somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিনা যুদ্ধে নাহি দেবো সুচাগ্র মেদেনি।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দিন দিন কি হচ্ছে আমাদের? দেশপ্রেম আবার উগ্র হয় কি করে? এই দেশপ্রেম ছিল বলেই না বিনা বাক্য ব্যায়ে সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালি প্রাণ তুচ্ছ করে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। ৩০ লাখ তাজা প্রাণের বিনিময়ে পেয়েছি স্বাধীনতা। শত শত বছরের উপনিবেশবাদ আর নির্যাতনের শৃংখল ভেঙ্গে আমাদের মত করে ওই দেশপ্রেমের শক্তিতেই আপন দেশ পেয়েছি আমরা।

আজকাল স্কুল কলেজে কি পড়ানো হচ্ছে? কি শিখছে নতুন প্রজন্ম? সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ ছিল যে এই জাতি, তারা কি করে, বিদেশিদের শিখিয়ে দেয়া বুলি কপচিয়ে সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে আপোষকামি হয়ে পড়লো?

এই তো সেদিনও ফুল দেবার মহোৎসবে ২১শে পালিত হলো। মুখে লম্বা চওড়া কথা যারা বললেন, তারা আজ কোন ভুমিকায়?




পাকিস্থানি দুঃশাসনের বলি যে শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠি হয়েছিল এমন তো নয়। আমরা কি দিনের পর দিন, বছরের পর বছর কম শোষিত হয়েছিলাম?

কাপ্তাই লেক বানানোয় শত শত একর চাষযোগ্য জমি আর বাসস্থান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল হাজার হাজার পাহাড়ি ভাই। ইতিহাসে সেরকমই লেখা আছে। সে দায় আমরা বাঙ্গালিরা কেন নেব? আমরা কি সেই দুঃশাসনের সহযোগি ছিলাম। অথচ মুক্তিযুদ্ধে সেই জনগোষ্ঠির রাজাবাবু সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে ঠিকই রাজাকারের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। সে প্রশ্নের উত্তর কে দেবে?

যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশে যখন চারিদিকে স্বজন হারানোদের আহাজারি, লাঞ্ছিত মা বোনরা ভবিষ্যতের চিন্তায় দিশেহারা, বেচে থাকার জন্য সবাই যখন অন্ন সংস্থানের জন্য উদ্বিগ্ন, তখন ওই জনগোষ্ঠির প্রতিনিধি হয়ে সন্ত লারমা, বঙ্গবন্ধুর কাছে নানা আবদার নিয়ে হাজির। আরে? সারা দেশের কোটি কোটি মানুষ জীবন সংগ্রামে লিপ্ত। সেখানে দেশকে বড় করে না দেখে ক্ষুদ্র জারিসত্ত্বার স্বার্থপর দাবি উপস্থাপন, বঙ্গবন্ধুকে খানিকটা বিরক্ত করবে না? ওদের বাঙ্গালি হয়ে যাবার পরামর্শ এজন্যই দেয়া হয়েছিল, যেন তারা বৃহত্তর জনগোষ্ঠির দুঃখ দুর্দশা খানিকটা বুঝতে পারে।

কিসের কি? বাবুরা মহা অভিমান করলেন। সারা দেশ জাহান্নামে যাক, কোন ক্ষতি নেই । তারা ভালো থাকলেই ভালো। অস্র হাতে নিয়ে খোদ বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই যুদ্ধে নেমে গেলো তারা।

৩০ লাখ শহিদের রক্তের মর্যাদা দিতেই তাই বিচ্ছিন্নতাবাদিদের দমনের নির্দেশ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। এবং দেশপ্রেম উদ্ভুত রাস্ট্রনায়কোচিত যথাযথ পদক্ষেপই ছিল সেটা।

পরবর্তিতে শাসককুল ওই একই ধারা অব্যাহত রেখেছিল। যদি এই বিচ্ছিন্নতাবাদকে লালন ধারণ না করা হতো, তাহলে নিশ্চই শান্তিপুর্ণ সমাধানে অনেক আগেই পৌছানো যেত। কিন্ত ঐ যে? ভারতের উস্কানিতে সন্ত্রাসবাদ মাথায় ঢুকে তাদের মন মানসিকতার কোন পরিবর্তন হয়নি। উল্টো ৯৬ এ ভারতের প্রভাবকে সঙ্গি করে, হাসিনার মাথায় হাত বুলিয়ে ঠিকই এমন সব চুক্তি করে তথাকথিত শান্তি আনলো যা বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। (বিস্তারিত যাচ্ছি না, ফিউশন ফাইভের সাম্প্রতিক লেখাতেই একজন সহব্লগার তার বিস্তারিত লিখেছেন)।

৯৬ এ হাসিনা চুক্তি করেছিলেন বটে, বাস্তবায়নের সাহস করেননি। কি করে করবেন? স্বাধীনতা বিরোধী কোন কিছু বাস্তবায়ন করলে না থাকতো চামড়া না থাকতো গদি। এমনি ২০০৭ সালে নিরংকুশ ক্ষমতায় থাকলেও, সেই ঝুঁকি হাসিনা নেননি।

কিন্তু অপর পক্ষ এতোদিনে বেশ চালাক হয়ে গিয়েছে। বহু আগে থেকেই সেখানে এন জি ও নামের বিদেশি প্রভুভক্তদের জামাই আদরে পালন করে আসছে বিচ্ছিন্নতাবাদি সন্ত্রাসিরা। একদা সারা বিশ্বকে জলদস্যুতা আর উপনিবেশবাদ দিয়ে জ্বালিয়ে ছারখার করে দেয়া নব্য সুসভ্যরা এখন কোন প্রটোকলের ধার না ধেরেই দলে দলে বিচ্ছিন্নবাদিদের আতিথ্য গ্রহনের সুযোগ নিচ্ছে।

নইলে আমাদের দেশের সাধারণ গ্রাম বাংলার শিশু কিশোররা যখন দু মুঠো পান্তা ভাত খেয়ে বড় হয়েছে, সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িরা বিদেশি রুটি মাখন পনির খাচ্ছে কি করে? ( এ কথা প্রাক্তন এক শান্তিবাহিনীর সদস্যের মুখে শোনা)। দেশি সস্তা সাবান মেখে শরীরের ক্লেদ দুর করা সাধারণ মানুষদের বিপরীতে বিদেশি গন্ধ সাবানের মৌ মৌ করে কেন পাহাড়ীদের শরীর?

