বিশ্বাস করতে পারে, তাদের ঘটে বুদ্ধির অভাব আছে বলেই তো প্রতিয়মান হয়।

তাই এহেন বোকা পাঠাদের নিত্যনতুন পাঠ দান করে বিভ্রান্ত এবং প্রতারিত করার কৌশল নেবে কেন তারা? বিশেষ করে যারা বিশ্বের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির বিশেষ আশির্বাদধন্য? কেউ কোন উক্তি করলেই যদি প্রতিবাদ এবং প্রশ্নের করার অভ্যাস সৃস্টি হতো, তাহলে আমি নিশ্চিত এধরণের সুশিলীয় প্রতারনার সৃস্টি হতো না।

হয় দলীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে, কিংবা সরকার বিরোধী বলে চিহ্নিত হবার ভয়ে, যাদের প্রতিবাদ করার কথা, তারা সেটা করেননি। নইলে, কোন কোন তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে, কতদিন ধরে গবেষনা করে, ওই প্রতিষ্ঠানটি ৬০০০ কোটি টাকা আয়ের উপসংহারে পৌছেছে, সেই প্রশ্নটি করা হতো। এর আগে তো ভারতের মুখে ট্রানজিট দিলে ২০০০ কোটি
আয়ের বানোয়াট কথাও শুনেছিলাম। কিন্তু প্রশ্ন উঠার পর ভারত আর সেকথার প্রতিধবনি করেনি, বরং সুযোগের প্রতিক্ষায় ছিল, কখন তার আশির্বাদপুস্ট দলটি ক্ষমতায় যাবে। এবং কোন কথা বলা ছাড়াই ওদের স্বার্থ উদ্ধার হবে। ভারতের মনে আশা পুরণ হতে যাচ্ছে।
রিসার্চ ফর ডায়ালগ আয়োজিত অনুষ্ঠান অলংকৃত করেছিলেন দিপুমনি, আবুল মাল মুহিত, প্রধানমন্ত্রির জনৈক উপদেস্টা এবং সরকার দলিয় লোকজন। তাই এই অদ্ভুতুড়ে গবেষনা কাদের ইশারায় করা হয়েছিল, সেটা আন্দাজ করা কঠিন কিছু নয়।

ওই অনুষ্ঠানে চিরচারিত চিবিয়ে পানি খাবার ভঙ্গিতে দিপুমনি পুরানো কথারই পুনরাবৃত্তি করলেন। ভারতকে বন্দর ব্যাবহার করতে না দিলে, ট্রানজিট না দিলে, বাংলাদেশের উন্নতি হবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। তিনি শিক্ষিত মহিলা। কথায় বলে শিক্ষা বিবেককে জাগ্রত করে বলেই, বিবেক বিরুদ্ধ কিছু করা একজন প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষের পক্ষ্যে কস্টকর হয়ে পড়ে। ভারত প্রেমে অন্ধ হয়ে দিপুমনির মত শিক্ষিত মানুষকেও দেশের স্বার্থের বিপক্ষ্যে অবস্থান নিতে দেখা গেলো। তাছাড়া নিতান্ত অর্ধশিক্ষিতের মতই তিনি যখন করিডোরকে ট্রানজিট বলে বার বার চালাতে চাইছিলেন, তখন এই সিদ্ধান্তে উপনিত হওয়া কস্টকর নয় যে, ডক্টরেট ডিগ্রি থাকলেও, সবাই মানুষের মত মানুষ নয়।

একই ভঙ্গিতে সাফাই গাইতে দেখে গেলো আরেক ডঃ কে। যিনি জাতিয় পার্টির কোল ত্যাগ করে আঃ লিগের কোলে বসেছেন। তিনি অর্থমন্ত্রি মাল মুহিত। যার দেশে দ্রব্যমুল্য বিশেষ করে চালের দামের এই অবস্থা, মুল্য সহনীয় পর্যায়ে আনবার বদলে, তার কি অন্য একটি দেশের পক্ষ্যে নির্লজ্জের মত (তাও আবার চোস্ত ইংরেজিতে) মিথ্যা সাফাই গাওয়া সাজে?

শিক্ষিত মানুষরা রাজনীতিতে জড়াতে অনাগ্রহ এই জন্যই নাকি দেখান, কেননা সেখানে তাদেরকে বিবেকের বিরুদ্ধে কথাও বলতে হবে, কাজও করতে হবে। উদাহারণ স্বরুপ ৯৬ এর আওয়ামী অর্থমন্ত্রি এ এস এম কিবরিয়ার কথা বলতে হয়। যিনি হাসিনার উপদেস্টা কুখ্যাত ঋণখেলাপি সালমান এফ রহমান আর ভারতের মাড়োয়ারি গোষ্ঠির যৌথ পরিচালনায় এবং হাসিনার জ্ঞাতি গোষ্ঠির প্রযোজনায় , দেশের বৃহত্তম শেয়ার কেলেংকারি ঘটার পর, দলের ভাবমুর্তি বাঁচাতে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, শেয়ার বাজার কি জিনিস তা তিনি জানেন না।

সে যাই হোক। ভারতের পক্ষ্যে সাফাই গাইতে ৬০০০ কোটি টাকার মুলা ঝুলানো হয়েছে। আগ্রহের সাথে দেখার অপেক্ষায় আছি, সাধারণ মানুষ নিজেদের নতুন করে গাঁধা জ্ঞান করে চালের দাম নিয়ে বিস্মিত হয়ে, সেই মুলার পেছন ছুটে কিনা?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৪০
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×