কি চায় আসলে পাহাড়ীরা? সমমর্যাদা? নিরাপত্তা? বাসস্থান?

এর কোনটায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সুখের সাগরে ভাসছে? সমমর্যাদা আছে সাধারণ মানুষের জন্য? নিরাপত্তাহীনতায় কে ভুগছে না? ভুমিখেকোদের চোখ পড়লে, কোন সাধারণ মানুষের উপায় আছে তাকে প্রতিরোধের? কটা সাধারণ মানুষ এই নিপীড়িনের বিপরীতে অস্র হাতে তুলে নিয়েছে? প্রতি বছর বন্যায় খরায় মঙ্গায় পীড়িত কোন সাধারণ মানুষ বলেছে, যে বাংলাদেশে থাকবো না, স্বাধীন আরেকটা দেশ চাই? তবে তোমাদের এত খাই এর বাই কিসের? এত লাটসাহেবীও বা কেন? নাকি সভ্যতার মুখোশ ঢাকা ঔপনিবেশকরা কোন বিশেষ আশ্বাস দিয়ে রেখেছে? নাকি মনে করো বাঙ্গালিরা বাত্য আর তোমরা রাজার জাত?

স্বার্থপরের মত তোমরাই ভালো থাকবে, বাকিরা জাহান্নামে যাক, এই মনবৃত্তি উদ্ভুত বিচ্ছিন্নবাদিদের সুরে সুর মেলাচ্ছে কারা? সুলতানা কামাল চক্রবর্তিরা? যারা শশুড়বাড়ির আচারকে একমাত্র বাঙ্গালি আচার বলে জাতিকে গেলাতে চাচ্ছে? সিমিন হোসেনের মত উঠতি বয়সের নাদান উকিল? যারা দাদা বাড়ি ভারতে আর নানা বাড়ি পাকিস্থানে।

মুখে মানবতা, মানবাধিকার নিয়ে ফেনা তোলাদের তো যথেষ্ট দেখা আছে। এদের সবগুলির গোড়াই একটি নির্দিস্ট চরম উগ্রবাদি সাম্প্রদায়িক আদর্শে বাধা। এক নায়কতান্ত্রিক বিশ্বায়নকে নিঃস্কন্টক করতে দেশে দেশে ওই সস্তা বুলি আওড়ানো একদল দালাল তারা তৈরি করেই রেখেছে। যথাসময়ে এদের মাঠে নামিয়ে নিজেদের স্বার্থোদ্ধার করানো হয়ে থাকে।

এই সব পুতু পুতু রবারের মেরুদন্ডিরা, কবিতা লেখে, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড করে অবসর কাটায়। আর সুতোয় টান পড়লেই শিয়ালের মত মানবাধিকার গেলো সভ্যতা গেলো বলে এক সাথে চিৎকার করে উঠে। তা খুনি, ধর্ষক, চাদাবাজ সন্ত্রাসিদের পক্ষ্যে গেলে যাক। অদৃশ্য সুতার টান বলে কথা!

এই সব পুতু পুতুরা মুক্তিযুদ্ধের সময়েও চাচা আপন প্রাণ বাচা বলে গা ঢাকা দিয়েছিল। তাই এই সব পুতু পুতুদের সুশিলিয় শুদ্ধু শুদ্ধু চোয়ালবাজিতে কান দেবার প্রয়োজন নেই।

যে সব পাহাড়িরা বিভ্রান্ত, তাদেরকে সুপথে আসতে হবে। তাদের কু মতলবদের লাইন ছেড়ে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অনুগত থাকতেই হবে। কেউ এখানে জমি কিনতে পারবে না, খনিজ সম্পদ উত্তোলনে তাদের অনুমতি লাগবে, সেই সুত্রে প্রাপ্ত আয় সব ওখানেই ব্যায় করতে হবে, সেনাবাহিনি থাকতে পারবে না, বাঙ্গালিদের সেটেলার বলে সেখান থেকে সরিয়ে দিতে হবে, এই সব চুদুর বুদুর দেশদ্রোহি কথায়, শান্তি আসবে না।

বিনা যুদ্ধে যখন ২৫ শে মার্চের গণহত্যার পরেও বাঙ্গালিদের দমানো যায়নি, সেখানে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুদ্ধ হবেই। ১৫ কোটির মধ্যে যদি এক কোটিও দেশ রক্ষায় নামে, তখন পুতু পুতুর দল, এন জি ও আর ওই সব গোড়ামুখোরা পালিয়েও কুল পাবে না।

সময় আছে, তাই বিদেশি ষড়যন্ত্রকারিদের হাতের পুতুল হয়ে থেকো না। চলো পাহাড়ি বাঙ্গালি মিলে সবাই প্রিয় স্বদেশ বাংলাদেশকে জাতি ধর্ম ভাষা নির্বিশেষে সত্যিকারের সোনার দেশে পরিণত করি।



১৬টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×